ইউজার লগইন

স্মৃতিতে সৌভাগ্যের রজনী!

বাঙ্গালী মুসলিম জীবনে শবে বরাত নিয়ে লিখতে গেলে দশটা পোস্ট অবলীলাতেই দেয়া যাবে। আমি ওতো আলাপে যাবো না। আর এমনিতেই বানান ভুল আর যতিচিন্হে তালগোল পাকিয়ে লেখার অবস্থা ছেড়াবেড়া। এমন না যে আমি বানান জানি না। সমস্যা হইছে যে পুরানো ল্যাপটপ বা কম্পিউটারটাও পুরানো অভ্র তাই স্পেল চেকার নাই। আর নিজেও ওভারকনফিডেন্ট হয়ে লেখা শেষ করাটাকে বেশী ইম্পোরটেন্স দেই। আর যতিচিন্হের ভুলের কারন টা হলো কারেন্ট চলে যাবে তাই খুব তাড়াহুড়ায় লেখা আর যতি চিন্হ বিষয়ক তথ্য জানার অভাব। ব্লগে লেখার সময় আমি কোনোকালেই বানান শুদ্ধতা আর সেনটেন্স স্ট্রাকচার নিয়ে ভাবি নাই। সবসময় মনে হইছে লেখা শেষ করতে পারলেই হলো। আর কি বুঝাইছি তা বুঝলেই দায় শেষ। আর ব্লগে আমরা আমরাই তো। এখন যখন প্রায় প্রতিদিন পোস্ট লিখে চলছি কোনো কালেই তো ভাবি নাই এতো লিখবো! তাই মোটামুটি ঠিকঠাক ভাবে লেখাটা বাঞ্চনীয়। কিন্তু তাও পারি না আমার স্বভাব সুলভ তাড়াহুরা ও কারেন্টের অত্যাচারে। আজ সারাদিন কতোবার কারেন্ট গেছে তার হিসাব নাই। এরকম বেশুমার কারেন্ট যাওয়ার সাথে পাল্লা দিয়ে একেকটা পোস্ট দেয়া কতো সংগ্রাম মুখর তা লোকজন বুঝবে না। হোক লেখা যতোই আজাইরা এই প্রতিটা লেখা লিখতে আমার যে কী পরিমান ডেডিকেশন আর পেশেন্স রাখতে হইছে, তার হিসেব শুধু আমি জানি আর কিছু জানে আমার আপন মামা। অনেক সময়তেই আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস ছিলো এমন যে এতো কষ্ট করে লিখলাম কিন্তু লেখা সেইভ নাই কারেন্ট চলে গেলো তাই আর পোস্ট দেয়া হলো না। এরকম যতো স্টেটাস দিছি তার চেয়ে দশগুন বেশী এরকম কান্ড বারবার ঘটছে। তাও লিখছি কারন এইসব দিনলিপি ছাড়া আর কিছুই পারি না লিখতে। মাঝে মধ্যে মনে হয় লিখি না গল্প টল্প কিছু একটা। তখন পড়ি আবু ইসহাকের সুর্যদীঘল বাড়ী। সুর্যদীঘল বাড়ী উপন্যাসটা খুব সাধারন। কিন্তু জয়গুন শফির মা মায়মুন হাসু কাসু এদের জীবন যাপনের গল্প এতো দারুন ভাবে বিস্তৃত মনে হয় এরকম তো আর লিখতে পারবো না তাই লেখার মানেও নাই। আমার আরেক প্রিয় লেখক আহমদ ছফা তার চিন্তার যে প্রখরতা কিংবা আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের লেখনীর যে ক্ষমতা তার ধারে কাছে তো দূরে থাক বুঝতেই সময় কেটে গেছে। তাই এই সব লেখার ট্রাই না করে ব্লগে সহজ দিনলিপি লিখে বেড়াই মন শান্তি আর দিল ঠান্ডা। এই সব এফোর্ডলেস লেখা যখন লোকজন ভালো বলে তখন শুনে বিরক্ত লাগেই বেশী। কারন আমি জানি আমি কি সব আজাইরা প্যাচাল লিখে বেড়াই। তবে ভালোও লাগে এই ভেবে যে কেউ তো আমার লেখা পড়ছে। নিজেকে প্রকাশ তো সামান্য হলেও করতে পারলাম তাই বেশ! তাই আমার লেখা আমার দিনযাপনের মতোই বিষন্ন হতাশা কিংবা চমকপ্রদ আনন্দময় দিন কাটানোর গল্প!

