ইউজার লগইন

পেরেশান.........

কি বলা যায় আজকের দিনটাকে এক কথায় অসাধারন একটা দিন আবার ক্লান্তিকর একটা অলস সময় পার। যেভাবেই বলি না কেনো দিনটা কাটলো দারুন। কারন খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠলাম গোসল করে নামায পড়লাম। পিসিতে বসি নাই। হালকা বিসিএসের পড়া পড়লাম যদিও সাধারন জ্ঞান আর বাংলা এই দুইটা জিনিস পড়তেই ভালো লাগে। ইংরেজী যা দেখি মন হয় পারি তাই পড়ি না আর অংক করতে গা জ্বালা করে। বাকী থাকলো দৈনন্দিন বিজ্ঞান সেইটাতো একদিন পড়লেই পারা যায়। তবে শাবনুরের মতো আমারো মন বসে না পড়ার টেবিলে খাটে ফ্লোরে কোথাও না। তাই পড়তে বসলেই এমবিএ নিয়ে ভাবি একটু টিভিটা ছাড়ি মন চাইলে চা বানাই অফুরন্ত সময় সকালে। তারপর আজকে ছিলো মেকাপ ক্লাস। কিন্তু ব্যাগ নিয়ে বের হয়েই মনটা হলো উদাস। সংগী হবার কথা ছিলো আদনানের। আদনান দিলো ডায়লগ এরকম কতো মেকাপ ক্লাসরে পেকাপ করে থুয়ে আসলাম, বাসায় যায়া আমার মতো ঘুমান। কিন্তু আমি একটা নীতি ফলো করি যদি একবার বাসা থেকে বের হলে আর বাসায় যাই না জীবন মরনের সমস্যা ছাড়া। তার ভিতরে বুয়া আসে নাই। তাই চলে গেলাম চায়ের দোকানে।

