ইউজার লগইন

যে কারনে ব্যাচ গেটটুগেদারে যাওয়া হলো না!

বাসায় একা বসে আছি। মামা গেছে উত্তরা, খালার বাসায়। মন মেজাজ যথারীতি খারাপ। মন মেজাজ খারাপ না থাকলে আমার আবার ব্লগ লেখার মুড আসে না। গতকাল একটা বাজে এক্সাম হলো তাতে মন মেজাজ খারাপ। এরপর বাসায় আছি একা তাতে কেমন জানি একলা একা লাগতেছে।

যাই হোক মেইন কথায় আসি। গত মাসে জানতে পারলাম আমাদের স্কুলের ব্যাচের কতিপয় বন্ধু বান্ধব একটা রিইউনিয়ন নামের কিছু একটা করবে। নেভীর স্কুল তো নেভী কবে একটা বড় আকারে রিইউনিয়ন করবে সবাই মিলে তাতে আসবো তার তো কোনো ঠিক নাই। তাই আমাদের উৎসাহী বন্ধু বান্ধবের এই প্রচেষ্টা। উদ্দেশ্য মহত নি:সন্দেহে। কিন্তু মহৎ জিনিস সব সময় ভালো লাগে না আমার। আমিও তাদের উদ্দেশ্য বিধেয় জানার চেষ্টা করলাম। কিন্তু উদ্দেশ্য জানার আগেই দেখি কাছের বন্ধু বান্ধব সবাই রাজি। দলবেধে ট্রেন করে যাবে। কতো মিস্টি মধুর প্ল্যান সব। আমিও ঢাকার মিটিংয়ে এটেন্ড করলাম। সবাই যাবার জন্য উদগ্রীব। আমাকে সবাই গোনায় ধরে রাখলো যাচ্ছি বলে। আমিও হ্যা না কিছুই বললাম না। ফেসবুকে তাদের প্রচারনা দেখলাম। তাদের হম্বিতম্বি দেখে অবাক হইলাম। অনুষ্টান কই হবে? অয়েলফুড না সিলভার স্পুন নাকি জামান নাকি নেভীর কমুউনিটি সেন্টারে তা নিয়ে ফেসবুক গরম। কে কোথায় খাইছে বন্ধু বান্ধব নিয়ে কিসের কেমন দাম কেমন তা নিয়ে ব্যাপক শোডাউন। যেদিন টিএসসিতে শেষ মিটিং হলো সেই দিন বন্ধু আসছিলো বুয়েটের কিসের জানি পরীক্ষা দিতে। আমি গেলাম নীলখেতে। সেই দিন ছিলাম খুব টায়ার্ড। বাসাতে আসছি চারটায়। বিকালে তাই টিএসসি যেয়ে জমায়েত হয়ে টাকা দিতে গেলাম না। ফোন আসলো রাশি রাশি। ধরলাম না দুই দিন। আমি গেলাম না বলে আবিরও গেলো না। এই ভাবেই মিস করলাম আজ দুপুরে সিল্ভার স্পুনে যে পার্টি ও গানবাজনা হবে সেটা। ৫৩ জনের মতো তারা যোগার করছে। আমি ভাবছিলাম ৩০-৩৫ জন হবে। এখন কেনো জানি মেজাজটা খারাপ লাগতেছে। গেলেই পারতাম। হয়তো সিল্ভার স্পুনের ৩২ আইটেমের বুফ্যেতে খাওয়ার সময় কেউ মনেও রাখবে না তবুও গেলে হয়তো ইঞ্জয় করতাম।

কেনো গেলাম না তার কারন বনর্না করি কাজ তো নাই আর

নাম্বার ওয়ানঃ টাকা পয়সার কারনে। আবীর আর আমার চাঁদার টাকা হয়তো ধার করে বা বাসা থেকে চেয়ে দিতে পারতাম কিন্তু দেই নি কারন টাকা চাইতে বোরিং লাগে। বিপদে পড়লে টাকা তো চাইতেই হবে কিন্তু একে তো চাদা তারপর যাবোও তার খরচ। একবেলা বুফে খাওয়া আর আড্ডা মারার জন্য এতো টাকা পানিতে ফেলতে চাই না।

নাম্বার টুঃ বেকার কিছুই করি না এক এমবিএ ছাড়া। যারা আয়োজক তারা সবাই চাকরী করে। কেউ কেউ ব্যাবসা করে। এদের সাথে স্কুলে পড়া অবস্থাতেই উঠা বসা ছিলো কম। যাদের সাথে উঠা বসা ছিলো তারা সব কেমন জানি হয়ে গেছে এদের কথা মতোই চলে। তাই গেলে একটু মন খারাপ হবে আর এরাও তাদের জবের গল্প করবে খালি তা শোনার খায়েস আমার নাই। এরা সবাই আবার মাতাব্বর কিছিমের লোক। আমি নিজেই এক মাতাব্বর তাইএতো মাতাব্বর ভালো লাগে না!

