বন্ধু বেঈমান
২০১০ সালের শেষ সপ্তাহে মেসবাহ ভাই গেলেন সেন্টমার্ন্টিন , সাথে নিলেন রাম রাম রাম। টুটুল-নাজ-ঋহান গেলো সিলেট। আমি গেলাম বান্দরবান।লীনাপা একদিনের জন্য তসলিমা নাসরিনের বাড়ি বেড়াতে গেলেন, মাসুম ভাই ইলেকশন নিয়ে মহা ব্যস্ত।মেসেন্জারে কনফারেন্স নাই, ফেসবুকে খোঁচাখুঁচি নাই, ঢাকায় আড্ডা নাই। একজনের মেজাজ বিলা হয়ে গেলো।কারণ অফিসে সারাদিন কি করবেন?এভাবে কি কাজ করা যায়? বান্দরবান থেকে আসার পথে ফেসবুকে গিয়ে দেখলাম আমাদের সেই প্রিয় বন্ধু লিখেছেন...'কাল মানকিগঞ্জ যাবো
।' দেখার সাথে সাথে আমি এসএমএস করলাম যে কাল যাওয়ার প্রোগ্রাম বাতিল করেন,আগামী সপ্তাহে যান, সাথে যাবো।তিনি নিশ্চুপ। ভাবলাম এস এম এস দেখেন নাই অথবা ভাবে আছেন। পরদিন রাতে জিজ্ঞেস করলাম, মানিকগঞ্জ গেছেন কিনা। তিনি নিশ্চুপ। বুঝলাম বিরাট ভাবে আছেন।তবে আমাদের ফেলে ঘুরতে যাওয়ার মতো নিশ্ঠুর হবেন এটা কল্পনাও করিনি।
হঠাৎ গত বুধবার মাসুম ভাই বলছিলেন যে , পূর্বাচলে উনার একটা প্লট আছে, সেটা উনি দেখতে যাবেন। সাথে সাথে আমরা বললাম , আমাদের নিয়ে যেতে।অমায়িক মাসুম ভাই, নিষেধ করলেন না। নিয়ে গেলেন আমাদের।শুক্রবার গেলাম দলবেঁধে, যাওয়ার পথে আমাদের সেই বন্ধু একটু পরপর বিনা কারণেই নিরীহ মেসভাহ ভাই কে ঝাড়ি দিচ্ছেন।কিন্তু যখনই আমরা মানিকগঞ্জ যাওয়ার বিষয়ে কথা তুলি তখনই তিনি চুপ। উনার মুখে রা নেই। পূর্বাচলে ঘোরাঘুরি, খাওয়া দাওয়া, ফটোসেশন, বিমা- ভাস্করদার গলায় রকিং গান শোনা, রেডিসনের পেছনে(!) মাসুম ভাই,লীনাপার পুলিশের প্লট আবিস্কার করে দারুণ এক দিন কাটিয়ে ঢাকায় ফিরলাম আমরা।শনিবার রায়হান ভাই, জেবীন পূর্বাচলে উনাদের তোলা ছবিগুলা ফেসবুকে দিলেন। আমরা মনের আনন্দে কমেন্ট করি। হঠাৎ দেখি ছয় ফুট লম্বা একজন অনেক ছবি দিলেন ...শিরোনাম ছিলো '২০১০ এর লাস্ট ট্যুর'। দারুণ সব ছবি। সরিষা ফুল দেখে মাথা খারাপ হওয়ার অবস্থা। হঠাৎ সেখানে দেখি ক্যাপ পড়া আমাদের সেই বন্ধু(!), যাকে বলেছিলাম আমরা সবাই মিলে যাবো মানিকগঞ্জ। তাঁরে আমি জিজ্ঞেস করলাম 'আপনি সেদিন গিয়েছিলেন'? তিনি আমাকে বলেন 'মদন এটা একবছর আগের ছবি।লম্বায় এতদিন পরে দিলো।'আমার তবু সন্দেহ যায় না। গতকাল তিনি নিজেও কয়েকটা অদ্ভুত সুন্দর ছবি আপলোড করলেন। নিশ্চিত হলাম যে, বন্ধু বেঈমানি করেছে।কিন্তু তিনি স্বীকার করেন না, তিনি দোষ দেন আরেকজনকে যে তাঁকে ফুসলিয়ে নিয়ে গেছে।আর সেই ছয় ফুট লম্বা ক্যামেরাম্যান দোষ চাপায় ক্যামেরার আড়ালে থাকা এই লুকের উপড়।

বন্ধু বেঈমান
তিনি বলেন ছয় ফুটের মাথায় বাড়ি দেও।তারে ঘটনাটা চেপে থাকতে বললাম আর সে পেটব্যাথায় অস্থির হয়ে ফাঁস করে দিলো।

মাথায় ক্যাপ দেয়া গাছটা হলো ষড়যন্ত্রের মূল
আর আমি ঘুরেফিরে কাল থেকে এই ছবিগুলাই দেখছি, মুগ্ধ হচ্ছি, রাগে বিক্ষিপ্ত মন ভাবছে বন্ধু কেনো বেঈমান?

