তুচ্ছ মানব জন্ম
মানুষ হিসেবে আমি মাঝারি মানের - মানে মিডিওকার আর কি! (তার মধ্যে উচ্চতা, ওজন, মেধা, অর্থনৈতিক অবস্থা সবই পড়ে।) এহেন মানুষের আবার পছন্দ অপছন্দ! আমারে কেউ গোনার মধ্যেই ধরে না। তায় আমি াবার যেই বিষয়টা পছন্দ করি, তা জগতের বেশিরভাগ বুদ্ধিজিবী, উচ্চমানের মানুষ, সিরিয়াস মানুষ কেউ ই পছন্দ করেন না। সেটা হল রসিকতা। আমি রসিক মানুষ বেশ পছন্দ করি।
আমার আশেপাশে সেই অর্থে আমি রসিক মানুষ দেখিনি বললেই চলে। রস বা রসিকতা বলতে যা বোঝায়, আমাদের দেশে- তার বেশিরভাগ জুড়েই থাকে আদিরস বা নিম্নমানের কিছু বিষয়। আমাদের সমাজে যারা সচরাচর রসিকতা করেন, তাদের সাদা বাংলায় বলা হয় ভাঁড়। মানে ছোট জাত। হুমায়ূন আহমেদ বলেছেন, “এদের কথাবার্তায় মজা পাওয়া যাবে, তবে তাদেরকে পাত্তা দেয়া যাবেনা। কারণ তারা এক অর্থে বেয়াদব।“ তারপরও আমি রসিক মানুষ পছন্দ করি। তবে মনের মত রসিক পাইনা বলে, নিজেই টুকটাক রসিকতা করি। এই অনুভূতি লিখতে গিয়ে উপমহাদেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পি মান্নাদের একটা গানের কথা মনে পড়ে গেল। “আহা ভাব করে কি সুখ পাওয়া যায়, ভাবুক না পেলে...।।“ না, ভাবুক পাওয়ার বদলে, প্রচুর নিন্দুক জুটে আছে আমার কপালে। সবাই ইদানিং আমার দিকে বেশ করুণার দিকে তাকায়। কোন অনুষ্ঠানে দেখা হলে, ভাবখানা এ রকম, “আপদ এসে জুটলো। এখন ভালোয় ভালোয় বিদায় হলেই হয়।“ রসিকতা
করতে গিয়ে কবে যে কোন বিপদে পড়ব, আল্লাই জানেন। অবশ্য ক’দিন আগে বড় একটা বিপদ পারি দিয়েছি, তাতেও যখন হুঁশ হয়নি- হুঁশ হবে বলে মনে হচ্ছে না।
“একদিন এক ছোট বোন বলল, আপনি কথা বললে, আমি তো আল্লাহ আল্লাহ করতে থাকি, কি না জানি বলে ফেলেন, আপনি কেন বুঝতে পারেন না যে, আপনার কথায়, মানুষ কতটা bored হয়! আমি যে রসিকতা
করেন, তাতে মানুষ আনন্দ পাবার বদলে খুবি বিরক্ত হয়।”
(আমার সেই ছোটবোন এই লেখা পড়লে, রাগে না হলেও আমার রুচির অপরিবর্তিত অধঃপতন দেখে কথা বন্ধ করে দেবার সমুহ সম্ভাবনা আছে।)
এই বিষয়ে একটা রসিকতা মনে পড়ে গেল। “ গ্রামের এক ব্যাক্তিকে আরেক ব্যাক্তি বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছে। প্রথম ব্যাক্তি পথে যেতে যেতে একে তাকে বলতে বলতে যাচ্ছেন, হাটের মধ্যে গলায় গামছা দিয়ে মারপিট করল, এখন আবার বাড়িতে ডেকে পাঠিয়েছে। বাড়ি নিয়ে কি অপমানই করে নাকি, সেটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।“
আমিও দিন রাত আমার এই স্বভাবের জন্য বেশ দুশ্চিন্তায় থাকি।
তবে সম্প্রতি হুমায়ূন আহমদের “কাঠপেন্সিল” পড়ে একটু শান্তনা পেলাম। না জগতে রসিক লোকেরা অতটা তুচ্ছ নয়। আর রসবোধ সবার থাকেনা।
নিদারুণ রসিকতা ১
