ইউজার লগইন

দোযখের ড্যামো ভার্সন থেকে বলছি!

অধ্যাপক মোজাফফর সাহেব মারা গেলো। জ্ব্লজ্বল করে থাকা ব্যানারটা যখনি দেখি তখনি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলি আহারে কি শোকের ঘটনা! মোজাফফর সাহেবকে আমি চিনি টকশো মিডিয়ার মানুষ হিসেবেই। রাতের টকশো, টি আইবি থেকে শুরু করে সুজন সেখান থেকে বাপা তারপর মইন ইউ এর অমর বই এর মোড়ক উন্মোচন এইসবই খালি চোখে ভাসে। কোনো ধরনের বিশ্লেষন বা মতামত জানাবো না। সেরকম জ্ঞান বুদ্ধি আমার নাই। খালি একটা একান্ত ব্যাক্তিগত স্মৃতির গল্প বলি। বন্ধু এহতেশাম আর আমি গেছিলাম এক বিয়েতে। বিয়েটা কোনো সচিবের ছেলের বিয়ে সম্ভবত। এহতেশামের কি রকম জানি আত্মীয়। আমি বিয়ে নিয়ে টেনশিত না আমার ধান্দা ভালো জামা কাপড় পড়ে আসছি যখন ভালো মন্দ খাবো । বসলাম আগে ভাগেই আমি খাই নিজের খাবারের দিকে চোখ দিয়ে। অন্যের মুখের দিকে চাইলে খেতে ইতস্তত লাগে। তবুও মাংস নিতে যেয়ে একজনের দিকে চোখ গেলো। আমি এহতেশামরে বললাম ভাই ভদ্রলোকরে চেনা চেনা লাগে কেন? এহতেশাম অবাক হয়ে বললো মোজাফফর স্যারকে আপনি চিনেন না? আমি যেনো আকাশ থেকে পড়লাম। আমি এতো বড় একজন মানুষের সাথে এক সাথে খাচ্ছি। পেটে খিদা কিন্তু তবুও পোলাও ঢুকতেছেনা মুখ দিয়ে। কি আর করা খেলাম মোটামুটি। স্যার অতি ধীরে সুস্থে খাওয়া কমপ্লিট করলেন। আমি আর এহতেশাম উনার পাশে গিয়ে কথা বললাম। উনি অনেক কিছুই জিগেষ করলেন। খালি আমাদের একটা কথাই বলছিলেন যে ভালো মানুষ হও তোমরা। তার কিছু দিন পরে একটা ইন্টারভিউ পড়ছিলাম সাপ্তাহিকে। যে উনি সেই পাকিস্তান আমলে ৩০ হাজার ডলারের একটা বিদেশী চাকরী করতেন। উনার বাবা উনাকে চিঠি লিখলো যে দেশে এসে পড়ার জন্য। ঢাকায় এসে উনি সাড়ে চারশো টাকার চাকরীতে জয়েন করলেন। এখনকার মানুষ আমরা এইসব করার কথা কল্পনাও করতে পারি না! যাই হোক যেখানেই থাকেন ভালো থাকেন স্যার এইটুকুই জানাতে পারি।