নাম্বার থ্রিঃ চিটাগাং আমি এম্নিতেই যাই। কোনো কারন ছাড়াই। গত ছয় বছরে আমি ১৫-১৬ বার গেছি চিটাগাংয়ে। সামনের মাসে ব্লগার শফিউল ইসলাম চৌধুরী ইমন ভাইয়ার বিয়ে। তিনি দুই বছর ধরে বলতেছেন শান্ত বিবাহে অবশ্যই আসবা যত কাজই থাকুক। তাই সামনের মাসে যেহেতু যাবার একটা সম্ভাবনা আছে তাই টাকা নষ্ট করে এখন আর গেলাম না!

নাম্বার ফোরঃ আমি হলাম চায়ের দোকানে দিন পার করা ছেলে। চিটাগাংয়ে সাগর পার ছাড়া কোথাও আমার বেড়াতে ভালো লাগে না। সেই চেনা জানা পোর্টল্যান্ড মারকেট, আফজল হোটেল পরোটা চা, পনেরো নাম্বারে পিয়াজু খাওয়া এই ভাবেই দিন যায়। আমি চিটাগাংয়ে বড়োলোকি দেখাতে যাই না চাইও না। তাই এইসব সিল্ভার স্পুনে চাইনিজে সময় নষ্ট করার সময় আমার নাই।

নাম্বার পাচঃ বেচে থাকলে রিইউনিয়ন বহুত করা যাবে। স্কুলই হয়তো একদিন রিইউনিয়ন পালন করার প্রয়োজন বোধ করবে তা না হলে একটু ডাক দিলেই ঢাকা শহরেই স্কুলের ১০-১২ জন আমরা প্রায়ই একত্রিত হয়ে প্রতি মাসেই মিরপুর ১৪তে। আর ভাল ভাবে ডাকলে চিটাগাংয়ে ১০০ পোলাপাইন ম্যানেজ করা কোনো ব্যাপারই না। এখনো পোলাপাইনের সাথে ভালোই যোগাযোগ আছে বয়স অল্পই। যখন ভালো মতো যোগাযোগ থাকবেনা তখন আয়োজন করবো। কোনো চাদা ছাড়া লোকজনের কাছ থেকে ডোনেশন নিয়ে।

তবুও গেলাম না বলে মনটা বিষন্ন। শুভকামনা থাকলো আজকের দিনটা যেনো তাদের দারুন যায়!

পোস্টটি ৭ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

অনিমেষ রহমান's picture


গেলেই ভালো করতেন; আবার কারনগুলোও ভালোই লাগছে।
সর্বোপরি আজকের দিন ভালো কাটবে।
Smile Smile

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


Puzzled

রন্টি চৌধুরী's picture


এক্কেবারে আমার মত চিন্তাভাবনা। কোনকিছুতে না গিয়ে মিস করলে আমি এমন পয়েন্ট টু পয়েন্ট পজিটিভ দিক খুজে বের করি। এটা করে নিজেকে হালকা করার চেষ্টা করতাম আসলে। দিনে দিনে বুঝেছি এভাবে যে শুধু হালকা হওয়া যায় তা না, সত্যি সত্যি না যাওয়াতে ভাল কিছুও হয়ে যায়। আমি এ জীবনে আলসেমীতে বা নানা কারনে যত কিছুতে যাওয়া মিস করেছি তার পেছনে কারন খুজে বের করে নিয়ে হালকা হয়ে তার পরিবর্তে আরও ভাল কিছু করে ফেলেছি।

হয়ত এই ৫৩ জনের রিউইনিয়ন মিস করাটা একটা ৫০০ জনের রিইউনিয়নের জন্ম দিতে পারে।

রাসেল আশরাফ's picture


আমার কাছে সব গুলোর মধ্যে ''নাম্বার টু'' টা প্রধান কারন মনে হয়েছে।এই ধরনের চিন্তাভাবনা কেন জানি সবার মধ্যেই হয় আমার মধ্যেও একসময় হতো।আবার পরবর্তীতে আমার অন্যবন্ধু বান্ধবদের মধ্যেও দেখেছি।

তানবীরা's picture


গেলেই ভালো করতা Puzzled

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!