মন খারাপের ভিতর বাহির!
ইতিমধ্যেই রাজীবের নির্মম জবাই পরবর্তি শোক আমরা কাটিয়ে উঠছি। বরং সে নাস্তিক নাকি আস্তিক? তার জানাযা পড়া উচিত নাকি অনুচিত? শেষ মেষ কেনো একজন নাস্তিক কেনো পলিটিক্যাল জানাযাতেই আশ্রয় নিতে হলো এর মানে কি? সে যে সমস্ত পোস্ট লিখছে সেগুলো তার লেখা নাকি? আর লেখা পড়েই কেউ তাকে মেরেছে নাকি? জামাত শিবিরের উপর দোষ চাপিয়ে অন্য কেউ করলো নাকি কাজটা? হাবিজাবি নানান প্রশ্নে ফেসবুক ব্লগে খাবি খাচ্ছে জনতা। আমি খালি একখান কথাই বলবো ফেসবুক ছাড়া যারা দিন কাটায় তারাই আছে সুখে। নয়তো বাংলাদেশে ফেসবুক এমন এক পরিস্থিতিতে যাচ্ছে যে অসুস্থ লোকেরাই শুধু যাবে। একাউন্ট ডিএক্টিভেট করলে ভালো হতো কিন্তু তা আর করছি কই? ঘুরে ফিরে এই ফেসবুক। আর সেইখানে বসে বসে আজাইরা মানুষের বস্তাপচা প্রশ্ন আর দোহাই দেখতে আর ভালো লাগে না!
রাজীবের এই নির্মম খুন হওয়া নিয়ে অনেক পোস্ট এসে পড়েছে। নানান মতের পোষ্ট। আমি আর এইটা নিয়ে কিছু লিখতে চাই না। কারন এই নির্মম খুনের কথা আমি যতবার ভাবি ততবার চা গিলতে পারি না, ভাত খেতে ইচ্ছা করেনা, ঘুম আসেনা অস্থির লাগে। এই অস্থিরতা কাটানোর জন্য চায়ের দোকানই ভরসা। আড্ডা মেরে গল্প গুজব করে হালকা হবার চেষ্টা। কিন্তু সেখানেও শান্তি নাই। অনিকের এক বন্ধু আসলো নতুন প্রজন্মের ছাগু। সে খালি কয় শেয়ার বাজার, হলমার্ক, সাগর রুনী খুন এই সব নিয়া কেউ মাঠে নামে নাই কেন? আমি তখন শুধু বলি ভাই দয়া করে অন্য কাউরে এ কথা বলো না। গায়ে ছাগু ট্যাগ খাবা। তারপরও দেখি হালায় ত্যানা পেচায়। আমি কি বুদ্ধি কম মানুষ নাকি? আলোচনা ঘুরিয়ে দিলাম আরেক দিকে যাক ছাগু বয়ান স্টপ। অনিকরে কানে কানে বললাম এরে এইদিকে কম আনবি? আমি আসলে একটা জিনিস বুঝি না। হাটুর উপরে তোলা হাফপ্যান্ট পড়া পোলাপাইন, মসজিদে যায় না অনেক দিন, ইসলামের নাম গন্ধ চেহারায় কথাবারতায় নাই কিন্তু কথায় এতো জামাতি প্রভাব কেন? কেনো এই বলদ তরুনেরা শিবির না করেও শিবিরিও বানীতে আস্থাশীল? কেনো তারা আওয়ামী বিদ্বেষীর ভান করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী? তা আমি আসলে বুঝতে পারি না। ব্রেইনওয়াশ না এই সব। এই সব হলো না জানা লোকদের কিছু জেনেই তা নিয়ে লাফানো। আনফরচুনেটলি শিবিরীয় বয়ান গুলাই এরা জানে মানে বিশ্বাস করে। শিবির জামাত সফল এদিকেই শিবির না করেও প্রচুর মেটাল ইংরেজী বা হিন্দী গান শুনা ছেলেমেয়েদেরও তারা তাদের বয়ানে কাবু করে ফেলতে পারে। আর ফেসবুকের কারনে তা এমন ভাবে ছড়াইছে যে সমানুপাতিক একটা ছাগু প্রজন্ম ইচ্ছা অনিচ্ছায় বেড়ে উঠছে প্রবল ভাবে। অমি রহমান পিয়ালকে আমার নানান কারনে আমার খুব একটা ভালো লাগে না। কিন্তু তিনি অন্যতম মানুষ যিনি এই জেনারেশনের ছেলেদেরকে ছাগুত্ব ঠেকানোর কাজ জীবন বাজি রেখে করতেছেন। তাও ছাগু হচ্ছেই নতুন নতুন মানুষেরা।
