আলেয়া
৯:৪০ মিনিটে অফিসে ঢুকলাম।কাজের পাহাড় নিয়ে বসলাম। এর মধ্যেই মাথা থেকে একটা পোকার ভনভন কিছুটা কমানোর জন্য একটা পোষ্ট দিলাম। আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধুটি ছুটি শেষ করে ১ ফেব্রুয়ারী চলে আবার লন্ডন চলে যাচ্ছে। ”বন্ধু আছি পাশে” ভাবতে প্রথমেই ও কে মনে পড়ে। যার মায়ের সাথে দেখা হলেই আমাকে জড়িয়ে ধরে বসে থাকে। ওকে বললাম তুই রাপা প্লাজায় এসে আমাকে ফোন দিবি , আমি ১০ মিনিটের জন্য আসব।ও ফোন করেছে, আমি বললাম আসছি আমি। ৪০ মিনিট পর আমাকে আবার বললো জয়, আমি চলে যাচ্ছি রে। বললাম দাঁড়া, দৌড়ে গিয়েই ৫ মিনিটে চলে আসলাম।দুপুরে খাওয়া হলো না, অফিস থেকে বের হলাম সন্ধ্যা ৬টায়। গন্তব্য চাচার বাসা, নিতে এসেছে ভাই - ভাবী। প্রথমে গেলাম বাবর রোডে ভাবীর বাবার বাসায়, হাত-মুখ ধুয়ে চা এর কাপটা নিয়ে মাত্র বারান্দায় বসলাম। ফোন বাজছে, অপরিচিত নম্বর। আমি হ্যালো বলার আগেই বললো, আমি আলেয়ার বাবা। চিনলাম, সালাম দিলাম, উনি কিছু শুনলো না মনে হয়, বললেন ”আপনার কাছে কি আলেয়ার ফোন নম্বর আছে?”বললাম ”না”। উনি আমাকে বললেন”আপনি ফোন নম্বর লিখেন, আলেয়া হোস্টেল থেকে একটা পিকনিকে গিয়েছে খুলনায়, ফেরার পথে আলেয়ার এক্সিডেন্ট হয়েছে, ওর অবস্থা খুব বেশী খারাপ। আপনি ফোন করে দেখেন আসলে ও কেমন আছে, তারপর আমাকে জানান।” কয়েক মূহুর্ত লাগলো আমার উনার কথা বুঝতে। ঘোরের মধ্যেই ফোন করলাম মেয়েটার নম্বরে, একজন ধরলো, বললো য়ে কন্ডিশন খুব খারাপ, ওকে ঢাকায় নিতে হবে, ওর মাখায় কাঁচ ঢুকেছে, ব্লিডিং হচ্ছে, হেলিকপ্টার ছাড়া ঢাকায় আনা যাবে না। সব শুনে মাথা চেপে ধরে বসে রইলাম, ফোন বেজেই যাচ্ছে, কি বলব এই বাবাকে আমি? কেমন করে বলব? দু চোখ ভেঙ্গে কান্না আসছে, আমার ভাই এর ছেলেটা আমাকে দেখে ওর মাকে গিয়ে বললো, ”দেখো জ্যোতি পুপি কাঁদছে।” ভাবী জিজ্ঞেস করতেই মুখস্থ বললাম ভাবীকে। আমার ভাই কোথায় কোথায় ফোন করলো, আমি করলাম মেজবাহ ভাইকে। শেষ পর্যন্ত খুলনায় ওকে আইসি ইউ তে রাখার ব্যবস্থা হলো।এর মধ্যে ওর ভাই , এক ক্লাসমেট রওনা হলো খুলনায়। ওর বাবা টাঙ্গাইলে। কেন জানি না ওর বাবা বারবার আমাকে ফোন করছে। বলছে ”মাগো, দোয়া কইরেন”। বললাম, আপনিও দোয়া করেন, আল্লাহকে বলেন। মনে পড়ছে মেয়েটা প্রথম দেখলাম যখন ও অনার্স ভর্তি হতে আসলো বাবার সাথে। খুব সহজ সরল একজন মানুষ। এই যুগেও এত সরল মানুষ হয়! তারপর ওর বাবা মাঝে মাঝে প্রয়োজন হলেই যোগাযোগ করতো আমার সাথে, আমি যতটুকু পেরেছি সবসময় করেছি। সারারাত বসে রইলাম বারান্দায়, নিজের অজান্তেই বারবার কান্নায় ভেসে যাচ্ছিলাম, অসহায় লাগছিলো খুব। আল্লাহকে বলছি ”আল্লাহ তুমি মেয়েটার সাথে থাকো, ওকে বাবার কাছে ফিরিযে দাও”। মেয়েটার বাবার অস্থিরতা বুঝতে পারছিলাম, নিজের বাবাকে দেখতে পেলাম চোখের সামনে। কেন এমন হয়? কত কষ্ট পেলো মেয়েটা! ওর কেমন লাগছিলো? এত তাড়াতাড়ি কেন মৃত্যু ওকে আঁকড়ে ধরতে চাইছে? হঠাৎ বোধহয় একটু ঘুম এসে গেলো, ফোন বাজলো, দেখি ভোর ৪.