একটি ছেলের কথা
শিরোনাম দেখে চমকে উঠার কিছু নাই। এইটা কোনো রোমান্টিক ছেলের গল্প না বা কোনো ধনীর দুলালের হারিয়ে যাওয়ার গল্প না। বা এইটা ওয়ারফেইজের গানের একটি ছেলেও না আবার সুমনের ব্যান্ড অর্থহীনের অদ্ভুত সেই ছেলেটিও না কিংবা এলআরবির সেই ঘুম ভাঙ্গা শহরের কিশোর ছেলেও না। এই ছেলেটি এমন এক ছেলে যে বাক প্রতিবন্ধী বয়স ১৩-১৪। জামালপুরের ভাষায় এদের বলে থেতলা। কথা জড়িয়ে যায়। ভালো ভাবে কথা না শুনলে বুঝাই দুস্কর এমন এক ছেলের কথা বলছি। যেই ছেলেটি সুদুর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দী থেকে বাবার এক্সিডেন্টের খবর শুনে আগত। তার মামার ফোন করছিলো তা শুনে সে নানা বাড়ী থেকে রওনা দিছে। ২৫ তারিখ তার ডাচ বাংলা ব্যাংকের কি জানি একটা স্কলারশীপের এক্সাম। সে ক্লাস ফাইভে প্রতিবন্ধী হিসেবে বৃত্তি পাইছে। ঢাকাতে নেমেই সে দেখে তার মামার ফোন অফ। কে জানি তারে বুদ্ধি দিছিলো তাকে সদর ঘাটে যাবার জন্যে। সে যায় সদর ঘাট কোথাও তার মামা নাই। এদিকে পকেটে টাকাও নাই তার। সারাদিন কিছুই খায় না। সে অবস্থাতেই সে বাড়ীর দিকে চলে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। এক ট্রাফিক পুলিশ তাকে ভুল রাস্তা দেখিয়ে দেয়। সেই সুত্র ধরেই সে আসে আমাদের চায়ের দোকানে। হাটতে হাটতে এতো ক্লান্ত মনে হচ্ছে এখনি পড়ে যাবে। সেই সদর ঘাট থেকে মুহাম্মদ পুর রিক্সা ভাড়াই দেড়শো টাকা। সে পথ হেটে এসে বলতেছে গাবতলীতে যাবো কিভাবে?
প্রথমে তার কথা কেউ বুঝে না। বলতেছে গাবতলী শুনা যায় ধানমণ্ডি। কিছুক্ষণ পড়ে বুঝা গেলো ছেলেটা স্বাভাবিক না। আর সারাদিন হেটে তার হয়তো কথা বলারও শক্তি নেই। পুরো শরীর তার কুজো হয়ে পেটের দিকে মিশে গেছে। মামা ও পুলকের সহানুভুতি হলো খাওয়ানো হলো রুটি কলা। ছেলেটা চোখ ছলছল করতে করতে এই শুকনা খাবার খেলো। সংগে জানালো তার সব কথা। সে যে জড়িয়ে কথা বলে তারপরেও তার কথা পানির মতো ক্লিয়ার। মামা ও পুলকের বদান্যতায় তার হাতে মোটামুটি যাবার ভাড়া দিয়ে তাকে রিক্সায় তুলে দিয়ে রিক্সা ওয়ালাকে গাবতলি বাসে তুলে দেয়ার কথা বলা হলো। ছেলেটা ঠিক মতো পৌঁছালো কিনা জানা নাই। জানি না সে ডাচ বাংলা ব্যাংকের এক্সামটা দিতে পারছে কিনা? মা মরা ছেলেটার বাবার কি অবস্থা, তার জন্য নানা বাড়ির লোকজনের যে দুশ্চিন্তা করছে তার কি খবর!