যাই হোক কি আর করার। আস্তিক নাস্তিক ক্যাচালটা এখন ছাগুদের কাছে বড়। কে ইসলামিস্ট আর কে ইসলাম বিরোধী তাই এখন বিবেচ্য বিষয়। মানুষ এখানে শুধু মাত্র একটা মাল মাত্র। তাই তার গায়ে বিভিন্ন ট্যাগ পড়ে যায় নানান ভাবে। কিন্তু আমি একাধারে মুসলিম, বাংগালী, ছাত্র, বাংলাদেশী সর্বোপরি আমি একজন মানুষ। সব গুলো পরিচয়ই আমার জন্যে ইম্পোর্টেন্ট। কিন্তু একজন মানুষের সাথে যখন আমি থাকবো তখন আমি মানুষ হিসেবেই মুল্যায়িত করতে চাই কিংবা হতে চাই। যারা এই মানুষ পরিচয়টাই অস্বীকার করে তাদের সাথে কথাই চলে না। ফেসবুক জুড়ে এখন শুধু অমানুষদের আস্তানা।
গতকালকে আমি জানাযা পড়ি নাই। ইচ্ছা করেই। জানাযা নামায পড়তে আমার ভালো লাগে না অতো তাও অনেক জানাযা পড়ছি। ওয়াক্তের নামায মিস হয়ে যাচ্ছে ইচ্ছা অনিচ্ছায় তার ভেতরে আমার এই জানাযা নামায পড়ার কোনো ইচ্ছা থাকে না। তাই মেনেই আমি গতকাল আনছিলাম চায়ের দোকানের মোটামুটি সার্কেল নিয়ে। যেনো হাসি আড্ডায় এই নির্মমতা হারানোর বেদনা ভুলে থাকতে পারি। কিন্তু তা আর পারলাম কই আমি আপু আর মাসুম্ভাই, বিমা ভাই দাঁড়িয়ে ছিলাম সামনেই এক সাইডে। কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছিলাম না। কিন্তু সবার চোখে কান্না। রাজীব আমাদের কোনো ইয়ারের দোস্ত কিংবা বড় ভাই না, এক সাথে চা বাদাম খাওয়ার স্মৃতি আর পারভীন আপুর সাথে ছবি তোলার গল্প বাদে তিনি পুরোই অচেনা। ব্লগেও তাকে চিনি না। তাও তার খুনের ঘটনায় আমার মনে হচ্ছে আমার ভাই মারা গেছে। যার কথা ভেবে আমি ঘুমাতে পারি না ঠিক ঠাক মতো খেতে পারছি না ফাস্ট মিড কিন্তু কিছুই পড়া হচ্ছে না। এই শোক বোঝার ক্ষমতা যারা শাহবাগ যায় না নিয়মিত তাদের সাইডে বোঝা সম্ভব না। তবে এই শোককে মেনে নিয়েই আমাদের আন্দোলোন চলবে।
আওয়ামীলীগের নাসিম বললেন শেখ হাসিনার ডাকে শাহবাগে তরুনরা আসছে। কে কিভাবে কি মনে করে আসছে আমি তা জানি না! তবে আমি যেইদিন থেকে শাহবাগ যাই সেইদিন থেকেই আমি জানি আমি কোনো দলের আহবানে আসি নাই। বরং আমি জানি এই আন্দোলোনে টু ডে ওর টুমরো আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধেই যাবে। আওয়ামীলীগ বেনিফিসিয়ারী হতে পারে কিন্তু আমি জানি আওয়ামীলীগের উপরে আমার কোনো আস্থা নাই এই বিচারে। তাও যেহেতু আওয়ামীলীগ প্রতিশ্রুতি দিছে চেষ্টা করতেছে তাই তাদের সাথে আছি। নয়তো এই বেইমান আওয়ামীলীগ আমাদের দল হতে পারে না। আর তাদের ডাকে বিরিয়ানীর লোভে ছাত্রলীগ শোডাউন করতে যেতে পারে আমি যাই না। আওয়ামীলীগের এই বঞ্চিত মহান নেতারা নেত্রী তোষনে নিজের গায়ের চামড়া দিয়ে জুতা বানাতেও প্রস্তুত।
