ভালো থাকবেনা মানে কি!
কবীর সুমনের এই শিরোনামের গানটা আমার ভীষন প্রিয়। নিজের অজস্র মন খারাপের দিন অঞ্জন, সায়ান, কবীর সুমনের গানই ভরসা। তবে মন খারাপকে জয় করার সহজ উপায় বাইরে বের হয়ে প্যাচাল পারা। কত লোক আপনার সামনে দিয়ে যাবে তাদের অনেককে আগেও দেখছেন সেই সুবাদে আলাপ শুরু করে দেন। দেখবেন মানুষের একস্পিরিয়েন্স দিন যাপনের গল্প কত অনন্য। এর একটা গল্প শুনলেই আপনার মন ভালো হয়ে যাবে। সেই কথা থাক অন্য কোনোদিন বলবো। আজ সারাদিন কেমন গেলো তাই নিয়ে বলি।
নেটে বসা কমানোর চেষ্টায় আছি তাই মোবাইলে নেটে প্যাকেজ নেই নাই। আর পিসিতেও কম বসি। সারাদিন বাইরে থাকি। আর বাসায় থাকলে টিভি দেখি ঘুম দেই ম্যাগাজিন বই পড়ি। এক্সাম শেষ হয়ে গেলো। আশা রাখি পাশ করবো। বাইরে বেশির ভাগ সময় বন্ধু পুলকের সাথে। অবশ্য পুলকের মন মেজাজ বিষন্ন। তার মা হাটু ভেংগে প্লাস্টার নিয়ে বিছানায়। দুই বোনের এক ভাই পুলক তার মাকে নিয়ে সিরিয়াস ভাবে চিন্তিত। তবে তার এই কঠিন সময়ে আমি তার বেকুব বন্ধু। খালি ফোন দিয়ে বলি বাইরে আসেন। আমার যন্ত্রনায় সে আসা যাওয়ার উপরেই থাকে। অবশ্য পুলকের নানান কাজের সাথী আমি। যেমন বাজার করা নিজের ঘরের বাজার এই জীবনে এক বারও করি নাই কিন্তু পুলক গেলে সাথে সাথে যাই। পুলক ভালো বাজার করে। এক সাথে অনেক কিছু কিনে। এত বাজার ব্যাগের এতো ওজন দেখে পেরেশান হই। বাজার শেষে নাহার হোটেলে চা খাই। হোটেলটা অনেক ব্যাস্ত। ধরেন একটা চায়ের কথা বললেন পাবেন পাক্কা ১২ মিনিট পর। যদিও হোটেলের দুধ চা আমি খাই না কিন্তু কেনো জানি বাজারের ময়লা পানি পেরিয়ে এই চা খেতে রিল্যাক্স লাগে। আজ অবশ্য গেলাম পুলকের সাথে টিন কিনতে। এই জীবনে আমি টিন কিনি নাই কক্ষনও। গেলাম দেখি টাউন হলে সারি সারি আবুল খায়েরের গরু মার্কা টিনের দোকান। পুলক তাদের বাসার রান্না ঘরের টিন ফুটো হইছে তার বাবার আদেশে সকাল সকাল এই গেঞ্জাম। এক দোকান থেকে কিনে সেখানেই দেখি ভ্যানের ব্যাবস্থা। ভালো লাগলো এই ইন্সট্যান্ট সার্ভিস। ভ্যানে টিনের উপরে বসে আমি পূলক এই প্রচন্ড রোদে চায়ের দোকান ফিরে যাই ঘামতে ঘামতে। পুলকদের বাসাটা অসাধারন। অনেক জায়গার উপরে একতলা একটা বাড়ি। উপরে টিনের চাল। ঢাকা শহরে কেউ এমন বাড়িতে থাকতে পারে কল্পনাও করি নাই। অনেক গাছ গাছালীতে পরিপুর্ন এই বাড়ি একটা ছোট বেহেশত। এরপর শুরু হলো সকালের আড্ডা। আদনান আমি পূলক মুফতী ভাই বিচিত্র বিষয় নিয়ে আলাপ তুলি। যোগ দেয় অঞ্জন। শুনি মেডিনোভায় লাল প্যাটিকোট পরে এক্সরের গল্প। হাসতে হাসতে দম বন্ধ। সবাই চলে যায় আমি বসে থাকি চায়ের দোকানেই। আওয়ামীলীগের নেতার সাথে তার মেজাজ কেনো খারাপ সেই গল্প শুনি। এদিক ঘামতে ঘামতে ক্লান্ত এক ফোটা বাতাস নাই। সময় বয়ে চলা। দুপুর দুটো বেজে গেলো। ধানমণ্ডি দুইয়ে স্টারে আমাদের চার ভার্সিটি বন্ধুর খাওয়া দাওয়ার দিন। খাওয়ায় বেশির ভাগ সময় বিল দেয় পরাগ। কারন শরীর চিকন থেকে চিকনতর হলেও তার ক্যারিয়ারের অবস্থা অনেক ভালো। ক্যাথে প্যাসেফিকে কাস্টমার সার্ভিস অফিসার মাসে মোটা বেতন বিচিত্র সব এক্সপিরিয়েন্সের গল্প। পরাগকে বলা যায় আমার ইউনিভারসিটি জীবনে সব চেয়ে কাছের মানুষ। কত অজস্র মন খারাপের দিন আমি পরাগের পাশে ছিলাম তার হিসেব নাই। আন্টির স্নেহে মুগ্ধ হইছি বারবার। এখন তার উদ্ভট চাকরী সময়ের কারনে সেই যোগাযোগ নাই তাও অনেক কাছের মানুষ আমি। বন্ধু অশোক খুব নরম শরম গোছের ছেলে। তার বাবার তাতী বাজারে গোল্ডের ব্যাবসা। সে বাংলা লিঙ্কের কাস্টমার কেয়ার লাইনে চাকরী ছেড়ে এখন বেকার। বলতেছে বাবার ব্যাবসা ধরবে সাথে একটা চাকরী দরকার। তার ব্যাবসার গল্পে খালি কোটি টাকার উপস্থিতি। বন্ধু রাসেল এম্বিএ করছে ইন্ডিপেন্ডেন্টে। তার বাসা কেরানী গঞ্জ। ক্লাস করতে তিন ঘন্টার পথ পেরিয়ে আরেক দিকে যায়। বললো পড়াশুনার খুব প্রেশার। আমি বললাম কী আর পড়ায় সেই তো বিবিএর পড়াই। তার সাথে ইন্ডিপেন্ডেন্টের গল্প গুজব শুনলাম। সে মধ্যে বাংলালিঙ্কের কাস্টমার কেয়ার লাইনে জব করছে। সেই চাকরী কেনো ছাড়লো তার ব্যাখা। আমার কোনো গল্প নেই। দুই প্লেট সাদা পোলাওয়ের সাথে খাসির রেজালা সাথে বোরহানী পায়েশ দই স্প্রাইট খেয়েছি সবার থেকে বেশী। যাদের যাদের খোজ আমি জানি তাদের কথা বারতা বলে ফেলছি। আর স্টারে মারাত্মক ভীড় দেইখা ওয়েটারদের সাথে ঠাট্টা মশকারী করছি। স্টারে দুপুরে এত ভীড় আমি আগে দেখি নি। স্টার থেকে বের হয়ে গেলাম লেকে বসলাম। জঘন্য এক কাপ চায়ের দাম ১০ টাকা দিয়ে চার জনকে খাইয়ে সবার দুর্নামের ভাগী হলাম। সিগারেট খাওয়ালাম ওকেসনাল স্মোকারদের। রিক্সা দিয়ে হেলতে দুলতে এসে দেখি সন্ধ্যা। প্রতিদিনের মতো চায়ের দোকানে না বসে বাসার দিকে রিক্সায় রওনা দিলাম গান গাইতে গাইতে ভালো থাকবেনা মানে কি থাকতেই হবে ভালো!





জয় হোক বন্ধুতার!!!
তথৈবচ
মন ভালো করার উপায় গুলো আসলেই কাজের!
পড়লাম।
আছেন কেমুন?
সুখে আছে যারা সুখে থাকুক তারা
মন্তব্য করুন