ফুল, মৌমাছি, মানুষ আর মাকড়সা
ফুল সৃষ্টিকর্তার অপরূপ দান । মানুষ এর সৌ্ন্দর্য উপভোগ করে, সুবাস নেয় । মৌ্মাছি মধু আহরণ করে ফুল থেকে আর মাকড়সা তূলে নেয় বিষ । যার যেমন অভিরুচি !
ব্লগার অনিমেষ রহমানের জিন্নাহ বিষয়ক জোকস্ [ অনিমেষ রহমানের বেহস্তী বয়ান - ২ ] এর উপর আমার মন্তব্যের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ করে ব্লগার ‘বিষাক্ত মানুষ’ ল্যাঞ্জা আবিষ্কার করেছেন । এ মহা আবিষ্কারের জন্য তিনি অনেক অনেক ধন্যবাদ পাওয়ার অধিকারী । আমার পক্ষ থেকে আমি জানিয়েছিও । তবে ১৮/০৬/১২ থেকে ২৫/০৬/১২ পর্যন্ত বাইরে থাকায় যথা সময়ে জানাতে পারিনি । ইতিমধ্যে পোষ্টটি অনেক পেছনে চলে গেছে বিধায় সংলিষ্টদের নজরে না পড়ার সম্ভাবনা । তাই এ ক্ষীণ প্রয়াস ।
আমার প্রথম মন্তব্যের উত্তরে অনিমেষ রহমান লিখেছিলেন যে তিনি আমার সব কিছু সহজভাবে নিয়েছেন এবং জিন্নাহর দ্বিজাতি তত্ত্বের প্রতি প্রচন্ড ঘৃণা বশতঃ পোষ্টটি রচনা করেছেন । এখানে ইতি হলে সম্ভবত কিছু হতনা । কিন্তু আমি অর্বাচীনের মতো ইতিহাস টেনে এনেছি । আমার জানা ছিলনা যে ইতিহাস, বিশেষ করে ‘৪৭ এর আগের ইতিহাস আলোচনায় আনলে কারো কারো পিত্ত চড়ে, চিত্ত চাঞ্চল্য বিপদ সীমা লঙ্ঘন করে, কলজেতে পোস্কা পড়ে এবং মুখ আর কলম থেকে বিষ ঝড়ে । অবশ্য ঢোঁরা সাপের বিষে আমার কোন এলার্জি নাই । বিষে বিষে নীলকণ্ঠ না হলেও 'আশীবিষে' বহুবার দংশেছে ।
সর্প প্রথম কাটে ’৭১ এ । কলেজে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে জড়িত ছিলাম । শ্রদ্ধ্যেয় মমতাজ স্যার [নাট্যকার মমতাজ উদ্দীন আহমেদ ] ও কলেজের তৎকালীন ভি পি প্রয়াত আবুল কাসেম স্বন্দীপ এর প্রেরণায় এক আধটু লিখতাম ও । এই ইমফরমেশন, ভারত প্রবেশের সাথে সাথে কিভাবে যেন পেয়ে গেছিলেন সাবরুম থানার তৎকালীন কর্মকর্তারা । দল থেকে আলাদা করে রাখা হল আমাকে । সারভাইব করার সমভাবনা খুব একটা ছিলনা । যুদ্ধের সময় অত বিচার বিশ্লেষণই বাই কে করে ! নিয়তির হাঁড়ি-কাঠে মাথা পেতে অপেক্ষা করছি বলি হবো বলে । অব্যর্থনা ক্যাম্পের প্রধান শ্রধ্যেয় ডাঃ মাহমুদুল হক [ সাবেক সেনা প্রধান মেজর জেনারেল হারুনুর রশিদের প্রয়াত পিতা ] এলেন বিকালে । ব্যক্তিগতভাবে তিনি আমাকে জানতেন । স্কুলে পড়ার সময় ওনাদের পাশের বাড়িতে লজিং থাকতাম । ওনার ব্যক্তিগত দায়িত্বে ছেড়ে দে’য়া হল । বেঁচে গেলাম, ট্রেনিং পেলাম এবং দেশে ইন করলাম ।
গাঁয়ে ফিরে আঁচ করতে দেরী হলোনা যে পরিবেশ বদলে গেছে ইতিমধ্যে । উঠতিরাই এখন নেতা আর মুরুব্বীরা সবাই চুপচাপ । গ্রামে অবস্থানকারী মুক্তিযোদ্ধাদের নামে অনৈতিক হারে চাঁদা তোলা হচ্ছিল যদিও তাদের খাবার-দাবার নিজ নিজ পরিবার থেকে সরবরাহ করা হচ্ছিল । বিরোধিতা করলাম এবং গ্রামবাসীকে চাঁদা দিতে নিষেধ করলাম । ছাই পড়ল কারো কারো পাতে । ছেঁটে ফেলার সিন্ধান্ত হোল গোপণে । তাও বেঁচে বর্তে রইলাম কেমন করে যেন ! ওই যে কথায় আছেনা ? রাখে আল্লাহ মারে কে ?
