মানুষ চেনায় আনন্দ!
কেমন আছি? জিগেষ করলেই বলি যায়যায়দিন। যদিও শফিক রেহমানের সাথে এর কোনো লেনাদেনা নাই। দিন যায় যাবার জন্য তাই যায়যায়দিন ভাবেই কাটছে দিন। এলাকার মসজিদে তাবলীগ জামাতের লোক আসছে। সব এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে আসছে। তাবলীগেরে আমি ভালো না পাইলেও সাথে আমার একটা মধুর স্মৃতি আছে ৬দিনের। তখন দিন ছিলো ভালো থাকার আনন্দ থাকার। দিনগুলো কাটছে পিকনিকের মতো। খুব ভোরে ঘূম থেকে উঠে ফজর নামায় পরেই চলে যাইতে হইতো রাস্তায় হাটতে। আমরা সব দাওয়াতের নাম নিয়ে বের সব হোটেল ঢুকতাম। কেবল পরোটা বানানো শুরু হইছে ভোরে। তেইশ চব্বিশ জন পুরা হোটেল দখল করে চা পরোটা খাওয়া শেষে বিল হিসাব একত্রে না করতে পেরে এভারেজে বিল দেয়া এই ভাবেই সকালটা গেছে। পুকুরে গোসল করা, এক গামলার ভিতরে একসাথে খাওয়া, বিকালে প্যাটিস আর চা খাওয়া, সবাই একত্রে অট্টহাসিতে ফেটে পড়া এই ভাবেই সময় কাটছে। তবে তাবলীগ থেকে ফিরে খুব মজা পাইছি সবাই দেখি ইমান আমল নিয়ে খুব সিরিয়াস তিনদিন পরেই সব প্রভাব উদাও। যেমন ছিলাম তেমনি রয়ে গেলাম। তাই তাবলীগ আমার পছন্দ না। বয়ানে তাদের কথাবারতা সারাজীবন ধরেই একি ধরনের। বছরের পর বছর ধরে তারা ফাজায়েলে আমল পড়ায় তো পড়ায় বই আর চেন্জ হয় না। তাদের নিজেদের কিছু হাদিস আছে সওয়াব সম্পর্কিত যা শুনলেই গা জ্বলে। তাই মসজিদের সামনে বসে থাকা চায়ের দোকানে থেকে সেই মসজিদে নামাজ পরেও আমার তাবলীগের বয়ান শোনা হয় না। আর তাবলীগের ছেলে পেলেরাও রেলগাড়ির মতন করে হেটে যায় এলাকা দিয়ে আমাকে আসে না দাওয়াত দিতে। হয়তো মুখে ২৩-২৫ দিনের দাড়ি পান্জাবী থাকার কারনে জামাত জামাত ভাবতে পারে। কিন্তু তাতে আমার কিছু আসে যায় না! এবার মেইন কথায় আসি। আজ প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে কাজ না থাকলে বেশির ভাগ সময়ই কাটে চায়ের দোকানে। সেই সুত্রে আমি আর পুলক এলাকার অনেক মানুষ চিনি। আগ্রহ ভরে নাম পরিচয় বাড়ী কোথায় মনে রাখি। এইটা কঠিন কোনো কাজ না। কঠিন কাজ সবার সাথে দেখা হলে কথা বলা খোজ খবর নেয়া। আমি আর পুলক এই কাজটাও খুব মন দিয়ে করি। দেখা হলে কথা বলি চা সিগারেট পান অফার করি। এই ভাবেই সবাই আমাদের চিনে। এই চেনা জানার পরিধি অনেক বড়। এলাকার ছোটো বড় ভাই, ইলেক্ট্রিশিয়ান, সাব কন্ট্রাকটর. নজরুল সংগীত শিল্পী, পাগল, রাজমিস্ত্রী, কাঠের কাজ করে, রিকশা ওয়ালা, মেকানিক, বাড়ী ওয়ালা, থানার ওসি, ফার্মেসী