ইউজার লগইন

দূরে কোথাও আছি বসে

কোন একসময় ভাবতাম, কবে বড় হবো?পড়াশোনা করতে হবে না,বাবা-মায়ের কড়া শাসন থাকবে না, ইচ্ছেমতো ঘুরে বেড়াবো,প্রজাপতির মতো পাখা মেলে উড়বো।মনের ক্যানভাসে যত রং আছে, সব রং মেখে নিজেকে রাঙাবো।বড় হতে হতে বাবা-মায়ের সেই কড়া শাসন হারাতে গিয়ে টের পেলাম উচ্ছলতার যে পাখাটায় ভর করে উড়তে চাইতাম সেই পাখাটাই আমি হারিয়ে ফেলছি।আমার শৈশব, কৈশোর, তারুণ্য সব পেছনে পড়ে যাচ্ছে।শৈশবের সময়টা মমতা মাখা, সেই সময়টায় মন ফিরে যায়, মন সিক্ত হয়।কৈশোর পেরিয়ে তারুণ্যে আসার দিনগুলিতে যদি ফিরে যাওয়া যেতো! আমার বন্ধুরা, আমার উচ্ছলতা কোন চোরাবালিতে যে দূরে চলে গেলো! আমি দূরে কোথাও বসে হাত বাড়াই, ছুঁতে পারি না। সেই সময়ের সাথে যোজন যোজন দুরত্ব আমার।

ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সময়ে আমরা দশ বন্ধু ছিলাম বিনি সুতার মালার মতো।একসাথে গাঁথা।আমাদের প্রতিদন উৎসব, প্রতিদিন আনন্দ, ঝগড়া, মারামারি, পিকনিক।২০০৩ এর মার্চে আমরা সবাই মিলে গেলাম সোনারগাঁও ঘুরতে। রাসেল, সজু মিলে বুদ্ধি করে সবার কাছ জেনে নিলো কার সম্পর্কে কার কেমন ধারণা। এসব জেনে নিয়ে নেপথ্যে নামে একটা বই তৈরী করেলো এবং আমাদের সারপ্রাইজ হিসেবে দিলো। আমাদের চার বছরের আড্ডা, ঘুরতে যাওয়ার অনেক ছবি, আমাদের নিজেদের কথা সেই বইতে ছাপা অক্ষরে দেখতে পেলাম।।বইটা হাতে পেয়ে কেমন আবেগী হয়ে গেলো সবাই। সেটাতে রাসেল বলেছিলো... এটাই হয়তো আমাদের শেষ আনন্দ ভ্রমন।তখন বুঝিনি ওর কথাটা একদিন সত্যি হবে। সেই বইটা আজকাল মাঝে মাঝেই ড্রয়ার থেকে বরে করে ছবিগুলো দেখি, আর ভাবি আনন্দগুলো কোথায় গেলো?আমাদের আর কোন আনন্দ ভ্রমণ সত্যিই হয়নি।প্রহলা বৈশাখে ঘুম থেকে উঠেই দল বেঁধে ঘুরতে বের হই না সেই ক-ত বছর! আমার বাসায় সবাই মিলে রান্না করে খাওয়ার যুদ্ধ হয় না অনেক বছর। পাবলিক লাইব্রেরীতে চলচ্চিত্র উৎসব হয় কবে সেটাই জানা হয় না। একটাসময় কি আনন্দ নিয়ে যেতাম মুভি দেখতে!খুব বেশী টাকা থাকতো না বলে সিনেমা দেখতে গিয়ে একটা কোক কিনে চারজন মিলে খেতাম।তবু আনন্দের কোন শেষ নেই।শুধু মাথায় থাকতো সন্ধ্যার আগে বাড়ি ফিরতে হবে।এখন তো কোক খাওয়ার মতো, মাসে দুই/একবার ঘুরতে যাওয়ার মতো টাকা আছে কিন্তু সময়টা, সেই প্রাণখোলা হাসি ফাঁকি দিয়ে চলে গেলো। ব্যস্ত হলো সবাই।সুমনার সাথে দেখা হয় না ২ বছরের বেশী সময়।সুমনার জন্মেদিনে এখনো হয়ত রমনায় কদম ফুল ফোটে, অঝোরে বৃষ্টি হয় আমরা হয়ত একই সময়ে বৃষ্টিতে ভেজার সময়টাকে আনমনা বসে ভাবি। সেই উষ্ণতা আজো ধরে রাখি। আমাদের সবার একসাথে আবার কোনদিন দেখা হবে কিনা জানি না।তবু আমরা বন্ধু। হৃদয়ের উষ্ণতায় একে অন্যকে ধরে রাখি।আবার হবে দেখা, হয়ত হবে না।এখন জীবন মানেই কঠিন বাস্তবতা, জীবন যাপনের হিসাব নিকাশ।
(কাল রাতে মীরের পোষ্ট পড়ে নস্টালজিক হলাম আবারো। লিখতে ইচ্ছে হলো কিন্তু এতকথা মনে পড়ছে যে কিছুই াার গুছাতে পারলাম না। Sad )

