আমার ঈদ
ঈদ উপলক্ষ্যে ছুটি পেলাম মোট ১১ দিন।৭ তারিখ থেকে ১৭ তারিখ পর্যন্ত। ৭ তারিখের জন্য অপেক্ষা করছিলাম সারা রোজার মাসের প্রতিদিন। সবকিছু মিলিয়ে কেমন দমবন্ধ লাগছিলো অনেকদিন ধরেই। ৬ তারিখ রাতে ঘুমালাম না তেমন।অনেকদিন ধরেই নির্ঘুম রাত কাটছিলো, যার চিহ্ন কিশোরী বয়সের মত হাজার হাজার ব্রণের উৎপাত। ৭ তারিখ সকালেই ছোট একটা ব্যাগ গুছিয়ে বের হলাম বাসা থেকে। বাড়ী যাবো ভাবতেই খুব ভালো লাগছিলো, আমার শান্তির জায়গা। দুপুরে বাড়িতে পৌঁছেই ঘুম দিলাম, উঠলাম সন্ধ্যায় ঝুম বৃষ্টির শব্দে। বারান্দার সিঁড়িতে বসে ভিজলাম মন ভরে।আহ! কি সুখ!বৃষ্টির এই মাদকতায় ডুবে যাই না সেই কবে থেকে তাও মনে নেই।পরদিন থেকেই শুরু হলো বেড়ানো , দাওয়াত খাওয়া , বিশেষ করে নানুর বাড়িতে।
ছোটবেলায় ঈদের দিন দুপুরে আমরা সবাই চলে আসতাম নানুর বাড়ীতে।মামাতে ভাই বোনদের সাথে ঘুরতাম, বেড়াতাম।বিকালে বাবা-মা চলে যেতো বাড়ীতে ।আমি নানাকে ধরে দাঁড়িয়ে থাকতাম যাতে মা জোর করে নিয়ে যেতে না পারে আমাকে। মা চলে যাওয়ার সময় নানু এগিয়ে দিতো আর যতক্ষণ মা কে দেখা যায় দাঁড়িয়ে থাকতো আর কাঁদতো। তখন ভাবতাম যে, হয়ত কালই আবার দেখা হবে তাহলে নানু কাঁদে কেনো?আর এখন প্রতি ঈদে সকালে দেখি আমার মা কাঁদে নানা-নানুর জন্য।
অনেকদিন পর লম্বা সময় কাটালাম নানুর বাড়ীতে। যে বাড়িটাতে ছোটবেলার বেশরিভাগ সময় কাটতো সে বাড়িতে এখন আর কেউ থাকে না। এবার মামাতো বোনরা রইলো কিছুদিন।রাতজেগে তুমুল আড্ডা, গল্প,অকারণ হাসির জোয়ার, নদীর পাড়ে ঘুরে বেড়ানো, সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর পাড়ে বসে আড্ডা। আহা ক-ত-দি-ন পর ঈদের, শৈশবের আনন্দ-উচ্ছাস ফিরে পেলাম আমরা। বিকালে যদি আমাদের বাড়ী আসতাম, রাতেই ওরা দল বেঁধে আসতো আমার মা কে দেখবে বলে, অথবা ওদের মেয়েরা খেলতে আসতে চাচ্ছিলো এই বলে।তারপরদিনই আবার চা থাওয়ার জন্য আমাকে নিতে এসে আর বাড়ী ফিরতে দেয় না। এভাবে ১০ দিন কেটে গেলো। চলে আসার আগেরদিন যখন বিকালে বাড়ীতে আসব মামাতো বোন শিলা বলছিলো , "সবাই চলে যাবে , বুকের ভেতর খালি লাগছেরে।"চোখ ভিজে যাচ্ছিলো। রিক্সায় উঠে পিছন ফিরে দেখলাম ওরা দাঁড়িয়ে আছে।মনে পড়ছিলো ছোটবেলার কথা।নানা-নানু এমন করে দাঁড়িয়ে থাকতো। মনে মনে ভাবলাম, কেন বড় হয়ে যাই? বড় হতে হতে সুন্দর ক-ত কি যে হারিয়ে ফেলছি!আর কিছু হারাতে ইচ্ছে করে না। যা কিছু আছে প্রবলভাবে বুকে আগলে রেখে জীবনটা পার করতে সুষ্টিকর্তার কাছে হাতজোর করে চাওয়া।





নদীটার কয়টা ফটুক তুইলা আনতা...
তুমি নাই... ঢাকা পুরা ফাকা
... আড্ডাবাজী বন 
নদীর ফটুক কেমনে তুলতাম?দুই ভাগ্নীর যন্ত্রণায় সব ভুলে গেছিরে। ছবি তুললে ওদরে টা তুলতে হয়।নাইলে তো তুলকালাম করে ফেলবে, চামে মাথার চুলও ছিড়বে। ওদের ছবি তুলছি কয়েকটা।
ঢাকায় আসলাম আর লোকজন বলে ভিড় বাড়াইলাম। মনে কষ্ট পাইছি ব্যাপক।:(
বললা, নদীর ছবি তুলে আনবা... কই?...
হ! তুমিহীনা ঢাকা, পুরা ফাঁকা ফাঁকা!!...দেখা হয় না কারো লগে, সব্বাই চলে ভাগে ভাগে
ঘুমাইয়া কাটাইলাম
- ঢাকায় আসলাম আর লোকজন বলে ভিড় বাড়াইলাম। মনে কষ্ট পাইছি ব্যাপক।
; মনে কস্ট নিবেন না। ওরা দুস্ট লোক!
