২০৩৬ - এ ব্লগ স্টোরি (১৫)
সুপ্রাচীন জায়গাটায় অর্বাচীনের মত শুয়ে আছি। ইন্টারভ্যু নামক আপদখানি কখন কার উপরে নাজিল হবে বলা মুশকিল। গতকাল প্রচন্ড চেস্ট-পেন নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হবার পরে যন্ত্রণার শুরু। হসপিটালের একটা কমার্শিয়ালের লাইভ টেলিকাস্ট হচ্ছে। আমাকে একজন সুন্দরী ডাক্তার কাম উপস্থাপিকা জিজ্ঞেস করলো, পেইনটা কোথায় হচ্ছে? বুকের একটা অংশ দেখালে, তিনি ধমকে উঠলেন, কই আপনার মুখে তো এক্সপ্রেশন নাই! বুকে ব্যাথা হলে মুখ একটু কুচকে বলতে হবে না, নইলে দর্শক কিভাবে বুঝবে আপনি রিয়েল প্যাশেন্ট?
গালি দেবার মত অবস্থা তখন আমার নেই। তাছাড়া কোনটা যে আসলে গালি সেটা নির্ধারণ করাও মুশকিল। দেখা গেলো গালি দিলাম বটে, কিন্তু তিনি বেজায় খুশি হয়ে গেলেন। নোবেল লরিয়েট বললে আজকাল যেমন কেউ কেউ বেশ আনন্দিত হয়ে ওঠে। অথচ দুই যুগ আগেও ভিন্ন চিত্র ছিলো। সুকৌশলী চোর-ডাকাতদেরকেই বলা হতো। প্রচন্ড ব্যাথায় কাতর অবস্থায়ও যৎসামান্য চিন্তা করে বললাম, ফাকিং বিচ! কিন্তু শুনে উপস্থাপিকা বিগলিত হলেন প্রায়। মোল্লা-ফ্যাশনে জামাকাপড় পরিহিত পরিচালক মেয়েটির দিকে একাধিক জুতা ছুড়ে মারলেন। চারদিকে বিচের একটা ইকো তৈরী হলো। মেয়েটি তড়িৎ সেগুলো লুফে নিয়ে বলে চললো, আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, প্যাশেন্টের অবস্থা সঙ্গিন - তিনি এইমাত্র আমাকে বিচ বললেন! এমন অসুস্থ্য রোগীকে আমরা সুস্থ্য করে তুলবো নিমিষেই! আমার বিছানা ঘুরতে শুরু করলো, সম্ভবত অন্য রুমে যাচ্ছি। এই ফাকে টিভির দিকে একটু নজর গেলো, সেখানে তখন কুইজ শুরু হয়ে গেছে, বলতে হবে হু ইজ দ্যা ফাকিং বিচ ইন দিস হসপিটাল?
এই হাসপাতালে আমি আগেও এসেছি। ইয়েলো ওয়াশের সময়। বহু বছর আগে। তখন এত কর্পোরেট হয়ে যায়নি। বছর অন্তর বর্ণ চেঞ্জ করতাম। সমস্ত শরীর নতুন একটা প্রাকৃতিক রঙে ঢেলে সাজানোর প্রযুক্তি চালু হবার পরে প্রথমবার ইয়েলো করতে চাইলাম। সেসময় মেলানিন প্রোডাকশনের সাথে ট্যানের ঘনিষ্ট সম্পর্ক বিচ্যুত হয়ে গেছে। ফলে সূর্যরশ্মি ভীতিও নেই। বিশ্বব্যাপী তথাকথিত বর্ণবৈষম্য একেবারে নাই হয়ে গেলো। তবে ক্লিনিক্যাল বর্ন-প্রথার নতুন ধরণ চালু হলো। শ্বেত-বর্ণের পরিমাণ ফিফথওয়ার্ল্ডে বেড়ে যাওয়ায়, পাশ্চাত্যে চালু হলো ইয়েলোজিম। আমরা তখন কম পয়সায় কালারটা চেঞ্জ করতে পেরেছিলাম, এখন আর সে সুযোগ নাই। ইয়োলিস দেখলেই তাকে দালাল বলা হয়। এখানে এখন গ্রিনিসের বেজায় কাটতি।





ম্রাত্মক!
স্যাটায়ার হো তো অ্যায়সা
থ্যাংকু বস।
...দারুণ!
থ্যাংকস। সম্ভবত আপনি মেম্বার নন, তারপরেও মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ। আশা করি লেখা শুরু করবেন অচিরে।
সুপার্ব!
থ্যাংকস।
জটিল বেয়াই
থ্যাংকস বেয়াই।
থ্যাংকস লিজা।
চলুক
.... কিন্তু (১৫) ... ক্যান?
আরে আগেরটাতে ১৪ পর্যন্ত দেয়া দেখেন নাই???
ওহ সরি...
আগেরটায় এক সাথে ১৪টা ... আর পরেরটায় মাত্র ১টা ?
ভাবছি প্রতিদিন একটা করে লিখবো। তিন প্যারা। যে করেই হোক। রুটিন।
ফাকিং বিচ..ওহ কি যে রম্য হইছে...পুরো জিনিসটা...
খুব মজা করে পড়লাম।
থ্যাংকস বস্
থ্যাংকস মেঘ। ভালো থাকবেন।
সব্যসাচী হয়ে উঠছেন।
থ্যাংকু থ্যাংকু।
এবিতে আসার পর আপনার লেখা ভাল হইতেছে
সবই এবির দোয়া।
২০৩৬ এ একই ধরনের গালি থাকবে? ভেরি ডিসএপয়ন্টিং
নতুন গালি বানাতে হবে....
মন্তব্য করুন