হেডফোন
দিনগুলো যাচ্ছে দিনের নিয়মে। সময় কাটছে সময়ের মতো করেই। আমারো দিন যাচ্ছে আমারো মতো করেই। তবে সাম্প্রতিক কালে একটা হালকা গেঞ্জামে অহেতুক জড়াইছি তা হলো এলাকার এক প্রভাবশালীর বাড়ীওয়ালার পোলার সাথে ঝগড়া করছি। সেইখানে না চাইতেই আমি যা বলি না কাউকে সে ধরনের কথা বলে ফেলছি। যা চরম ফাউল একটা কাজ হইছে। এই ফাউল কাজটা নিয়ে আমি কিছুদিন খুব বিচলিত ছিলাম। মন মেজাজ খারাপ ছিলো। খালি ভাবতেছিলাম আট দশটা থার্ডক্লাস মানুষের সাথে আমার ডিফারেন্স কি? ঝগড়া হচ্ছিলো ছেলেটার সাথে আমি তার বাপ জানের উত্তম চরিত্র নিয়া একটা খোটা দিছি যা আমি কখনোই করি না কারো সাথেই। এই নিয়া পোলা গরম তার ফ্রেন্ড সারকেল বড় ভাই যারা আছে যারা আমারে আগে ভালো পাইতো তারাও খুব একটা আমার সাথে কথা বলে না। এই হেনতেন নিয়া বড় পেরেশানীতে ছিলাম। কিন্তু সাপোর্ট পাইছি রিয়েল ফ্রেন্ডদের তারা কেউ আমার উপরে নাখোশ না। আবির তো এককাঠি সরেস বলতেছে খালি জিসান তোরে কিছু কইতো নগদে পায়ের নিচে ইট দিয়ে ওরে ছেচা দিতাম। আর মধুবাজারে একটা ফোন দিতাম খুর পার্টি আইসা ওর বাপরে সহ খোচায়া যাইতো টেরই পাইতো না কেউ। দোকানদার দেলোয়ার সাহেব কয় আপ্নারে কিছু কইলে মামা নগদে ওরে নায়ক রিয়াজরে চটপটির দোকানে যেমন পিটাইছিলাম তেমন একটা হাইপ্রোফাইল মাইর দিতাম। কিছুই হয় নাই আর। যাই হোক এই ঝগড়া করে একখান ফায়দা হইছে। চায়ের দোকানে বন্ধুর সংখ্যা হঠাৎ করেই হাফ হয়ে গেছে। লোকজনের সাথে কথা বার্তাও কমায়া দিছি। যা শান্তি! অনেক সময় দেখি বসে আছে অনেকে আর আমি ভেতরে সুন্দর মতো ঢুকে কানে হেডফোন লাগিয়ে বসে থাকি।
এই হেডফোনটা বড় কাজের জিনিস। মাঝে মধ্যেই সাউন্ড অফ করে কানে রাখি কারন শুনি আশেপাশের লোকজন আমাকে নিয়ে কি কয়? আর বেশীর ভাগ সময় আমি বিবিসি শুনি। কিন্তু বিবিসিতে খালি ইয়েমেন পাকিস্তান আর সিরিয়ার খবর অসহ্য লাগে। তবে বিবিসি বাংলা শুনতে ব্যাপক মজা। বিশেষ করে ফোন ইন অনুষ্ঠানটা। বাংলাদেশে নাম না যানা উপজেলা থেকে কত কিসিমের পাবলিক যে কত কিছু নিয়া প্রশ্ন বা মতামত জানায় তাতে খুব মজা পাই। পাব্লিকের কথা এক বার লাইন পাইলে আর ফুরায় না। শেষে উপস্থাপক বাধ্য হয়ে লাইন কাটে। আর রেডিও ফুর্তি শুনি কারন মোটের উপরে অনেক গান শুনায়। খারাপ লাগে না। খারাপ লাগে তাদের বেহুদা হিন্দী গান প্রীতি। কথা ও বিজ্ঞাপন কম গান শুনায় বেশী আর আগে যখন রেডিও ফুর্তি প্রথম আসলো তখন অনেক শুনছি তাই একটা ভালো লাগা