ধান ভানতে শীবের গীত নামে একটা বাগধারা আছে। লিখতে বসলাম শবে বরাত নিয়ে লেখা শুরু করলাম নিজের কথা। কামাল ভাইয়ের প্রাইজ গিভিং অনুষ্ঠান নিয়ে পোস্ট লিখতে যেয়ে চায়ের দোকান নিয়েই গল্প করলাম বেশী। এইটা আমার বারবার হয়। যাই হোক শুরু করি। ছোটোবেলা থেকেই শবে বরাত আমার কাছে খুব প্রিয় একটা দিন। হালুয়া রুটি খাবার জন্য না। কারন সুজি রুটি পায়েস সেমাই এই ধরনের মিস্টি খাবার গুলো আম্মু এতো বানাতো যে প্রতিদিনে খেতে হতো। একসময় এই মিস্টি খাদ্যের প্রতি আমার ভালোবাসা উঠে গেলো। আমার ভালো লাগতো কারন আম্মু রোজা থাকতো। সকালে নাস্তা বানাতে তাই দেরী হতো। আমি ঘুম থেকেই উঠে চা য়ের পাতিল বসিয়ে দিতাম। সকাল বেলা চা বিস্কিট চানাচুর দিয়েই নিজের মতো শুরু হতো নাস্তা। নেভীর বেকারীর এক দারুন মিস্টি বিস্কূট ছিলো। ওরকম বিস্কুট এখন আমি দেখি না। যা টেস্ট ছিলো। তখন মনে হতো বড় হয়ে বেকারীতে চাকরী করবো আর এতো দারুন সব বিস্কুট খাবো সকালে। আর শবে বরাতের আরেক আনন্দ ছিলো আম্মু রোজার রাখার কারনে ইফতারী বানাতো। আমি বুঝতাম না আম্মু ইফতারীতে কেনো এতো কিছু বানাতো কারন নিজে কিছুই খেতো না ভাত ছাড়া। বড় হয়ে বুঝি এই ইফতারী আসলে আমাকে খাওয়ানোর জন্যই। ছোটোবেলা থেকেই ইফতারী খেতে খুব পছন্দ। পিয়াজু বেগুনী পিয়াজু চপ ছোলা মুড়ি খিচুরী সবই খুব ভালো পাইতাম। রোজা না রাখলেও আমার ইফতারী খাওয়া রোজাদারদের চেয়ে কম না। আর তখন খুব গরমের সিজন। আমাদের নেভী কলোনীতে বরফ বেচতো শরবতের সাথে খাওয়ার জন্য। এখন কতো অজস্র দামী দামী জিনিস খাই কিন্তু তখন সেই সস্তা বরফ মেশানো লেবুর শরবত খাওয়ার যে আনন্দ তার ধারে কাছেও কিছু নাই। তার বছর খানেক পরেই বিশাল এক ফ্রীজ কেনা হয় আমাদের বাসায়। তখন বিশাল লাগতো। আমার চেয়েও দুই হাত লম্বা। এখন বুঝি এর চেয়েও কতো বড় ফ্রীজ বাজারে ছিলো তখনো কিংবা আছে। শবে বরাতে আরেক আনন্দ ছিলো মসজিদে বিশাল মিলাদ হতো। মিলাদ আমার ভালো লাগে একটা কারনেই তা হলো শবে বরাতের তবারকের প্যাকেটের সাইজ বড় ছিলো। এমনিতে নিমকী পছন্দ করার কিছু নাই কিন্তু মিলাদের নিমকী জিলাপীর