ইভিনিং এমবিএ
বুয়া আসে না ঠিকঠাক। সকাল বেলা খাওয়া হয় না নাস্তা তাই দিনগুলো যাইতেছে এ্যাসিডিটিময়। যদিও এক আতেল বন্ধুর সামনে গ্যাস্ট্রিক শব্দটা বলে যে বিপদে পড়ছিলাম। সেই আতেল বলে 'গ্যাস্ট্রিকের ব্যাথা কথাটা বলবে রিকসাওয়ালারা তুই কেনো বলবি?' আমি ইন্সাল্টের ঠেলায় আর কোনো কথা বলি নাই। কিন্তু সেই আতেল বন্ধুরে পাইতেছি না পাইলে তারেও এই কিসিমের একটা ইনসাল্টিং বাশ দেয়ার প্ল্যান আছে। বুয়া নানা উসিলায় আসে না। সেইটা সমস্যা না সমস্যা হলো বুয়ার কথা বলার ধরন দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়। যদি তাকে জিগেষ করা হয় বুয়া আসেন নাই ক্যান? তিনি এনসার দিবেন স্বামীর অসুস্থ তার লাশের উপরে তো আসতে পারুম না। এই এনসার শুনলে কার না মেজাজ গরম হয়। আরেকদিন জিগেষ করছিলাম তখন বললো স্বামীর মাইর খায়া গায়ে জ্বর ছিলো তাই আসি নাই। আর বাচ্চার উসিলা তো আছেই। দেখা যাবে সপ্তাহে দুই দিন এ্যাভারেজে আসেন না। তবুও বুয়ার প্রতি আমরা আস্থা হারাইনি। গত ১৪ মাসে দুই বুয়া চেঞ্জ করছি তাই আর ইচ্ছা নাই। বুয়া সম্পর্কিত যাবতীয় গেঞ্জামে ভোগান্তির শিকার মামা। আমি তো চলি হাওয়ার উপরে। বুয়া না আসলে বরং কাচ্চি গ্রিল এই সব খেয়ে আনন্দেই কাটে দিন!
এবার মেইন আলোচনায় আসি। দরকার ছিলো আরো কিছু দিন বসে থাকার। বিবিএ করার পড়ে অযুহাত খুজতে ছিলাম তখনি ভাবনায় আসলো এমবিএ করবো। কিন্তু অন্য কোথা থেকে যেইখানে থাকলে আরেকটু ভাব নেয়া যাবে। আইবিএর কথা ভাইবা তো লাভ নাই কারন আমার মেধার দৌড় কতদূর তাতো আমি জানি। বিয়াইবিএমে পরীক্ষা কি দিমু আউলা আপুর মুখে যে লোমহর্ষক গল্প শুনছি তাতে সেইখানেও ইচ্ছা নাই। সেইখানে নাকি পড়া ধরে ক্লাসে। এসাইনমেন্ট জমা নিলে কঠিনভাবে মান সম্মান নিয়ে টানাটানি করা হয়। আর ঐখানে আমার এক চিটাগাং সমিতির বন্ধু পড়ে তাই যাইতেও মন চায় নাই ফর্মই কিনি নাই। বাকি থাকলো ডিইউ এর ইএম্বিএ। কিন্তু শান্ত যেখানে যায় সেখানেই বাশ খায়। তাই ঢাকা ভার্সিটির গ ইউনিটের ঝামেলায় তিনবার পিছাইলো ২০ নভেম্বর থেকে চলে গেলো ৬ই জানুয়ারীতে। মধ্যে ভাইয়া ভাবী আসলো কানাডা থেকে তাদেরকে ভালোভাবে বিদায় জানাতেও পারলাম না। এক্জামের আগের দিন আমি ভাইয়া ভাবী সহ খালামনির বাসা থেকে দাওয়াত খেয়ে বাসায় ফিরতে ফিরতে ১০টা বাজে রাত। কিছুই হয় নাই পড়া। তবুও টিকে গেলাম জানি না কেনো? সম্ভবত অনেক বলদ দরকার ওদের তাই আমিও চান্স পেলাম। ভালো সাবজেক্ট এমআইএস