আমি আন্দোলোনে যাই বিচারের সংহতি জানাতে আর এই বিশাল গন জমায়েত নিজের বুকে ধারন করতে। আমার পোষ্টের নামের আগে আছে নিস্ফলা শ্রেষ্ঠ সময়। নিস্ফলা এই কারনেই যে আমি সন্দিহান আন্দোলন যে কারনে করা হচ্ছে তার ফল পাবো কিনা? কিন্তু একটা ফল আমরা পাচ্ছি তা হলো লড়াই করার সাহস। জনগনের কথা রাস্ট্রযন্ত্রকে শুনানোর অসীম পাওয়ার এখন আমাদের আছে। এই আন্দোলোনই পথ দেখাবে সামনেই। সরকার টয়লেট আর পুলিশি নিরাপত্তা দিয়ে সাহায্য করছে সেই জন্য সরকারকে ধন্যবাদ। কিন্ত নিষিদ্ধ করা বিচার সব ভোটের রাজনীতির কুট টেকনিকের কাছেই আটকানো। তাই এই আন্দোলোন সরকারের যাবতীয় আতাত ধান্দার বিরুদ্ধেও!





যুদ্ধাপরাধী স্বাধীনতাবিরোধী রাজাকারদের বিচার না করলে অথবা এদেরকে নিয়ে নতুনভাবে পলিটিক্স করলে আওয়ামী লীগ কেন বাংলাদেশের কোন দলকেই ছাড় দেওয়া হবে না।।। ।।।আমরা সাধারণ জনগণ ৪২ বছরের কলঙ্ক থেকে মুক্তি চাই। আর কোন কম্প্রোমাইজ নয়।
সেটাই
আর কোন কম্প্রোমাইজ নয়।
সচেতন মানুষের বিভ্রান্তির কোনো কারণ নেই। সবাই সবকিছু দেখছে।
কঠিন একটি সময়, শোক আর শক্তিতে পাথর পাথর সব।
অস্থির সময় চারিদিকে কুতসিত প্রচারনা তার ভেতরেই লড়াই চলবে!
আমিও ইচ্ছা করে জানাজার লাইনে দাঁড়াই নাই। কিন্তু চোখে পানি নেই, এমন মানুষ কমই ছিল। রাজীব আমার ভাই।
আমি আর আপনি তো একই জায়গার একই মতের মানুষ!
পাকিস্তান আমল থেকে এই ভূখন্ডে যত আন্দোলন হয়েছে প্রথমদিকে তেনারা কখনো থাকেননি, থাকেননা । দূর থেকে কিংবা একটু কাছে এসে বুঝতে চান, কি হচ্ছে বা আসলে কিছু হচ্ছে কিনা, হবে কিনা ! যখন জমে উঠে, আন্দোলনের ফলটি যখন লাল টুকটুকে আর পড়ো পড়ো হয়, জাহাপনারা চাটুকারিতার নামাবলী জড়িয়ে দলীয় থালা নিয়ে ঠিকই হাত বাড়িয়ে এসে দাড়ান । আর উপর'য়ালারও কি মহিমা ! অর্জনের পালকটি তেনাদের মুকুটেই পরিয়ে দেন । আসাদ, মিলন, নুর হোসেনরা শহিদ হন শুধু । আগামি দিনের তারুণ্যের প্রতীক হয়ে থাকেন ।
এবারের আন্দোলন ভিন্ন প্রকৃতির । এবার শাহাবাগে পুরো দেশ এক মোহনায় । সাফল্য অশ্যই আসবে । সজাগ থাকতে হবে, এ সফলতা যাতে ছিনতাই না হয় ।
এবারের আন্দোলন ভিন্ন প্রকৃতির । এবার শাহাবাগে পুরো দেশ এক মোহনায় । সাফল্য অশ্যই আসবে । সজাগ থাকতে হবে, এ সফলতা যাতে ছিনতাই না হয় ।
শত ভাগ একমত!
