অতি হালকা প্যাচাল - অলস মস্তিষ্কের অলস চিন্তা ।
অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি , একজন নব্য হুজুরের মোবাইলের রিংটোন হইল "ভিগি হোঠ তেরি ----- পিয়াসা দিল মেরা "
। হিন্দী গানের আগ্রাসনই বলি আর অর্থ না বুঝে সুরের প্রেমে পড়াই বলি । এইসব সেমি অশ্লীল কথাযুক্ত গান কিন্তু এদেশে এখন ব্যাপক জনপ্রিয় ।
ইদানীং মুন্নি বদনাম হুয়ি ডারলিং তেরে লিয়ে আর মাই নেম ইজ শিলা তো সেইরকম জনপ্রিয় । পিচ্চি পোলাপানের মুখে এই গান শুনলে চোক্ষে পানি চলে আসে । মাঝে মাঝে গভীর রাতে কোরাস শোনা যায় - বেবো মে বেবো বা পি লু তেরে ন্যায়নোকা শাবনাম ইত্যাদি ।
বিয়ে বাড়িতে হিন্দী গান ছাড়া কিছু কল্পনাই করা যায়না । সেদিন একটা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে দেখলাম , বউ ঘোমটা দিয়ে স্টেজে আসছে আর ব্যাকগ্রাউন্ডে মিষ্টি একটা হিন্দী গান বাজছে । কেমন যেন সিনেমার আবহ । ভালোও লাগছিল । ওই অনুষ্ঠানে শিল্পীরা সুন্দর সুন্দর সব বাংলা গান গাইছিল । কিন্তু হিন্দী গানের অনুরোধ আসতে লাগলো বার বার । অনেক আগে যখন গোবিন্দ আর শাহরুখ সাল্মানের ভরপুর যুগ, তখন বিয়ে বাড়িতে বা পিকনিকে ওনাদের ধুমধারাক্কা হিন্দী গান কি যে চলত!! আঁখিও ছে গোল্লি মারে টাইপ ফালতু কথার গান হরদম শোনা যেত ।
এখনও এইরকম আছে । মিষ্টি কথা আর পাগল করা সুরের হিন্দী গান গুলো যখন মার্কেটে জোরে বাজতে থাকে , এমন কেউ নেই যে সেটা উপভোগ করেনা ।
হিন্দী গানের সবচে বড় সম্পদ হল আমার মতে এর সুর । একবার একটা গ্রামে বিয়েতে দেখলাম , সব হিন্দী গানের সিডি আনা হইছে । আমি জিগাইলাম , ম্যাভাই (মিয়া ভাই) সব হিন্দী গান আনলেন ক্যান ? সে বলল, বাংলা গান চলে না !!!
। আমি তাজ্জব!!
হিন্দী গানে কি এমন আছে যে লোকে পাগল হয় । কয়েকটা বাংলা সিনেমায় দেখেছি , বাইজী নাচ হলে সেখানে হিন্দী ( নাকি উর্দু?) গান গাওয়া হয় । প্রায় নতুন একটা সিনেমায় ইভা আন্টি গাইলেন বেসুরো হিন্দী গান । হিন্দীর প্রেমে পড়ে আ্যল্বামও বের করলেন ।
আমার নিজেরও প্রচুর হিন্দী গান আছে ভালো লাগে । কিন্তু হিন্দী গানের ভিডিও দেখতে হলে হয় বড়দের ড্রইংরুম ছাড়তে হয় নয়তো ছোটদের
। হিন্দীগান শোনাই ভালো দেখা নয়
।
যত যাই হোক , নিজের ভাষার উপরে আর কি আছে একটা মানুষের জীবনে । নিজের ভাষায় অনুতূতি প্রকাশের আনন্দ অন্যরকম । আর তাই আমার ছোট'কা ছ্যাকা খেয়ে সারাদিন বসে শুনতো হেমন্ত আর সতীনাথ আর মান্না দে । কোন ঘরে যখন শোনা যায়, বাজছে " তখন তোমার একুশ বছর বোধহয়" । কিছু একটা আন্দাজ করে নেয়া যায় যে, আন্টি বা আঙ্কেলের যৌবঙ্কাল মনে পড়ে গিয়েছে হয়তো !
।
মাঝে মাঝে রিক্সায় চড়লে রিক্সাওয়ালার কন্ঠে অচেনা কোন ফোক গান শুনি । ভালো লাগে । সুরটা মনে ধরে । বেশকিছুদিন ধরে আমাদের বাসার সামনে একটা বাড়ি তৈরী হচ্ছে । মিস্ত্রিদের সেকি গান!!
।
কিছু গ্রাম্য গান আছে যেগুলোর ভাষা এত অশ্লীল যে বলার নয় । শোনা গেছে , একটা প্রাইমারী স্কুলের এক পিচ্চি 'বাসর ঘরের বাত্তি' গান গেয়ে প্রথম পুরষ্কার পেয়েছে :\ ।
গানের রকমফের যে কত তা বলার বাইরে । সাহিত্যের এটাই বোধহয় সবচে বৈচিত্রময় বিষয় । একবার ডক্টর ইউনুসের মেয়ের গান শুনছিলাম টিভিতে । আমার কাছে মনে হইছে কাতরানি, তবে বোদ্ধাদের কাছে সেই গান নিশ্চই অসাধারণ কিছু একটা মনে হইছে ।
বেশ কিছুদিন আগে এফ এম রেডিওতে একটা গান শুনলাম , একটা দেশ্লাই কাঠি জ্বালো তাতে আগুন পাবে -----
। পুরা গানের কথা এতই অর্থহীন যে রাগে গা চিড়বির করতে থাকে শুনে ।
ইদানীং বাংলা গান আবার জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে । অনেকের গানই ভালো লাগে । আবার কিছু গান শুনে মনে হয় এত হালকা কথার গানও কিভাবে জনপ্রিয় হয় ? তবে কলকাতার গানের ব্যাপার ভিন্ন । মাঝে মাঝে চন্দ্রবিন্দুর গান শুনে মাথা ধরে যায় , বিরক্তিতে নয় বরং প্রচুর ছন্দবহুল অদ্ভুত সুন্দর সব কথার স্রোতের জন্য ।
আগে কনকচাঁপা , সামিনাসহ আরো অনেকেই কত সুন্দর সব গান গাইত । সেগুলোর সুরও ছিল সেইরকম । আর গানের কথাতো লা-জওয়াব
। এখন মনে হয় সুর ভালো তো লিরিক্স ভালো না , লিরিক্স ভালো তো সুর ভালো না ।
তারপরো অন্তত বিয়েতে এখন মিলার গান বাজে
। এদেশে বহু মেধাবী সঙ্গীত স্রষ্ঠা আছেন । আশা করি তারা এমন সব গান তৈরী করবেন যা বিশাল জনতার খুব কাছে পৌছে যায় ।
জয় বাংলা , জয় বাংলা গান !! 





