দেখো মা পুড়ছি আমি রোদ্দুরে!
শিরোনামটা বেশী ভারিক্কি হয়ে গেলো। আমি এতো ভালো ভালোয় দিন পার করে যদি এই ধরনের শিরোনাম দিয়ে পোস্ট দেই তাহলে তা খুব একটা শোভন হয় না। আসলে শিরোনামটা নটোবর নটআউট সিনেমায় রুপমের একটা গান থেকে নেয়া। সিনেমাটা দারুন। এতো দারুন স্মার্ট শতভাগ বাংলা সিনেমা অনেক দিন দেখি নাই। মিস্টি কমেডীর মিস্টি ইন্টারটেইনেমন্টের ছবি। নবাগত বাংলাদেশি নায়ক মোস্তফা প্রকাশ নামের ছেলেটার অভিনয়ে মুগ্ধ হইছি ব্যাপক। এবং প্রত্যেকেই চরিত্র অনুযায়ী অসাধারন অভিনয়ে, দেবজ্যোতি মিশ্রর দারুন মিউজিক ডিরেকশনে ছবিটা আমার দেখা কলকাতার অন্যতম সেরা ছবি। যদিও ছবিটা তেমন ব্যাবসা করতে পারে নি তাও এরকম মিস্টি ছবি অনেকদিন দেখা হয় নাই। ছবির ডায়লগের কাব্য ও সমগ্র ছবি জুড়ে কবিগুরুর উপস্থিতি দারুন লাগে। টাইটেল এনিমেশন, ঝকঝকে প্রিন্ট মন কেড়ে নেয়। এরকম আরবান বাঙ্গালীয়ানা ছবি আর চোখে পড়ে নাই! কলকাতার ছবি যা দেখছি তা নিয়ে আরেকদিন লিখবো। আজ এখানেই অফ যাই!
পোস্টটা যখন লিখছি দারুন বিস্টি হচ্ছে। বাসা আমার ছাদের উপরে চিলেকোঠায়। উপরে টিন। গরমে পুরা দোযখখানা। ছোটোবেলায় শুনতাম শাদদাদ নামের কোনো রাজা বেহেশত বানাতে চেয়েছিলো দুনিয়ার বুকে। বানানো শেষে যখনি তাতে প্রবেশ করবে তখনি আল্লাহ তার পাওয়ার দিয়ে ভুপাতিত করে দিলো সব। তাই নাকি এখন বালুতে এতো চকচকে জিনিস তা শাদ্দাদের সেই হীরা জহরত থেকেই আগত। আমি এই দুনিয়াতে কখনোই ভোগ করার তীব্র বাসনা ছিলো না। দামী ফ্ল্যাট দামী গাড়ী নিয়ে যখন বন্ধু বান্ধবরা পুলকিত গল্প করতো আমি তা কখনোই নিজের জীবনে চাই নি। আমার বন্ধু ছিলো গোল্ডেন। তার বাবার ছিলো ঘুষের প্লাস ব্যাবসার টাকা। দামী গাড়ী চালিয়ে ভার্সিটি আসতো। পোলাপানের পিছে ইচ্ছা মতো টাকা ভাংতো। আমার বন্ধু হয়েও আমি অনেক দূরে দূরে থাকতাম। আর আমাকে কিছু সাধলেই বলতাম বিল আমি দিবো। আমি কারোটা খেতে আসি নাই। আমার এই এরোগেন্স এখনো বিদ্যমান। আমার প্রত্যাশাও কম। আমি শাদ্দাদের সেই চাকচিক্যময় জীবন চাই না। পেটে ভাতে শুধু মাত্র সাচ্ছন্দময় জীবন চাই। ভোগের চকচকে জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখতে চাই। আমার এই সব কথা শুনলেই সবাই ভাবে চাপা মারতেছি। কেউ কেউ বলে ছাত্র বেকাররা এভাবেই বলে পরে সব ভুলে যায়। কিন্তু আমি সত্যি বিশ্বাস করি আমার জীবনটা হবে উপভোগের আমার মতো করে তাতে ভোগের আস্তরন চাই না। তাই বলে আমি অবশ্য দরিদ্র জীবন চাই না। দরিদ্র মানুষ খুব অসহায় মানুষ। অসহায়ত্ব আমার পছন্দ না। আমি