ইউজার লগইন

২০৭১ - এ ব্লগ স্টোরি (২৩)

যখন সময় থাকে তখন আমরা গান শুনি। নন-ডিভাইসাল। একটা পে-চ্যানেল আছে – যেখানে রিকুয়েস্ট পাঠালে শিল্পী সরাসরি গান শুনিয়ে থাকেন। এই বৃদ্ধবয়সে কোনধরণের গান উপযোগী হবে সে নিয়ে কিছুদিন আগে একটা মিউজিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলাম। ডাক্তার সাহেব মাইডিয়ার টাইপের। লাউড স্পিকারে উদ্ভট কিছু শুনছেন। আমাকে দেখে বললেন, বাহ! অনেকদিন পরে ভালো একজন প্যাশেন্ট পাওয়া গেলো! আমি একটু ভিমড়ি খেলাম, প্যাশেন্ট? তারপরে একটু ব্যাখ্যা করে বললাম, দেখুন আমি স্রেফ কিছু গানের রিকমন্ডেশন নেবার জন্য এসেছি! উনি বললেন, ওই হলো- আপনি হিউম্যান ভোকালই তো শুনতে চাইবেন! দেখেই বুঝেছি! এবার সত্যিই বিষ্মিত হলাম। অনেকদিন গান শুনিনা। যে উৎকট যন্ত্রণা চলে মিউজিকের নামে সেগুলোতে আমি ভয় পাই। তারপরে আবার শুনেছি ডেথ মেটাল নামে কি যেন একটা চালু হয়েছে – প্রতিটা শো’তে দু-চারজন মারা যায় সাউন্ডের আধিক্যে। উৎসুক নয়নে তার দিকে ব্লাঙ্ক তাকিয়ে থাকলাম। তিনি আমাকে একটা চেয়ারে বসালেন। আগের যুগে ডেন্টাল সার্জনরা যে ইজি-চেয়ার টাইপ বেড ব্যবহার করতো, ঠিক সেরকম। বললেন, গান নির্বাচন করার ক্ষমতা হারিয়েছেন বলেই তো এসেছেন! নো টেনশন, আই উইল কিউর ইউর মিউজিক ডিসঅর্ডার!

অসংখ্য টিউব এসে লাগলো মাথার ভেতরে। একধরণের ইরেজারের মত কাজ করবে। তিনি নির্বাচন করলেন আমার জন্য লাইভ মিউজিক। অযান্ত্রিক। কারণ হিসাবে বললেন, সংগীত মূলত মনস্ত্বাতিক ও অবস্থানিক বিবেচনায় তৈরী হয়। হসপিটাল মিউজিক, আউটডোর মিউজিক, ওয়েটিং রুম মিউজিক সহ নানাবিধ ক্যাটাগরীর সেই পুরাতন চর্বিত চর্বন। একই গানের কয়েকশ’ ভার্সন রয়েছে। সাধারণত মানুষ এসব মিউজিকে স্থানিক পরিবেশের সাথে মানিয়ে নেবার প্রেরণা পায়। সাইডইফেক্ট হিসাবে মিউজিক ডিসঅর্ডার হতে পারে, যেমন আমার হয়েছে। কোন গানটা শুনতে চাই, সেটাই এখন বুঝতে পারি না। মেজাজ গরম হয়ে গেলো ফালতু বকরবকর শুনে। একটা পে-চ্যানেল আর বিভিন্ন রেটের শিল্পীর নাম সম্বলিত একটা ক্যাটালগ ধরিয়ে দিলেন। আমি যা শুনতে চাইবো তাই শুনাবেন তিনি। একসময় যাদের গানের জন্য হাজার হাজার টাকার টিকিট কাটতে হতো এখন তেমন শিল্পীরা মূলত বেকার বসে থাকে। এখন যিনি রাজত্ব করে বেড়াচ্ছেন পুরা মিউজিক ইন্ড্রাস্ট্রিতে, আশ্চর্য্যের বিষয় তিনি কোনো হিউম্যান নন। মার্টায়ার রোড নামে এই গরু নাকি যে বিশেষ স্বরবিন্যাসে হাম্বা হাম্বা করে সেটার ভেতরে টিএজাররা বিমানবীকরণের উম্মাদনা পায়। পঞ্চাশ/ষাট জনের বিশাল একটা যন্ত্রদল অনুষঙ্গ দেয় বিভিন্ন কনসার্টে। এছাড়া হাউজফুল গোট নামে ছাগলের একটা ব্যান্ড এখন টিএজেরাদের মাতিয়ে চলছে। রীতিমত পেইনফুল। আমাদের রবীন্দ্র সংগীত শোনা কর্ণে এসব আর কাহাতক সইবে, দ্বিতীয় রবীন্দ্রনাথের ডেথমেটাল বরঞ্চ অনেক সহনীয়।