’৭৫ এর ১৫ আগস্টের পর আবার সংকট । নাগিনীদের উদ্ধত ফণা, বিষাক্ত নিঃশ্বাস চারিদিকে । আমাদের অবস্থা তখন না ঘরকা না ঘাটকা ধরণের । আওয়ামী দুঃশাসনে নতশির হইনি আবার জাসদের উগ্র হঠকারিতার গড্ডালিকা প্রবাহেও গা ভাসাইনি । শতভাগ সৎভাবে বাঁচার চেষ্টা করেছি, এখনো করে যাচ্ছি । এবং মনে হয় সৎভাবে বাঁচতে চাওয়াই সবচেয়ে বড় বিড়ম্বনা !
অনিমেষ রহমানের সাথে আমার আলোচনা দু’জনের সম্মতিক্রমে ইতি হয়েছিল । কিন্তু স্থিতিশীলতা কারো কারো সহ্য হয়না, খুঁটে খুঁটে ছিদ্র বের করা হয় । গাঁয়ে এক শ্রেণীর টন্নি জাতীয় লোক থাকে তাদের কাজ হল উস্কানী দিয়ে দু’পক্ষকে লাগিয়ে দে’য়া । পরে থানা-পুলিশ-মামলা । আর সে মামলা যুগ যুগ ধরে চলতেও থাকে । টন্নিকুল চিরকাল বেশ খোশ তবিয়তে বহাল থাকে !
এই ব্লগে প্রকাশিত আমার একটি গল্পকে [“শাশ্বত ছাব্বিশ” যেটি উত্তম পুরুষে লেখা, নায়কের বাড়ী পাকিরা জ্বালিয়ে দিয়েছিল এবং তার বন্ধু নিখোঁজ হয়েছিল।] ‘বিষাক্ত’ সাহেব নির্দ্বিধায় আমার আত্ম চরিত্ মনে আমাকে এক হাত নিয়েছেন । আমারতো হাসি পায় ! গল্প আর আত্ম-কথার পার্থক্য নির্ণয় করতে যিনি অপারগ, কারো বক্তব্যের বিশ্লেষণ করণে তাঁর যোগ্যতা কতটুক ?