পোস্টটি ৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

জেবীন's picture


আমাদের স্কুলে শেষদিনটাতে সবাই নিজ নিজ কিছু কথা লিখতো, সেই মানুষটাকে নিয়ে যেমন ভাবে ঠিক তেমন...  কেউ কেউ সেগুলো নিতো খাতায়, কিন্তু আমাদের নিয়ম ছিলো জামায় লেখা! মার্কার দিয়ে বড়ো করে লিখতে হতো... সেদিন সাদা পিটি ড্রেসটা পরতাম আমরা...  মনে আছে আমি খাতার বদলে লুজ পেইজ আর জামা দু'টাতেই নিয়েছিলাম। জামা হয়তো অনেকেই ধুয়ে ফেলে কিন্তু আমি রেখে দিয়েছিলাম অনেককাল অব্দি সেটা!...  একবার খুলে দেখি আমার সেই জামাতে চিতি পড়ে গেছে, মলিনবাব এসে গেছে, কিন্তু লাল-নীল কালিতে সেইসব উচ্ছাসভরা কথা গুলা পড়তে কি যে আনন্দ লেগেছিল!!...  কিছুদিন আগে হারায়ে ফেলছি সেটা... কিন্তু সেই লুজ পেইজগুলার দু'টা পাতা এখনো আছে আমার কাছে!!...  ওটা হাতড়াতে গিয়ে দেখলাম, কনা নামের আমার এক মারদাঙ্গা বান্ধবী, কথায় কথায় মারামারি, বেসবল/ফুটবল খেলায় মশগুল থাকনেওয়ালী সেইজন,  পুরা আল্লাদি কবিতার ভাষায় তারে যেন না ভুলি কভু এটা লিখছে!! আর চাইলেও নাকি তারে ভুলতে পারবো না... কারব ধূলাবালির কনা দেখলেই নাকি তারে মনে করবো আমি!!!...  ও এখন কই আছে এক্টুও জানি না...  Sad

দারুন লিখছো...

জ্যোতি's picture


বয়স হচ্ছে বুঝেছ?আমাদের এখন অনেক স্মৃতি। স্মৃতির বোঝা দিন দিন ভারী হচ্ছে। জামাটা রেখে দিও জেবীন, কখনো দেখলে ভালো লাগবে, অনেক বছর পরেও। আমার এক জন্মদিনে আমার বন্ধরা একটা শাড়ি দিয়েছিলো, সেটার রেপিং পেপারে সবার কিছু কথা লেখা আছে, সেটাও রেখে দিয়েছি আমি। দেখতে ভালো লাগে খুব।

লীনা দিলরুবা's picture


আমার বান্ধবী নমী আর তন্বী আগে প্রতি জন্মদিনে বই উপহার দিতো, বইগুলো বেশির ভাগই হারিয়ে ফেলেছি, তন্বী অদ্ভুত সুন্দর চিঠি লিখে, সেসবও নেই, ইচ্ছে করে তন্বীর চিঠি আবার পাই..তন্বী সংসারে জড়িয়েও এখনো কত সবুজ.. চিঠি লিখেনা কিন্তু ফোনে সেই সতেজতা এখনো অমলিন।