১১-১২ দিন ঢাকা শহরে এসেই মনে হলো এ কই আসলাম। ট্রেন থেকে নেমে সিএঞ্জি নিছি দেখি ধরধর করে খালি ঘামতেছি। ঘামতে ঘামতেই পুরা টায়ার্ড। সিএঞ্জি থেকে নামবো কি মনে হচ্ছে টায়ার্ডের চোটে এখানেই ঘুমাই । বাসায় আসলাম লাঞ্চ যখনি শুরু করবো তখনি বাসায় গেলো কারেন্ট। মনে হয় গোসল করতেছি ঘামে। ঘুমাবো কি বের হলাম বাইরে। ইএম্বিএর বন্ধু সিরাজের বাসা জিগাতলা পোষ্ট অফিসে। বাসে উঠছি দেখি বাস যায়ই না। মেজাজ খারাপ করে বাস থেকে নেমে রিকসা নিলাম। আহ রিক্সায় কি শান্তি ফুরফুরে বাতাস। মনে হয়তেছিলো সারা জীবন যদি এরকম চলমান রিক্সায় বসে পার করা যেতো। ক্লাসের খোজ খবর জানলাম। তার টাকার একটু ক্রাইসিস তাই সাধ্য অনুযায়ী কিছু টাকা ধারও দিলাম। কারন ঢাকা ভার্সিটির একজামের গার্ড ব্যাবস্থা অতো যুতের না। পড়াশুনা না করে পাশ করতে হলে ঐই শেষ ভরসা। আনন্দমোহন থেকে পাশ করছে। ছেলে ব্যাপক মেধাবী। এবং পরীক্ষার হলে এতো কোঅপরেটিভ যে এইরকম ছেলেরে বান্ধায় রাখা দরকার। যাই হোক ফেরার সময় রিক্সা নিলাম। যেতে যেতে দেখি এক ১৪-১৫বয়সী ছেলে রিক্সা চালাচ্ছে। হঠাৎ করে সে রিক্সা একজনের পায়ে লাগালো। সামান্য লাগছে। কিন্তু এই সুঠাম দেহী ভদ্রলোক এমন মার দিচ্ছেন। আমি পুরাই অবাক। এ যেনো চোর ধরার পরে যেমন এলোপাথারি কিল ঘুষি মারে মানুষ তেমন মার। তেমন চলতেই আছে আর সবাই মিলে মজা দেখতেছে। আমি সাধারনত এই সব জায়গায় খুব আগ্রহ নিয়ে বয়ান দিয়ে থামাতে পছন্দ করি। কিন্তু নিজের ভেতরে এক নির্বিকার ভাব কাজ করলো। খামাখা রিক্সা থামায়া কথা বলার কি দরকার যাইগা। চলে গেলাম। পুরাটা বিকেল জুড়ে এই কারনে মেজাজ খারাপ থাকলো।

রাস্তায় খালি দেখতেছিলাম নানান নেতার মুক্তি চাই পোষ্টার। তবে এইটা মুক্তি চাওয়া নাকি নিজের প্রচার প্রচারনা করা তা বুঝলাম না। মজার এক কথা শুনলাম বন্ধু জেমসের মুখে যে বাংলা কলেজের এক ছাত্রদল নেতা হরতালের কারনে ১-২ দিনের জন্যে জেলে ছিলো। এই সামান্য সময়ের ভেতরেই তার পোষ্টার মিরপুরের রাস্তায় রাস্তায় ছড়িয়ে গেছে। কি আজব রাজনীতি!

গরম নিয়ে নতুন করে কি বলবো। পাচ তলায় বাসা হবার কারনে পুরা ছাদের গরম আমার ঘরে। সাথে জানলা দিয়ে পর্দা ভেঙ্গে আসে রোদ। কারেন্ট গেলে কি যে বাজে অবস্থা। জামালপুরেও কারেন্ট থাকতো না কিন্তু বাতাস ছিলো সেই তুলনায় এইটা পিউর দোযখের ড্যামো। এই গরমে রিক্সা ভাড়া যা শুনি মনে চায় শালার কোনো কাজে যে দুনিয়ায় আসলাম। দড়াদড়ি করতে করতে মুখের ফেনা তুলে ফেলবেন তাতেও ৫ টাকা কমে যেতে পারবেন না। তাই মনের দুঃখে হাটি আর ভাবি কবে যে আসল দোযখে যাবো। তবে এখন আর গরম নিয়ে ভাবি না। অতো ভেবে কিছুই করার নাই কারন আইপিএস বা এসি কিছুতেই আমি কোনোকালেই বড়ো হইনি। তখন যদি চলতে পারে এখন কেনো চলবে না। দিন গেলেই হলো।