ছোট বাচ্চাদের আমি খুব পছন্দ করি, এটা এখানর সবাই জানে। এবং ওরা যে সব মজার মজার কাণ্ড করে, সে গুলো আমি সবাইকে সবিস্তারে না বলে শান্তিই পাইনা। স ত্যি আমি আন্তরিকভাবে বলছি, শিশুদের এই শিশুতোষ ও মজার কাণ্ডগুলো আমাকে পবিত্র আনন্দ দেয়। এটা বলায় আমার কোন চাতুর্য থাকে না। কাঊকে ছোট করার কোন-রকম কোন বাসনা থাকেনা।
এ ক্ষেত্রে হুমায়ূন আহমেদ তার “কাঠপেন্সিলে” বলেছেন, “দশ বছর বয়সের নিচের শিশুদের প্রতি আমার অন্য একধ রনের মমতা আছে। তারা তাদের ভুবনে এক ধরণের আনন্দ নিয়ে বাস করে। তাদের সঙ্গে গ ল্প করলে তাদের অদ্ভুত ভুবনের কিছুতা আঁচ পাই। তারা বিচিত্র ধরণের খেলা খেলে। সেই খেলায় অংশ নেয়াও
আনন্দের ব্যাপার।
সাত বছরের এক বাচ্চার সাথে আমার দেখা হয়েছে জ্যুসের ভেন্ডিং মেশিনের সামনে। বাচ্চাদের আত্মসন্মানবোধ খুব প্রবল হয়, তাই সে আমাকে বলছে, আমার ঠাণ্ডার সমস্যা আছে তো তাই আমি জ্যুস খাইনা। কিন্তু আমার অনেক পিপাসা লেগেছে- আন্টি তুমি কি আমাকে ওই জ্যুসটা কিনে দিতে পার?
আমি খুবই মজা পেলাম। আমার ওর বলার ভঙ্গি, ওর এপ্রোচ এত ভালো লাগলো যে, ওর বাবার অনুমতি না নিয়েই একটা জ্যুস কিনে দিলাম। ভাবছিলাম ওর বাবাকে বলব। এগিয়ে যেতে যেতেই বাচ্চাটি তার বাবার কাছে দৌড়ে গিয়ে বলল, বাবা, আমি কিন্তু চাইনি, আন্টি আমাকে জোর করে কিনে দিয়েছেন। এটা তো ঠাণ্ডা তাই আন্টিকে বলেছি, বাসায় গিয়ে খাব। বলে সে জ্যুসের বোতল টা খুব গাম্ভীরযের সাথে ধরে রইল। আমাকে খুব একটা পাত্তাই দিল না। ভাবখানা এরকম, তুমি জোর করে জ্যুস কিনে দিলেই পাত্তা দিতে হবে নাকি!
আমি খুব মজা পেলাম। আমার মেয়ের বন্ধু। আমার মেয়ের বয়স ৭। অনেক মায়া। মেয়ের মাও আমার অনেক কাছের। তিনি প্রায় ফোন করে আমার সাথে গল্প করেন।
তো পরের দিন এক পার্টিতে তার সাথে আমার দেখা। আমি সবার সামনে মজা করে ঘটনাটা বললাম। ফলাফল যা দাঁড়ালো মেয়ের মা মাথা ব্যাথার কথা বলে তাড়াতাড়ি উঠে গেলেন এবং বাড়ি গিয়ে বাচ্চাটিকে আচ্ছামত ধোলাই দিলেন এবং তিনি আমাকে জানিয়ে দিলেন যে বাচ্চার ব্যবহারে তিনি যতটা না কষ্ট পেয়েছেন,
তার চেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছেন আমার ব্যবহারে। কারণ তিনি তার বাচ্চাকে অনেক বিশবাস করেন। ও সাধারণতঃ এরকম করে না। আমি সবার সামনে তাকে এরকম ছোট না করলেও পারতাম।
আমি যে কি কষ্ট পেলাম। বলে বোঝাতে পারবো না। সমস্যা হল, জগতের বেশীর ভাগ মানুষ ই আমার মত ভাঁড় বা নিচু জাতের মানুষের দুঃখ কষ্টকে অতটা আমল দেয় না।
এটুকু পড়ে সিরিয়াস পাঠকরা বলতেই পারেন, তাইতো মজা খুঁজতে গিয়ে আমি বাচ্চাদের মিথ্যা বলাকে এনকারেজ করছি। সেটা তো ঠিক নয়। আসলে আমি বিষয়টাকে সে ভাবে দেখি না। হুমায়ূন আহমদের মত ১০ এর নীচে সব শিশুদের আমি নেহায়তই শিশু মনে করি। তাদের প্রতি আমার বিশেষ মায়া কাজ করে। তাদের কোন কথা আমি সিরিয়াসলি নেই না। আর এই ৫ থেকে ৮ এর বাচ্চারা তাদের ইমাজিনেশন থেকে অনেক কিছু বানিয়ে বলে। একটু খেয়াল রাখলেই সে গুলো চলেও যায়।