কাজ করে শুনতে। অন্য রেডিও স্টেশনে ভেতরে এবিসিটা ভালো এছাড়া যা আছে সব জাহান্নাম। খালি এ্যাড আর ফাউল সব গান প্রোগ্রাম । তার ভিতরে নতুন এক চ্যানেল আসছে ঢাকা এফ এম তাদের গান গুলাও যেমন তাদের আরযে গুলানো মাশাল্লাহ। একেকটার স্টাইল মার্কা মারা। পিপলস রেডিও নামে আরেকটা রেডিও আসছে তাদের প্রোগ্রাম ভালৈ। কিন্তু যখনি শুনি তখনি হয় চিকনী চামেলী নয় উলাল্লা গান বাজায় কেনো তা বুঝি না। বলতে ভুলে গেছি ঢাকা এফএমের একটা ভয়েস মেইল শুনানোর সিস্টেম আছে। সেইখানে আরেক বিনোদন হলো গাজীপুর টাঙ্গাইল কোন খান থেকে যে মেসেজ আসে। কথার কি ছিড়ি! "আমি ওমুক। আপনাদের ভয়েস খুব কিউট। আমি অমুক মেয়েকে ভালোবাসি সে যেনো প্লিজ আমার ফোনটা ধরে।" যে ভাষায় কথা শুনি তাতে মেয়ের যদি বুদ্ধি হাটুতে না থাকে এই কিসিমের পোলারে দিনে রাতে থাবড়ানোর কাম। তবে তাদের একটা জিনিস ভালো প্রায় আবৃত্তি শোনায় মাহিদুল ইসলামের। শুনতে মন্দ না!
বাংলাদেশের অল্প বয়সী তরুন তরুনীদের রেডিওর প্রভাব অপরিসীম। কানে একটা হেডফোন দিলেই আপ্নে গুলশান বনানী ধানমন্ডির গন্ধ পাবেন নিমিষেই। সানডে নাইট,ভুত এফ এম, লাভ গুরুর যে কী প্রভাব তা চোখ খান খোলা রাখলেই পাবেন এই শহরে। তাই রেডিও না শুনাই ভালো। তাও আমি শুনি কারন ফুর্তিতে আপডেট নতুন পুরানা গান শুনায় কম বিজ্ঞাপনে। আর রেডিও মজাটা হলো প্লেয়ারে গান বাজে আপনার মর্জিতে আর রেডিওতে এর পরে কি গান শুনবেন তা ইহজনমেও আন্দাজ পাবেন না। এই প্রসংগে শ্রীকান্ত আচার্যের একটা কথা আছে। এখনকার ছেলেমেয়েরা এফ এম চ্যানেলের মতোই শুরু করলো একটা গুরুগম্ভীর পুজা পর্বের রবীন্দ্রসংগীত দিয়ে তারপরেই শুনলো জাস্টিন বিবারের গান। আর হেডফোন নিয়া একটা মজার লেখা পড়ছিলাম আলু পত্রিকায় যে বাসে এক ছেলে উঠছে বাংলামোটর থেকে পাশে বসা এক লোক বললো "ইস ছেলেটা কানে শুনেনা এই বয়সেই তাই বয়রার মেশিন লাগাইছে!
আজাইরা একটা পোস্ট। এরচেয়ে অনেক ভালো লেখার বিষয় মাথায় থাকে কিন্তু লেখি না কারন হয় কারেন্ট থাকে না নয় ইচ্ছা থাকে না লেখা কিংবা ব্লগে বসার!~





রেডিও শুনা হয় না এখন আর।
এক বিজ্ঞাপন কতবার শুনুম!
এবিসি রেডিও ভাল পাইতাম।
আর ফুর্তি বোম!
আর কোনটায় জানি অনিক-শাহরিয়ার একটা প্রোগ্রাম করতো।
ওইটা শুনলে সিরিয়াসলি হাসতে হাসতে গড়াগড়ি দিতে হইত!
হ ঐ প্রোগ্রামটা অনেকেই গো গ্রাসে গিলতো আমিও অনেক শুনছি।
tomar ajaira lekha porte valo lage.esob nie e to protidiner jibonjapon.