স্বাদের কোনো তুলনা নাই। আরো বড় হয়ে দলবেধে বন্ধুরা ঘুরতাম শুধু মাত্র তবারক দেয়ার আগে আগেই মসজিদে প্রবেশ। এবং যে করেই হোক একের অধিক প্যাকেট নিতেই হবে। আমি কেনো জানি এই প্রতিভাটা শিখি নাই তাই এক প্যাকেট নিয়ে আসতে হতো। তবে বাসায় গিয়ে দেখতাম আব্বু মিলাদের প্যাকেট এনে আমার জন্য রেখে দিছে। মা বাবার ভালোবাসা কতো ইউনিক। আমার আম্মু কিছুদিন নেভী পরিবার কল্যান সমিতির নানান অনুস্টানে যেতো খাবার দাবার যা দিতো সব ইনট্যাক আমি খেতাম। সারাজীবন খালি খেয়েই গেলাম শুধু খাওয়াতে আর পারলাম না। ক্লাস নাই্ন টেনে থাকতে থাকতে খুব চেষ্টা করতাম রাতে থাকার জন্য। কিন্তু বাসা থেকে অনুমতি মিলতো না। কী যে মন খারাপ হতো। সমবয়সী বন্ধুরা নামায পড়ার নাম দিয়ে বেড়িয়ে কতো কি মজা করতেছে। আমি বাসাতেই ঘুমিয়ে যেতে হতো। তখন আমাদের পোলাপানের একটা অভ্যাস ছিলো। শবে বরাতের রাতে ডাব চুরি করে খেতে হবে। ওতো কিন্তু ডাব খাওয়ার পিপাসা কারোরই ছিলো না। কিন্তু মজা করার জন্যই করা। এদিকে নেভাল পুলিশ এমওডিসিরাও তৎপর যে করেই হোক ঠেকাবে। এই সামান্য ডাব চুরি করতে যেয়ে কতো রিস্ক যে নিলো পোলাপান তার হিসাব নাই। ধরা পড়লেই বিপদ। গার্জিয়ানের কাছে কমপ্লেইন যাবে। চিঠি যাবে। যদি অফিসারের ছেলে হোন তাহলে বেচে গেলেন। যদি নরমাল কারো সন্তান হোন তবে শনির দশা। সবাই আপনার বাপকে ডায়লগ শুনাবে। কথার প্যাটার্ন হবে এমন "কিহে জহির আপনার ছেলেকে ফল ফ্রুট খাওয়ান না? কলোনীর ডাব চুরি করে কেন? ওমুকের মুখে শুনলাম ছেলে ছাত্রও ভালো না। তারে মেট্রিক পাশ করায়া নেভীতে ঢুকায় দেন। এছাড়া তো আর গতি নাই।" এরকম কথা শুনলে কোন বাবার মেজাজ ঠিক থাকে। ভাগ্যিস আমার সব কমপ্লেইন আসতো স্কুল থেকেই। কলোনীতে আমি বদের হাড্ডি সবাই জানে কিন্তু এইসব রিস্ক ফ্যাক্টরে নাই। নেভাল পুলিশের অত্যাচারে এইসব অপারেশন বন্ধ করে দিতে হলো। কলেজে পড়ি তখন এইসব আর মানায় না। তখন আমাদের ছেলেরা ইবাদতের রাতে চলে যেতো ১৫ নাম্বার। সেখানে গিয়ে কার্ড খেলা। আমি কার্ড খেলা পারি নিয়ম জানি আগে থেকেই। কিন্তু টুয়েন্টি নাইনের যে