যাই হোক, ক’দিন ধরে জাপানের অবস্থা জানেন না, এমন লোক কেউ আছেন বলে, আমি বিশ্বাস করি না। সেখান থেকে কিছু লাইভ মজার কথা বলি।
১।
৯ মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে। মেয়েকে আঁকড়ে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নামতে পারছি না দুলুনির চোটে। মনে হচ্ছিল, ভবলীলা সাঙ্গ হতে আর বেশী দেরী নেই। আমার পেছনে লাফিয়ে নামছে, শহিদ ভাইয়ের ছেলে। আমার মেয়ের বয়সী। আমি মাটিতে পা রেখে দাঁড়ানোর পর ভাবছি, সবাইকে নিয়ে এই বিল্ডিং এর নীচে থেকে সরে পড়া দরকার। তখন জিয়াদ হাঁপাতে হাঁপাতে বলছে যাক বাবা আমার DS (toy) টা বাঁচাতে পেরেছি। ভূমিকম্প তখনো থামেনি। আমি সরে পরার বদলে, জিয়াদের পেটের দিকে তাকিয়ে হা হা ক রে হাসছি। ওর পেট ফোলা। ওর শার্টের ভেতর দুহাতে লুকানো ওর মূল্যবান নিনতেন্দো ডি এস।
২।
প্রথম বড় ভূমিকম্পের পরে শোভা কাঁদতে কাঁদতে ফিরল। ওরা ল্যাবে ১২ মিনিট আটকে ছিল। কারণ বেরুবার অটমেটিক দরোজা খোলার বদলে অটমেটিক লক হয়ে গেছে। খুলছে না। এদিকে ল্যাবের সব কাঁচের জিনিষ পত্র ঝন ঝন করে ভেঙ্গে পড়ছে। সে এক ভয়ঙ্কর অবস্থা। শোভার সঙ্গে খালেদা আপাও ছিলেন।
পরদিন খলেদা আপার খোঁজ নিতে ফোন দিলাম। খালেদা আপা বললেন, “শাপলা আপা ভীষন ভয় পেয়েছিলাম। শোভা তো তাও শান্ত ছিল, কিন্তু আমি খুব চেঁচামেচি করেছি। একবার বাঙলায় একবার ইংরেজিতে। সঙ্গে আমাদের প্রফেসর ও ছিলেন। তারপ র বাহির থেকে সিকিউরিটির লোক এসে উদ্ধার ক রেছে।" উদ্ধার পাবার পর সবার মনে হয়েছে, পেছনের দরজা খোলাই ছিল। সবাই সেটা ভুলেই গিয়েছিল।
একেই বলে বিপদ বুদ্ধিনাশিনী। কাল খালেদা আপাকে মজা আমি ঘটনাটা আবার ব লতেই, মনে হল –খালেদা আপা বেশ লজ্জা পেলেন।
খালেদা আপা এতে লজ্জা পাবার কিছুই নেই। আর আমি মজা করেছি, কিন্তু আপনার বোকামীকে তুলে ধরবার জন্য নয়। চারিদিকে এখন শুধু দুঃখ আর হতাশা। এই বিপদেও আপনি সুস্থ আছেন, ভালো আছেন জেনেই
আমি না হয় এই গভির বেদনা থেকে একটু মজা খুঁজে বের করেছি। আশা করি, ক্ষমা করবেন।
৩।
৯ মাত্রার ভূমিকম্প হচ্ছে, আমাদের স্ট্রং বৌদি সাইকেল চালাচ্ছেন। হঠাত তার মনে হল, তার মাথা ঘুরছে। তিনি ভাবলেন, দ্রুত বাড়ি ফিরতে হবে-তাই আরো জোরে সাইকেল চালালেন। পরে লোকজন চিৎকার করে তাকে থামাল। কারণ এম ন স ময় সাইকেল চালানো উচিত না।
৪।
৯ মাত্রার ভূমিকম্পের সময়, সবাই যখন জান-প্রাণ নিয়ে দৌড়াচ্ছে তখন মান্নান ভাইয়ের মাথায় হাত। তার হঠাত মনে পড়েছে, তার কুকিং ওয়েল বোটলের মুখ খোলা। বোতল উলটে তেল পড়ে গেলে কি হবে!