জ্যোতি's picture


আমার বন্ধু সজু ইউ কে গেলো এম এস করতে , তখন সে চিঠি লিখতো, আমিও লিখতাম। কি দারুণ দারুণ চিঠি, কবিতা। সে বলতো, আমার চিঠি পড়েও নাকি সেখান থেকেই অনেক কবিতা লিখা হতো।এখন দেখা হয় খুব কম। ফোন করা হয় না তেমন। সেজন্য সে নিজেই ফোন করলে আনসেন্সরড বকাঝকা শুরু করে।

লীনা দিলরুবা's picture


আনসেন্সরড বকাঝকা কয়েকটা শুনি, বলেন আপা Wink

জ্যোতি's picture


হা হা হা। রায়হান পরে কি কইতে কি কইবো! থাক।
পুলিশ যে আপনেরে Before going..........কি কইছে এইটা ও তো কাউরে কই নাই। Big smile

লীনা দিলরুবা's picture


রায়হান ভাইরে এত ডরের কি আছে! তুই আর আমি থাকলে রায়হান ভাই.......
পুলিশ আনসেন্সরড কিছুতো কয় নাই Smile

জ্যোতি's picture


আনসেন্সরড না তো, অনেক রোমান্টিক। জীবনে একজনরে কমু দেখো ক-ত্ত বড় রোমান্টিক!

লীনা দিলরুবা's picture


আবেগী লেখাগুলো জয়িতা এমন ভাবে লেখে....আমারও সুমনা নামের মায়াবী এক বান্ধবী আছে, ছোটবেলার বন্ধুরা বড়বেলার বন্ধুরা সব মনে রয়ে গেছে ঠিকঠাক মত। ব্লগে এসে জয়িতা নামের এক মিষ্টি বালিকাকে পেয়েছি...যে সবাইকে ছায়া দিয়ে রাখে।

১০

জ্যোতি's picture


কি যে বলেন লীনাপা!সুমনা বন্ধু হয়েও এমন ভাব করতো যে ও যেনো আমাদের বড় বোন।রান্না করে খাওয়াতো, কাছে বসলে চুলে বিলি কাটতো। আবার বলতো আমার নাকি বিড়াল স্বভাব। Big smile ওকে সবাই মটু ডাকতো, আরো আছে...বলা যাবে না। Smile
আপনারা তো ছায়া। সেই ছায়ায় আমি দাঁড়াই, নিশ্বাস নেই।সত্যি।

১১

নুশেরা's picture


এখন জীবন মানেই কঠিন বাস্তবতা, জীবন যাপনের হিসাব নিকাশ।

এখনো সংসার শুরু করো নাই, করার পর কী বলবা! Shock

১২

জ্যোতি's picture


Tongue ।দিলেন তো প্যাঁচগি লাগায়া। তখন এই ব্লগ লিখতে পারবো কিনা কে জানে! তাই আগেই লিখে ফেল্লাম। Big smile

১৩

রাসেল আশরাফ's picture


বরাবরই রাসেল নামের পুলারা কামেল হয়। (বিরাট দাতঁ বাইর করা ইমো।)

১৪

জ্যোতি's picture


হ। তাই তো দেখতাছি।নাইলে কি আর কোরিয়ার চান্তেকরা পাগল হয়?

১৫

রাসেল আশরাফ's picture


আমি পাগল-পাগলী দেখে ভুই পাই।

১৬

জ্যোতি's picture


বিবাহ কবে?আমাদের দাওয়াত কবে?

১৭

মীর's picture


কথা ঠিক রাসেল ভাইএর বিবাহ কবে?