৪৮ মিনিট।আলেয়ার বাবা। মেয়ে কি সত্যি বেঁচে আছে?ওনি এখনও পৌঁছতে পারেননি খুলনায়। কি বলব আমি? আমি এমনভাবে জড়ালাম আমাকে কিছু বলতেই হবে? সৃষ্টিকর্তা কেন সেই ক্ষমতা আমাকে দিলো না , আমি ওর বাবাকে বলতাম যে, অপনার মেয়ে ভারো আছে, ওর জ্ঞান ফিরেছে, ও তাকিয়েছে। বলতে পারিনি...ব্যর্থ, অসহায়, ক্ষমতাহীন একটা মেয়ে আমি। একটা জাদুর কাঠি আমার নেই, যা আমি ছুঁইয়ে দিলেই মেয়েটা নড়ে উঠতো, চোখ মেলে তাকাত। একটু আগে জানলাম, হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনা হচ্ছে ওকে। ওর বাবাও জানালো সেটা। বললেন, ”আমি ত ঢাকায় ভালো চিনি না সবকিছু, আমার মেযেটার কিছু লাগলে সাহায্য করবেন। ” বললাম ”এত চিন্তা করবেন না, আল্লাহ ভরসা”।জানি না সৃষ্টিকর্তা কি পরিকল্পনা করে রেখেছেন। সৃষ্টিকর্তার উপর অগাধ বিশ্বাস নিয়ে, ভয় নিয়ে অপেক্ষা করছি---------





আমরা যে আসলে কত অসহায়, মাঝে মাঝে আমাদেরকে সেটা অদৃষ্ট তীব্রভাবে জানান দিয়ে যায় ...
ভাল হয়ে উঠুক আপনার বন্ধু। এখানে আপডেট দিয়েন।
ওরা কখন রওয়ানা হয়েছে ? কোথায় উঠবে ? জানো কিছু ? জানিও...
ইউনাইটেডে।কিছু জানি না।যাব বিকালে। হেলিকপ্টারের ব্যবস্থা অন্য কোথায়ো থেকে করা যায়নি নাকি।
আলেয়ার সেরে ওঠা কামনা করা ছাড়া কিছুই করার নাই।
মানুষ অসহায--এইটা প্রকৃতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার---------
------------------------------------------পথিক।
সরি জয়িতা

ভালো হয়ে উঠুক আলেয়া...
এই কামনাটুকু ছাড়া আর আসলে কিছুই করার নেই
ভালো হয়ে উঠুক...
আলেয়া মেয়েটা মারা গেছে.... খুলনা থেকে ঢাকা আসার পথে হেলিকপ্টারেই মারা যায় ও....
ঈশ্বর তার আত্মাকে শান্তি দিক....
............................................................................................................................................................................................................
আলেয়ার সুস্থ্যতা কামনা করছি।
আলেয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি
.......................
আলায়ার আত্মা শান্তি পাক আর ওনার বাবা-মা এই শোক সৈহ্য করার শক্তি পাক
আলেয়ার আত্মা শান্তি পাক... তার পরিবার এই শোক বইবার শক্তি পাক...
খুব নির্মম শোনাবে, তবু আঘাতের ধরণ এমন ছিলো যে বেঁচে থাকাটা তার নিজের জন্য বিষময় হতে পারতো, পরিবারের জন্যও...
যেখানেই থাকুক ভালো থাকুক আলেয়া।
নুশেরা, তুমি এমনভাবে জীবনকে দেখেছো যে .........। আমি পোষ্টটা পড়তে পড়তে ঠিক একথাটাই ভাবছিলাম কিন্তু বলতাম কী না জানি না। কারন সত্যি কথা আবার লোকজন ভালো ভাবে নিতে পারে না। তুমিও নিশ্চয়ই মাঝে মাঝে এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাও?
মন্তব্য করুন