চাই মোটের উপরে আনন্দ বেদনায় বেচে থাকার বিত্ত। ব্যাস এতোটুকুই। রশীদ করিম এক ইন্টারভিউতে বলছিলেন "যে গরীব মানুষ হলেই বিপদ। গরীব মানুষ ভালো সিনেমা দেখতে পারে না, ভালো গান শুনতে পারেনা, ভালো সাহিত্য পড়তে পারে না, শিক্ষার পড়ার রুচি গড়ে উঠে না। তাই আমি বিত্তবান হতে চেয়েছি সব সময়।" আমিও মনে করি জীবনকে অর্থপূর্ণ করতে গেলে, অর্থের প্রয়োজন আছে। তা কতো টুকু তা মানুষই ঠিক করে নেয়।
দিনগুলো যাচ্ছে অসাধারন। এক বন্ধু চলে গেলো চিটাগাং আরেক বন্ধু আজ চলে যাবে, দিন গুলো যে কিভাবে চলে যাচ্ছে টেরই পাচ্ছি না। দারুন সব মুহূর্ত গুলো এমনি। নিমিষেই চলে যায়। বন্ধু সোহেল চলে যাবে কারন আন্টি বলে দিলো আইসা পড়। ঢাকাতে আর কি? টিকোস নাই যখন কিছুই করার নাই। বাবা মা জিনিসটা কতো অসাধারন। কতো ধরনের কথা শুনায় সন্তানকে কিছু করতে পারছে না বলে। অথচ সেই ব্যার্থদিন গুলোতে ভরসা দেয় আবার তারাই। বারবার বলে সামনেই হবে টেনশন নেয়ার কিছু নাই। সেই রাতে তিন বন্ধু এক রিক্সায় চড়ে গল্প করতে করতে পান্থপথ চলে গেলাম। একটু শান্ত সিস্ট এই রাতে রিক্সায় আড্ডা মারার সুখ স্বর্গীয়। তাও আবার তা যদি হয় বিদায়ের তবে তা খানিকটা আবেগের। বন্ধুরাতো বারবার আসে, থাকে চিটাগাংয়েই তাও মন খারাপ হয়। আবির আমার সাথে ২০১২ র দিকে ছয়মাস ছিলো। আসছে গেছে থাকছে এরকম আর কি! যেদিন সে একেবারে চলে যাবে সেদিন রিক্সায় আমার সে কি কান্না। খালি চোখ দিয়ে পানি পড়ে। এতো পানি চোখে কোথায় লুকিয়ে ছিলো তা বলা মুসিবত। আমার এই আবেগের জলরাশি দেখে আবীর বেচারা বড়ই বিব্রত। অথচ অনেক কাঁদার সময় আমি কাদি নাই ঠিক ভাবে। কিন্তু এইসব অতিসাধারন ঘটনায় চোখে পানি আটকানো দায়। সায়ানের গান আছে একটা ওরে আমার চোখের জল। গানটা আমি শুনি না বেশী। শুনলেই নিজের ফ্যাচর ফ্যাচর করে কাঁদার ইতিহাস মনে পড়ে যায়। আমার কান্নাকাটি নিয়ে রিসেন্ট এক ঘটনা বলি। হোটেলে সকালে খেতে আসছি। আমার সামনেই তিন বন্ধু এক বড় প্লেটে মুগডাল গিলা কলিজে সালাদ মিলিয়ে খাচ্ছে রুটি দিয়ে। এই দেখে আমি পুরাই সেন্ট্রি খাইলাম। আমাকে নাস্তা দিছে আমি খেতে পারছি না। বারবার সেই ২০০৪-০৫য়ের হোটেলে সকালে বন্ধুদের সাথে খাওয়ার গল্প আড্ডাবাজি মনে পড়ে যাচ্ছে। আমি হোটেলের বেসিনে গেলাম। ভালো মতো চোখে পানি দিয়ে আসলাম। এতো কান্নাকাটি পাবলিকের সামনে দেখানো ঠিক না। কিন্তু বেসিন থেকে এসে আর খেতে পারি নাই। না খেয়েই চলে গেলাম। এই ঘটনা যখন আজ আবিরকে বললাম। আবির বলে আলী আরাফাত জাকারিয়া আপনি আর বড় হইলেন না!