১৮

রাসেল আশরাফ's picture


কার্ড পাঠায়ছি তোমার ঠিকানায়।সাথে ভয় তাড়ানোর জন্য একখান তাবিজ।কাল এসএ পরিবহন থেকে ফোন দিলে নিয়ে আইসো।

১৯

মীর's picture


কয় কি? ঘটনা কি সত্য নাকি??SurprisedSurprisedSurprised

২০

জ্যোতি's picture


রাসেলের দেয়া তাবিজ পরছেন তো মরছেন। কোরিয়ান চান্তেক আপনার পিছে ঘুরবে খালি।

২১

রাসেল আশরাফ's picture


রাতটা পোহাইলে সব ফকফকা হয়ে যাবে।

২২

মীর's picture


চান্তেক ঘুরার সুযোগ নাই। Tongue out

২৩

জ্যোতি's picture


সুযোগ নাই কেন?কাহিনী কি?কেউ জাড়ু দিয়া দৌড়ানি দিবো?

২৪

মীর's picture


সেই সুযোগও নাই। Big smile

২৫

জ্যোতি's picture


কয় কি?কাজী সাবের মতো সন্যাসী হইলেন? Sad

২৬

রাসেল আশরাফ's picture


কোন সুযোগ নাই???????বুঝলাম না।

কি জানি মাসুম ভাইরে ডাকা লাগবো মনে হয়তেছে,

২৭

মীর's picture


প্রিয় সেই পুরোনো গানের কথা মনে করায় দিলেন, প্রেম একবার এসেছিলো জীবনে। Smile
আপ্নেরা দুইজন আমারে চিপার দিকে ঠেলেন ক্যান? Stare

২৮

জ্যোতি's picture


তারপর?
সে যে এসিছিলো আকাশ কি বলেনি????????

২৯

মীর's picture


বলে নি। Sad

৩০

জ্যোতি's picture


মারফতি লাইন ধরলেন কবে থেকে?আমগো মীররে ভয় দেখাইলে ভালো হবে না কইয়া দিলাম।

৩১

মীর's picture


রাসেল ভাইএর মনে হয় নেটে দৃষ্টাপ।

৩২

হাসান রায়হান's picture


কাল্কা পড়ুম।

৩৩

জ্যোতি's picture


ঘুম পাইছে?ঘুমান।

৩৪

লীনা দিলরুবা's picture


এখনো ঘুম Shock

৩৫

রাসেল আশরাফ's picture


রায়হান ভাই কি বাসাতে??

৩৬

শওকত মাসুম's picture


জয়িতা হইলো আবেগের শপিংমল। সেই শপিংমলের নতুন প্রডাক্টটা ভাল লাগছে।
আমি পুরানা বন্ধুদের নিয়া একটা লেখার কথা ভাবছিলাম। এখন তোমার পোস্ট পড়ে বেশি উৎসাহিত হইলাম।

৩৭

জ্যোতি's picture


ভালো নামটাই দিছেন। Sad

৩৮

নাজমুল হুদা's picture


হায়, হায়, আমার তা'হলে কি অবস্থা ! ২০০৩-এর বন্ধুদের হারিয়ে জয়িতা এত কাতর, তা'হলে আমার - -- ।
স্মৃতিকথা ভাল লাগলো । জয়িতা হইলো আবেগের শপিংমল। এটাই হলো সারকথা ।

৩৯

জ্যোতি's picture


বন্ধুদের হারাইনি তো। ওরা আছে সবাই।আমাদের সময়টা হারিয়ে গেছে।

৪০

তানবীরা's picture


মানুষ মরে গেলে ঝরে যায়
বেঁচে থাকলে বদলায়

চোখে পানি আসলো। এতো কম কেনো লিখো তুমি?