সেখানে চলছে গোমাংস কাটাকাটি। দোকানদার দিলোয়ার সাহেবের মন বিষন্ন কারন তিনি একটু দেরিতে দোকান খোলার কারনে যারা মাংস রাখতে বলছিলো তাদের ভাগ বেচে ফেলছে তাতে তিনি ক্ষিপ্ত। তিনি আমি যাবার সাথে সাথেই আমার মোবাইলটা নিলেন ফোন দিলেন দেখলেন সবাই ঘুমায়। আমাকে শুনিয়ে বললেন এটা কোনো কথা হলো মামা! আমি বললাম বাদ দেন যার মাংস তার খবর নাই আর আপনি পেরেশান। বসার ১০ মিনিটের ভেতরেই দেখি পলিটিক্যাল লোকজনের আনাগোনা। ব্যাপার কি দেখি কমিশনার ইলেকসনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা এই চায়ের দোকানে হাজির। সাবেক দুই কমিশনার বজলু আর সাইয়ীদ ব্যাপারী এক সাথে বসে পড়লো। খাইলো রং চা। এরপর আসলো তরুন প্রজন্মের প্রতিনিধি মুন্না সাব। মুন্না সাব তার চকচকে পারফিউম দেয়া পাঞ্জাবীর সাথে কত গরুর রক্তের ছিটা গায়ে লাগা লোকের সাথেও কোলাকুলি করলো। সে এক দেখার মতো দৃশ্য। কারন মুন্না সাহেব হাউজিং সোসাইটির দুইটা ৬ তলা বাড়ির মালিক। এমনিতে তিনি এলাকায় খুব একটা মিশেন না কারো সাথে। তিনি আমার সাথে হ্যান্ডসেক করতে আসলো আমি আস্তে করে সালাম দিয়ে সরে গেলাম। তিনি ২০ মিনিট থাকলেন। তার ভিতরে ২৩৫ টাকা বিল উঠলো চা বিস্কুট সিগারেট পানের। আমি অবাক হয়ে গেলাম পাবলিক হুড়মুড় করে খালি খাচ্ছে। বেশ আমাকে মুন্না সাব সাধলো আমি বললাম ভাইয়া আমি নতুন লিকারের চা খাই না আর মনে মনে বললাম পলিটিক্যাল ফ্রি চা আমি কোনোদিন খাই না। এই রং ডং দেখতে দেখতে সাড়ে দশটা বেজে গেলো। সবাই আসলো একে একে। চুটিয়ে গল্প হচ্ছে। গরুর মাংস সামনে দেখলেই বাঙ্গালী মুসলমান সন্তানের প্রিয় গল্প তাদের কোন হিন্দু বন্ধু কিভাবে গরুর মাংস খায়। এইসব আলাপ শুনলেই মেজাজ খারাপ হয়। যার যা মন চায় খাক তাতে আপনার কি? আমরা এইখানে সংখ্যায় বেশী তাই তাদেরকে নিয়ে তামাশা করি গতকাল সাচ কা সামনা রিমোট টেপার ফাকে দেখতেছিলাম সেইখানে হিন্দু মহিলা "নিজাত মোহামেডান' বলে তার এক মুসলীম আত্মীয়ের কথা বলতেছিলো শুনেই টিভি অফ করছি। সেই সব হজম করলে বুঝতেন কত ধানে কত ভাত। জুম্মার নামাযের সময় হয়ে গেলো যথারীতি সবার শেষে ঢুকে সবার আগে নামায শেষে আবার চায়ের দোকানে ফিরলাম। বাসায় ৫ টা পর্যন্ত কারেন্ট থাকবেনা বুয়াও আসে নাই তাই কি করবো ভাবতেছিলাম। চায়ের দোকানে খালি হতে হতে চারজনে নামলো দেলোয়ার সাহেবও দোকান বন্ধ করে চলে গেলো। কি আর করা বাকী তিনজনরে বললাম চলেন খেয়ে আসি শওকত থেকে আমি খাওয়াবো বাংলা বছরের শেষ দিন তাই।পুলক আদনান নিমরাজী তাদেরকে ডায়লগে রাজী করিয়ে দুই রিক্সায় চলে গেলাম টাউন হল। সেখানে গিয়ে দেখি ব্যাপক ভীড়। বসার জায়গা নেই। কিন্তু যেখানে পুলক আছে সেইখানে টেনসন নাই তার সাইজ দেখেই দোকানদার মনে করলো ছাত্রলীগের বিশাল হেডম সাঙ্গোপাঙ্গো নিয়ে আসছে নগদে সিট খালি। যে মধুর আপ্যায়ন তা দেখে মুগ্ধ। কাচ্চি খেলাম বোরহানী ছোট কোক সব খেয়ে পাচ দশ মিনিট বসে রেস্ট নিয়ে পত্রিকার দোকানে গেলাম টাউন হলের। সেখানে চা খেয়ে বুধবার আর নিউএইজ কিনে চায়ের দোকানেই ফিরলাম। ফিরে দেখি দোকান বন্ধ। খালি আমাদের জন্য টুল বের করা। পত্রিকা পড়া শুরু করলাম। দেখি নিউএইজ এক্সট্রায় সাতক্ষীরায় ফতেহপুরে আবুল মনসুর আহমেদের বহুলপঠিত লেখা নাটক হুজুরে কেবলা মঞ্চস্থের অপরাধে জামাতের নেতৃত্বে হিন্দু অনেক বাড়ি পুড়ানো হইছে। তৌহিদী জনতার নামে। জনতার এই তাওহীদি জিহাদী জোশ মাজারে ওরশের সময় কই থাকে তা আমার জানতে ইচ্ছা হয়। বালের সরকার নাকি সাংবিধানিক ভাবে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার। কোন বালটা ফালাইতেছিলো সেই সময় তা জানতে চাই না। এরপর কি আর করা দোকানে বোরিং লাগতেছিলো গেলাম ধানমন্ডী ৮ এ। দেখি পহেলা বোশেখের জোশে জনতা অন্ধ। গেঞ্জামে গন্ডগোলে কে কোথায় যায় আসে তার হিসাব নাই। সেখানে চা খেলাম আড্ডা দিলাম। ৮ এর চায়ে কেচকায়া চিনি ঢালে গলায় চিনি আটকে থাকলো অনেকক্ষন। বাসায় আসলাম একটু তাড়ায় সাকিবের খেলা দেখবো বলে ক্লান্তিতেও ছিলাম খুব। খেলাম মুরগী দিয়ে ভাত। কিন্তু সাকিবের খেলা দেখা মনে খুশী চোখে মুখে ক্লান্তি উধাও তাই লিখে ফেললাম এই পোষ্ট।

গান সংক্রামক। আপনার সামনে যদি কেউ একি গান ১০ বার গুনগুন করে সেই গান আপনার ঠোটেও আসবে। পুলক সকাল থেকে একটা হিন্দী গান গাইতেছিলো দুপুর নাগাদ সেই গানটা আমার গলাতেও। রাত্রে এসে দেখি এক কথাই খালি বার বার বলি। ম্যায় পেরেশান পেরেশান ----পেরেশান>>>>

নায়িকা পরিনীতি চোপড়ার চেহারা নাকি পুলকের সাবেক বালিকা বন্ধু লুবনা রশীদের মতো। তাই পুলক বারবার গায় আর আমার মগজ থেকে বের হয় না গানটা। এই বাংলা নববর্ষের দিনে হিন্দী গান শেয়ারএর জন্য ব্লগ জাতির কাছে ক্ষমা চাই। কারন মনে যা আসে যা ঘটে তাই লিখি সুতরাং নিজের সাথে প্রতারনা করে লাভ কি?
http://www.youtube.com/watch?v=B6E01IatDm0

সবাইকে বাংলা নতুন বছরের শুভেচ্ছা। অনেক আনন্দে কাটুক দিন!