জীবনটা কতো দারুন আমার। মন চাইলে চিটাগাং যাই জামালপুর যাই। বাপ মায়ের টাকায় চলি ফিরি খাই। অভাব যে কী জিনিস বোধ করি না। এরকম কঠিন দিন আমাদের জীবনে আসবেও না। তাই বলা যায় ভালো আছি। নেটে বসে ইশ্বর আছে কীনা নাই তা নিয়ে কথা ছুটাই, পাকিস্তানকে গালাগালি করে এক করে ফেলি, হালি খানেক পত্রিকা পড়ে নিজেরে সবজান্তা ভাবি। সকালে চিড়া কলা রাতে দুধ কত বিচিত্র খাবার দাবারে পেটে বোঝাই করি, বন্ধুদের সাথে আড্ডায় কত কিছু জাহির করি। অথচ সেই ছেলেটার কথা ভেবে মনে হয় কী একটা জীবন যে জীবনে এই সব দুঃখের দেখা নাই।এই মাঝ রাতে অদেখা ছেলের কথা মামার মুখে শুনে, ছেলেটার কথা ভেবে মন উদাস!





আমারো মন উদাস হয়ে গেলো।
পুলক'টারে একটা ঝারি দিও তো! ছেলেটার হাতে ফোন নম্বর দিয়ে বাড়ি পৌছাইলে ফোন করতে বলতে ভুলে গেছে - এই জন্যে!
মনটা খারাপ হয়ে গেল !
ভাল থাকুক ছেলেটি।
অসাধারণ লিখেছো। কতো কিছু নিয়ে হতাশায় ভুগি অথচ কতো ভালোই না আছি
(
আহা! মনটা খারাপ লাগছে। আজ এমনেই খুব বেশি মন খারাপ।
তুমি নিয়মিত লিখবা।
এজন্য আমি চোখকান বন্ধ রেখে অন্ধ বধিরের জীবন যাপন করছি - সহপাঠীদের সাফল্যে জ্বলে যাচ্ছি, কর্পোরেট কামলা হয়ে ছয় অঙ্কের স্যালারির স্বপ্ন দেখছি, আশির দশকে ঢাকা শহরে জমি না কেনার জন্য পূর্ববর্তী প্রজন্মকে অভিশম্পাত দিচ্ছি, কেএফসি বিএফসি ক্যাপ্রিকর্নস এ বসে মুরগির ঠ্যাং চিবুতে চিবুতে ওয়েস্টিনে ব্যুফে খাওয়ার প্ল্যান করছি। গল্প উপন্যাস ছেড়ে ২৪ ঘণ্টা ফেসবুকে মত্ত থাকছি, দেশজাতিকে উদ্ধারের স্বার্থে মাঝে মাঝে ব্লগে কমেন্ট করছি আর পরিকল্পনা করছি পিআর নিয়ে কানাডা চলে যাওয়া যায় কিনা।
মনটা খারাপ হয়ে গেলো ভাই।
দিনলিপির মতো লাগলো লেখাটা....বেশ একটানে পড়ে ফেললাম...যে পাঠ পাঠকের পড়ার মাঝে যদি গতি নিয়ে আসে, সেই পাঠ অবশ্যই সুপাঠ্য...নিজের চিন্তা চেতনা পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারা মাঝেই স্বার্থকতা...সেটা যে লেখাই হোক না কেন....আপনার এই লেখাটা এই মাপকাঠিতেও স্বার্থক বলা যায়....
আর জর্জ কোর্ট?? হা হা হা!! নাড়া খাইয়া গেলাম..কোন এক কালে এই কাঙালকে ও সেই জায়গা ধরনা দিতে হইছিলো....নিজের জন্য না পরের জন্য তা কমু না
...সব কথা কইতে না..
সব কিছুতে অতি মাত্রায় সিরিয়াস না হওয়ার সাথে আমি পুরাপুরি এক মত....লাভ নাই...শরীরের প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে পঁচন....হাউকাউ কইরা লাভ নাই............হাউকাউ করার ব্যাপক সময় সামনে পইড়া আসে..কারণ বিরাট দুঃসময় সামনে আইতাছে....
মন্তব্য করুন