৫।
ইংরেজীতে একটা প্রবাদ আছে, advice is least heeded when most neeed. মানে হল বিপদের সময় বেশীর ভাগ মানুষ ই কোন উপদেশ মনে রাখে না বা কোন উপদেশ কার্যকর হয় না।
এই কথাটি জাপানিজদের ক্ষেত্রে একদম ভুল। কারণ গতকাল জাপানিজ প্রধান মন্ত্রী কান যখন জাতির কান ধরে টান দিলেন, “বললেন, কয়েক ঘন্টা বাতি থাকবে না।“তখন সব মাথা নড়ে চড়ে উঠলো। সবাই কানের উপদেশে ঝাঁপিয়ে পড়ে টর্চ, মোমবাতি শুকনো খাবার সংরক্ষণে লেগে গেল। তাতো করতেই হবে।
কিন্তু চিন্তা অন্যখানে- আমার দেশে সারাদিন লোড শেডিং হয়, কিন্তু কাউকে টয়লেট টিস্যু পেপার আর রুম টিস্যু পেপার বস্তায় বস্তায় কিনতে দেখিনি। বাজারে কোন টিস্যু পেপার পর্যন্ত নেই। কি যে ভয়ঙ্কর অবস্থা! দোকানে দোকানে খাবার নেই, খাবার পানি নেই, মাঝে মধ্যে বিদ্যুৎ নেই সব মানা গেল, কিন্তু বস্তায় বস্তায় টিস্যু নেই এটা মানা যায় না।
আসলে বাইরে বেরুলে, জাপানিজদের জীবন যাত্রা এখনও ভীষন স্বাভাবিক মনে হচ্ছে। তাইলে এরা বিপদে অস্বাভাবিক হয় কখন? মনে হয় এরা কাঁদে কিন্তু বাড়ির মধ্যে চুপিচুপি। তাই চোখের জল মুছতে সব টিস্যু বাড়ি নিয়ে গেছে।
যা ঘটে গেল, তাতে স ত্যি চোখের জল ফেলা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। পরম করুনাময় সবাইকে সুস্থ রাখুন। ভাল রাখুন।
প্রতি বছর নিজের দেশে লঞ্চ ডুবি, জলোচ্ছ্বাস, বন্যা, সড়ক দূর্ঘটনায় ভাষা হারিয়ে ফেলি, খুব অসহায়ের মত দেখি - কি ভীষন ক্ষতি! মনের কোনায় জমে থাকে কিছু করতে না পারার গভির ক্ষত। ঠিক সেই ক্ষতটুকু বুকে ধারণ করে বসে আছি মূক-বধির হয়ে।
উপরওয়ালা কিছু করার ক্ষমতা মানুষকে দেননি। মানুষকে কেন এত তুচ্ছ করে রেখেছেন?





আপনি ভালো আছেন জেনে ভালো লাগলো
ভালো থাকবেন
হ্যাঁ রে ভাই, শারীরিকভাবে ভালোই আছি। দোয়া করবেন যাতে পরিস্থিতি বেশি খারাপ হলে কষে দৌড় দিতে পারি।
মানসিকভাবে ব্যাড়াছ্যাড়া অবস্থা রে ভাই।
আপনাকে খুজতেছিলাম। জিন্টু বসের মাধ্যমে জানতে পারলাম আপনারা নিরাপদ আছেন। যাক... ব্লগে পেয়ে ভাল্লাগলো...