কাল মানে আজ নোয়াখালী যাবার কথা। বন্ধু আবিরের দাদার কুলখানী। ৩০০০ মানুষ খাওয়াবে তাই ব্যাপক আয়োজন। যাবার খুবই খায়েশ। কিন্তু চিটাগাং ঢাকায় বন্ধুদের ফোনের উপরে রেখেও কোনো সঙ্গী পাইলাম না। একা একা যেয়ে কি হবে। আর যে তুমুল বাস ভাড়া তাতে আরো ৮০-৯০ টাকা বেশী খরচা করলে প্রিয় শহর চিটাগাংয়েই যেতে পারি। তাই হয়তো যাওয়া হবে না। কাউকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখতে না পারলে নিজের উপরে ব্যাপক ঘৃনা লাগে। আর নিজেরে খালি বলি আমি কোনো মাইনষের জাতই না!

পোস্টটি ১২ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


আপনে একজন ভালো লেখক।

আরাফাত শান্ত's picture


নারে ভাই। লেখক ভালো হলে বানান আর বাক্য গঠনে আরেকটু কেয়ারফুল থাকতাম। আমি সবসময়ই জোশের ঠেলায় লিখে ফেলি।

মীর's picture


কেয়ারফুল না থেকেই যদি এমন লেখা লিখতে পারেন, তাইলে আপনে নিজেই চিন্তা করেন, কি দারুণ লেখালেখির ক্ষমতা আছে আপনার Day Dreaming

আরাফাত শান্ত's picture


সংশোধনীঃ মোজাফফর বানানটা তিনজায়গায় ভুল লিখছে। এইটা একটা অমার্জনীয় ভুল। মেজাজটা খারাপ লাগতেছে।

রন্টি চৌধুরী's picture


শান্তর লেখার সুসময় চলছে। একটু গল্প ট্রাই করে দেখলে কেমন হয়? এই যে ছোট্ট ছোট্ট ঘটনা জীবনের, তা থেকে কিন্তু একটা লেখায় বাড়তি দুয়েকটা চরিত্র ফুটিয়ে গল্পের আকার দেয়া যায়। ঘটনার বর্ননা আর ভেতরের অনুভুতির যেমন বর্ননা শান্ত দিচ্ছে, তাতে গল্পে কোন সমস্যা হবার কথা না। দেখা যায় নাকি একটু চেষ্টা করে?

আরাফাত শান্ত's picture


সুসময় কিনা জানি না। তবে আগে ভাবতাম এসব লিখে কি হবে কিন্তু এখন টেনশন ছাড়া লিখে দেই। সচল সামহ্যোয়ারে এত ভালো ভালো গল্প ২০০৭ থেকে পড়তেছি যে এই খায়েশটা কখনোই জাগে নাই। তবুও চেষ্টা করবো কোনো এক দিন।

ভালো থাকেন ভাইয়া। যত্ন নেন নিজের!

রাসেল আশরাফ's picture


তোমার লেখায় একটা সহজ সরল ভাব আছে আর যে কারনে তোমার লেখা ভাল পাই। আজকের লেখায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদকে নিয়ে লেখার প্রথম দুই তিন লাইন পড়ে মনে হলো এবি তে উনাকে নিয়ে ব্যানার দেয়া হয়েছে দেখে তুমি ব্যাঙ্গ করছো কিন্তু শেষের দিকে মনে হলো উপরের দুই লাইন পড়ে যা ভাবলাম তা হয়তো ভুল হলো। কনফিউশনে পড়ে গেলাম।
আচ্ছা এই পোস্টও কী মোবাইলে লেখা?

আরাফাত শান্ত's picture


মোবাইলে লেখি নাই পিসি তে লেখছি কিন্তু পিসিটাও খুব একটা কাজের না তাই মোবাইলে লেখার মতোই খাটনি।

রিমান্ডে যত তথ্য জানেন ভালোয় ভালোয় বলে দিবেন উস্তাদরে!

শওকত মাসুম's picture


একমত, এখন দোজখের ডেমো ভার্সানেই বসবাস

১০

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাংকু!