৪১

জ্যোতি's picture


তাতাপু, লেথতে তো চাই কিন্তু গুছিয়ে লিখতে পারি না। Sad

৪২

মীর's picture


আমার এত বন্ধু আছিলো না। দুই-তিনজন, সর্বোচ্চ চারজন। তবে এক গ্রুপ হারায় গেলে সেই জায়গাটা দখল করে নিতো আরেকগ্রুপ। যে গল্পটা আরেকদিন বিস্তারিত বলবো সেটা একটু সংক্ষেপে বলি,
একদিন রাতের বেলা মুন্সিগঞ্জ পর্যন্ত বাসে, এরপরে সিরাজদিখান পর্যন্ত নৌকায় করে গেছিলাম আমরা আট-ন'জন ছেলেমেয়ে। বাউল গান শোনার জন্য। গন্তব্য এতদূর যে যাত্রাপথে লেগে গেল ভীষণ ক্ষুধা। আবার আমাদের সঙ্গে একজোড়া টোনাটুনিও ছিলো। ওরা মাঝে মাঝে নৌকা দুলিয়ে ফেলছিলো বেশি। ওদেরকে ছইএর ভিতর বসিয়ে আমরা সামনের বিশাল গলুইএ বসে গাল-গল্প-সঙ্গীতচর্চা করছি। সাথে কোনো খাবার নেই, চিপস্-চানাচুর যা কিছু নিয়ে রওনা হয়েছিলাম সবই রাস্তায় বিভিন্ন পর্যায়ে হজম হয়ে গেছে। মাঝি সেই গভীর রাতে অচেনা এক ঘাটে নৌকা ভিড়িয়ে গুড়-মুড়ি খাওয়ালো, এক দোকানদারকে ঘুম থেকে তুলে।
সিরাজদিখান গিয়ে দেখি আনুশেহ্, বুনোরাও গান গাইতে এসেছে। তখন ওদের মাত্র একটা এ্যলবাম রিলিজ হয়েছে। কিংকতর্ব্যবিমূঢ়। অর্নবের আজকের জগৎজোড়া খ্যাতির কিছুই তখন ছিলো না। বরং অন্যদের সঙ্গে ওকে তখন খানিকটা ফিচকে লাগছিলো।
ওর কথা কেন মনে আছে বলি, আনুশেহ-বুনোরা কালা রে কইরো গো মানা, সোনা দিয়া বান্ধাইয়াছি ঘর- এসব গেয়ে শেষ করার পর অর্নব অপরিচিত একটা গান গাইলো। মাঠভর্তি দর্শক সবাই জাস্ট স্টাক্ হয়ে ওর দিকে তাকিয়ে থাকলো। সবাই মুগ্ধ হয়ে পড়লাম। ওই সময়ই ওর নামটা জেনে নিয়েছিলাম।
সবচে' মজার বিষয়, সিরাজদীখানে গিয়ে দেখলাম সেখানে করা হয়েছে মজলিস খিচুড়ির আয়োজন। তার মধ্যে ছোট ছোট মাংসের টুকরা। কলাপাতা নিয়ে আমরা পুরা গ্রুপ বসে পরলাম। আমাদেরকে হাতা ভরে ভরে অমৃতস্বাদের সেই খিচুড়ি দেয়া হলো। খালি একটু লবণ কম হয়েছিলো, কিন্তু সেটাই যেন আরো স্বাদ বাড়িয়ে দিয়েছিলো। ওরকম খিচুড়ি আর ওরকম পরিবেশ আমি আর কখনো পাই নি।
খিচুড়ি খেয়ে ধরলো ঘুম। ঘুম তাড়ানোর জন্য গ্রুপের এক টুনিরে নিয়া গ্রামের রাত দেখতে বের হলাম। টুনি আবার খুব সাহসী কিসিমের। ঘুটঘুটে অন্ধকার, ঝিঁ ঝিঁ পোকার একটানা ডাক, দূর থেকে ভেসে আসা গান-বাজনার ঝাপসা আওয়াজ; এইরকম পরিবেশে তার কোনো ভয় নাই। বললাম, গ্রামদেশে জ্বিন আর পরী থাকা কিন্তু খুব স্বাভাবিক। সে বিশ্বাস করে না। একটা নুয়ে পড়া বাঁশ দেখায়ে বললাম, জ্বিন ঐ বাঁশটা ওভাবে রেখেছে। কেউ ভুল করে বাঁশটা টপকে যেতে চাইলেই, ওটা সাঁই করে সোজা হয়ে যায়। কয়, মিথ্যা কথা। বললাম, মোটেই না, চাইলে গিয়ে চেক করে আয়। আর যায় না।
হঠাৎ নিস্তব্ধতা চিড়ে একটা রাতের পাখি ক্যট ক্যট করে ডেকে উঠলো। ভয়ে মেয়েটাও গলা-চেড়া এক চিৎকার দিয়ে বসলো। হুলস্থুল সাথে সাথে। কি কি পাখি যেন আরো ডাকাডাকি শুরু করে দিলো, আশপাশের ঝোপ-ঝাড়গুলোর ভেতরেও নানারকম হুট-পাট শুরু হয়ে গেল। পরিবেশটাই মাটি। তাড়াতাড়ি ওকে ধরে ধরে গানের আখড়ায় নিয়ে আসলাম। আমার উদ্দেশ্য অবশ্য ততক্ষণে হাসিল হয়ে গেছে। ঘুম-টুম কই যে পালালো এরপরে সারারাতে আর দেখা নাই।
সেই টুনি মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে। একটা শিশুও হয়েছে ওর। আপ্নের লেখাটা পড়ে কথাগুলো সব মনে পড়ে গেল। মনে হলো এইসব মাত্র গতকালের ঘটনা। আনন্দে আত্মহারা হলাম। পুরোনো স্মৃতি খুবই প্রিয়। থ্যংকিউ জয়িতা'পু।
এই মিউজিক ভিডিওটা সিরাজদিখানে চিত্রিত। জায়গাটা দেখতে পারেন। Smile