আমাদের বিনোদনহীন জীবনে নাসিমের মতোন রাজনীতিবিদরা দিন কে দিন উনাদের পারফর্মেন্স আর মনগড়ন কথা দিয়া আমোদিত করে চলছেন!
থ্যাঙ্কু আপু। আপ্নাদের অনুপ্রেরনাতেই তো লেখি। লগ ইন করে নিজেও পোষ্ট দিয়েন!
রাজিবের লাশ যখন শাহবাগের প্রজন্ম চত্তরে আনা হলো, তখন একটা বিশাল ক্রোধ আমাকে, আমার অস্তিত্তকে নাড়া দিয়ে গেলো। বেরিয়ে পড়লাম চত্তর ছেড়ে... আমার কষ্ট হচ্ছিল, ভীষন কষ্ট... আমি কাঁদিনি, কাঁদতে আসিনিও... আমার একটাই চাওয়া- আমার ২ ছেলে যেনো রাজাকারবীহিন দেশে বেড়ে উঠতে পারে... হে তরুন প্রজন্ম, সে ব্যবস্থাটা তোমরা যেনো করতে পারো। আমরাতো আছিই তোমাদের সাথে...
বিভেদের ফল ভাল না! আমরা সবাই এক!
আমিও রাজীবকে চিনতাম না কিংবা ব্লগে তার লেখা পড়া হয়নি তেমন কিন্তু তার মৃত্যু মেনে নেয়া আমার জন্যও কষ্টকর!
এই আন্দোলন মানুষকে পালটে দিয়েছে, মানুষ এখন অনেক বেশী সচেতন। এই সচেতন মানুষকে বিভ্রান্ত করা এত সহজ না।
খাটি কথা!
দারুণ দারুণ কথা লিখছো ভাইয়া।
আজ পর্যন্ত প্রায় প্রতিদিন শাহবাগে গিয়েছি নিজের ভালোবাসা থেকে, বিবেক থেকে। আমি সামিল হয়েছি সবার সাথে, প্রতিবাদের সাথে সংহতি জানাতে। আন্দোলনের দাবিগুলি আমার, তোমার, আমাদের সবার। সেই প্রথম দিন থেকেই আমার মত সাধারণ মানুষেরা বলেছে, প্রতিবাদ করেছে রাজাকারের বিচারের রায়ের বিরুদ্ধে। আমরা হঠাৎ করে পরিস্থিতি বুঝে বোল পাল্টানির দলের না, কোন দলীয় ট্যাগ নেই, থাকার ইচ্ছাও নেই।
২দিন ধরে আস্তিক, নাস্তিক পোষ্ট, আলোচনায় কেমন অসুস্থ লাগছে। এসব আলোচনা কেন আসে? কেন আনে? মানুষের শুভবুদ্ধি হোক।
মানুষ তো মানুষই। কত বড় বড় মানুষদের দেখলাম বিভ্রান্ত হতে কিংবা করতে!
থ্যাঙ্কস!
ফেবুতে ঢুকলে আমারও অসস্তি লাগে। কিন্তু কি আর করা এত দিনের অভ্যাস ছাড়তে পারি না।
শাহবাগ এখন গণমানুষের জায়গা। এখনও এই আন্দোলন নিয়ে আগে থেকে কিছু বলাটা ঠিক হবে না। এখনও অনেক সময় বাকি।
ভালো লিখছ। সাধারণ মানুষের কথা বলছ।
থ্যাঙ্কস রেজা। সামুতে লিখছো না কেনো?
এই লেখাটার জন্যে আপ্নেরে একটা স্যালুট।
স্যালুটে কাম নাই। এতো কষ্ট করে পড়ে কমেন্ট দাও তাতেই খুশ!
সচেতন মানুষের বিভ্রান্তির কোনো কারণ নেই। সবাই সবকিছু দেখছে।
কঠিন একটি সময়, শোক আর শক্তিতে পাথর পাথর সব।
মন্তব্য করুন