কিছু চিকন বুদ্ধি আছে তা বুঝতাম না। তাই খেলতেও ভালো লাগতো না আর। তখন ছিলো কার্ড খেলার দিন যে যেখানে যায় চার জন হলেই বসে যায়। এই কার্ড খেলায় ত্যাক্ত হয়ে আমি বাসায় বসে খালি টিভি দেখতাম। তখন দেখা যেতো যেতো প্রায় খেলাই আমার খুব ভালো মতো দেখা আর সমরেশ হুমায়ুন আহমেদ যেখানে যে অবস্থায় আছে সব পড়া। এখন মনে হয় তখন এই সমরেশ হুমায়ুন আহমেদের চক্করে না পড়লে বই পড়ায় এতো পিছিয়ে থাকতাম না! তখন অবশ্য পোলাপান পড়তো মাসুদ রানা। সেবা প্রকাশনীর কোনো বইই আমার কেনো জানি ভালো লাগতো না। এখনো বন্ধুদের কিনে গিফট দেই তাও নিজে পড়ি না। জাফর ইকবালের নরমাল কিশোর গল্প তখন আমি খুব ভালো পাইতাম। কিন্তু সায়েন্স ফিকশন ভালো লাগতো না। কারন হতে পারে ভাইয়া তখন অহরহ নামের এক সায়েন্স পত্রিকা নিয়মিত পড়তো। ভাইয়ার লেখাও ছাপাতো। অহরহ যে দারুন ভাবে সায়েন্স নিয়ে সহজ ভাষায় লিখতো তার তুলনায় তখন জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশন পড়ে আশ মিটতো না। এখনো আমার সহজ বাংলা ভাষায় সায়েন্স নিয়ে পড়ার আগ্রহ বিদ্যমান। জিরো টু ইনফিনিটি নামের এক পত্রিকা আছে এখনো আমি তার নিয়মিত পাঠক। কমার্সে পড়াশুনা করলেও সায়েন্সের প্রতি এই দুর্বলতা আমার কেনো তার কারন জানি না। কেউ যখন সায়েন্সের কোনো জটিল বিষয় নিয়ে আলোচনা করে বুঝি আর না বুঝি শুনি মন দিয়ে। এইটার কারন হতে পারে আমার ভাইয়ার সায়েন্স ফিকশন অহরহতে ছাপাতো সেই কারনে আর ভাইয়ার বিজ্ঞান মনস্কতা। ডক্টর ইউনুসের ভাইয়ের একটা অনুষ্ঠান হতো সায়েন্স কুইজ নিয়ে বিকেলে। আমি অবাক হই এই ভেবে যে শতকরা ৮০ ভাগ কথা না বুঝলেও সেই অনুস্টানটা ছিলো আমার ভীষন প্রিয়।এতো চ্যানেলের দালালী তাও সেরকম একটা অনুষ্ঠান তো দূরে থাক, বিটিভির অণু পরমাণুর মতোও কোনো অনুষ্ঠান কোনো বাংলা চ্যানেলে হয় না। হিন্দী সিরিয়াল হিন্দী সিনেমা দেখবে না তো কি পাবলিক আঙ্গুল চুষবে। এখনো জামালপুরে প্রচুর মানুষ ডিস্কোভারী বাংলা ডাবিং দেখে। কারন মানুষ জানতে চায়। মরার একটা দেশ আজাইরা সংবাদ বাদে আর দেখানোর মতো কিছুই খুজে পাই না!

