Naadodigal
মন মেজাজ যে খুব একটা ভালো তা বলা যায় না। তবু দিন কেটে যাচ্ছে এইটাই ভরসা। অন্য অনেকের চেয়ে ভালো আছি তাই সান্তনা। সাতক্ষীরা, ভো্লা, রামু, হাটহাজারী পটিয়া এই বছর জুড়ে যত ঘটনা ঘটলো সব কিছু নিয়েই আমি খুব চিন্তিত। তবে চিন্তা করা ছেড়ে দিলাম। অতো ভেবে কাজ নাই। ভেবে আমরা বেশি হলে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিবো। আরও বেশী হলে প্রেসক্লাবে কড়া রোদে ফ্রুটো খেতে খেতে মানব বন্ধন করবো এতটুকুই আমার সাধ্য। আর লোকজন সব আমার মতই সিরিয়াস। কিন্তু এই সিরিয়াসে কিছুই করা যাবে না। যতক্ষণ ফেসবুকের সিরিয়াসনেস আমরা সমাজে প্রভাব না করতে পারবো ততদিন এই দেশে সিরিয়াস হয়ে কোনো কিছুই ছেড়া যাবে না। আর এমনিতে চিন্তা করে দেখেন এই দেশে হিন্দু মুসলমান চাকমা সাওতাল কেউই নিরাপদ না। প্রতিটা শ্বাস নেয়ার সাথে সাথেই মনে হয় বেচে তো আছি। কারন আজকে একটি ইংরেজী পত্রিকা দুটো জাতীয় বাংলা দৈনিক পড়ে হিসাব করে জানলাম মারা গেছে ১৭-১৮ জনের মতো। এর ভেতরে রোড এক্সিডেন্টে ৩-৪ জন। স্কুল টিচারকে ক্লাস রুম থেকে ডেকে নিয়ে খুন। এক জোড়া কানের দুলের জন্য বুড়ো মহিলা খুন। হাউজ ওয়াইফ খুন। আরও কত খুন যার হিসেব থাকে না। ধরি ১০০০ এর মতো খুন হন ৩০ দিনে। ১০ হাজারের মত আহত হয় প্রতি মাসে। এদের বেশীর ভাগই সাধারন মানুষ। ভাবেন এমন একটা দেশে আমরা থাকি যে দেশে ২৪ ঘন্টায় হিন্দু মুসলিম নির্বিশেষে মানুষ খালি ইচ্ছা অনিচ্ছায় মরছে মারছে। কি একটা অবস্থা। সেখানে এই সব গেঞ্জাম তো চলবেই। তবুও সান্তনা ব্যাপক হারে তা ছড়ায় নাই। এই রাষ্ট্রের যে প্রশাসনিক ব্যাবস্থা তাতে কোনো কিছু থামানোর ম্যাচুরিটি তারা রাখে না। তাই এত হতাশা পোষন করে মুসলমান বিদ্বেষ পোষন করার কিছু দেখি না। কারন অন্যায়কারীকে ঘেন্না করেন নিজের পরিচয় নিজের দেশের মানুষকে ঘেন্না করার ভেতরে কোনো বড় কিছু নাই। কিছু মানুষ সব কিছু ছাপিয়েই খারাপ মানুষ। তা থাকবেই তা চিরন্তন। আমরা কতটা ভালো হলাম এই দেশ কতটা ভালো হলো তাই বড় কথা। সব কথার বড় কথা সিস্টেম। এই সিষ্টেম যতদিন থাকবে ততদিন হিন্দু মুসলমান চাকমা বুদ্ধিষ্ট সবার জীবনই সংকটের আশংকায় পার করতে হবে। অযথা আবেগাক্রান্ত ভাব নিয়ে ফায়দা নাই তাতে শরীরে কষ্ট মনে কস্ট জীবনে নষ্ট।