Koidine 3 ta headphn kinlam ekta o juiter na:(
মাথায় অনেক কিছু নিয়ে লেখার চিন্তা আসে কিন্তু সব কিছুই সিষ্টেমলসে আটকে যায়!
আরো জমিয়ে আরো গল্প বলো। আর ঝগড়া-ঝাটি কোরো না, খুব খারাপ এটা।
আর জমিয়ে কি লিখবো বাসায় গেলে কারেন্ট থাকে না আর কারেন্ট থাকলে ইচ্ছা করে না লিখতে তাই লেখাই হয় না। তবুও চেষ্টা করবো। তার ভিতরে আবার সামনের সপ্তাহে একজাম।
রেডিও শুনতে বেশ ভালই লাগে
রেডিও না শুইনা তুমি যে আপডেটেড গান বাজনা শুনো তাই অনেক কিছু!
ঢাকায় রেডিও শুনতাম ভালোই হারে। এখানে এসেও রেডিও টিউনিং করা শুরু করছিলাম, তবে কিছুদিনের মধ্যেই আগ্রহ হারায়ে ফেলছি। অনলাইন রেডিও আছে জানতাম, তবে চেক করা হয়ে উঠে নাই। ক'দিন আগে খোজঁ পেলাম "হৈচৈওয়াদিও"র। শুনছি, ভালো লাগছে।
হেডফোন কানে দিয়া পাব্লিকের কথা শুনার কান্ড ভালোই!
লেখার ভালো বিষয়গুলা সময় করে লিখো, লেখা কি কেবল পেপারেই ছাপাইবা নাকি, ব্লগে কেন দিবা না!
সারাদিন চায়ের দোকান ক্লাসটাস টিভি দেখা আর ঘুমিয়েই পার করি দিন। পত্রিকায় লেখিটেখি না কারন আগ্রহ পাই না। আর কারেন্ট থাকে না অলসতা তাই ব্লগেও লেখা হয় না। তবে চেষ্টা করবো। ভালো থাকেন আপু। অনলাইন রেডিও শোনার মতো নেট কারেন্ট থাকে না। তাই এইটা একটা বিলাসিতা।
তোমার লেখা তোমার মত সব সময়ই বালা পাই। বেশি বেশি লেখবা। কম কম ঝগড়া করবা। কম কম রেডিও শুনবা। ঠিকাছে...
থ্যাংকু ভাইয়া. আপনারে আমি আরো অনেক বেশি ভালো পাই।
দেশে থাকতে রেডিও ভালোই শোনা হতো বিশেষ করে অফিসে যাওয়ার পথে আর আসার পথে। কয়েকদিন ধরে আবার শুনতেছি হৈচৈ ওয়াদিও আরা এবিসি।
রাসেল, এবিসি'র লিঙ্ক দিয়েন তো!
ভালোইতো ল্যাবে বসে রেডিও শুনেন শান্তি মতো.
এইসব আজাইরা লেখাই ভাল পাই
ধন্যবাদ ভাইয়া!
আজাইরা লেখা ভালো লাগছে
থ্যাংকু ভাইজান।
হিহিহিহি
=====================
হেডফোন কানে দিয়ে সাউন্ড অফ করে মাইনসের কথা শোনার কামডা আমিও করি।
======================
আপনার নামটা তো শান্ত। তাই আর ঝগড়া ঝাটি কইরেন না। মাথা গরম হইলে চুইংগাম চিবানো শুরু করবেন, নাইলে আইসক্রিম কিইন্যা খাবেন।
======================
আজাইরা লেখা ভালো লাগলো!
চুইংগাম চকলেট আইসক্রীম এইসব খাই না মেজাজ গরম থাকলে তিতা দুধচা খাই। আর শান্ত নামের স্বার্থকতা রাখতে পারি নাই মেলা আগে থেকেই। ধন্যবাদ আপনাকে।
অস্থির
বেশী না সামান্য একটু!
পুরাই অস্থির।
কী আর করার!
আমিও খুব মজা পাই এটাতে
ভালোইতো মিলে গেলো!
মন্তব্য করুন