যাই হোক আজ আবির চলে যাবে। বলা যায় না রিক্সায় যেতে যেতে সেন্ট্রী খেতে পারি আগের মতো কাদতেও পারি। আমার মতো এইসব ছিঁচকাঁদুনে মানুষেরা জীবনে মায়া বাদে আর কিছুই পায় না! তবে দিনগুলো গেলো দারুন। চায়ের দোকানে আড্ডায় পুরানো দিনের কথা গুলো নিয়েই ঘুরে ফিরে হাসাহাসি। আর সাম্প্রতিক কালে কে কি ভাব নিলো তার ফিরিস্তি ও মুল্যায়ন। তবে বন্ধুদের কাছ থেকে আমি আমার ব্যাপারে কখনোই কোনো অভিযোগ পাই না বা শুনি নাই। নিজেকে তখন দারুন মনে হয় মহান ভেবে না, অন্তত বন্ধুদের চোখে ভালো হতে পেরে।
এমন বসন্তদিনের মতো সুখের গ্রীস্মদিনে আরেক আনন্দ হলো ভাইভাবী আর তাদের কন্যার আগমন। এতো দারুন সময় এই বছরে আসে নি। এয়ারপোর্টে যাই নি। ভাবীদের বাসাতেই সকাল সকাল চলে গেছি দেখি ভাইয়ারা আসে নি এখন। লাগেজের অপেক্ষায়। ফ্যানের বাতাসেও আনন্দে ঘামছি। প্রিয় মানুষদের আগমনের প্রতীক্ষা যে কতো অসাধারন তা বলার মতো না। আমার এক বন্ধু বিদেশে যাবার আগে বলছিলো যাচ্ছি তা মন খারাপের কিন্তু যেদিন ফিরবো সেদিন হবে জীবনের শ্রেষ্ঠ সুখের দিন। ১ দেড় ঘন্টা বসে থাকার পরে ভাইয়া ভাবীর আগমন। ভাবী দেখেই বলে শান্ত কতো বড় হয়ে গেছো। ভাইয়া এসেও সেইম কথা সঙ্গে এতো কালো হইছোস কেন? অথচ দেড় বছর আগেও দেখে গেলো। তার থেকে ডিফারেন্স ওতো বেশি না। খালি হালকা পাতলা একটা ভুড়ির অবস্থান এতোটুকুই। ভাবীদের বাসায় যথারীতি অনেক সমাদরে দারুন নাস্তা খাওয়া। হালকা পাতলা গল্প। তারপর ভাইয়া নাকি যাবে তার অফিসে। দুইভাই একত্রে রিক্সায় উঠলাম স্বর্গীয় আনন্দ। সেই ভার্সিটির শুরু থেকেই ভাইয়া আমাকে রিক্সায় আগিয়ে দিতো আজ আমি ভাইয়াকে কি মধ্যবিত্ত সুখ তা কেউ খুজে পাবে না। ভাইয়া ভাবীকে আমি যতসামান্য বই আর গেঞ্জী উপহার দিয়েছিলাম তাতে তাদের মনে যে আনন্দ তার দাম এই গরীবি গিফটের চেয়ে লাখো লাখো গুন ভারী। মাহদীয়া আমাকে চিনে না ওতো ভালো ভাবে। তাও দু;খ করি না কারন আমি স্কাইপিতে নিজের খোমা দেখানো যোগাযোগ রাখি না বলে। তা নিয়ে আপসোস নাই। আরেকটু বড় হোক তখন চিনলেই হলো যে তার চাচ্চু তাকে কতো ভালোবাসে! আজকেও গেলাম প্রথমে ভালোই ছিলো অনেকটা সময় কিজানি কি হলো কান্নাকাটি শুরু করলো। আবারো সেই দারুন নাস্তা আবারো আড্ডা দিয়ে রিক্সায় বাসা ফিরলাম। দিনগুলো যাচ্ছে হুলস্থুল। খুব অল্পদিনের জন্য আসছে ভাইয়া ভাবী। তাও মনে হচ্ছে অনন্তকাল এরকম আনন্দেই থাকলে ক্ষতি কি?
এরভেতরেও বিষাদ আছে। কিছু করতে পারতেছি না তা নিয়ে হতাশ। বিসিএস ভাইবার ডেট দেয় না। চাকরী হচ্ছে না। অনেক মাস্টার্সের ছেলেরা ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের সেলসের চাকরি খুজেও পাচ্ছে না। দেশের অবস্থা বারোটা। আশরাফুলের কেলেংকারী সব মিলিয়ে ভালো থাকা শেষমেষ যায় না। মাঝে মাঝে সামিয়ার যেমন ছোটোবেলায় মেঘলার উপরে মায়ের মতো প্রভাব বিস্তার করছিলো তেমন যদি মাহদীয়ার উপরে প্রভাব বিস্তার করতে পারতাম আদরে ভালোবাসায় কি দারুন হতো। তবে যেটা হলো না হলো না সেটা না হওয়াই থাক। কারন সবাই তো আর আমার বন্ধু মায়াবতী না!





হ
সারাজীবন এমনই থাক- এই প্রত্যাশা করি। লেখা ভাল লেগেছে।
থ্যাঙ্কস ভাইয়া, আপনার জন্যেও অনেক দোয়া ও শুভকামনা!
ভালো লেগেছে ঝরঝরে বৃষ্টি ভেজা এই লেখাটা।
থ্যাঙ্কস এ লট!
মনে দাগ কেটেছে আপনার লেখা
সেইম টু ইউ
মাঝ বয়সে পা দিয়েও আগের মতই এখনো আবেগপ্রবন মানুষ আমি। কারো কষ্ট ভরা লেখা পড়লে খুব মন খারাপ হয়ে যায়। আর বদলাইতে পারলাম না।
বদলে যাই তো সবাই। কেউ খুব ধীরে কেউ খুব দ্রুত! তাও কেনো জানি মনে হয় খুব বেশি বদলাইনি~
আপনিও বদলায়েন না। নিজের মতো থাকেন!
কিছুটা আশা তুমি রেখো যতন করে
কিছুটা স্বপন তুমি রেখো মুঠোয় ভরে.....।
ঠিক আছে ভাইজান!
কষ্ট বিস্ট করে পড়ে যান তাতেই ঋণের শোধ নাই!
মন্তব্য করুন