আমি বিশ্বাস করি শালীনতার কোন বিকল্প নাই । সভ্যতা, ভব্যতা এবং সততার কোন বিকল্প নাই ।
সবাইকে ধন্যবাদ ।





একটু কারেকশন দিয়ে দেই- আমি আসলে সহজভাবে নেই নাই কিন্তু অবাক হইছি। আমি ওই পোষ্টেই লিখেছিলাম-
আর কেউ যদি জিন্না'র কিংবা ফাকিদের ইতিহাসের সাথে ৪৭ পুর্ববর্তী ইতিহাসকে কুনুভাবে ট্যাগ করতে চান-তার জাতীয়তা নিয়ে সন্দেহ করার অবকাশ আছে বৈ কি! কারন গুলো কি লিখে দিতে হবে? তারপরেও দুইটা কারন দিলামঃ
০১। মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সাধারন মানুষ আর অগনিত মা বোনের সম্ভ্রমহানি।
০২। আর বুদ্ধিজীবি হত্যাকান্ড ।
এই ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে কি ৪৭ পুর্ববর্তী সময়ে ঘটেছিলো? আর একটা কথা সভ্যতা-ভদ্রতা-ভব্যতা তো মানুষের জন্য। ফাকি কিংবা ফাকিপন্থিদের জন্য নহে।
@ প্রিয় অনিমেষ রহমান,
নিজের করা মন্তব্য কারেকশন [যা সম্পূর্ণ বিপরীত মীন করে ] করার অধিকার কেউ সংরক্ষণ করেন কিনা, দেখার দায়িত্ব ব্লগ সঞ্চালক টীমের, আমার না । এখানে আমার বলার কিছু নাই । ব্লগ সঞ্চালক টীমই ঠিক করবেন এখানে সততা লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা ।
আমার জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন । সে অধিকার বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকই সংরক্ষণ করেন । আমার বলার কথা এই যে যেখানে গু আজমের জাতীয়তা আজো বহাল আছে সেখানে নাহয় আপনি চেষ্টা করে দেখলেন আমারটা কেড়ে নেয়া যায় কিনা !
সভ্যতা, ভব্যতা, ভদ্রতা সম্বন্ধে আপনার সাথে আমি ৫০% একমত । আপনার কথিত অমানুষেরা শুধু ফাকিস্তানে নয়, পৃ্থিবীর সব দেশেই আছে ।
ধন্যবাদ !
নিজের করা মন্তব্য কারেকশন [যা সম্পূর্ণ বিপরীত মীন করে ] করার অধিকার কেউ সংরক্ষণ করেন কিনা, দেখার দায়িত্ব ব্লগ সঞ্চালক টীমের, আমার না । এখানে আমার বলার কিছু নাই । ব্লগ সঞ্চালক টীমই ঠিক করবেন এখানে সততা লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা ।
আমার জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন । সে অধিকার বাংলাদেশের যে কোন নাগরিকই সংরক্ষণ করেন । আমার বলার কথা এই যে যেখানে গু আজমের জাতীয়তা আজো বহাল আছে সেখানে নাহয় আপনি চেষ্টা করে দেখলেন আমারটা কেড়ে নেয়া যায় কিনা !
সভ্যতা, ভব্যতা, ভদ্রতা সম্বন্ধে আপনার সাথে আমি ৫০% একমত । আপনার কথিত অমানুষেরা শুধু ফাকিস্তানে নয়, পৃ্থিবীর সব দেশেই আছে ।
ধন্যবাদ !
লেখা কারেকশন করার তো কিছু নেই; আমি কি লিখেছিলাম তা এখোনো আছেঃ
কিছু বুঝলেন?
মজার বিষয় কি জানেন আপনি এখানে গোয়েবলসীয় ষ্টাইলটা নিয়ে আসলেন। আপনার সাথে ওই কনভারশেসন এখোনো আছে সেখানে আমি লিখেছিলামঃ
যে গু আজমের নাগরিকত্ব দিয়ে নিজেরটা জাষ্টিফাই করে-তাকে নিয়ে আর বেশী কিছু বলা সমীচিন নয়!!
ফাকিস্তানে কি পরিমান সভ্য মানুষের বাস তা ১৯৭১ এ দেখা গেছে-আপনি যদি দেখে থাকেন নিজ দায়িত্বে দেখতে পারেন।
কার ল্যাঞ্জা বেড় হইছে??
আর অনিমেষ রহমানের উপর এত রাগ কেন??