ভার্সিটি লাইফে শবে বরাত গুলো যেতো অসাধারন। পরাগের বাসায় চলে যেতাম গরুর মাংস দিয়ে রুটি খেয়ে নামাযের নাম দিয়ে বের হয়ে সারা শহর হেটে বেড়াতাম এতোই হাটতাম যে সেখান থেকে ফিরতে যে রিক্সা ভাড়া লাগবে তা পকেটে নাই। ফজরের নামায পড়ে হাটতে হাটতে আবারো নিজের বাসায় ফেরা। সাতটায় ঘুমিয়ে উঠতাম সন্ধ্যা সাতটায়। আম্মু বলতো নফলের উসিলায় ফরজের বালাই নাই। একবার চিটাগাংয়ে গেলাম তার দুই দিন পরে শবে বরাত। আমার আগমনের কথা শুনে বন্ধু বান্ধব যতো আছে সব আসলো। দারুন এক রাত গেছে। প্যাচাল পারতে পারতে গলায় দুইদিন ভলিউম বন্ধ ছিলো। সারারাত তো তাফালিং করছি ফজরের পরে গেছে বীচে। দেখি ঘুমের ঠেলায় হাটতে পারি না। তাও ঘুমাই না। দুপুরে এমনি মরার ঘুম দিলাম উঠলাম পরের দিন সকালে। গত বারের শবে বরাতটাও অসাধারণ ভালো কাটছে। বন্ধু আবীর ছিলো, চায়ের দোকানের পুরা সার্কেল ছিলো, নান্নু সাহেবের দোকান মসজিদের পাশে সারারাত খোলা এতো দারুন রাত আর আসে নি তেমন। আড্ডায় হাসতে হাসতে গাল ব্যাথা। নামায পড়ছি মনে হয় মাত্র ৩০-৪০ মিনিট। আর সারটা সময় চায়ের দোকানে। তখন আমাদের পার্সেল ব্যাবস্থা ছিলো। কিছু খাবার কথা মনে উঠলেই লোক পাঠাতাম হাজির হতো খাবার। কী নবাবের জীবন! চায়ের দোকান ভর্তি খালি মানুষ। আমাদের আড্ডায় চিল্লাচিল্লিতে দিনের ব্যাস্ততাও হার মানায়। মসজিদের সামনেই এরকম বেশরীয়তি কাজের মেলা বসলেও আমাদের কিছু বলে নাই কেউ। কারন এলাকায় যে ভদ্রতার রেপুটেশন আমাদের বললেই ফ্যাসাদে পড়বে। এবারের শবে বরাতে সেই প্রান খোলা আড্ডার কোনো ব্যাপারই ছিলো না। চায়ের দোকান আমার খুব এক টা ভালো লাগে না এখন আর। তার ভেতরে পারভীন আপু বলে রাখছিলো বাসায় আসতে। অন্যবার হলে বলতাম ব্যাস্ত আছি। কিন্তু এখন আর এই সব বলতে ভালো লাগে না। অনেক হলো দোকানে বসে থাকা। চিরচেনা রিক্সাওয়ালাকেই পেলাম। যার রিক্সা চালানো অতি শার্প। ১৫ মিনিটের মধ্যেই দেখলাম আপুর বাসায় আমি। লিফট আমার ওতো জরুরী কিছু না। সিড়ি দিয়েই উঠলাম। আপুর বাসাতে গেলেই আনন্দ। এসির বাতাস ফ্যানের বাতাসে প্রায় বেহেশতের হাওয়া। টিভি দেখলাম কিছুক্ষণ একটা নাটক শুরু হলো এনটিভিতে। নাটকের প্রথম পার্টে খালি দেখলাম লাক্সের বাধন শপিংয়ে গেছে আর জিনিস কিনতেছে। এই হাটাহাটির খালি ক্যামেরায় লং শর্ট। আর আরেক সিনে এক ছেলে আমার মতোই একটু কুজো বডি বিল্ডার সে এক মেয়ের বাসার ঠিকানা নেয়ার জন্য দারোয়ানকে ঘুষ দিতেছে। চলে গেলো এডে ৫-৬ মিনিটে ফেরার নাম নাই আর। এবার বলেন এই নাটক কোন হালায় দেখবে? কারন পরিচালকদের কাছে তো মেয়ে বিয়ে দেই নি কেউ যে ঠেকায় পড়ে জামাইয়ের আজাইরা নাটক দেখতে হবে রিমোট হাতে নিয়ে। খেতে বসলাম তেহারী গরুর মাংস কা্বাব আমিত্তি হালুয়া অভাব নাই খাবারের। খেতে খেতে হয়রান হয়ে গেলাম। আর আপু এতো দারুন রান্না করছে যার তুলনা নাই। খাওয়া শেষে আপুর সাথে দারুন আড্ডা আবার দুধ চা খাওয়া। বিদায় যখন নিলাম তখন দেখি নড়তে পারি না খেয়ে। সিড়ি ভাঙ্গার আশা বাদ দিয়ে লিফটেই নামলাম। নেমেই পেয়ে গেলাম ৬০ টাকায় রিক্সা। চায়ের দোকানে আড্ডা মারলাম তারপর পুলক খুব জোর লবিং চালালো রাতে থাকার জন্য। আমি জেদ করেই আসছি যে আজ আর থাকবো না। ওতো আড্ডার দরকার নাই। এমনিতেই যতো সময় আমি চায়ের দোকানে কাটাইছি পোলাপান আগামী দিন গুলাতে বসেও তার ধারে কাছে যেতে পারবে না! বাসায় এসে কারেন্ট নাই। শবে বরাতের রাতেও চার পাচ ঘন্টা কারেন্ট নাই। এই দেশের বরাত অন্ধকার। কোনো ইবাদতেই মনে হয় না আলো আসবে!