রেগুলার আপডেটের দাবি জানিয়ে রাখলাম
টুটুল ভাই কেমন আছেন? আছি ভাই কোনরকম। দোয়া করবেন।
নিরপদে আছেন জেনে ভালো লাগলো। ৯মাত্রার ভূমিকম্পের পরবর্তীর গল্প পড়ালেন বলে ধন্যবাদ।
সাবধানে থাকুন। নিরাপদ থাকুন। শুভকামনা।
বন্ধুদের শুভকামনার জোরে বেশী দূর যেটে পারলাম না। এখনও নিরাপদেই আছি। বেশি বেশি করে দোয়া করবেন।
আসলে আপনেও মনে হয় একটি ১০ বছরের শিশু। তাই শিশুদেরকে নেহায়েতই শিশু মনে করেন।
এই কথা বললি কেন? খেলব না। আমি কি করেছি?
হিউমার নাই এসব মানুষদের মেনে নেওয়া খুব কষ্টকর। আমিও আছি আপনার দলে।
আর ভাল আছেন জেনে ভাল লাগলো। রেগুলার কি লেখা সম্ভব জাপান নিয়ে?
মাসুম ভাই, কি লিখব জাপান নিয়ে? যদি কিছু হিন্ট দেন। তবে অর্থনীতির মত খটমট বিষয়ে লেখার যোগ্যতা বা সাহস কিন্তু আমার নেই।
আরে প্রতিদিন রাস্তায় বের হয়ে যা দেখবেন তাই লিখবেন। বাকীটা আম্রা বুঝে নিবো।
মীর ভয়ে কেউ স হজে রাস্তায় বের হচ্ছে না। কারণ বাতাসে কত মাত্রার রেডিয়েশন কেউ বুঝতে পারছে না। সেই জন্য জাপানিজরা তিন দিন আগেই ্বখন প্রথম শুনেছে, বাটাসে রেডিয়েশন, তখন থেকেই বাজার-ঘাট খালি করে দরকারী জিনিষ-পত্র কিনে ঘরে কুলুপ এঁটেছে।
পারতপক্ষে বাইরে যাচ্ছে না।
রোজনামচার মতো করেই লেখেন। রেগুলার। তাতে আমরা পরিস্থিতিটা বুঝতে পারবো
আপনি জাপানে থাকেন আজকে জানলাম । সুস্থ আর ভালো আছেন জেনে স্বস্তি পেলাম ।
রসিক মানুষের অভাব এদেশে মনে হয় নেই । কিন্তু সমস্যা হল, মানুষ রসিকতা করতে পছন্দ করে অন্যের সাথে । কিন্তু অন্য লোকের রসিকতা মেনে নিতে পারেনা । উলটা বোঝে । সত্যিকারের রসিক বোধহয় দুর্লভ ।
হমমম। ঠিকই বলেছেন লিজা। ভালো থাকুন।
আমি বড়ই বেরসিক।
ভালো থাকবেন, দোয়া করি।
তাতে কি, দুনিয়ার সবাইকে রসিক হতে হবে, এমন কোন কথা নেই।
ঢাকায় একবার ৪.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হইলো, তখনো আমি উত্তরাতে থাকে। তো ভূমিকম্পের রেশ তখন প্রায় শেষ আমি বারান্দায় দাঁড়াইয়া দেখি পুরা মহল্লা তখন রাস্তায়। মনে হইতেছিলো কোনো দূর্ঘটনা ঘটলে এই সব মানুষ বাঁইচা যাইতো, আমি একাই চাপা পইড়া মরতাম...