@ প্রিয় দেব মুখার্জি,
আপনি বরঞ্চ সিনিয়র ব্লগার 'রাসেল' ভাই এবং 'স্বপ্নের ফেরিওয়ালা' ভাই এর আলোচনা ভাল করে পড়ুন ।
কাদের সাহেব, আপনি নিজের সম্পর্কে লিখেছেনঃ
তাই আমি আপনার ব্যাপারে একটু কিউরিয়াস। সেই কিউরিসিটি থেকেই কিছু প্রশ্ন চলে এলোঃ
১) 'নগণ্য মুক্তিযোদ্ধা' শব্দটা ব্যভার করেছেন কেন?? মুক্তিযোদ্ধারা কখনো নগণ্য হন না।
২) মুক্তিযুদ্ধে কেন গিয়েছিলেন?? আর এই যুদ্ধে জয় পেলে দেশ বা নিজের কী কী পরিবর্তন আসবে বলে ভেবেছিলেন??
৩) আপনি কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন?? সেই সেক্টরে কোথায় কোথায় যুদ্ধ করেছেন??
৪) আপনার গ্রুপের কমান্ডারের নাম কী??
আপাতত এতটুকুতেই চলবে।
@ প্রিয় দেব মুখার্জি,
আপনার প্রশ্নগুলোর আপাততঃ মেমোরিতে রেখে দেয়া হলো । শুধু একটি প্রশ্ন করবো । অনিমেষ রহমানের প্রতি আমার 'অত' রাগ আমার কোন লেখায়/মনত্ব্যে আবিষ্কার করলেন ভাই ? প্রেমের গল্পের লেখক হিসাবে রাগ, অনুরাগ, বিরাগ, রাগ মোচন শব্দ গুলোর ব্যাপারে আপনারতো সম্যক জ্ঞান থাকার কথা । কারো মতের সাথে দ্বিমত পোষণ করার নাম কি রাগ ? জানিনা তো !
আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য ধন্যবাদ !
আমরাবন্ধু'র নীতিমালা থেকেঃ
এ টি এম কাদের সাহেব, আপনার মুক্তিযুদ্ধের কিছু অভিজ্ঞতা বলুন।
@ মিশু সাহেব,
আমি মূলতঃ পাঠক, লেখক নই । যদি ও এক আধটু লেখার চেষ্টা করি । টাইপিং এ একেবারে আনারি । ব্যস্ত থাকি - লেখার জন্য সময় বের করাও মুস্কিল !
এই ব্লগে আমার কিছু লেখা লেখা প্রকাশিত হয়েছে আগে । আপনার যদি সময় হয় ওখানে ঢুঁ মারতে পারেন ।
আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য ধন্যবাদ !
পোস্ট দিয়ে ভালোই করলেন। নিজেকে চেনালেন ভালোভাবেই।
@ জ্যোতি,
এই বোকা লোকটির প্রতি সহানুভুতি প্রকাশের জন্য কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ !
এ টি এম কাদেরের প্রথম মন্তব্যটা পড়লাম, সেখানে লেখা ছিলো
সেটার পরের ধাপে এ টি এম কাদেরের মন্তব্য অবশ্য পাকিস্তান আন্দোলনে জড়িয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের উপলব্ধিজাত বক্তব্যের মতো, যারা বিশ্বাস করতো পাকিস্তানের দাবি পূর্ব বাংলার মুসলমানদের মুক্তির সনদ। দাদুর জবানীতে বলা বক্তব্যটি যথেষ্ট সাম্প্রদায়িক উপাদান বহন করে কিন্তু ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত পূর্ব বাংলার মুসলিম সমাজে এক ধরণের গণ সম্মোহন কাজ করেছে, এই ১০ বছরের ঐতিহাসিক ঘটনাক্রম, গণবিভ্রান্তির একটা অংশ জিন্নাহ'র স্টেটস শব্দ থেকে স্টেট শব্দে পরিণত করার অপরাধ।
বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে মনে হয় না জিন্নাহ সাহেবের পূর্ব বাংলার মুসলমানদের প্রতি আলাদা কোনো মমত্ববোধ ছিলো, তার সামনে সুহওয়ার্দি, আবুল হাশিম শরৎ বসুর অবিভক্ত বাংলার প্রস্তাবও গ্রহনযোগ্য ছিলো, মুসলমানদের পর্যাপ্ত কোটা এবং ইউনিয়ন ভিত্তিক অবিভক্ত ভারতের দাবীতেও জিন্নাহর অসম্মতি ছিলো না। উপমহাদেশে তাহলে অসংখ্য জাতিসত্ত্বাভিত্তিক ইউনিট তৈরি হতো এবং সেসব ইউনিট নিজেদেরস্বাধীন সিদ্ধান্তে ইউনিয়নভুক্ত হওয়া এবং না হওয়ার অধিকার সংরক্ষণ করতো-
পরবর্তীতে কংগ্রেসের গোড়ামিতে সেটা সম্ভব হয় নি, অবিভক্ত বাংলার দাবীও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয় নি, জিন্নাহর একক রাষ্ট্র গঠনের প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশী মাতামাতি করেছে পূর্ব বাংলার বুদ্ধিজীবী মুসলমানদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশই- আব্দুল ওদুদ এই সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব চান নি বলে কোলকাতায় স্থিতু হয়েছেন, বলেছেন পাকিস্তান রাষ্ট্রে ভাঙন সময়ের ব্যপার মাত্র।
সেখান থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের পর্যায়গুলোতে সব সময়ই স্বাধীকারের দাবীটা গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করেছে
পৃথক মুদ্রা, ফেডারেল শাসনব্যবস্থার দাবি ১৯৫৪ সালের নির্বাচনেও উত্থাপিত হয়েছিলো, এমন কি ১৯৬২ সালেও ফেডারেল শাসন ব্যবস্থার দাবি উত্থাপিত হয়েছে, ১৯৬৩/৬৪/৬৫ তেও এই সব দাবি দাওয়া উত্থাপিত হয়েছে। শেখ মুজিব ৬ দফা ঘোষণা দেওয়ার আগেও ৭ দফা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যেখানে ৬ দফা দাবীর প্রতিটি দাবিই অন্তর্ভুক্ত ছিলো।
সেসব ডাবির ভিত্তিতে ৭০ এ নির্বাচন হয়েছে, পূর্ব বাংলার মানুষ আও্য়ামী লীগকে নির্বাচিত করেছে- রাজনৈতিক সমঝোতায় আওয়ামী লীগ সংবিধান প্রণয়ন করতে পারলে- হয়তো এই যুদ্ধের সম্ভবনাই ছিলো না, সংবিধান প্রণয়নের কাজটা আওয়ামী লীগ গুছিয়েও এনেছিলো, ১২০ দিনের বাধ্যবাধকতায় তারা জানুয়ারীর তৃতীয় সপ্তাহ থেকেই সংবিধান নিয়ে আলোচনা করেছে- তারপরও একটা ভয়ংকর গণহত্যা ঘটেছে
সে গণহত্যা বাংলাদেশের জনসাধারণকে যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে বাধ্য করেছে,
স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়টাতেও এক ধরণের রাজনৈতিক বিবেচনা সব সময়ই ক্রিয়াশীল ছিলো, তাজউদ্দীনকে কিঞ্চিৎ বামঘেষা সন্দেহ করে আওয়ামী লীগ নেতাদের একাংশ সক্রিয় বিরোধিতা করেছে তাজ উদ্দীনের, তারা কাউন্সিল করে তাজউদ্দীনের পদত্যাগ দাবি করেছে, তাজউদ্দিন তাদের প্রভাবিত করতে পেরেছিলেন বলে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন সময়ে তেমন বাজে অন্ত:কলহ প্রকাশিত হয় নি।
