ইউজার লগইন

একটুখানি ছোটবেলা

নিচের খানিকটা কংক্রিটের খোলা জায়গা আছে আমাদের বাসার সামনে। সেইখানে গাড়ী রাখাও চলে আবার বাচ্চারা খেলাধুলাও করে। সব হয় ওই একটু জায়গাতেই। ওইখানেই দেখলাম কয়দিন আগে ব্যাডমিন্টন এর কোট কাটা হয়েছে। পিচ্চিরা খেলে দিনে আর রাতে বুড়োগুলো। আজকে কয় পিচ্চি খেলতেছে, আহিয়ানকে চেনা যাচ্ছে । ছেলেটার খেলা ভালো। আমরাও একসময় খেলতাম। মনে হল সে অনেক আগের ঘটনা। আমাদের খেলার জন্য অনেক মাঠ ছিল। বাসার পাশের ছোট মাঠ, পুকুর পাড়ের বড় মাঠ। তাছাড়া উপজেলা পরিষদের মাঠও ছিল। যেখানে ইচ্ছা খেলো। আমরা রাতে বাল্ব জ্বালিয়ে ছোট মাঠে খেলতাম। মেয়েরা আর ছেলেরা। আমাদের মধ্যে মিঠু ভাই আর সুমন ভাই ভালো খেলতো। ওদের সাথে আমরা পারতামনা, তাও ওরা আমাদেরকে খেলতে নিতো। ছোট বোন বলে কথা। ওরা এই খেলায় না নিলে যে সাতচারা খেলায় ওদেরকেও আমরা নেবনা। আমাদের ভিতর বকুল ভাই নামে সবচেয়ে বড় এক ভাইয়া ছিল। সে অনেক বড়। কিন্তু সেইখানে তার কোন সমবয়সী না থাকায় আমাদের সাথেই খেলতো। কি আশ্চর্য!! এই ব্যাপারটা কখনো কারো কাছে অস্বাভাবিক লাগেনি। তখন কি এমন সহজ সরল ছিল সবাই? বেশীদিন তো আগের কথা না। ৯৭ ৯৮ এর দিকের কথা। বকুল ভাই আমাদের সব খেলার সঙ্গী। সাতচারা, বরফ পানি, চোর পুলিশ, ক্রিকেট, শীতে ব্যাডমিন্টন। আর তাছাড়া সব পিচ্চিদের একটা করে মজার নামও সে দিত। আমাদের নাম দিত আলিফ লায়লা আর সিন্দাবাদের রাজকন্যা আর ডাইনীদের নামে। আমার বোনের নাম ছিল মেহেরাঙ্গিজ। আমারটা মনে নেই। সেই বকুল ভাইয়ের শীতকালীন সবজি বাগান ছিল বাসার পিছনে। আর ওই সবজি বাগান হয়েই আমাদের স্কুলে যাবার শর্টকাট রাস্তা। তাছাড়া ওই দিকে একটা দেশী পেয়ারার গাছো ছিল। আর সবজি বাগানের ক্ষেত্রে বকুল ভাই ছিল যমের মতই কঠোর। কেঊ তার ধারে কাছেও যেতে পারবেনা। এমন জ়োরে ধমক মারতো যে ভয়ে আমাদের কলিজা ছিড়ে পরে যাবার জোগাড় হত। আর মাইর দেয়ার জন্য দৌড়ানি দিত। আমরা দৌড়ায়ে কই যে যেতাম ঠিক ছিলনা। সেই বকুল ভাইয়ারা বদলী হয়ে চলে গেলো আর যাবার সময় তার চোখ লালটুকটুকে হয়ে গেছিল, কারণ কি? সে নাকি ভীষণ কান্নাকাটি করেছে। আমরা অবাক হয়ে গেছিলাম, এত্ত বড় ছেলে আবার কাঁদে নাকি। তারা চলে যাবার পর এলাকাটা খুব নীরব হয়ে গেছিল। আমরা আর খেলাটেলা জমাতে পারতামনা। ধীরে ধীরে সবাই চলে যেতে শুরু করে। তারপর একদিন আমরাও চলে আসি চালনা ছেড়ে। এত মজা ওইখানের কয়টা বছর ছিল যা আর কোথাও হয়নি। এখনও চোখে ভাসে সেই ১০০ ভোল্টের বাল্ব জ্বলছে আর শীতের হিম হিম ঠান্ডায় কতগুলো ছেলেমেয়ে চিল্লাপাল্লা করে খেলছে। তাদের মায়েরা যেকোন একটা বাসায় বসে হেভী আড্ডা জমিয়েছে। বাবারা কেউ অফিসে বা কেউ গল্প করছে। তখন শীত, সব স্কুল বন্ধ আর গাদা গাদা কোচিং করতে হতনা তখনকার বাচ্চাদের। শান্তি আর শান্তি। সত্যি মফস্বলের মত মজার জীবন আর কোথাও হয়না। প্রাচুর্য নাই থাকুক শহরের মতন।
thumb_18,1151773707,3.jpg