১১

নাঈম's picture


আফসোস, এইরকম সুপার লেখা কোনদিন আমার মত গন্ডমূর্খের মাথা থেইকা বাইর হবেনা।

১২

আরাফাত শান্ত's picture


মামা তুমি এর চেয়ে ঢের ভালো লিখো আর অনেক দারূন দারুন কাজ করছো সামুতে। জাতি ভুলতে পারে আমি ভুলি নাই!

১৩

স্বপ্নের ফেরীওয়ালা's picture


অধ্যাপক মোজাফফর সাহেবের সাথে দেখা একবারই দেখা হয়েছিল বছর ১২-১৩ আগে টিআইবিতে। ওই মাপের একটা মানুষ এতটা নিরহঙ্কার, নিজের জ্ঞান বা অভিজ্ঞতা জাহিরের কোন চেষ্টা নেই, সাধারন মানুষদের সাথেও তার বিনম্র ভাব বিনিময়, ভাবা যায় না।

লেখা যথারীতি মচমচে। মূল লেখায় অধ্যাপক মোজাফফর আহমেদ এর নামের বানান টা ঠিক করে দিলে ভাল হয়।

~

১৪

আরাফাত শান্ত's picture


আমি আসলে এবিতে লেখা এডিট করার তরীকাটা এখনও জানি না জানলে অনেক আগেই ঠিক করতাম!

হুমম আসলেই অসাধারন মানুষ একজন!

১৫

মীর's picture


শুনেন, আপনে লগিন অবস্থায় নিজের যেকোন পোস্ট খুল্লেই শিরোনামের উপরে 'দেখুন' আর 'এডিট'- এই বাটন দুইটা দেখতে পাবেন। ওইখানকার এডিট বাটনটায় ক্লিক করেন। এরপরে কি করতে হবে তা আপনে জানেন Wink

১৬

আরাফাত শান্ত's picture


এইটা তো আমি অনেক বার দেখছি কিন্তু এইটা দিয়ে যে এত ভালও ভাবে এডিট করা যায় তাতো জানতাম না!

থ্যাঙ্কস মীর ভাই। লাখো লাখো শুভকামনা!

১৭

বিষাক্ত মানুষ's picture


চমৎকার লিখছো শান্ত।

১৮

আরাফাত শান্ত's picture


আপনে বলছেন এইজন্যে বড়ই শান্তি পাইলাম। ভালো থাকেন ভাইয়া, শুভকামনা!

১৯

নেয়ামত's picture


কাউকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রাখতে না পারলে নিজের উপরে ব্যাপক ঘৃনা লাগে। আর নিজেরে খালি বলি আমি কোনো মাইনষের জাতই না!

সুপার লাইক।

২০

সাঈদ's picture


দারুন। দোজখের ডেমো ভার্সনে থাইকা এই লেখা পইড়া একটু শান্তি পাইলাম

২১

আরাফাত শান্ত's picture


এই গরমে শান্তির কোনো আত্মীয় পরিজনই বাইচা নাই তাদের দেখাও নাই!

তবুও দোয়া করি আপ্নে শান্তিতে থাকেন!

২২

মেসবাহ য়াযাদ's picture


হ, সব বারের মত এইটাও দারুন।
দোজখের ডেমো ভার্সনে থাইকা এই লেখা পইড়া একটু শান্তি পাইলাম Big smile

২৩

আরাফাত শান্ত's picture


ধন্যবাদ ভাইজান। শান্তিতে থাকেন এইটাই চাওয়া!

২৪

মৃন্ময় মিজান's picture


দোযখের ড্যামোর বর্ণনা ভাল হইছে....এইইতো আমাদের প্রতিদিনকার বাংলাদেশ।

২৫

আরাফাত শান্ত's picture


কিছুই করার নাই। খালি ব্লগে পোষ্ট লেখা ছাড়া!

২৬

তানবীরা's picture


চমৎকার লিখছো শান্ত।

২৭

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


মীর ভাইএর সাথে একমত,
আপনে একজন ভালো লেখক।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!