এখনকার হুজুরেরা শবে বরাতে হালুয়া রুটি বানাতে তীব্র ভাবে আপত্তি জানায়। আমি জানি কোনো হাদীসে লেখা নাই যে শবে বরাতে হালুয়া রুটি খেতে হবে। তাও আমরা খাই কারন দীর্ঘদিনে ধরে চলে আসছে। হাদীসে তো কথায় কথায় গরুর মাংস আর ভাত চান্স পাইলে সাটানোরও তো বিধান নাই। তাও তো হুজুররা যেখানেই যায় সেখানেই গামলা ধরে মেরে দেয়। উল্টা বলা আছে মুমীনদের গুন হবে কম কথা বলা, কম নিদ্রা, কম আহারে দিন যাপন করবে। খুব কম হুজুররেই দেখলাম না যে খেতে বসে পাঞ্জাবীর ফিতা খুলে খায় যেনো পেট সহজে ভরে না যায়। তাই কেউ যদি বিশেষ দিনে পেপে গাজরের হালুয়া খায় তাতে দোষের কি? এইটা জরুরী না মনে করলেই হলো। আজ দেখলাম গরুর মাংস গরু জবাইয়ের ফেস্টিভ্যাল মুড চারিদিকে। হোটেল গুলাও বুঝে গেছে হালুয়া রুটির ডিমান্ড। তাই পাড়া মহল্লার হোটেলেও হলুদ ব্যানারে এড। ভালো লাগে দেখতে। আমি বিশ্বাস করি না যে এই রাতেই গুনাহ মাফ হয় আর সব কিছুর ফয়সালা হয়। তবে তাই বলে একেবারে খারিজও করতে চাই না। ইবাদত তো করা দোষের কিছু না। কিন্তু নব্য ইসলামিস্টদের তা পছন্দ না। শবে বরাতকে তারা বিদয়াত বলেই বাতিল করে দিতে চায়। কিন্তু নিজেরা যে কত ধরনের বিদয়াত আর ভ্রান্ত আকিদায় ডুবে থাকে তার কোনো হিসেব নাই। কাল রাতে অনেকক্ষণ ফোনে চিটাগাংয়ে কথা বলছি। আমি নাই কিন্তু বাকী চারজন বন্ধুরা দারুন আড্ডা দিলো। ঘুমে ঘুমে স্বপ্ন দেখলাম আমি আড্ডা দিতেছি পনেরো নাম্বারে বসে। পাশে প্রিয় নদী কর্নফুলী আর বৃষ্টি ভেজা বাতাসে পা ঝুলিয়ে বসে থাকা কি অসাধারণ সুখ স্বপ্ন। ঘুম ভেঙ্গে গেলো। কাল রাতে ঘুমাইছি চারটায় উঠলাম কেবল। যে হারে কারেন্ট গেছে এই পোস্টটা লিখতে খবর হয়ে গেছে। ভাগ্যিস সেইভ করে করে লিখছি শেষের দিকে নয়তো এই পোস্ট আর আলোর মুখ দেখতো না। এই দেশের বরাত পরিবর্তিত হোক। নতুন নতুন স্বপ্নে ভালো থাক এই দেশের সাধারণ মানুষ। আল্লাহ একটু স্বস্তি দাও চারিদিকে আর কতোকাল এমন থাকা! নিজের জন্য আমার চাওয়া খুব সামান্য তাও যখন পূরণ হচ্ছে না তাই অযথা কান্নাকাটি করে চেয়ে লাভ নাই।

