ফড়িংয়ের ডানাতেও এই জীবন দেয় ডাক!
শিরোনামটা কবীর সুমনের গান থেকে ধার করা। আমার মাথায় এতো কাব্য কিংবা উপমা আসে না কখনো তাই এ ধার ও ধার করেই চলি! আর এখন যে অস্থিরতার ভেতরে আছি তাতে কাব্য আসার কোনো সম্ভাবনাই তাই। তাও এই পোষ্টটা লিখছি স্রেফ মন মেজাজ হালকা করার জন্য সাথে হালকা থাকার জন্যে। কাল মামা সেই মাঝ রাতে বাসায় ফিরলো। আমি কামাল ভাইয়ের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়লাম। ভাগ্যিস দরজা খোলার গেঞ্জামে পড়তে হয় নাই। নয়তো সাড়ে তিনটায় উঠে নীচের তালা যেয়ে চাবি নিয়ে দেনদরবার করতে হতো। আমাদের বাসাটা এদিক দিয়ে অসাধারন। রাত যতই বাজুক গেট নিয়ে টেনশন নাই। তারপর বাসাটা ছাদের উপরে। মানুষ যে ধরনের বাসায় থাকার স্বপ্ন থাকে আমার বাসাটা ঠিক তেমনি। সব দিক থেকেই দারুন। খালি ডিশের লাইন নিয়ে একটা গেঞ্জাম তাই চার মাস ধরে টিভি দেখতে পারি না আর বাসা থেকে টাকা নিয়ে চলতে হয় ইহাই বড় সংকট। তা না ছাড়া স্বর্গে আছি। বাবা মা কে খুব মিস করি কিন্তু কি আর করা সেই মিস সবাই করে। বাবা মায়ের সাথে থেকেও তা করে এই যা।
আজ আমার একমাত্র ভাই ভাবীর বিবাহ বার্ষিকী। আজ থেকে ছয় বছর আগে ভাইয়া বিবাহটা করে ফেলছে। বলা যায় স্বউদ্যোগেই। কারন ভাবীকে পছন্দ করতো। ক্লাস মেট বন্ধু। কোনো রাখ ডাক ছাড়াই দুই ফ্যামীলিতে কথা বার্তা হয়েই বিয়েটা হয়ে যায়। তবে মায়েরা যেমন হয় আর কি। ছেলেদের চব্বিশ পচিশের পছন্দের বিয়ে তাদের জন্য মানতে কষ্ট। তাও হয়ে গেলো। ভাইয়ার বিয়েটায় আমি কিছুই করতে পারি নাই। ভাইয়াও আমাকে কখনোই কোনো কাজ দেয় নাই। ভাইয়ার যেদিন গায়ে হলুদ আমি সেই সকাল দুপুর ক্লাসে। বিয়ে তে লোকজন কত ধরনের মজা করে আমি কিছুই করি নাই খালি যেই বন্ধুরা আসছিলো তাদের সাথে আড্ডা দিছি। তেমন ছবিতেও আমি নাই। সব কিছুতেই আমার অংশগ্রহন সীমিত। এইটা দেখে ভাবীর হয়তো ধারনা ছিলো যে তাদের বিয়ে আমার খুব একটা পছন্দ না কিন্তু বিশ্বাস করেন তখন আমি এতো পারিবারিক হিসাব নিকাশ কিছুই বুঝি না। সারা জীবন তিনরুম বা দুই রুমের কোয়াটারের কলোনীতে আমার বেড়ে উঠা। সেখানে খুব কমই আমাদের এই সব নিয়ে চিন্তা ছিলো। তাই যা হয় আর কি এমন একটা ভাব নেয়া যে ভাইয়ার বিয়ে আমার কি? তবে কিছুদিনের ভিতরেই সেই ধারনা থেকে মুক্তি। তবে সব চেয়ে বলদের কাছ করছি বিয়ের পরেও কিছুদিন ভাবীকে আপু ডাকছি। ভাইয়া তো যেদিন থেকেই জব করে সেইদিন আমাকে যে আশকারা টাকা পয়সা দিয়ে সব সময় স্নেহের বাধনে আটকে রাখে। ভাইয়া নিয়ে বিস্তারিত পোস্ট আরেকদিন লিখবো। ভাবীও ভাইয়ার মতোই দারুন। ভাইয়া এই গত ৭ বছরে আমাকে যে পরিমান টাকা পয়সা দেয় প্রয়োজনে অপ্রয়োজনে তা কোনো বাপও তার আদরের সন্তানকে দেয় না। আর আমি ভাইয়ার টাকা চায়ের দোকান কাদেরের