পাইছিলাম কিন্তু যাই নাই কারন দেখি সব কম্পু হালারা এই সাবজেক্টে। আমি সামান্য এক্সপি সেটআপই ভালো করে পারি না আর এই জিনিশ পড়বো! তার চেয়ে ভালো একটু আর্টস ধরনের সাবজেক্ট ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসই পড়ি। প্রথম দিন ক্লাসে যায়া দেখি পোলাপান সব অমিতাভ বচ্চনের বয়সী। যদিও বেলায় বেলায় বয়স কম না আমারো কিন্তু এই সব বুড্ডা পুলাপাইন দেইখা হতাশ হইলাম। আর পুলাপাইন গুলাও কেমন জানি যুতের না বিশেষ। মেয়ের সংখ্যাও বেশি না যারা আছে তারা ফেরার সময় বেটা বন্ধুর বাইকে করে ফিরে! কোর্স নিলাম দুইটা ক্লাস কম। তাই ভাবলাম এইসব হালাগো সাথে কাজের কথা ছাড়া কথা বলবো না সে মতোই দিন চলতেছে। টিচার গুলো ভালো বিশেষ করে এক প্রফেসর আছে তিনি অমায়িক ভদ্র লোক। এই সমস্ত ভদ্র লোকদের আমি লাইক করি। তবে কুইজ/ টিউটেরিয়াল সিস্টেমটা পছন্দ হয় নাই আমার। আর মিডে দেখি সবাই সবারটা দেখে দেখে লেখে আর স্যার হাঁ করে তাকিয়ে থাকে। কী আচানক কান্ড!
মনে চাইলে ক্লাসে যাই না চাইলে ক্লাসের নাম দিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে 'বিদিত' আজীজের বইয়ের দোকানে বই পড়ি ফ্রি। বাসার সামনে থেকেই রাজধানী বাসে উঠি তারা পুরা বাংলাদেশ ঘুরিয়ে শাহবাগ নামায়। বাসে থাকে প্রচন্ড ভীর অনেক বয়স্ক মানুষ কিংবা অল্পবয়সী মেয়েরা দাড়িয়ে থাকে। আমি নিজের আরামটাকেই বড় করে দেখি। তাই সিট ছাড়ি না। কারন সিট ছাইড়া ন্যাকা হইয়া কোনও ফায়দা নাই। ফেরার সময় আসি রাজার হালে ডাইরেক্ট রিকসায় আসি মুহাম্মদপুরের চায়ের দোকানে। একা রিক্সায় যে দুনিয়ার সেরা শান্তি তা তখন টের পাই। কানে গুজে দেই হেডফোন আর রিপিট অন করে শুনতে থাকি অনুপমের গান উড়ে যায় এ ঘুম আমার ছুটে শ্বেত পাথরের রাত/ জানি পায়না কাছে কিছুই আমার ক্লান্ত দুটি হাত!
http://www.youtube.com/watch?v=ctPKUl7vYAc
কিংবা সায়ানের শুনি ভাসিয়ে দেবো তোরে!
http://www.youtube.com/watch?v=vGPcFpbN9Tc





আল্লারে। আপ্নে এম্বিয়ে করেন? জেবনে এই জিনিস্টা করনের শখ জাগ্লো না
এমবিএ ভাল জিনিষ না। না করাই বাঞ্চনীয়!
বিদিত এ ফ্রি-তে বই পড়া যায়! কও কি! মামার কাঁধে সব কাজ চাপিয়ে ভালইতো আছো দেখতেছি
ক্লাসমেটরা এইরম? তোমার এখানেও দেখি সম্ভাবনা নাই।
বিদিত থেকে বই কিনতাম আগে অনেক। সেই সুত্রে মালিক আমারে ভাল পায় তাই তার দোকানে চেয়ার টেবিলে বই নিয়ে বসে পড়ি। মাঝে মধ্যে চা খাওয়ায় সময়টাই ভালো কাটে!