পোস্টটি ১৩ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মীর's picture


সত্যি মফস্বলের মত মজার জীবন আর কোথাও হয়না। প্রাচুর্য নাই থাকুক শহরের মতন।

একটা এক লক্ষ কথার এক কথা বলেছেন লিজা আপু। শুভেচ্ছা, ধইন্যাপাতা সবকিছু গ্রহণ করেন। পুস্ট লাইক্কর্লাম।

লিজা's picture


পুস্ট লাইক কর্লেন জাইনা খুশী হইলাম। Laughing out loud

সাহাদাত উদরাজী's picture


আমি সিদান্ত নিয়েই ফেলেছি, যদি বাঁচি, বুড়াকালটা গ্রামেই/ মফস্বলে কাটাব।
(লেখাটায় প্যারা ভেঙ্গে দিন, পড়তে ভাল লাগবো)

শ্রাবনের মেঘ's picture


"আমাদের নাম দিত আলিফ লায়লা আর সিন্দাবাদের রাজকন্যা আর ডাইনীদের নামে। আমার বোনের নাম ছিল মেহেরাঙ্গিজ। আমারটা মনে নেই। "
নিজের টা চেপে গেলেন।। Wink জানতে চাই...??

তানবীরা's picture


শ্রাবনের মেঘ এটা আমি বলতে চাচ্ছিলাম, আপনিও বললেন।

জনতার এক দফা এক দাবী
জান্তে চাই লিজার পদবী
জানতে চাই লিজার পদবী

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


মালেকা হামীরা হইতে পারে Tongue

লিজা's picture


মেঘ, সত্যি মনে নাই।
তানবীরা আপা, আমিও জানতে চাই মানে মনে করতে চাই।
ভাঙ্গা, হুম মালেকা হামিরা টাইপের কিছু একটাই হবে। ওই সবই তো ছিল আলিফ লায়লাতে।
তবে সত্যি আমার মনে নাই। বোনের টা আছে কারণ সে এই নাম অপছন্দ করত। আমি ওকে অনেকদিন যাবত এইটা বলে ক্ষেপাইতাম। ওকে আম্মু কত বলছে ক্ষেপলে মানুষ বেশী ক্ষেপায়। তাও বুঝতোনা। সে একটা দুনিয়া না বোঝা কিউট টাইপ মেয়ে ছিল ছোটকালে।

ভাঙ্গা পেন্সিল's picture


হিংসা হল

রাসেল আশরাফ's picture


সত্যি মফস্বলের মত মজার জীবন আর কোথাও হয়না। প্রাচুর্য নাই থাকুক শহরের মতন।

কথা ঠিক।

১০

লিজা's picture


ভাঙ্গা, হিংসা কেন হল?
আশরাফ ভাই, Smile Smile

১১

নাজমুল হুদা's picture


এখনকার বড়দের জীবন জটিল আর ছোটদের জীবন জটিলতর । ওদের দেখলে বড্ড মায়া হয়, মনে হয় ওদের জীবনটা জন্ম থেকেই ঢাকনা বদ্ধ কৌটায় আবদ্ধ ।

১২

লিজা's picture


কথাটা একদম ঠিক

১৩

টুটুল's picture


Big smile

লেখা ভালু পাইলাম

১৪

লিজা's picture


Big smile Big smile

১৫

জ্যোতি's picture


সত্যি মফস্বলের মত মজার জীবন আর কোথাও হয়না। প্রাচুর্য নাই থাকুক শহরের মতন।

একমত। আমারও চমৎকার একটা শৈশব কেটেছে গ্রামে।খুব মনে পড়ে আজকাল।
পোষ্ট লাইক করলাম।

১৬

লিজা's picture


আহা গ্রাম!! যারা থাকে তাদের কাছে নাকি গ্রাম ভালো লাগেনা।

১৭

হাসান রায়হান's picture


ভালো লাগল লেখাটা। আরো বড় করতে পারতেন।

১৮

লিজা's picture


পরে আরো বড় লেখা দেব। ঃ)

১৯

মেসবাহ য়াযাদ's picture


সেই বকুল ভাইরে বালা পাই Wink Big smile

২০

লিজা's picture


ভাইয়াটা আসলেই ভালা আছিল। এক্কেরে পারফেক্ট বড় ভাই!!

২১

সকাল's picture


সত্যি মফস্বলের মত মজার জীবন আর কোথাও হয়না। প্রাচুর্য নাই থাকুক শহরের মতন।

স্মৃতি জাগানিয়া লেখা।

২২

জুলিয়ান সিদ্দিকী's picture


জীবনের কোনো একটা পর্ব খুবই মজার হয়। আবার এমন পর্বও থাকে যার পুরাটাই বেদনা বিধুর

(দার্শনিক ভাব লইলাম।)

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

লিজা's picture

নিজের সম্পর্কে

♥__̴ı̴̴̡̡̡ ̡͌l̡̡̡ ̡͌l̡*̡̡ ̴̡ı̴̴̡ ̡̡͡|̲̲̲͡͡͡ ̲▫̲͡ ̲̲̲͡͡π̲̲͡͡ ̲̲͡▫̲̲͡͡ ̲|̡̡̡ ̡ ̴̡ı̴̡̡ ̡͌l̡̡̡̡.__♥