আতংকের ভেতরে!
কার জন্য কেমন দূঃসময় যাচ্ছে তা বলা কঠিন। তবে সময়টা যে খুব একটা ভালো নয় তা সবাই মানবে। অনেকে দুঃসময় বলছে- কিন্তু আমি তাদের সাথে একমত না। একটু খারাপ সময় যাচ্ছে তবে তাকে এতো দূঃসময় বলা ঠিক হবে না। কারন বাংলাদেশে নানা সময়ে নানান ধরনের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার পর্যায়ে গেছে তবে এবার তার মাত্রা ভিন্ন। এবার মুখোমুখি জামাত ভারসেস জনগন, পুলিশ, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা। কাল যখন ফেসবুকে সিল্কসিটি পোড়ার ছবি দেখলাম মনে হচ্ছিলো ইরাক আফগানিস্থানের মতোই কোনো যুদ্ধ পরিস্থিতি চলছে। আর প্রতিদিন হালি ডজনে তো মানুষ মরছেই। এদের কেউ পুলিশ বিজিবির সাথে সংঘর্ষে, কেউ বা জ্বালিয়ে দিচ্ছে হিন্দু ঘর বাড়ী আবার কোথাও মানুষ পুলিশ নিজেই আক্রমনের শিকার। আমার দুই বন্ধু আসছে চিটাগাং থেকে। নেভীর শর্টকোর্সের যে অফিসার নেয় তার এক্সাম দিতে। সেখানে একটা গল্প শুনলাম। চুল কাটতে গেছে সোহেল। সোহেল নাপিতরে জিগেষ করলো কি অবস্থা দাদা? তখন নাপিত মনের দুঃখে বলতেছে "আমাদের আর অবস্থা দাদা। বেচে আছি। সোনিয়া গান্ধীরাও আমাদের দেখতে পারেন না আপনারাও মালু বলে গালি দেন যামু কই কন? নিজের দেশ ছাইড়া বাধ্য হয়ে গেলেই তো বলবেন মাল্লুর বাচ্চারা হারামী খালি ভারতে চলে যায়! কিন্তু দেখবেন না কি চিন্তায় এই দেশে পড়ে থাকি। আমাদের পাশের বাড়িতেই জেঠাদের ঘর। আগুন দিলো। আগুনে পুড়ে মরা সহজ। কিন্তু আত্মীয় স্বজন ফালায়া এখানে টিভি খোলা রেখে লোকজনের চুল দাড়ি কেটে দেয়া আর সব সময় টেনশন করা কতো কঠিন কাজ তা আপনারা কোনোদিনও বুঝবেন না"। সোহ্লে তো এই বয়ান শুনে পুরা তব্ধা। আর বিএনপি মনস্ক মনটাও খুব খারাপ হয়ে গেলো।
চিটাগাংয়ে সাতকানিয়া, রাউজান, লোহাগাড়া, হাটহাজারী এইসব এলাকায় শিবির জীবন বাজি রেখে মাঠে নামছে। শুধু নিজেরাই নামে নাই গ্রামের মানুষ, ছাত্র, চাকরীজীবি সবাইকে তারা মাঠে নামাইছে এবং মরতেছেও। এইটারে তারা ইসলাম সেইভের দ্বায়িত্ব হিসেবে মনে করছে। আর গত ১৮-১৯ বছরে ওইসব এলাকায় শিবিরের যা প্রভাব তাতে নরমাল সময়তেই পুলিশই আতংকে থাকে। এরকম অনেক এলাকায় হয়তো শিবির জান বাজি রেখে মানুষ মারতেছে আর সমানে মরতেছে। কত মায়ের বুক খালি হচ্ছে, কত সম্পত্তি বিনষ্ট হলো তার সঠিক হিসাব করা কোনোদিনও সম্ভব না। আর বিএনপি জামাত এসব করে নিজেদের পার্টির বারোটা বাজাচ্ছে আর দেশের অবস্থা জাহান্নাম বানাচ্ছে। আপনি এখন শত চেষ্টা করেও ঢাকার বাইরে কোনোভাবেই কোথাও যাওয়ার উপায় নাই। দেশ কার্যত থমকে আছে।