কম্যুনিস্ট পার্টির প্রতি কিংবা বামপন্থীদের প্রতি এক ধরণের ঘোরতর সন্দেহ সব সময়ই আওয়ামী লীগের কর্মীদের চেতনায় ছিলো, সেটার জন্য ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের এবং অন্যান্য বাম ঘেঁষা রাজনৈতিক কর্মীদের আলাদা করে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধ করতে হয়েছে- সাম্যবাদী চেতনা বিকশিত হচ্ছে এমন সন্দেহে মুজিব বাহিনী গঠন করা হয়েছে-
এসবই ঐতিহাসিক বাস্তবতা- এসবের ভিত্তিতেই সব কিছু পর্যালোচনা করতে হবে- যদি কম্যুনিস্টদের বিষয়ে সংশয় সন্দেহ বিবেচনা করা হয় এবং যেকোনো মূল্যেই সাম্যবাদীদের নিয়ন্ত্রন প্রয়োজনে হত্যা করতে হবে ধ্যান ধারণার কথা বিবেচনা করা হয় তাহলে জামায়াতে ইসলামী কিংবা আল বদরদের বুদ্ধিজীবী হত্যার প্রেক্ষাপটে যে সাম্যবাদী ঘৃণা সেই একি সাম্যবাদী ঘৃণা মুজিব বাহিনীর সদস্যদের ভেতরেও ছিলো।
গণবাহিনীর সদস্যরা পরবর্তীতে কেউ কেউ জাসদে যোগ দিয়েছে কিন্তু মুজিব বাহিনীর সদস্যদের কেউ জাসদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এমনটা আমার জানা নেই।[ আমার জানা শোনার গন্ডী সীমিত, এ বিষয়ে অনেক বিশেষজ্ঞ আছে যারা বিষয়টা নিয়ে নিশ্চিত বলতে পারবে]
মুক্তিযোদ্ধা বিশেষত সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের ভেতরে এক ধরণের হতাশাবোধ ছিলো, সে হতাশাবোধ দেশ গঠনের কাজে নিজেকে নিয়োজিত করতে না পারার ব্যর্থতা, কিছুটা স্বপ্ন ভঙ্গের বেদনাজাত- দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাদের ভেতরে একধরণের হতাশা কাজ করেছে- যারা সে সময়ের মানুষ তাদের কাছে হতাশার কার্যকরণ হয়তো আছে,
৭৫ পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলীও এক ধরণের প্রেষণা হিসেবে কাজ করেছে- সেসবের বাইরে আলোচনা যাচ্ছে না- সেটা নিয়ে আলোচনা করাও প্রাসঙ্গিক নয়।
এটিএম কাদের পাকিস্তানীদের প্রতি আলাদা সহানুভুতি ধারণ করেন কিংবা পাকিস্তান আদর্শের প্রতি তারা আলাদা প্রীতি আছে কি না সেটা এটিএম কাদেরই ভালো বলতে পারবেন-
তবে আমার ধারনা যেকোনো ক্ষেত্রেই জামায়াতে ইসলামীর সাথে কৌশলগত মিত্রতার ধারণায় এটিএম কাদের অবস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক এ ক্ষেত্রে- ৫ রাজাকারের নাম বলে ল্যাঞ্জা প্রকাশ করা কিংবা লুকানোর খেলার চেয়ে গুরুত্বপূর্ন বিবেচনা ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ক্ষেত্রের ব্যক্তির অবস্থান।
একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুল হয়ে গেছে- জাসদ গঠিত হয়েছিলো আওয়ামী লীগের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে, পরবর্তীতে জাসদের নেতাদের তালিকায় যাদের নাম দেখা যাচ্ছে এদের অনেকেই ছাত্র ইউনিয়ন ঘুরে জাসদ হন নি, তারা ছাত্র লীগ থেকে জাসদ হয়েছেন।