ক্লাসমেটরা কেমন তা এখনো বুইঝা সারি নাই। যাইয়ো কম ক্লাসে তাই সম্ভাবনা একেবারেই নাই!
সুখবর! আজকে দেখলাম বিদিতে নতুন বই আসছে অনেক গুলা!
বাপসরে ! তোরতো ম্যালা গুন। এমবিএ পড়িস। লেখিস ও ভালো। তোরে আর ঠেকায় কে ...?

দোয়া রাইখেন বড় হইয়া যেনো আপনার মতো স্টার হতে পারি!
ইভিনিং এম্বিএ'তে বেশির ভাগ পাব্লিকই এমআইএস'টা করে শুঞ্ছি, কম্পুর পাব্লিক থাকলেও অইটা বেশি টাফ মনে নাই মানে কারিকুলাম যদ্দুর দেখছি। ওইখানে তো কেবল বয়েস্করাই করে না, পোলাপান'রাও করে জানছি। তা এই সাব্জেক্ট নেয়ার আলাদা কোন উদ্দেশ্য আছে কি তোমার?
ফ্রি বই পড়নের ব্যাপারটা তো দারুন!
এমআইএস জিনিষটা ভালো কিন্তু আমার কেনো জানি ভালো লাগে নাই। তাই টিকেও নেয় নাই আর। আর বন্ধু পড়তো ইন্টারন্যাশনাল বিজনেসে তাই সেই সুত্রেই একটা ভালোলাগা তারপর বন্ধু আইবিএতে চান্স পায়া গেলো কিন্তু আমার পছন্দটা থেকে গেলো। কোনওদিন ব্যাবসা বানিজ্য করবো সেই জন্যেই টেনসন ছাড়া এডমিশন নিছি। পোলাপাইনো আছে মেলা কিন্তু আমার কোর্স কম ক্লাস করতে যায়ো কম তাই পরিচয় চেনাজানা কম। হয়তো সামনে সেমিস্টার থেকে পরিচয় বাড়বে। বিদিততে বই পড়ার বড়ো মজাটা হলো নাম শুনি নি এমন কলকাতার রাইটারদের বই হুটহাট করেই পড়ে মুগ্ধ হই!
মজায় ই আছ। যদ্দিন পুলাপাইন থাকবা তদ্দিন ই মজা।
তোমার পোষ্ট পড়তে ভালো লাগে।
কিন্তু পোলাপাইন বুঝে না পোলাপাইন থাকার আনন্দ তাই পোলাপাইন অবস্থাতেই বড় হবার হাজারো পাকনামি করে।
ধন্যবাদ আপু। আপনার লেখা সেই সামু আমল থেকেই আমার পছন্দের!
আপনাকে আমি সেরা ওয়েব্লগ লেখক হিসেবে ঘোষণা দিলাম।
ধন্যবাদ ভাইয়া। আপনাদের ভালোবাসা মুগ্ধ করে বারবার!
আমিও দিলাম
আহা লেখাটা পইড়া আপনেরে হিংসা হইতাসে..
.. কি আরামে আছেন...
আরামে আছি কথা সত্য। কিন্তু বেশী আরামে বেড়াম হয় আবার!
এরচেয়েও দারূন জীবন আপনার হোক!
হা হা সিদ্দিক স্যার এর ক্লাসে পরীক্ষা দিসিলেন নাকি? মাহফুয আর রেজা স্যার ক্লাসে এ পরীক্ষা কিন্তু সেইরাম
সিদ্দিক স্যারকে পাইছিলাম মাহফুজ স্যারের অনেক কথা শুনছি সামনেই পাবো কিন্তু রেজা স্যার সমন্ধে জানি কম!
মন্তব্য করুন