কিন্ত আমরা সাধারন মানুষরা থমকে নাই। আজব আজব সব গুজব ছড়ানোতে ওস্তাদী চাল দিচ্ছি। যেমন ধরেন কাল শুনলাম যে ধানমন্ডীতে ব্যাপক মারামারি হইছে ৬ জন মারা গেছে। আমি খবর নিলাম তখনি দেখি একজনও মরে নাই খালি একটা প্রাইভেট ভাংছে। এরকম মামার ক্ষেত্রেও। শুক্রবার মামা খালামনির বাসা থেকে ফিরছে। আর তখনি খালার ফোন যে আজমপুরে নাকি ব্যাপক মাইর পিট চলতেছে। আজমপুরে তখন মামা দেখলো কিছুই না। বাসে মানুষ ভর্তি। বিভিন্ন সময় শুনি সায়দাবাদ যাত্রাবাড়ী মিরপুরে খালি মানুষ নাকি মরছেই। কিন্তু পরে আর কোনো আপডেট নাই। আসলে এই রকমের আতংকের ব্যবসার কোনো মানে নাই। এতো গুজব চারিদিকে যে আতংকিত হবেন না তারও কোনো উপায় থাকে না। তবে ঢাকার মানুষ আমার ধারনা বেহুদা এতো টেনশনে পড়ে। জেলা শহর গুলাতে ব্যাপক সহিংসতা চলতেছে তার কোনো প্রতিকার প্রতিরোধ না করে আমরা নিজেরা নিজেরা নানান গুজবে অতি সাবধানে গা বাচিয়ে চলছি। এইটা কোনো জীবন হলো? যেখানে এতো এতো মানুষ মরছে অবলীলায় সেখানে আমাদের প্রান আর কতো দামী? দাম অবশ্যই দিবো প্রানের, সাবধানে থাকবো, সজাগ থাকবো কিন্তু এইভাবে আতংকে চুপসে গেলে জয় অপশক্তিরই হবে। এরচেয়ে ভয়াবহ কঠিন সময় ৭১য়ে ছিলো মানুষ যদি এতো আতংকে থাকতো তবে দেশটাই র স্বাধীন হতো না!
সবাই যদি এক থাকি তবে খারাপ সময় চলে যাবেই। কিন্তু যদি একাই বাচার চিন্তায় থাকি তাহলে নিজেই আতংকে, টেনশনে পড়ে থাকবো। কেউ খোজও নিতে আসবে না। তাই সজাগ থাকা, সতর্ক থাকা, সচেতন থাকাটাই জরুরী আতংকিত হয়ে মানসিক অশান্তিতে পড়ে লাভ নাই। যদি প্রতিকার প্রতিরোধ করি তাতেই শক্তি। খামাখা টিভি দেখে স্ক্রল পড়ে অযথা উত্তেজিত হবার কোনো মানে নাই। দিনের ভেতরে আমার অনেক ফোন আসে সাবধানে থাকিস, বাসায় থাকিস আর হাবিজাবি কতো গুজব। আমি খালি শুনে যাই আর বলি ভালোই আছি। আসলেই আমরা অনেক ভালো আছি কারন খালি গায়ে পুলিশের গুলি খেতে হচ্ছে না তার সাথে সাথে কেউ কেরোসিন দিয়ে আমার ভিটা মাটিও পুড়িয়ে দেয় নাই নারায়ে তাকবীর বলে। অনেকের চেয়ে অনেক সুখী আর নিরাপদে আছি তাই খামাখা আতংকের চাষাবাদ করে কোনো লাভ নাই। বরং আমি উদ্বিগ্ন যে সংঘবদ্ধ কোনো প্রতিকারে আমরা যাচ্ছি না এই ভেবে!





আতঙ্কে, চিন্তায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি। অফিসে ফেসবুকে নিষেধাজ্ঞা। ব্লগে উঁকি দিয়েও আতঙ্ক...।
আতঙ্কে, চিন্তায় ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
লীনার সাথে সহমত।
এই প্রতিরোধ করার জন্য এক কাতারে দাঁড়াক সবাই। কেন দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ ভাইয়েরা মার খাচ্ছে!! কেন অন্য ধর্মের লোক অত্যাচারিত হচ্ছে, নি:স্ব হচ্ছে!! আর সহ্য করা যাচ্ছে না। এর শেষ কোথায় তাও তো জানা নেই্।
বাসা, অফিস, রাস্তাঘাট – সর্বোত্রই একই চিত্র! সবার মনেই একই প্রশ্ন, দেশটা কোন দিকে যাচ্ছে?
ভাল লাগতেছে না কিছুই।
এই অস্থির সময় কতদিন লাগবে কাটতে?
প্রত্যেকটা দিন এত্তগুলি মানুষ মারা যাইতেছে।
সবকিছু কিভাবে কে সামলাইবে?
মন্তব্য করুন