ভাই খুব অন্তর থেকে একটা কথা বলি, দেশে বিশেষ করে ঢাকায় একটা বড় মাত্রার ভূমিকম্পের জন্য ঘর বাহির দুটোই বিপদ্দজনক।
আমাদের তো কোন ইভাকুয়েশন এরিয়া নেই। আমি যতদূর জানি, আমাদের দেশের বিল্ডিং গুলো কাত হয়ে পড়ে। ভূমিকম্পে বসে যায় না। কাজেই যারা বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবেন, তারা কতটা নিরাপদ তা ভেবে দেখার বিষয়।
সে ক্ষেত্রে বিল্ডিং এর নীচে দাঁড়ানো কোন ভালো সমাধান না।
ভূমিকম্পের সময় ইভাকুয়েশনের জন্য আরও খুঁটিনাটি সচেতনতা আমাদের খুব জরুরী।
ভুমিকম্প এবং এর পরবর্তী সিচুয়েশন... মানুষের ভাবনা... এইসব নিয়ে লেখেন
মীরের মত... রাস্তায় বের হয়ে যা দেখবেন
ভালো আছেন জেনে ভালো লাগছে। ভালো থাকবেন। শুভকামনা।
আপনাদের শুভ কামনায় এখনও পটল ক্ষেতে যাইনি আর কি! দোয়া করেন গো!
সকালে একটু খানি ব্লগে ঢুকে আপনারে দেখছিলাম। একটা বার্তাও দিসিলাম।
ভালো লাগলো ভালো আছেন জেনে।
রাসেল ভাই আমার নাম শাপলা। আমার জীবনের সাথে ঘাপলা লেগেই থাকে। এই জন্য আমি খানিকটা ঘাপলাপ্রুফ। সহজে ঘাবড়াই না। কিন্তু পরিস্থিতি অনেকটা ল্যাজে-গোবরে আর কি!
দোয়া করবেন।
ওক্কে বস। জ্বরের কারণে ছুটিতে আছি। তবুও দুই একবার যা বেরিয়েছি, এদের মুখে কুলুপ আটা। সব নরমাল। খাবার-দাবার এর সংকট যা ছিল, তা সামলে উঠেছে। পানি, বিদ্যুত এবং গ্যাস আছে। সবাই নিজ নিজ কাজ করছে।
কেবল মাঝে মধ্যে দু একজন দেখছি, একা একা চোখ চোখ মুছতে কোথায় চলেছে।
আপনি জাপানে আছেন আমি এই জানলাম। আপনাদের সকলের নিরাপত্তা আন্তরিক ভাবে চাচ্ছি সৃষ্টিকর্তার কাছে। কস্ট হচ্ছে জাপান অনেক পিছিয়ে গেল। প্রকৃতি ভয়াবহ হলে আমরা খুবই অসহায়। ভাল থাকুন।
আপু, সাবধানে থাকবেন
আসলেও আপনার জন্য খারাপ লাগছিল। ভালো আছেন জানতে পেরে স্বস্তি পেলাম। আমার এক শ্যালক টোকিও থেকে ফোনে জানিয়েছে অন্তত দশ দিন যোগাযোগ করা সম্ভব হবেনা । কেন, কে জানে? ভালো থাকুন, রোজ নামচা দিন।
আসলেও আপনার জন্য খারাপ লাগছিল। ভালো আছেন জানতে পেরে স্বস্তি পেলাম। আমার এক শ্যালক টোকিও থেকে ফোনে জানিয়েছে অন্তত দশ দিন যোগাযোগ করা সম্ভব হবেনা । কেন, কে জানে? ভালো থাকুন, রোজ নামচা দিন।
শাপলু বুকে আসো। আমার জীবনের সমস্ত সমস্যার মূল হলো রসিকতা আর কঠিন জিনিসকে কঠিনভাবে না নেয়া। কেউ আমারে দেখতে পারে না আর ভয়ে ভয়ে থাকে আমি কখন ব্যাটাদের টাইপ রসিকতা করে বসি। আল্লাহ যদি আমাকে ব্যাটা ব্যাটা টাইপ বানায়তো আমি কি করবো বলো? এর ওপরতো আমার কোন হাত নেই না।
আজকালকার মানুষের ইগো এতো বেশি যে তারা কোন রসিকতাকে রসিকতা হিসেবে নিতে পারে না, সব ইগো ইস্যু হয়ে যায়।
তুমি ভাল আছ ফেসবুক মারফত জেনেছিলাম। ভালো থেকো।
শাপলা আপু চতু্রমাত্রিকে আপনার নারী নির্যাতন নিয়ে লেখাটা পড়লাম। অ- সা- ধা- র- ন।

মন্তব্য করুন