চাপ বই কিনে নানান জায়গায় উড়িয়ে শ্রাদ্ধ করছি তা খুব লোকই করে। আমার গ্রাজুয়েশনের সময়ের দিন গুলোতে ভাইয়ার বিশাল মাইনের কোনো চাকরী করতো না। খুবই সাধারন একটা ফার্মের আর্কিটেক্ট। কিন্ত যখন যা চাইছি উজার করে দিছে। আমাদের ফ্যামিলীতেও ভাইয়া টাকা দিতে কোনো কার্পন্য করে নাই বিয়ের পরেও। ভাইয়ার এই উজার করার বিদ্যা দেখে আমি অবাক হতাম। আমার ভাবীর সাইড থেকে যদি কোনো বাধা থাকতো তবে ভাইয়া কখনোই এগুলা করতে পারতো না। কিন্তু আল্লাহর অশেষ বদান্যতায় ভাবীও ভাইয়ার মতো দুর্দান্ত। যদিও ভাবীকে সেভাবে আমি পাই নাই। কারন উনি বিদেশে মাস্টার্স করতেছিলেন। মধ্যে একবার লম্বা ছুটিতে এসে ছিলেন। তারপর ভাইয়া সহ চলে যায়। গত বছরের শুরুতে বিশদিনের জন্য ছিলেন। বলা যায় ভাবীর সাথে আমার আলাপ লম্বা লম্বা মেইলে আর ফেসবুকে। তার ভেতর এখন আর মেইল করা হয় না। এসমেস আর টুকটাক ফোনে কথা এই টুকুই যোগাযোগ। তাও ভাবী আমাকে যে পরিমান স্নেহ করে তা টের পাই বারবার। তাদের এক মাত্র মেয়ের বয়স তিনে পড়লো। সব কিছু নিয়ে তারা দারুন আছে কানাডায়। খুব মিস করি তাদের। কিন্তু স্কাইপিতে কথা হয় না বলে জানাতে পারি না। ওয়েবক্যাম থাকা সত্তেও ভাইয়া ভাবীর সাথে আলাপে নামি না তা দেখে তারা হতাশ। তবে তাদেরকে বুঝাতে পারি না আমি এমনি। রাস্তায় কোনো দু তিন বছরের বাবুকে দেখলে আমি মনে মনে ভেবে নেই মাহদীয়া এমনি। কেউ যদি কানাডায় থাকে তার সাথে সেধে গল্প করে বলি আমার ভাই ভাবী কানাডায় ওমুক শহরে থাকে। সেধে তার আলাপ গুলান হজম করি। প্রতিদিনের দিন যাপনে ভাইয়া ভাবীর কথা বারবার মনে হয়। মনে মনে প্ল্যানিং করি চাকরী পেলে ভাইয়ার জন্য এটা কিনবো ভাবীর জন্য ওটা কিনবো। কিন্তু সামনা সামনি তাদের জানাতে পারি না এই অসীম ভালোবাসার পরিধি। থাকুক তা অপ্রকাশিতই। ভাইয়া ভাবী বাবা মা এদের ভালোবাসা নিয়েই বেচে থাকতে চাই।
পোস্টটাতে আরো অনেক কিছুই লেখার ইচ্ছা ছিলো কিন্তু ভালো লাগছে না এইসব ডমেস্টিক প্যাচাল পারতে তাই এখানেই খান্ত দেই। ভাইয়া ভাবীকে শুভেচ্ছা বিবাহ বার্ষিকীর। অনেক অনেক ভালো থাকেন আপনারা। ফেসবুকে আজকে একটা জোকস পড়লাম জেবীন আপুর দয়ায়।
এক সদ্য বিবাহিত স্বামী তার নতুন
বঊ এর নাম মোবাইল এ সেইভ করল
"my life" লিখে,
.
.
এক বছর পর সেটা পরিবর্তন
করে লিখল, "my wife" নাম এ
.
.
২ বছর পর লিখল, "home" নাম এ
.
.
৫ বছর পর এ সেটা পুনরায়
পরিবর্তন করে লিখল, "hitler"
নাম এ !!
.
.
বিয়ের ১০ বছর পর
সেটা পরিবর্তন করে লিখল,
"wrong number" !
এমন যেনো না হয়। ক্লাসমেট বন্ধু বিয়ের অনেক পরেও যেনো জীবন যুদ্ধের সাথীই থাকে। আপনাদের এই অকুন্ঠ স্নেহেই আমার এতো তাফালিং এতো বেচে থাকার আনন্দ। অনেক অনেক সুখী জীবন যাপন হোক। ভালোবাসায় আটকে রাখেন সমাজ সংসার!