শিরোনামটা একটা বিখ্যাত ২০০৯ সালের তামিল ছবির নাম। ছবিটা অসাধারন। সাবটাইটেল দিয়ে দেখছিলাম কামরুলের বাসায় চিটাগাংয়ে। ছবির কাহিনী সাধারন কিন্তু আমার কাছে তা অনেক দারুন লাগছে। তিন যুবকের কথা। তিন বন্ধুর কথা। একজন সরকারী অফিসার হবার চেষ্টায় থাকে গোল্ড মেডেলিস্ট ছাত্র। এক ছেলে কম্পিউটারের ট্রেনিং সাথে ব্যাবসা খোলার জন্য ব্যাংকলোন খুজে। আরেকজন বিদেশ চলে যাবো পাসপোর্ট করে স্বপ্ন দেখে। এমন সময় তাদের জীবনে আসে এক বন্ধু যে গোল্ডমেডেলিস্টের ছোটবেলাকার বন্ধু। গোল্ডমেডেলিস্টের বিয়ে ঠিক। সরকারী চাকরী পাওয়ার সাথে সাথেই বিয়ে হবে। কিন্তু সেই ছোটবেলাকার বন্ধু এক মেয়ের জন্য সুইসাইড করতে যায়। তারা দুই জনই প্রভাবশালীর সন্তান। সেই ছেলের প্রেমকে বিয়েতে পরিনত করতে গিয়ে তাদের একজনের পা চলে যায়, একজনের কানে এতো জোরে আঘাত পায় যে কানেই শুনে না। আর গোল্ডমেডেলিস্ট মামলা খায় সামান্যর জন্য চোখটা বেচে যায়। গোল্ডমেডেলিস্টের যার সাথে বিয়ে ঠিক তার আরেক জায়গায় বিয়ে হয় কারন মামলা খাওয়া লোক সরকারী চাকরী পাবে না। তার দাদী মারা যায়। মানে মোট কথা তিন জনের লাইফ ডেস্ট্রয়। তবুও তারা কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করে। তাদের ক্যাটারিংয়ের ব্যাবসা করতে হয়। পরে তারা জানতে পারে যাদের জন্য নিজেদের জীবনের সব স্বপ্ন চলে গেলো তারাই ঝগড়া করে ডিভোর্স পরে তাদের সাথে যোগাযোগ করতে গেলে তারা সবাই জঘন্য ব্যাবহার করে তিনজনের সাথে। পরে তাদের শিক্ষা দেয়। এই মুলত কাহিনী। অতো যুতের কিছু না। কিন্তু আজ যখন বন্ধু অমিত পালের বিয়ের কাগজ পত্র নিয়ে জজকোর্টে গেলাম তখন খালি এই কাহিনী মনে আসছিলো। এই কড়া রোদে নিজের ঘাটের পয়সা খরচা করে বাবু বাজার ব্রীজ যাওয়া সেখান থেকে রিক্সা। বেড়ী বাধের যে রাস্তা তার চেয়ে দুর্গন্ধময় রাস্তা এই দেশে নাই। সারাদিন না খেয়ে অমিতরে সাথে নিয়ে আমরা কাজটা করে ফেললাম। মেয়ে বগুড়ায় তার কাছে কাগজ পত্র সব কুরিয়ারে পাঠিয়ে বাসায় ফিরলাম। বন্ধু অমিত পাল অতো যুতের ছেলে না। তাও পুলকের বন্ধু ও কান্নাকাটি করার জন্য আমরা কাজটা করে দিলাম। এখন সেই মেয়ের সাইনওয়ালা কাগজ নিয়ে আরেকদিন গেলেই কাজ শেষ। বিয়ে হয়ে গেলো। তবে আমি এই সব বুঝি কম। পুলক আইনের ছাত্র তার বোন নামজাদা লইয়ার। সেই কারনেই এগুলা কাজে অংশগ্রহন করি তার সাথে। তবে পুরা শরীর জুড়ে বালুতে ঘামে আচ্ছন্ন হয়ে যখন অমিতের টাকায় আদিব ক্যান্টীনে বেগুন বড়া, ইলিশ মাছ ভাজি, মুরগীর পিস আর ভরতা দিয়ে ভাত খেলাম সব কষ্ট ভুলে গেলাম। অসাধারন টেস্ট। আর এই গরমে কালো কোর্ট পড়া লোকজন পেপার বিছিয়ে ভেন্ডী ভাজি দিয়ে ভাত খাচ্ছে তা দেখে খুব মজা পেলাম। বাসায় ফিরলাম লম্বা রিক্সা ভ্রমনে। আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাশে। বিসিএসের রিটেনের পড়াশুনা সব লাটে তুলছি। কারন বাসায় আসলে নেট আর টিভি বাইরে গেলে অন্য মানুষের নানা কাজে ঘামে বালুতে পাঞ্জাবী একাকার। কি মজার জিন্দেগী!





ফার্স্ট কমেন্ট
আছেন কেমন ভাইজান?