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


আরে আমিও তো বাসা থেকে বাইর হওয়ার সময় একদম বোচকা-বাটি সব বাইন্ধা নিয়া বাইরাই। ঢুকলেও একবারে ঢুকি। নো মোর ফুকাফুকি।

যাক্ কি জানি একটা হিন্দি চ্যানেলে (আপনারে বলার লিগা টিভি সেটের কাছে গিয়া নামোদ্ধারের ট্রাই করলাম, কিন্তু ব্যর্থ! চ্যানেলের আইকনটা হলদেটে ও ঘোলাটে, সেখানে কিছু লুকানো থাকতে পারে আর নিচে লেখা মাস্তি। মাস্তি নিশ্চই কোনো চ্যানেলের নাম না?) পুরানা হিন্দি গান হইতেসে একটার পর একটা। সুন্দর কিন্তু। নায়িকাগুলা ঢাকা-ঢুকা ধরনের কাপড় পরে। আর শুধু হাঁটা-চলা আর হালকা দৌড়-ঝাপ করে। কুংফু-টুংফু করে না। জওয়ানিতেও বেশি জোশ নাই। নায়কগুলারে তো মনে হইতেসে বাসায় যেই কাপড় পইড়া আছিলো সেইটা পইড়াই দাঁড়ায় গেছে ক্যামেরার সামনে। এইতে অবশ্য খারাপ লাগতেসে না। তো হিন্দি নিয়া বলতেসিলাম না? কি জানি বলতেসিলাম? ভুলে গেছি। মুনয় ডোরেমন দেখতে হপে এখন। ওইটাও হিন্দিতে হয়। টিভি আসলে ভালো না। আর আমি একটার বেশি মুভিও আজকাল একরাতে দেখতে পারি না। একটু আগে ফক্স-এ আইস এইজ'টা দেখলাম। তাই কোনো মুভি চ্যানেলে যাইতে ইচ্ছা করতেসে না। হিন্দির হাত থেকে মুক্তিও পাইতেসি না। রাইত বাজে তিনটা তিন। চিন্তা করেন! কি পেরেশানি!!

এর মধ্যে আপনের এই পেরেশান পোস্ট! ভাল্লাগছে অনেক। নববর্ষের শুভেচ্ছা। ভালো থাইকেন। Smile

আরাফাত শান্ত's picture


আমাদেরো একটা চ্যানেল আছে নাম মিউজিক ইন্ডিয়া সেইখানে বেশির ভাগ সময়তেই পুরানা জনপ্রিয হিন্দী গান দেখায়। ভালোই লাগে দেখতে। কিন্তু হিন্দী গান না দেখার এভয়েড করার চেষ্টা করি। কিন্তু পরিবেশ মানুষ জনের কারনে দেখা হয়ে যায় সবই. ভালো থাকেন ভাইয়া। শুভেচ্ছা নতুন বছরের।

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


নববর্ষের শুভেচ্ছা। Smile

আরাফাত শান্ত's picture


শুভেচ্ছা আনন্দময় হোক সব কিছু।

লিজা's picture


আপনার "যা খুশী তাই লেখা" ভালো লাগে । জটিল জীবনের কেচ্ছা জটিলতা ছাড়াই কেমন লিখে যান Smile

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কু!

জ্যোতি's picture


বরাবরের মতই ভালো লাগলো।এত ছোটবেলায় পেরেশান হলে চলপে না ভাইজান! অন্য গান মাথায় ঢুকাও।

আরাফাত শান্ত's picture


অন্য গান মাথায় ঢুকায়া ফেলছি। বরাবরের মতই আপনাকে ধন্যবাদ!

জোনাকি's picture


খুব কামিয়েছ ! Big smile

১০

আরাফাত শান্ত's picture


কামাইয়ের উপরেই আছি!

১১

মেসবাহ য়াযাদ's picture


বাহ বাহ গুড হৈছে Laughing out loud

১২

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যান্কু বড় ভাই!

১৩

তানবীরা's picture


এ জন্যেই কই হিন্দী বর্জন এতো সুজা না Puzzled

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


আমার মতো বলদের জন্য সোজা না অনেকের জন্যই সহজ!

১৫

লীনা দিলরুবা's picture


বরাবরের মতো, দারুণ Smile

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


রাশি রাশি শুভকামনা আপু। ভালও থাকবেন!

১৭

নাঈম's picture


হিন্দী গান পুষ্টের জন্ন্য তেব্র পর্তিবাদ জানাইয়া গেলাম....

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!