তারা মুজিব বাহিনীর হয়ে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় জানতেন তাদের বাংলাদেশে সাম্যবাদের বিকাশ ঠেকাতে হবে- ভ্রান্ত বিপ্লব করে তারা চিরতরেই বাংলাদেশে সাম্যবাদের বিকাশ রুখতে পেরেছেন, পরবর্তীতে বাংলাদেশে সাম্যবাদী চেতনার বিকাশ দুরহ হয়ে গিয়েছে।
মুজিব বাহিনীর সদস্যদের বামপন্থার প্রতি অনীহা বিষয়ে নিশ্চিত ছিলাম বলে ততটা সচেতন ভাবে মন্তব্য করা হয় নি।
@ রাসেল ভাই,
অনেক অনেক ধন্যবাদ আর ব্যক্তিগত কৃ্তজ্ঞতা আলোচনায় অংশ নেয়ার জন্য । দাদুর জবানিতে যা বলেছি, জানি এবং বিশ্বাস করি তাতে সাম্প্রদায়িক উপাদান আছে । কিন্ত এই উপাদান যে ইতিহাস ভিত্তিক তাও মনে করি । এ গুলোকে স্বীকার না করার বিজ্ঞতা এখনো আমার মাঝে উদ্গম হয়নি । এটা আমার ব্যর্থতা হয়তো ।
শ্রদ্ধ্যেয় অদ্যাপক আব্দুর রজ্জাক এবং আহমদ ছফার কথোপকথনের ঊদ্ধৃতি দিয়ে ' স্বপ্নের ফেরিয়ালা ' আমার ব্যর্থতার সে গ্লানি মোচে দিয়েছেন ।
পরিশেষে নির্দিদ্ধায় আপনার সাথে সহমত পোষণ করছি। পাকি-প্রীতি আমার আছে কিনা তাও একদিন প্রমাণিত হবে আশা করি । জামাতের যে খুন-পিয়াসা, আওয়ামী লীগের একাংশের মাঝেও তা ছিল এবং জাসদের হটকারিতা চিরতরে সাম্যবাদের ধ্বস নামিয়ে দিয়েছে , এসব কথা খুব সহজভাবে বলে দিয়েছেন । আমি ভয় পাচ্ছি আপনার জন্য । এখন তো গুম-খুনের আধিপাত্য । এবং ট্রটস্কির হত্যাকারীরা রা'শান ছিল ।
ভাল থাকুন ।
প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক কে নিয়ে আহমদ সফার "যদ্যপি আমার গুরু" থেকে দুই পাতা নিচে তুলে দিলাম। হয়তো এটা '৪৭ কে বুঝতে সাহায্য করবে...
~

@ স্বপ্নের ফেরিওয়ালা,
ভাই, আপনি নিজে কিছু বলেননি, কিন্তু "যদ্যাপি আমার গুরু"র দুপাতা ঊদ্ধৃতি দিয়ে অনেকের না বলা কথা বলে দিয়েছেন । স্যালুট ভাই ! বোকাদের সংরক্ষণে গড নিজেই দূত পাঠান এ বিশ্বাস আরো দৃঢতর হল !
ধন্যবাদ !
@ প্রিয় অনিমেষ রহমান,
" এ বি " র নীতিমালা থেকে ঊদ্ধৃতি দিয়েছেন । আপনার অবশ্যই জানা থাকার কথা নীতিমালার বাইরে গিয়ে কেউ নিবন্ধিত থাকতে পারেন না । আমিও নই । যেহেতু এখন পর্যন্ত আমার কোন পোষ্ট ব্লগ থেকে সড়িয়ে দেয়া হয়নি সেহেতু ধরে নে'য়া যায় যে আমার দ্বারা নীতিমালা এ পর্যন্ত লঙ্ঘিত হয়নি । তারপরও যদি আপনার ব্যক্তিগত কোন অভিযোগ থেকে থাকে আপনি ব্লগ সঞ্চালক টীমের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেন । তাঁরাই বিষয়টি দেখার একমাত্র কতৃপক্ষ ।
আপনার প্রথম মন্তব্যের উত্তরে দে'য়া আমার উত্তরটি ভুলক্রমে দ্বিত্ব হয়ে গেছে । আশা করি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন ।
ধন্যবাদ !
এ ব্যাপারে মন্তব্য করলামনা।
আপনার সাহস আছে বটে!
মুক্তিযোদ্ধারা কি পেয়েছেন দেশ থেকে। তারা অভিমান থেকে কিছু বললেও সেটার বলাতকার পীড়াদায়ক
মন্তব্য করুন