আছি ভাইয়া। আসে যায় দিন। আপনি ভালো থাকেন আর এতো ভালো ভালো পোষ্ট লিখতে থাকেন।
আপনের লেখা পড়লাম ভাইয়া। আগের গুলার মতোই ভালো। বেশি উচ্ছ্বাস দেখাচ্ছি না কারণ, আপনে এ ধরনের লেখা স্বাভাবিক নিয়মেই লেখেন। এটা এখন আর পাঠকের কাছে 'বড় ব্যপার' নাই। এ বিষয়ে পরে আপনের সঙ্গে আরো আলাপ করবো। আমার এ ধরনের বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলাপ করতে ভালো লাগে। কিন্তু এখন না। এখন সম্ভবত আপনের লেখারই একটা অংশ, যেটা দেশের সবার জন্যও বিরাট এক ইস্যূ হয়ে উঠেছে; সেটা নিয়ে কথা বলাটাই হতে পারে সবচে' যুক্তিযুক্ত।
দাঙ্গা আসলে কতটা ছড়াইসে, সেটা এখনও বোঝার সুযোগ তৈরি হয় নাই। সম্ভবত ২০০১-এর পরে এটাই আমাদের দেশের সবচে' বড় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, যেটা ঘটে চলছে এখনো। এমনও হতে পারে এবারেরটা অলরেডী ২০০১-এরটার চাইতেও বেশি জান-মালের ক্ষতি করে ফেলেছে। আর যেহেতু দাঙ্গা পুরোপুরি থামে নি; সো, চাইলেও এই মুহূর্তে আসলে আমরা কোনো কনক্লুশনে যেতে পারি না। ঠিক কিনা?
এখন যেটা সবচে' বড় আশঙ্কার বিষয়, সেটা হচ্ছে; সারাদেশে যদি একটা হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হয়ে যায়, তখন কি হবে? আমার ধারণা সেই পরিস্থিতিটা সৃষ্টিরই একটা গভীর কালো পাঁয়তারা কষছে কেউ। আ'ম নট শিওর বাট, এ দেশে এখন যদি বড় একটা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখা দেয় তাহলে লাভবান হবে- এমন গোষ্ঠীর সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। বিশেষ করে মিয়ানমার-চীন জোটের জন্য সেটা হবে সুমি'জ হট কেকের মতো একটা সুখাদ্য।
কেন যেন মনে হচ্ছে, এই বিষয়টা এখন আর ৫৫ হাজার বর্গমাইলের ছোট গন্ডির ভেতরে নাই। এই মনে হওয়া ভুল প্রমাণ করার জন্য অধীর আগ্রহে সামনের কয়েকটা দিন চোখ-কান খোলা রাখবো।
আফসোস, বড় দুর্যোগপূর্ণ একটা সময়ে আমাদের পথ চলতে হচ্ছে। আজকালকার পৃথিবীর যে অবস্থা তাতে মহান '৭১-এর মতো আবার যে সবাই হাতের কাছে পাওয়া অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ঝাপিয়ে পড়বো, সেই সুযোগও নাই। কার বা কাদের ওপর ঝাপিয়ে পড়বো, সেটা নির্ধারণ করাই কঠিন হয়ে যাবে। কারণ আপনে নিশ্চই আমার সঙ্গে একমত হবেন যে, আমাদের দেশে এখন যোদ্ধা হওয়াও কঠিন। অনেকটা ওই যে 'নরকের কড়াই ও বাঙালি'- একটা চুটকি আছে না? সেটার মতো অবস্থা এখনকার সময়টার। তাই অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবমান একটা স্রোতে নিজেকে ভাসিয়ে দেয়া ছাড়া আর কোনো উপায় আপাতত দেখছি না।
একটা কাজই হয়তো করা যেতে পারে, প্রয়োজনে নিজেকে দেশের জন্য উৎসর্গ করে দেয়া। সেটা হয়তো আপনে, আমি এবং আমরা অনেকে করবোও। কিন্তু সেসব আত্মোৎসর্গ আসলে কতটা কাজে আসবে, সে ব্যপারেও আমি সন্দিহান। ভয়াবহ মাত্রায় সন্দিহান।
থ্যাংকস ভাইয়া এতো কষ্ট করে এত বড় কমেন্ট করার জন্য। আমি আসলে যে ধরনের লেখা লেখি তাই লেখতে ইচ্ছা করে এর বাইরে কোনো আইডিয়া নিয়ে লিখতে আনন্দ পাই না। তাই আগামীতেও এরকমই লিখতে থাকবো। আর দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ৪০ বছর ধরে খারাপ সময়ের ভিতরেই আছে। এত খারাপের ভিতরে ভালো যা কিছু ছিলো সব হারাচ্ছি শুধু। তাই এই খারাপ সময়ে শুধু উদ্বিগ্ন হয়েই দায় শেষ না। আপনার কথা গুলোর সাথে ভীষন ভাবে একমত।
এত জনসেবা করলে কি চলবে ভাইয়া ?? পড়ালেখায় মন দেন। (চামে পাইয়া আমিও একটা উপদেশ দিয়া গেলাম
)
আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে,
কথায় না বড় হয়ে কাজে বড় হবে!