পোস্টটি ১৯ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জ্যোতি's picture


কত স্মৃতি!! এই সহজ দিনলিপি লেখ বলেই এত স্মৃতি আবার আসে সামনে । আমাদেরও পড়তে ভালো লাগে । ইদানীং শবে বরাত নিয়ে বয়ান শুনে আমিও কনফিউজড আসলে ঘটনা কি ! তবে ইবাদত করতে তো অসুবিধা নেই ।
কাল ভরপেট খেতে গেলা আমাকে নিলা না । যেদিন না খেয়ে থাকতে হবে সেখানে নিয়ে বসায়া রাখবা ঠিকই ! Sad >)

আরাফাত শান্ত's picture


কামাল ভাই কথা দিছে খাওয়াবে। নিরাশ হয়েন না। আর কামাল ভাই না খাওয়ালে আমি খাওয়াবো যান। আল্লাহ চঞ্চল মতি নিরাশ লোকদের পছন্দ করেন না!

বিষণ্ণ বাউন্ডুলে's picture


হু, ব্যাপারটা কম্পলসারি না মনে করলেই হোল। পিচ্চি থাকতে ঈদ ঈদ লাগতো, এখন আর কিছুই করা যায় না। জেনেবুঝে কোন ভুল করাটা বেশ কঠিন লাগে মাঝে মাঝে।

আরাফাত শান্ত's picture


কম্বোলচারি মনে করুক না করুক কারো ইবাদত নিয়ে কটুকথা বা অবহেলা করা ঠিক না!

নিভৃত স্বপ্নচারী's picture


বানান ভুল কম বেশি আমাদের সবারই হয়। চেষ্টা করি ভুল না করার, তারপরও হয়েই যায়, লিখতে লিখতে একসময় ঠিক হয়ে যাবে।
তোমার পোষ্ট পড়ে পুরানো দিনের শবে বরাতে দুষ্টামির স্মৃতিগুলি মনে পড়ে গেল। কতদিন হালুয়া খাইনা !!! Tongue

আরাফাত শান্ত's picture


খান না কেন? ভাবী বানায় না? Tongue

টোকাই's picture


ছোটবেলায় শবে বরাতে সারা রাত জেগে নামায পড়তে হোতো বাধ্যতামুলকভাবে। এখন আর কেউ জোর করেনা, বাইচা গেসি।

আরাফাত শান্ত's picture


Laughing out loud

পাভেল's picture


অসাধারণ দিনলিপি লিখেন আপনি!

১০

আরাফাত শান্ত's picture


থ্যাঙ্কস Laughing out loud

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

আরাফাত শান্ত's picture

নিজের সম্পর্কে

দুই কলমের বিদ্যা লইয়া শরীরে আমার গরম নাই!