মালিক এরকম নানা ধরনের লোকের সাথে পরিচয় উঠাবসা। রাস্তা ঘাটে কোথাও দেখা হলে রিকসা থামায়া যখন আলাপ শুরু করে দেই তখন লোকজন ব্যাপক ভালো পায়। এই সামান্য আন্তরিকতায় এলাকায় মোটামোটি প্রভাবশালী লোকে পরিনত হইছি। সবার অনেক আশা ভরসা আমি আর পুলক সামনে অনেক বড় কিছু হবো। এলাকার মূখ উজ্জল করবো। ডক্টর আবুল বারাকাতকেও এলাকার লোক এতো ভালো পায় না। মানূষের এই ভালোবাসায় আপ্লুত হই অবাক হই। টাকা দিয়েও লোকজন এই ভালোবাসা পাওয়া সম্ভব না। নাট্য পরিচালক গাজী রাকায়েত এই এলাকায় থাকে তারে দেশের মানুষ চিনে এলাকায় কেউ তারে পুছে না কিন্তূ আমাদেরকে সবাই চিনে। এলাকার নানা ধরনের অনুষ্টানের দাওয়াত পাই খুব ভাব নিয়ে যাই না। তাই এইসব ছোটোখাটো আনন্দ নিয়ে ভালোই আছি। আর অন্জন দত্তের গানটাই মনে রাখি 'আমি অন্য কিছু নই আমি সবাই' এই পোষ্টটা চায়ের দোকানে ভিতরে বসে মোবাইলে লিখলাম। বাইরে বৃষ্টির শব্দ তার ভিতরে এইটা লেইখা খুব ভালো পাইলাম টিনের চালের দোকানে।





বাহ !!

চমৎকার জীবন।
উস্তাদী জীবন; ভালো লেগেছে লেখা।
ধন্যবাদ ভাইজান!
তোমার এই লেখাটাও আগের গুলোর মতোই কিন্তু এই লাইনটা পড়ে
কেন জানি একটু হিংসাও হলো।
সেইদিন আসলেই দারুন ছিলাম। হিংসা করতেই পারেন!
ধন্যবাদ আপনাকে~!
শান্ত হিমু হয়ে যাচ্ছে বা গেছে
হিমু হবার খায়েশ নাই। কারন হিমু শহর জূড়ে হাটে আমি হাটি না অতো বসেই থাকি। হিমুর মতো অতো সংসার বিরাগী না আমি। হিমুর মতো টেনশন ছাড়া লাঈফ থাকলে অনেক শান্তি পাইতাম!
হিমু হইতে চাই না। হাটিও না বেশী তাই!
আবারো মোবাইলে পোষ্ট!!
ওইদিন তোমার যায়যায়দিন বলার পর বলতে গেছিলাম যে, গোলাপ নিয়া ঘুরো নাকি এখ্ন, দেখি অফ্লাইন হয়ে গেছো!
ভাব নিয়া না আসলেই বড়ো হও।
দোয়া কইরেন আর ভাল থাকেন!
আসলেই অনেক বড় হও। দোয়া করি সবসময়।
দোয়া অব্যাহত রাখেন। শুভকামনা আপু!
এই ভাল এই ভাল।
ভালো থাকবে না মানে কী? থাকতেই হবে ভালো(সুমনের গান)!
তবে তাই হোক...
'মোর (শান্ত) নাম এই বলে খ্যাত হোক
আমি তোমাদেরি লোক...'
আপনি পুরা বঙ্গদেশের লোক!
বাহ !!
চমৎকার জীবন।
উস্তাদী জীবন; ভালো লেগেছে লেখা।
থ্যাঙ্কু। স্ব্দেশ ভ্রমন সুখের হোক!
হিউম্যান সাইকোলজি অবজার্ভ করার মধ্যে আসলেই একটা বিমল আনন্দ আছে।
এই আনন্দ খুব কম লোকই বুঝে। খবর কি? আছেন কেমন?
খবর ভালো ডিউড। সময় দুর্বার গতিতে বহমান। ধরতেই পারি না বেশির ভাগ ব্যপার-স্যপার আজকাল। তার আগেই পার হয়ে যায়।
আপনার লেখা পড়তে ভালো লাগে।
মন্তব্য করুন