স্মৃতিকাতরতা আমার কর্ম না!
আজ দুপুরেই এসএসসির রেজাল্ট দিবে। টিভি চ্যানেলগুলা পত্রিকা গুলা সব ঝাপিয়ে পড়বে মেধাবীদের ছবি তুলতে তাদের সফলতার গভীরতা নির্নয়ে। আমি এসএসসি দিলাম ২০০৩ মানে ৯ বছর আগে তাহলে কতগুলো সময় ভেতর দিয়ে চলে গেলো। কিন্তু পাবলিকের মতো স্মৃতির ডানা ঝাপটানো আমার ভাল লাগে না কোনো কালেই। কারন এতো খারাপ ছাত্র ছিলাম বাবা মা কোনোদিন ভাবে নাই যে ম্যাট্রিক পরীক্ষা কোনও বাধা ছাড়া এগিয়ে যাবো। তাই যখন এসএসসি দিলাম তখন সবার চোখে মুখে বিস্ময়। পরীক্ষার সিট ছিলো আগ্রাবাদ বয়েজে। নেভীর বাসে করে চলে যেতাম চিল্লাপাল্লা গান গাইতে গাইতে তখন কিসের পড়া কিসের টেনশন। কিন্তু আমি গেঞ্জামটা করতাম গোল্লা পুরন করে যে ফর্মটা পুরন করতে হয় সেখানে যেয়ে। হয় রোল নাম্বারের জায়গায় রেজিস্ট্রেশন নাম্বার লিখছি কিংবা প্রশ্নের সেটে ভুল করছি গোটা চারেক বার। আমাদের সাথে বাসে যাইতো দিদার স্যার উনি আমারে বলতো সারাদিন তো দেখি ব্যাপক ফড়ফড় করো বন্ধুদের সাথে পরীক্ষার হলে যায়া বলদ হয়ে যাও কেন? পরীক্ষা শেষ হয়ে গেলো তখনো মাথায় খালি টেনসন মনে হয় বাংলায় অবজেকটিভ গ লিখতে যায়া খ সেটে পুরন করে আসছি। কি যে মানসিক যন্ত্রনা। তাবলিগে গেছি তিনদিনের জন্য আমোদ ফুর্তিতে আছি বন্ধুরা মিলে তাও টেনসন ইশ যদি এই কারনেই ফেইলটা মারি প্রেস্টিজ নিয়া তাহলে টানাটানি। যেইদিন রেজাল্ট দিবে সেইদিন ফজরের পর থেকে মসজিদ থেকে আর নড়াচারা নাই। দোয়া একটাই আল্লাহ মান সম্মানটা রাইখো। আল্লাহ ঠিকই মান সম্মান রাখলো রেজাল্টটাও এক্সপেক্টেশনের চেয়ে ভালো হলো। তখন নতুন টেনশন কোন কলেজে ভর্তি হবো। কমার্স কলেজের ওয়েটিং থেকে চান্স পেলাম তাও গিয়ে ভর্তি হলাম যে স্কুল থেকে পাশ করছি তাদের কলেজে। কলেজের প্যাচাল আরেকদিন পারবো আজ ভাল্লাগতেছে না।
আমার পয়েন্টটা অন্যখানে সেটা হলো সেই সময়টা ছিলো খুব ভয়াবহ মানসিক প্রেশারের তবুও সেই সময়ের স্মৃতি কেনো সবাই খালি হাতড়ায়। তখন কার শান্তর চেয়ে এখন কার শান্ত যথেষ্ট শান্তিতে দিন পার করে তাও কেনো বার বার নশ্টালজিক হওয়া এইটার কারন আমার জানা নাই। তবে আমরা সবাই ব্যাপক হারে স্মৃতিকাতর। ছোট্টো ছেলে মুনতাসীর পড়ে রেসিডেন্টসিয়ালে ক্লাস টেনে আমারে বলতেছিলো ভাইয়া আগে অনেক ভালো ক্রিকেট খেলতাম। আমি বললাম তুমার বয়স মাত্র ১৪-১৫। তোমার আগেরটা কবে? আমার বন্ধু আবির। মেধাবী ছেলে ভালো ক্রিকেট খেলতো। কিন্তু এখন আগের মতো মেধায় ধার নাই খেলাতেও জোর নাই। তার খালি একটাই বয়ান ক্লাস সিক্সে থাকতে রোল ছিলো আমার ৪ আমার সাথের ছেলেরা সব ঢাকা ইউনিভার্সিটি বা বিদেশে পড়া আমি কী করলাম। কিংবা আগে শালা কত রান করছি এখন দৌড়াইতেই পারি না। এই সব বয়ান দেয়া বা শুনানোর কোনো মুল্য নাই। কারন আগের দিন আগের মতো এখন কার দিন এখনের মতো। এখন কে ফেস করতে যেয়ে আমি শুধু আগে কি করতাম তাই খালি যদি বলি এই সব কোনো কাজের কথা না। আগের দিন বাঘে খাইছে বাঘে খাওয়ার গল্প শুইনা এখন আমার কাজ কী?
শুধু চারপাশের মানুষ না পুরা দেশটাই আমার কাছে বুড়োদের বলা গল্পের মানুষদের মতো লোকের ছড়াছড়ি। খালি পড়ে রইলাম অতীত নিয়েই। অতীতে বিএনপি কি করছে তার আগে আওয়ামীলীগ কি করছে এইসব নিয়েই পড়ে থাকে সবাই হয় লম্বা চোওরা তর্ক । অতীত নিয়ে ভাবতে ভাবতে বর্তমানটাও যে নিশেঃষ হয়ে গেলো তা নিয়ে ভাবে না কেউ। তাই আমি অতীত বা স্মৃতি নিয়ে খুব বেশী আর ভাবি না। কারন অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক আনন্দে আছি অনেক ভালো আছি। কোনো যাদুবলেই সম্ভব না স্কুলের জীবনে ফেরত যাবার তাহলে সেইটা নিয়ে এতো রোমান্থনের কিছু নাই। মানুষ হয়ে জন্ম নিলে বয়স বাড়বেই তাই মানিয়ে নেয়া মেনে নেয়া ছাড়া আর কি বা করতে পারি! তাই এই জীবনে যেমন আছি তেমন করেই আমি অনেক সুখী!
তাই অতীত জীবন নিয়ে স্মৃতিকাতরতা আমার কর্ম না!
তাড়াহুড়ো করে লেখা। ভুল টূল হইলে মাফ করে দিয়েন। আর মাফ না করলে আল্লাহর কাছে বিচার দিয়েন!