ছবি কৃতজ্ঞতা: মাসুম ভাই, রায়হান ভাই





এরম কাজ ক্যামনে করলো ছোট হুজুর?
দিক্কার জানাই
কারে?লুকটা আপনি নাকি?ছবির সাথে ব্যাপক মিল।
এমন শর্ষে ফুল আর দেখি নাই, এত সুন্দর! পূর্বাচল তো এর কাছে কিছুই না
এই শরিষা ফুলের সমুদ্র দেখতে না পেলে জীবন বৃথা হবে। রাতে ঘুমেও আমি এই ছবির কথা ভাবছি।
আজকে শর্ষেফুল দেখেন্নাই?
বাপরে, চোখের জন্ডিস হয়ে গেল! জয়ির বন্ধু দেখি বিয়াপক ড্যাশিং
বন্ধু বেঈমান।তারে শাস্তি দেয়ার উপায় খুঁজি।
ম্যাডামের মাথা দেখি আজকেও গরম।।
বুড়িগঙ্গায় একটা ডুব দিয়ে আসেন গো।।
আর এদিকে পাবনায় বুকিং দিতাছি।

গেলি নাকি পুলিশ ডাকুম!
ডাকেন পুলিশ।রাস্তায় রাস্তায় ঘুরা বাদ দিয়ে পুলিশের সাথে ভবঘুরে নিবাসে যাইতে পারবেন।

পুলিশ আমি ভুই পাই। পুলিশের সাথে যামু না। আপনেরে ক্রস ফাযারে দিমু। আমার দুলাভাই পুলিশ।
এই না শুনছিলাম উনি ল্যাব।
আর আপনের দুলাভাই আমার কি হয়??
ঐ ডর দেখাইয়া লাভ নাই।আর দুলাভাই নিজেও চাইবো তার শ্যালিকার সু-চিকিৎসা হোক।

দাঁড়ান পুলিশের বউরে ডাকি। আপনি আজকাল সবাইরে পাগল বলেন। দেশে আসার চিন্তায়(আর কিছু না বলি) মন উচাটন আমরা বুঝি।
আজিব!!আমি আপনারে বাদে আর কারে পাগল বললাম??????
ঠিক আছে এখন থেকে ল্যাংড়াকে আর খোড়াঁ বলিবো না।

আমার পোষ্টে ব্যান করলাম আপনেরে (কেমনে জানি করে?নূরায় করতো সবাইরে।)
গেলাম গা।ও যাওয়ার আগে বইলা যাই আগামী ২৮ তারিখ আমরা মানিকগঞ্জ যাইতেছি সরিষার সমুদ্র দেখতে।আপনে আবার পিছে পিছে আইসেন না।আমি আবার পাগল দেইখা ভয় পাই।

আপনি আমাদের সাথে যাবেন? কি আর করা! গেলে তো মানা করা যায় না।
জয়িতা নামের মেয়েটি এত সুন্দর করে গল্প বলতে পারে, অথচ পোস্ট দেয় এত কম ! ভাল লেগেছে, এমন গল্প বারবার পড়া যায় ।
ধন্যবাদ হুদা ভাই। আসলে আমার গল্প শুনতে শুনতে লোকজনের কান ঝালাপালা।এজন্য বন্ধু বেঈমান হয়।
ঈমানদার বন্ধু তো নেই-ই, এমন একজন বেঈমান বন্ধুও নাই আমার ! হায়রে কপাল !
সিনেমা বানায় ফেলেন, "বন্ধু কেন বেঈমান"
কাহিণী তো আরো আছে। সিনেমা বানানো যাবে।
আমার গুরু'র ছবি! আসাধারন।
আমার অনেক টেকা হৈলে একটা বাংলা সিনামা বানামু
নাম : রসিয়া বন্ধু বেঈমান
নায়ক : রুবেল (যেই কোনো রুবেল হৈতারে, কুংফু রুবেল, এসডি রুবেল, পরবাসী রুবেল...)
হ মডেল কণ্যার লগে ছবি তুইলা আপনের এখন অনেক খায়েসই জন্মাইবো।
মডেল গার্ল এর সাথে মেসবাহ ভাই এর ছবিটা কি দিমু?
আমিতো নায়িকা লৈয়া কোনো কতা কৈ নাই...
খালী নায়ক হৈবো রুবেল, এইডা ফাইনাল
নায়িকা যে কেউ হৈতারে... আই ডোন্ট মাইন্ড
জয়িতা, ছবিটা দিলে দাদাভাইর ইজ্জততো লুট গ্যায়া
গায়ক বিমা আর ভাস্করদা, পরিচালক মাসুম ভাই
আর নায়িকা মডেল আপা 
মেজবাহ ভাই, নায়ক আপ্নে এইটা ফাইনাল
লীনাপা, দাদাভাই এর ফটুকটা জোশ আসছে পোষ্টার এর সাথে।
আগে বলেন আপনার ছবিটা এখানে কি দিবো?
মডেল গার্ল এন্ড দাদাভাইর? দাদাভাই অনুমতি দিক।
আমরার দাদাভাই রাম রাম রাম এর ফটুকও দিতাছে না।
নায়ক কি মুখ ফুটে বলবে ছবি দাও??
দিয়ে বলতে হবে দাদাভাই ছবি দিলাম।