আপনি মাসুম ভাইরে দুষ্টু বললেন নাকি?
সরি, এ দুষ্ট সে দুষ্ট নয়! আদর করে আমরা আদরের মানুষকে মিষ্টি করে 'দুষ্ট' বলি। এ দুষ্ট সে দুষ্ট!
(সরি আমি জানতাম না যে এটা মাসুম ভাই আপনাকে বলেছেন, সরি এগেইন)
আরে আরে! সরি কেন? মাসুম ভাইরে আপনি মিষ্টি করে দুষ্টু বলছেন তাই তো মিন করে বললাম।
তোম্গো নদীওয়ালা গেরাম? আহা, আমার একটা থাকলে খুব ভালো হৈতো, নদীওয়ালা আস্তা একটা গেরাম। একটা পিচকি নৌকাও কিন্না নিতাম---
ওয়েলকাম ভ্যাক, আবার একটা আড্ডা হবে--
ও, তুমি বড় হৈয়া গেছো?
বিলাই কেমুন আছ? ক-ত-দি-ন পরে দেখলাম!আমিও জিগাই আবার কবে আড্ডা হপে?জানাইও।
আমগো নদীওলা গেরাম না তো। আমার নানুর বাড়ীর সামনে নদী।বর্ষায় নদী পানিতে টইটুম্বুর থাকে। ছোটবেলায় আমার মামাত ভাই বোনরা সাঁতরে নদীর ওপার যেতো, আমি বসে থাকতাম। সাঁতার শিখতে পারিনি ভয়ে।
গ্রামে হইলো শরীরের ফুয়েল ! এইবার কিছুদিন আবার নাগরিক জীবনে ছুটতে থাকেন !
ঈদ মোবারক।যান্ত্রিক শহরে যান্ত্রিক জীবনযাপন শুরু হয়ে গেছে।
বইনটির ঈদ তো মাশাল্লাহ ভালোই কাটছে। এইবার ধুমাইয়া ব্লগিং করেনদি
আপনার ঈদ কেমন কাটলো?ব্লগিং তো করতেই চাই। আপনাদের তো দেখি না। থাকেন কই?
আহা কতযুগ গ্রামে গিয়ে থাকা হয়নি! সময় চলে যাচ্ছে দ্রুত। একদিন নিশ্চয়ই যাবো.........
আপনার ঈদটাই সবচেয়ে ভাল কাটছে মনে হচ্ছে। ভালো থাকেন।
তোমার ঈদ তো খুব ভালো কাটছে।
তুমার ঈদ ভালো কাটে নাই? গাছের পাতা নড়েচড়ে কারো কথা মনে পড়ে?
হ। বৌয়ের কথা মনে পড়ে।
সেই বৌ? দূর!নতুন কিছু বলো বন্ধু।
ঈদ মোবারক জয়িবু
ঈদ মোবারক ভাইয়া। ক-ত-দি-ন পর দেখলাম!
আপনার ঈদ পড়ে আমারও লিখতে ইচ্ছা করছে। বাড়িতে আচার খাননি?
লিখেন। কি খাইনি?ভয়ে ওয়েট মাপি না।
আমাদের ঈদে দাওয়াত দিলা না। আফসুস।
সবার কাছে অভিযোগ শুনি ঈদ এতো বোর আজকাল। যাক একজনের কাছ থেকে অন্তত একটা আনন্দময় ঈদের সংবাদতো শুনলাম।
ভালো থেকো জয়িতা।
সারাজীবন যেন এমন আনন্দে ঈদ কাটাতে পারো। যেখানেই থাকো, দেশে বা বিদেশে...
কথা ঠিক। আর যেন কিছু না হারায় সেই শুভকামনা রইলো।
মাসুম ভাই, দাওয়াত দেই নাই? আপনারা শহরের মানুষ , গ্রামে যেতে চান না যে!
তাতাপু, নুশেরাপু, রাসেল......ধইন্যা সবাইকে।
এই পোস্টটায় আমার মন্তব্য কৈ গেল?? আজব!!
মন্তব্য না করলে আসপে কেম্নে? আজব কথা!এখন আসছে তো।
আপনার পোস্টে মন্তব্য করি নাই এমন নিশ্চই হয় নাই। ভাবতেসি মন্তব্যটা মুছলেন কেমনে। এই গুপ্তবিদ্যা কৈ পাইলেন!
:\ ধইন্যা। আমি যে কি ছাতা-মাথা লেখি!কিন্তু ব্লগ ভালোবাসি। এই ব্লগ থেকে অসাধারণ কিছু বন্ধুকে পেয়েছি, অসাধারণ সময় কেটেছে।
শীগগীর কমেন্ট ফিরত আনেন।
শুনেন, খাওয়া, আড্ডা, হিহি করে হাসা আর ফ্যাঁচফ্যাঁচ করে কান্দা ছাড়া আর কুনু বিদ্যা জানা নাই আমার। আর আপনি কি কমেন্ট করছিলেন যে মুছে দিবো!
১১ দিন!
(
আমি পাইছি ৩ দিন। হাউ ফানি
কেমন আছ তাই বলো। মেয়ে কেমন আছে? মেয়ের ছবি দাও ব্লগে। মামনিকে দেখি।
মন্তব্য করুন