৪৩

মীর's picture


গল্প খারাপ লাগলো না ভিডিও খারাপ লাগলো, কিছুই বুঝতে পার্লাম না। Sad

৪৪

জ্যোতি's picture


নানান জামেলায় আজ নেটে বসতে পারিনি তেমন।গল্প এবং ভিডিও দুইটাই অসাধারণ মীর।আপনার গল্পটা পড়ে আপনার অনুভূতিটা কিছুটা বুঝতে পেরেছি বোধ হয়।
আপনার মতো অসাধারণ লিখতে পারলে একটা গল্প বলতাম এখন। অন্য একটা গল্প বলি।৭ জুন সুমনার জন্মদিন। একবার ওর জন্মদিনের পরদিন আমাদের সেমিষ্টার ফাইনাল পরীক্ষা শুরু। কথা ছিলো আমরা ১২ টায় একসাথে হবো এবং কেক কাটবো।তখন শাড়ি, চুড়ি পড়ার খুব ঝোঁক ছিলো আমার। আমি সাজুগুজু করে ইউনি তে এসে দেখলাম সুমনা তখনও এডমিড কার্ড নিতে পারে নি। সবাই আমাকে বললো ওরা রমনা পার্কে যাচ্ছে, আমি যেনো সুমনাকে নিয়ে রমনা পার্কে চলে যাই। আমি বসেই আছি, সুমনার জটিলতা আর শেষ হয় না। অবশেষে ঝামেলা শেষ করে আমরা দুইজন যখন রমনায় পৌঁছলাম তখন আকাশ মেঘে কালো হয়ে গেছে।রাসেল গেটে দাঁড়ানো ছিলো, আমাদের জলদি নিয়ে গেলো পার্কের ভেতর। পার্কের ভেতর যখন ঢুকছি গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে।কিছুদূর গিয়ে দেখি গাঁদা ফুলের মালা দিয়ে একটুখানি পথের মতো তৈরী করা হয়েছে, সামনে ফুল দিয়ে সুমনার জন্মদিন লেখা, এবং একটা কেক আর পুরো জায়গা জুড়ে প্রদীপ জ্লছে।মীর , বুঝাতে পারবো না আপনাকে মুগ্ধতা, ভালোলাগায় স্তব্ধ হয়ে গেলাম।মুহূর্তের মধ্যে ঝুম বৃষ্টি নামলো। আমরা পার্কের ছাতার নীচে দাঁড়ালাম, কেক খেলাম। এত বৃষ্টি হলো সেদিন যে কোনভাবেই না ভিজে থাকা যায় না। বৃষ্টিতে নেমে গেলাম আমি। কি আনন্দ, কি আনন্দ!ভুলে গেলাম, পরদিন পরীক্ষা, জ্বর হতে পারে।লোকজন দেখছে, একদল ছেলে মেয়ে কি আনন্দ করছে বৃষ্টিতে!।রমনা থেকে যখন বের হচ্ছিলাম বারবার পেছন ফিরে ওই জায়গাটা, ফুলগুলো দেখছিলাম। তুমুল বৃষ্টিতে রাস্তায় পানি জমে গেলো। কাকভেজা হয়ে কাঁপতে কাঁপতে বাসায় ফিরলাম। বাবা অগ্নিদৃষ্টিতে তাকালো বৃষ্টিতে ভিজলাম বলে। মুখটা করুণ করে ঘরে ঢুকে হেলাম। সেই আনন্দ আর কোনদিন আসেনি।সজু মাঝে মাঝে বৃষ্টির সময়ে ফোন করে জিজ্ঞেস করে, 'বাংলাদেশে কি বৃষ্টি হচ্ছে অনেক?তুই ভিজিস না এখন আর বৃষ্টিতে?'আমি হাসি। দিনগুলো সেই কবে হারিয়ে ফেলেছি!