জ্বি বলতে হবে। আমাদের দাদাভাই পারমিশান না দিলে ফটুক দিবো কেমনে?তাও মডেল গার্ল এর সাথে তোলা।
বুঝতেছেন না মৌনতায় সম্মতির লক্ষন।

রাম রাম এর ছবি দেখলে নাকী আমরা মাথা ঘুরে পড়ে যাবো, বাপরে শুইনাই ডরাইছি।
ছবি আছে আমার কাছে
খুক খুক। ছবি কিন্তু আপনেরও আছে। দুইটাই দিমু?
ছবির অর্ধেক কাইটা দিমু?
খাইছে
মাসুম্ভাই@ লীনা'পার ও সেইরকম ছবি আছে নাকি!!!!... দেখতে চাই!! চাই! চাই!!...
দিমু?
কস্কি মমিন
সিনেমা আসিতেছে। চোখ রাখুন।
হ্যাঁ ভাইইইইইইইইইইইইইইইইই
আসিতেছে রুপালী পর্দায় দাদা ভাই পরিচালিত বন্ধু বেঈমাননন্নন্নন্নন্নন্নন্নন্নন।

হেই!।।লিনা'পু ্ডরাইয়েন না, আপ্নে তো অইদিকে যানই না ছবি তুল্বো কেম্নে?!!।।এরা ডর দেখায়!!...
যেরম ব্লগ সেরম কমেন্টস !! হাহামগে !!

কথা ঠিক !
জয়িতা নামের মেয়েটি এত সুন্দর করে গল্প বলতে পারে, অথচ পোস্ট দেয় এত কম !
গল্প তো বলতেই পারি, কিন্তু পোষ্ট লিখতে তো পারি না।
@
দিক্কার! অভিশাপ!! নিনজা!!!
আরে!!... এটা না আমার ডায়ালগ!!! ফটুকের সাথে দিছিলাম!!
এইখানেও বন্ধু বেঈমান।
বন্ধু বেঈমানের লেটেস্ট ভার্সনটা সেই রকম হয়ছে।

অনেক পেচ্ছাপেচ্ছি হল, এবার কয়টা বানান সংশোধন করা যায়ঃ
কাল মানকিগন্জ যাবো, এসএমএস করালাম, প্রোগগ্রামমেতা নিশ্ঠুর গত গুধবার একটা প্লট আচে, ঘোরাঘুড়ি, শরিষা,
বলেছিরাম, উপড়।সুন্দরের মধ্যে অসুন্দর বেশী চোখে পড়ে । আমরা বন্ধু'র বাইরের অনেকেই আগ্রহের সাথে এই ব্লগ ভিজিট করে, তাদের জন্যে
হলেও আমাদের একটু সজাগ থাকা দরকার ।
কেউ কিছু মনে করলে আমার আর কি করার আছে ?
কিছু লিখে চেক না করাটা আমার সারাজীবনের বদঅভ্যাস।
শেয়ার বাজারে ধ্বস নেমে, সব কিছু গেছে থেমে ।
দিক্কার জানায়ে গেলাম
এ্যাঁ ! কি হৈতাছে এইখানে !!
বাপরে, চোখের জন্ডিস হয়ে গেল! জয়ির বন্ধু দেখি বিয়াপক ড্যাশিং
কি নিয়া পেচ্ছাপেচ্ছি হইলো, ধর্তেই পারলাম না।
হুদাই
জয়িতাপু , কি খবর ? কেমন আছেন ?
কবিপা, আমার অবস্থাও দেখি এমন হইলো যে কমেন্ট করে বলো নাই, আমিও কমেন্ট দেখি নাই।আছি কবিপা ভালোই।তুমারে দেখে ভালো লাগতেছে।
আমি সমুদ্র দেখতে যামু
টুটুল বুঝে নাই
, তাই কইয়া যাই- সর্ষে ফুলের সমুদ্র 
এইখানে খালি কইলে তো হবে না, বাসায়ও কইয়ো।
মন্তব্য করুন