স্মৃতিকাতরতা শব্দটা আজকে আপনের আর আমার মনের মধ্যে একই সময়ে চলাচল করতেসিলো।
লেখা সুন্দর হইসে ভাইজান। আসলেই বাঘে খাওয়ার গল্প শুনে বা বলে এখন আর কোনো লাভ নাই।
কালকে সব পুলাপানের রেজাল্ট মনমতো হোক। কাউরে যেন বঞ্চিত না হইতে হয়।
ধন্যবাদ ভাইজান। আল্লাহ আপনার মঙ্গল করুক দিন গুলো যাক কষ্টে কিন্তু কাটুক আনন্দময়, সুখের স্মৃতি নিয়ে!
এই দিনটা আসলে মনে হয় বুড়া হয়ে যাচ্ছি। সে কবে এসএসসি পাশ দিছি। কিন্তু সেই দিনের টেনশন উৎকন্ঠা ঠিকই টের পাই।
পিচ্চিগুলোর রেজাল্ট মনমতো হোক।
রেজাল্ট সবার মন মতোই হইছে নয়তো এতো জিপিএ পাইলো কারা?
যেসব ছেলে পিলে ফেইল মেরেছে তাদের জন্য আমার মনটা বিষন্ন বেচারারা কত সহযে পাশ করা যায় তবুও!
স্মৃতিকারতা আমার অবশ্যি কম্ম। কিন্তু ইদানিং কালে এর থেকে দুরে থাকার ব্যাপারটা শিখে ফেলেছি।
ভালোইতো। শুভকামনা থাকলো ভাইয়া!
কোবে যে এসএসসি দিমু....

লেখা পইড়া স্মৃতিকাতর হইয়া পড়লাম...
তোমারতো বিএ মতান্তরে বিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার কথা
এখনো বেকার তাই সেই আগ্রহী কোনো মানুষ নাই মতান্তরের ডিগ্রী নেয়ার তাই কোনো খায়েশ নাই!
আমিতো জোনাকীরে কৈছিলাম
হ এখনো এসএসসি টা পাশ করতে পারলা না!
আপ্সুস
এস.এস.সি দিতে মুন্চায়
১৩-১৪ বছর পরে ঋহানই দিবে তার সাথেই বসে যায়েন
পিচ্চি পোলাপাইন।
হ নাদান পুলাপাইন!
এসএসসি কি জিনিস? খায় না মাথায় দেয়?
~
গায়ে মাখার ক্রীম!
জুনিয়র!!

স্মৃতির জন্য কাতর হওয়া ভালো না
তবে অতীতকে ভুলে যাওয়াও উচিত না ।
এইবার এসএসসির যেই রেজাল্ট হইলো, বাপরে বাপ!
আপ্নের বয়স আরেকটু বাড়ুক, তখন এই লেখাটা পড়তে দেবো। আপাতত প্রিন্ট কইরা বাঁধাইখানায় দিয়া আসি।
বাচ্চা পুলাপাইনেরা স্মৃতিকাতর হইতে চায় কেন এইটাই বুঝে আসে না
'স্মৃতিকাতর' হইতে মাঝে মাঝে ভালোই লাগে।
রিয়েল ফাইটারের কথা
'স্মৃতিকাতর' হইতে মাঝে মাঝে ভালোই লাগে।
মন্তব্য করুন