আহা! মায়াময় পোস্ট। ভাইয়ের মত উজার করা বিদ্যা নিয়ে বড় হও। ভাবীর মতো মিষ্টি একটা বউ তুমিও পাও। জীবন আনন্দের হোক।
জোক্সটা শুধুই জোক্স থাকুক। জীবনে সত্যি না হোক।
হ আপু দোয়া কইরেন। আপনার জন্যেও দোয়া করি
ভাইয়া-ভাবীকে বিবাহ বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানাই।
ছোট ভাই এবং বড় ভাই এর সম্পর্ক এ-ধরনের মধুর জায়গায় এখনও বিরাজমান দেখে শান্তি শান্তি লাগছে। দেবর-ভাবী সম্পর্ক ততধিক। চারদিকে সম্পর্কগুলোর ক্ষয়ে যাওয়া রূপ দেখে অবক্ষয়ের যে ভয়াবহতা টের পাই সেখানে এই লেখার আবেগ পুরোই ব্যতিক্রম।
শুভেচ্ছা। সাধারন সাধারন কথার ভিতর থেকে আপনি কেমন অসাধারন অনুপ্রেরনা দেন। মুগ্ধ হই তাতে। আপনে লেখেন আপি। আগামী বই মেলাতেই বই চাই!
আহ্্ দারুন আবেগময় লেখা......... জোকস্্টা ভালো
থ্যাঙ্কু ভাইয়া!
মুগ্ধ। এই ছোট ছেলেটা এতো ভাল লেখে কিভাবে।
ভয় পাইছি ভাইয়া। থ্যাঙ্কু থ্যাঙ্কু!
দূর্দান্ত... হইছেরে
ধন্যবাদ ভাইয়া। আপনারাই দুর্দান্ত!
দারুন শান্ত...
গত দুইদিন আপনার সাথেই ছিলাম কিন্তু কথা হইলো না।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া!
ভাই, ভাবী আর মাহদীয়ার জন্য অনেক অনেক শুভ কামনা।
থ্যাঙ্কস সামিয়া। তুমিও আরভীন তাহিয়া শ্রেয় ভাই ভাবী আব্বা আম্মা নিয়ে ভালো থাকো!
ডোমেস্টিক প্যচাল ভাল হইসে শান্ত। তোমার লেখা পড়ি সবসময়। আমাদের নিয়ে লিখেছ,পড়ে আপ্লুত হলাম।এটাই আমার এ যাবতকালে শশুরকুল থেকে প্রাপ্ত প্রথম লিখিত গিফট,

আর চিন্তা নিওনা, তোমার ভাইর ফোন রেগুলার চেক এর উপ্রে রাখব। যে ভদ্রলোক আমার নম্বর কোনদিন মাই লাইফ নামে সেভ করেনাই,মনে হয়না রং নামবার নামে সেভ করবে।
তুমি মনের আনন্দে তাফালিং কর।
ভাবী, লেখার সময় মনে ছিলো না যে আপনি পড়বেন। তাই অতি সাধারন শর্টকাট ভাবে লেখা। সমস্যা নাই জমা থাকলো সামনে কোনো দিন বিস্তারিত ভাবে লিখবো। অনেক অনেক ভালো থাকেন ভাবী। এতো ব্যাস্ততার ভীড়ে আমার এই সমস্ত ব্লগ যে আপনি পড়েন এইটা জেনেই আনন্দিত। মাহদীয়াকে নিয়ে ভালো থাকেন!
দারুন লিখছিস রে ভাইয়া.।.।
ভাই-ভাবী'র জন্যে শুভকামনা রইল
বাফু'রে দেয়া জোকটা দেখি ভালোই কাজে লেগে গেল!
থ্যাঙ্কস আপু। আপনার চাকরী জীবনে অনেক অগ্রগতি হোক এই দোয়াই করলাম আপাতত!
দারুন!
ধন্যবাদ বড় ভাই!
ইস! কি চমৎকার মায়াভরা একটা লেখা।
ভাইয়া, ভাবি আর মাহদিয়ার জন্য অনেক শুভকামনা।
আপনার জন্য অনেক অনেক ভালোবাসা। ভাল থাকুন, সুপ্রিয় শান্ত ভাই।
থ্যাঙ্কস বর্ণ অনেক অনেক শুভকামনা।
প্রিয় আর থাকতে পারলাম কই? তুমি ফোন দাও ধরি না
প্রিয় মানুষদের ব্যাপারে এত কিছু ধরার টাইম আছে নাকি ভাই! ব্যাপার না!
ভাইয়া-ভাবীকে বিবাহ বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানাই।
ছোট ভাই এবং বড় ভাই এর সম্পর্ক এ-ধরনের মধুর জায়গায় এখনও বিরাজমান দেখে শান্তি শান্তি লাগছে। দেবর-ভাবী সম্পর্ক ততধিক। চারদিকে সম্পর্কগুলোর ক্ষয়ে যাওয়া রূপ দেখে অবক্ষয়ের যে ভয়াবহতা টের পাই সেখানে এই লেখার আবেগ পুরোই ব্যতিক্রম।
অন্যের কমেন্ট কপি মারেন কেন? নিজের কথা কই?
মন্তব্য করুন