আজকে সকালে আমার নতুন হোম-সিংগার বললেন আমি তার নিজের কম্পোজ করা একটা গান শুনতে চাই কিনা। বিরক্তি চেপে বললাম শোনাও। গলা শুনে ভিমড়ি খাবার দশা। পরিষ্কার সুবীর নন্দীর গলা। থামো থামো বলে চেচিয়ে উঠলাম। বললাম, আমি লাইভ শুনতে চেয়েছি, কোনো ডিভাইসাল না! সে বললো, এটা তো আমার গলাই! ওহ, বুঝেছি আপনি নন্দী-স্বর শুনে চমকে গেছেন! তিনদিন যাবত সুবির নন্দীর স্বর তৈরীর জন্য একটা মিউজিক্যাল ইনস্টিটিউটে ভর্তি হয়েছি। এক আধটু শিখেছি, সেটাই শোনাতে চাইলাম! বললাম রক্ষা করো। তুমি নিজের গলায় গাও! সে এবার পুরোপুরি জেমসের গলায় গেয়ে উঠলো। আবার থামালাম। এসব কি? সে বললো, কেনো এটা আমার তিনবছর আগের শেখা জেমস-স্বর! আগে সুর শিখতো মানুষ, এখন শেখে স্বর। সুর নাকি ভোকালে টিউন করাই থাকে। বললাম, তোমার নিজের গলার স্বর কোনটা? আমার নিজের গলায়-ই তো গোটা আটেক স্বর তোলা আছে, সবই তো আমার! বুঝছি না, কি শুনবো, মার্টায়ার রোড-ই মনে হচ্ছে ভালো, নিদেনপক্ষে গরুটা নিজের গলায় হাম্বা ডাকে।

পোস্টটি ১০ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

রোবায়দা নাসরীন's picture


হায় হায় রোবটিক যুগের কথা বলছেন নাকি?

তানবীরা's picture


সাধু সাধু। এ পর্বটি অত্যন্ত সুস্বাদু হয়েছে। মজা পেলাম। ভাগ্যিস সেসময় থাকবো না। তাহলে কতো বাড়তি যন্ত্রনা পোহাতে হতো। Big smile

একজন মায়াবতী's picture


একটা পে-চ্যানেল আছে – যেখানে রিকুয়েস্ট পাঠালে শিল্পী সরাসরি গান শুনিয়ে থাকেন। এই বৃদ্ধবয়সে কোনধরণের গান উপযোগী হবে সে নিয়ে কিছুদিন আগে একটা মিউজিক্যাল ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছিলাম।

Rolling On The Floor

qaiyum's picture


A parba ta bhalo laglona. Poor writing. Please take some more time between one to another part.

লীনা দিলরুবা's picture


হহাহাহহাহা, সেইরকম Smile

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

কৌশিক আহমেদ's picture

নিজের সম্পর্কে

ঠিক যে সময়ে তুমি অ-সিদ্ধান্তের স্থির ভলকানো
হরতাল-বিভ্রমে অফিস নামক খাঁচার জন্য অনিরাপদ
উদ্দেশ্যবিহীন রিমোট ঘুরিয়ে দুচোখের আশ্রয়ে
এক অথবা একাধিক নিউজ নিউজে বিচারক
একটু কি অবসর হবে? এক কাপ চা?

এই যে ধরুন বিগলিত ডিনারের পাশে অপেক্ষমান শ্রোতা
আমাদের ডাল-ভাত সকাশে বিনিদ্র মূল্যযান
রোজগেরে টমোটো-শশার উপরিতে
ভদ্রলোকের মত চামচ বাজিয়ে আলাপের করতল
একটু কি অবসর মেলে? কি হচ্ছে দেশে?

দুই দিকে যাচ্ছি বিলক্ষণ
তোমার দয়ার্দ্র রাজনীতির ভেতরে আমার গোরস্থান।