বিষাদের দিন রাত্রী
ব্লগ লিখতে খুব ইচ্ছা করে। কিন্তু লেখা হয়ে উঠে না কারন সময় পাই না বলে। বেকার লোকেরা অনেক ব্যাস্ত। আর ব্যাস্ততা ভেঙ্গে যখন লিখতে বসি তখন মনে হয় এরচেয়ে গান শুনি ইউটিউবে। জোয়ান বায়াজ থেকে শুরু করে ইত্যাদির গান সব শুনি। মন মেজাজ ভালো না। দিন যায় বড়ই বিষাদময় সময় নিয়ে। ভালো বন্ধুর মারাত্মক এক্সিডেন্ট খুব মনোবেদনার কারন। তার ভিতরে পাচ মাসের পেটে থাকা বাচ্চার মৃত্যু দিন গুলাকে বিষাক্ত করে দিছে। হাসছি খেলছি ফেসবুক স্ট্যাটাসে দিয়ে পার করছি। কিন্তু মনে তীব্র একটা ব্যাথা অনুভব করি। যার উপর দিয়ে এতো বিপদ গেলো তাকে সান্তনা দেয়ার সাহস পাইনা যে আসলে কী বলা যায়। তাও ফোন দেই নরমাল কথা বারতা বলে স্বাভাবিক হবার চেষ্টা করি। সেও চেষ্টা করতেছে এইটাই একমাত্র ভালো খবর।
তার ভিতরে হুমায়ুন আহমেদ মারা গেলো। বিষাদের আগুন আরেকটু জ্বালিয়ে গেলো। যদিও খুব বেশি মন খারাপ যে তা না। যে বয়সে লোকজন মাসুদ রানা তিন গোয়েন্দা পড়ে সেই বয়সে আমি কমিকস পড়া বাদ দিয়ে হুমায়ুন আহমেদ পড়া শুরু করি। যা পাইছি সব পড়ছি। কিন্তু যখন দেখলাম নিজের স্টক পড়া শেষ।টিভিতে শংখনীল কারাগার আগুনের পরশমনি দেখতে খুব ভালো লাগতো। আমার এখনো গভীর বিশ্বাস যে আগূনের পরশমনির চেয়ে ভালো বাংলা সিনেমা বানানো সম্ভব না। তখন লোকজনের কাছ থেকে বই খুজতাম। কারো বাসায় পেলেই হইতো বলে হোক না বলে হোক বই বাসায় নিয়ে গিয়ে পড়ে ফেরত দিতাম। ক্লাস সেভেনে থাকতে মিসির আলির একটা সমগ্র স্কুল লাইব্রেরীতে আসলো। বন্ধু রফিক দিলো মেরে জামার ভিতরে ঢুকিয়ে। আমি তার কাছে কিনে নিলাম বাসা থেকে টাকা চুরি করে ১০০ টাকায়। কি যে আনন্দ! বন্ধু সাদেক ছিলো যার কাছে অনেক গুলান বই ছিলো তারে তেল মেরে বই নেয়া এই ছিলো আমার কাজ। বলা যায় ২০০৬ সাল পর্যন্ত পড়া মানেই হুমায়ুন আহমেদ। তার সাথে মানিক, শরৎ, সমরেশ, বঙ্কিম পড়া শুরু করছি খুব ভালো ভাবেই। ২০০৭ সাল থেকে আমি হুমায়ূন আহমেদ ছাড়তে শুরু করলাম। টিভি নাটক তখন যা বানাইতো তা ভালো লাগতো না। তখন মেলায় যে গুলা বই বেরুতো সুযোগ থাকতেও কিনি নাই। একি ইদে তার ৬ নাটক চ্যানেলে। কোনটা দেখবো আর! তার লেখা বলপয়েন্ট, কাঠপেন্সিল, ফাউন্টেন পেন এই সব পড়ে ভালো লাগে নাই। অনেক কথাই বাড়িয়ে বলার চেষ্টা। পছন্দ হয় নি। কিন্তু লোকজনের ঠিকই পছন্দ ছিলো। আমি এমন অনেক লোককে চিনি যারা স্রেফ শুক্রবারের কালের কন্ঠ কিনতেন