রিক্যাপচারিং পাস্ট-৮
সমুদ্র খুড়ে কি মেলে বলা মুশকিল, তবে কখনও ক্যারিবিয়ান উপকূলে গেলে দেখার চেষ্টা করতে পারি। নদী খুড়ে থরেবিথরে সাজানো লৌকিক প্রকৃতি মেলে। প্রকৃতি আবার লৌকিক কিভাবে হয় সেটা আমি বুঝতে পারি নদী খুড়তে বসলেই। এ এমন এক প্রকৃতি, নদী পাড়ে, যার সাথে মেশানো গ্রাম, মানুষ - সব যেন বৃক্ষের মত, আকাশের মত, স্রোতের মত একই, শতবর্ষ ধরে। এই লোকাচার প্রকৃতিমনস্ক, এই প্রকৃতি লোকালয়েও নৈসর্গিক। আবার যখন আমি সুন্দরবন যাবো, বিগত কয়েক বৎসর যাবত যার ভাব বুদবুদ দেখা মেলে, তার কোনো ব্যাপ্তির নিদর্শন নাই, আমি অবশ্য অবশ্য নদী খুড়ে স্বপ্নিল এক বৈকালিক আসর তুলে আনবো।
সেই বৎসর, আমার ভেতরে নেশার মত প্রেম, রঙিন এক স্বপ্নসড়ক বেয়ে চলছি। স্পেক্টেটর এর ভূমিকা থেকে সবেমাত্র জীবন-মঞ্চে সমাসীন। একসাথে অনেক বলিষ্ঠ কাজ করছি। রাজনীতির অনুপ্রবেশ আর বোহেমিয়ান দর্শনের হাতছানি। সবই তুখোড় ২৩-এর বিপ্লবী জলতরঙ্গ। কিভাবে যেনো, আশ্চর্য্য, আমি মনে করতে পারছি না তার নাম, সিরিয়া না চিড়িয়া - একদম জলপ্রপাতের মত ঝাপিয়ে পড়লো। সিরিয়াই হবে নাম। তার কৃষ্ণা নামের সখি, রেডিওতে গান গায়, সুপতির মত কোনো একটা জায়গায় সিরিয়াকে লম্বা চওড়া লেকচার দিলো, আমাকে শুনিয়ে। নদীর কসম, তার দিকে আমার কোন প্রকারের দৃষ্টি ছিলো না।
তার প্যারাডাইস লস্ট আমার সংবেদনে হানা দেয়। বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে গেলাম। বিদ্রোহ করে চলে এলো। তাকে আগলে রাখা কৃষ্ণা মুখ গোমড়া করে বসে রইলো নদীর ধারে। সিরিয়া সম্ভবত এমন সুযোগ খুঁজছিল, বাঘের ভয়ে সে কাঁপছিল না, কিন্তু কাঁপুনি তার ঠিকই ছিলো - যখন বললো, ডু ইউ ফিল সামথিং ডিফারেন্ট? উত্তর দেবার ভাষা নাই, কারণ এর অর্থই আমার অবোধগম্য, বললাম, অফকোর্স! তবে ভয় নাই! বাঘেরা নাই। সে বললো, কৃষ্ণাই বাঘিনি এখন!





ভালো লাগা...
লাইক লাইক
কত কঠিন সব কথা
কত কঠিন সব কথা
মন্তব্য করুন