৪৫

রাসেল আশরাফ's picture


নেটের দুঃখে বনবাসে যেতে ইচ্ছা করছে।

আর কিছু বলার নাই।

৪৬

জ্যোতি's picture


আসলেন তো ঢাকায়। ঢাকা কি বনবাস নাকি?তাইলে আমি মনের দুঃখে বনবাসেই আছি!

৪৭

মীর's picture


সে ঢাকায় আইসা পড়ছে, অথচ তার প্যকেট এখনো আসে নাই। কাহিনী কি?

৪৮

জ্যোতি's picture


আজ দেখা হওয়ার কথা। দেখা হলে জিজ্ঞেস করবো কিসের পাকেট, কাহিনী কি!

৪৯

মীর's picture


আর বিয়া-শাদীর খবর কি, কবে, কার সঙ্গে ইত্যাদি ইনফোও...

৫০

কিংশুক's picture


ধন্যবাদ দেবার ভাষা খুজেঁ পাচ্ছি না। অনেক ভাল লেগেছে । আর মনে হচ্ছে সেই দিনগুলি কই, সেই দিনগুলি কই?
এটাই আমরা বন্ধুতে আমার প্রথম মন্তব্য।

৫১

জ্যোতি's picture


এ বি তে আপনাকে স্বাগতম কিংশুক।আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ পড়ার জন্য এবং সুন্দর মন্তব্যের জন্য। এখন নতুন পোষ্ট দেন।
দিনগুলি মোর সোনার খাঁচায় রইলো না------------

৫২

আইরিন সুলতানা's picture


দূরে বসে আছো ক্যান ? কাছে বসে স্মৃতির সাথে খেলাধূলা কর। বিষয়টা খারাপ না কিন্তুক!

৫৩

মীর's picture


মানুষটা গেল কৈ? কাহিনী তো কিছুই বুঝতাসি না।

৫৪

মীর's picture


.

৫৫

জ্যোতি's picture


কেমন আছেন?কিছু না বলে কি বললেন বুঝায়া বলেন।
ধুন্ধুমার একটা প্রেম কাহিনী লিখেন।মন্টা ভালো করতে চাই।

৫৬

মীর's picture


ফোটায় ক্লিকান। কেমন আছি বুঝতে পারবেন।

৫৭

রাসেল আশরাফ's picture


তোমার সমস্যা কি? গল্প লিখো কিন্তু তার শিরোনাম দাও ফ্রেঞ্চ ভাষায় মনের কথা কও ইংলিশে।

বাংলায় তাইলে কি করো??

৫৮

জ্যোতি's picture


মীর, এই নেন লবণ মরিচ মাখানো বড়ই খান।
কবিতাটা বোধ হয় এমনই.....কেন আমার হাতের মাঝে হাত থাকে না কেউ জানে না........

৫৯

জ্যোতি's picture


গান্টা শুনতেই আছি। ধইন্যা, রাত পার করার খুব ভালো সঙ্গী পেলাম।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

জ্যোতি's picture

নিজের সম্পর্কে

.