হুমায়ুন আহমেদের ছোট্ট একটা কলাম পড়ার জন্যে। সবাইকে জোর গলায় বলেছিলাম তিনি ৭০-৭২ পর্যন্ত বেচে থাকবে। কিন্তু তা আর হলো না হূট করেই তিনি মারা গেলেন। তবে ভাগ্য ভালো তিনি কোনো অপঘাতে মরে তারেক মাসুদের মতো জাতিকে বিপদে ফালান নাই। খুব ভালো চিকিৎসা স্বত্তেও মারা গেলেন আকস্মিক ভাইরাস সংক্রমনে। আর বিপদে ফালায়া গেলেন পুলকের মতো পাঠক দের। পুলক গত কাল সকাল থেকে কিছুই খায় নি এইটা ভাবতে ভাবতেই যে হুমায়ূন আহমেদের নতুন লেখা কোনো অন্য প্রকাশের ভীড় ঠেলে আর কিনতে পারবে না। আমার এত বেশী মন খারাপ না। দুনিয়াতে মরতে হবেই সবার। কিচ্ছু করার নাই। চেষ্টা তো করছে অনেক। কিন্তু সব চেষ্টাই অসহায় প্রকৃতির কাছে। দোয়া খালি একটাই করি প্রভু উনাকে ভালো রাখুক অন্য ভুবনে। আর আমার দেড় বছর বয়সী ভাতিজির কাছেও থাকুক একি মুল্য হুমায়ূন আহমেদের যেমনটা আমাদের কাছে ছিলো।
রোজা শুরু হয়ে গেলো। গত দুই বছর ধরে রোজার সময় মানেই মেজাজ খারাপ দিন। বারবার খালি বাসার কথা মনে পড়া। সেই ক্লাস সেভেন থেকে সিরিয়াস্লি সব রোজা রাখি। কিন্তু এখন রোজা লাগলে খালি ক্লান্ত লাগে। সকালে ঊঠেই চায়ের খুব পিপাসা পায়। অথচ আগে রোজা রেখে ক্রিকেট খেলা, সেমিস্টার ফাইনাল, ঘুড়াঘুরি কত কিছু করছি একটুও ক্লান্ত হই নাই। এখন রোজা রাখলেই ক্লান্তি ভর করে। ৭-৮ রোজা যাবার পরে হয়তো এই ক্লান্তি ভাব দূর হবে। রোজায় আরেক গেঞ্জাম দেদারছে খরচ। টাকা নাই পয়সা নাই তাইলে আর সংযম রক্ষা করা যাবে না। তার ভিতরে যেতে হবে বাড়ী ২৫ রোজার পরে। কিভাবে যাবো ট্রেনের যে বাজে অবস্থা তাতে কি হবে উপায় ভাবতে ভাবতেই মনে হয় কী জঘন্য অবস্থা। চাকরি নাই বাকরি নাই প্রতি ইদেই বাসার টাকায় চলতে আর ভাল লাগে না। তারপর আবার সেমিস্টার ফাইনাল বিসিএস রিটেন কি হবে অবস্থা আল্লাহই মালুম। কিছুই পড়ি না। রোজায় হাতে মেলা সময়। নেটে সময় কাটবে বেশি। ওলো খুব ভালো সারভিস দিতেছে এই একটা জিনিসেই এখন আনন্দ!





সব মিলিয়ে ভালো লিখেছেন।
মন খারাপ করা লেখা।
অস্বাভাবিক না, তবুও কেন জানি মাইনা নিতে পারতেছিনা এই মৃত্যুটা...
প্রভু উনাকে ভালো রাখুক অন্য ভুবনে।
কষ্ট পাইছি উনার মিত্যুতে
সব মৃত্যূই কষ্টদায়ক, উনি যেন বড্ড তাড়াতাড়ি চলে গেলেন। অন্য ভুবনে ভাল থাকুন তিনি।
শান্ত তোমার বয়স হইতাছে
সেই ক্লাস সেভেন থেকে সিরিয়াস্লি সব রোজা রাখি। কিন্তু এখন রোজা লাগলে খালি ক্লান্ত লাগে।
মন্তব্য করুন