কথায় কাজে চিন্তা চেতনা আচরনে সব কিছুতেই বড় হতে হবে। বি বাড়ীয়াতেই এখনো? দিনকাল নিশ্চই দারুন যাচ্ছে।
না, ঢাকায় ফিরলাম কাল।
সময় ভালই কেটেছে।
এইসব ট্যুর কম্পিউটারের রিফ্রেশ বাটনের মত কাজ করে!
ভালোই তো ঘন ঘন ট্যুর দেন এরকম!
হিন্দি চুলের ডিজিটাল দেশে আছি আমরা.........
ডিজিটালের তার ছিড়ে গেছে। পুরাই খারাপ অবস্থা মামা।
দিনলিপির মতো লাগলো লেখাটা....বেশ একটানে পড়ে ফেললাম...যে পাঠ পাঠকের পড়ার মাঝে যদি গতি নিয়ে আসে, সেই পাঠ অবশ্যই সুপাঠ্য...নিজের চিন্তা চেতনা পাঠকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পারা মাঝেই স্বার্থকতা...সেটা যে লেখাই হোক না কেন....আপনার এই লেখাটা এই মাপকাঠিতেও স্বার্থক বলা যায়....
আর জর্জ কোর্ট?? হা হা হা!! নাড়া খাইয়া গেলাম..কোন এক কালে এই কাঙালকে ও সেই জায়গা ধরনা দিতে হইছিলো....নিজের জন্য না পরের জন্য তা কমু না
...সব কথা কইতে হয় না..
সব কিছুতে অতি মাত্রায় সিরিয়াস না হওয়ার সাথে আমি পুরাপুরি এক মত....লাভ নাই...শরীরের প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে পঁচন....হাউকাউ কইরা লাভ নাই............হাউকাউ করার ব্যাপক সময় সামনে পইড়া আসে..কারণ বিরাট দুঃসময় সামনে আইতাছে....
এতো কষ্ট করে পড়ে কমেন্ট করার জন্য থ্যাংকস ভাইয়া। অতো ভেবে চিন্তে লেখিনা যা মনে চায় সময় থাকলে লেখে ফেলি। বিভিন্ন কাজ যা করি আপনিও দেখি সেই সব কাজের অগ্রগামী পথিক সেই কারনে আপনারে খুব ভালো পাই। সময় পাইলে লেইখেন। আর ভালো থাকেন ক্রিকেট ইন্জয় করতে থাকেন। সিরিয়াস হয়েও লাভ নাই আবার একেবারে কেয়ারলেস থেকেও ফায়দা নাই। বেচে থাকলেই হলো এইভাবে এই দেশে।
পরেরবার আমারেও নিয়ে যেও। ইলিশ মাছ আমিও ভাল পাই
ঠিক আছে!
এদেশে যা হচ্ছে তাতে রাগে দু:খে নিজের মাথার চৃল ছিড়ি। অসহ্য লাগে সব। মাঝে মাঝে মনে হয়, দেশটা থেকে পালাই।
পালানোর পথ নাই থাকতে হবে এই দোযখেই!
চমৎকার হয়েছে লেখাটা শান্ত, এ যেন আমাদের সবার মনেরই কথা ! আসলেই আমরা খুব খারাপ সময়ের মধ্য দিয়েই যাচ্ছি।
চোখের সামনে সবকিছু দেখে যাওয়া ছাড়া যেন আর কিছুই করার নেই ! যতটুকু অর্জন করছি কিছু মানুষের কৃতকর্মের জন্যে তার চেয়ে অনেক বেশী হারাচ্ছি !
ধন্যবাদ ভাইয়া। আসলেই সব কিছু শুধু হারাচ্ছি!
মন্তব্য করুন