বাত্তি নিভাইয়া গানটা কিন্তু আসলেই খারাপ না

আর এই গানটার বিরুদ্ধে কথা বলা এবির নীতিমালা বিরোধী।
এই নীতিমালাটা যেন কৈ?
ডুয়েটটা শুনছেন? এবির ডুয়েট কিন্তু
আমি বিরুদ্ধে কই বললাম!! গানটার সাফল্যের কথা বললাম
। পুরষ্কার পায় এই গান !! সব্বোনাশ!!
আমার কাছে গানের সুরের চেয়ে কথাগুলোই কেন জানি বেশি প্রাধান্য পায়। সম্ভবত একারণেই হিন্দি গানের মিষ্টি সুর তেমন একটা ভাল লাগে না অথচ আর্টসেল কিংবা শিরোনামহীনের হেড়ে গলার গান ভাল লেগে যায়।
আমার সকালে ওঠেই একটা গান মাথায় ঢুকে যায়, সারাদিন মাথায় কিরা হইয়া আটকাইয়া থাকে।
মাঝে মাঝে মুন্নী ভাবীও আটকে থাকে মাথায়।
আমি হুজুর না কিন্তু ভিগি হোট গানটা আমার ভালু লাগে
ভিগি হোঠ একলা একলা দেখার গান
ফুরফুরা মেজাজের পোষ্ট দিছেন। ধইন্যা। বাসর রাতে বাত্তি নিভানোর গান কইলাম এইবর লোকজনের ব্যাপক পছন্দ।

মাই নেম ইজ শিলা......ভাল্লাগে
আমি আসলে বাংলা গানের ভক্ত।যেটা মাথায় ঢুকে শুনতে শুনতে পঁচায়া ফেলি।
আইটেম গান আমার ভাল্লাগছিল দুইটা , 'চল ছেইয়া ছেইয়া চল' । আর বাবলি অউর বান্টিতে ঐশ্বর্য রাইয়ের গানটা ।
পোস্ট সেইরাম হৈসে।
অ.ট. দু'চারটা পছন্দের গানের কথা কইতেন।
আমার পছন্দের গানের কথা জিগাইলেন?
পছন্দের ম্যালা গান আছে । প্রচুর গান । তবে কালকে তিনটা গান ধুমায়া শুনছি , ' ঘরের ভিতরে ঘর , তার ভিতরে আমি ' ' মেঘ দিনের দুপুর বেলা ' ' তুম জো আয়ে জিন্দেগী মে ' ।
যে কারণে পছন্দের গানের কথা ভালু পাই। আপনারে ধইন্যাপাতা শপিং মলের পাঁচকেজি ফ্রেশ ধইন্যাপাতা।
বাংলায় পপ ধারাটা ঠিকমতো বাড়ে নাই। একারণে ধুম-ধাড়াক্কা গানের অভাব। রিসেন্টলি মিলা-ফুয়াদ-হাবিব কিছুটা চালাচ্ছে...তারপরেও অনেক কম। তাই বিয়েবাড়িতে বাজানোর মতো গান পাওয়া যায় না।
কয়েকদিন আগে বোনের হলুদে নাচের জন্য গান খুঁজছিলাম। আমার গরুর গাড়িতে, হাবিবের তোমারে দেখিলো আর আকাশে-বাতাসে এই ৩টা গান কোনোমতে চালাইছি। বাকিসব হিন্দি গান। এর মধ্যে অবশ্য সবচাইতে হিট আমার গরুর গাড়িতে। বুঝা যায় যে মানুষ বাংলা গানই শুনতে চায়। তার কয়েকদিন পরে আরেক ভাবীর হলুদে গেলাম। সেখানে অনুষ্ঠান শুরু করলো এক গায়ক মাওলা মেরে মাওলা গান দিয়া। একে তো হিন্দি গান, তার উপ্রে বেসুরা গলা। সবার মুড অফ। ব্যাটা নামার পরে অন্য এক গায়িকা এসে বাংলা গান শুরু করলো-"ওগো বন্ধু কাছে থেকো পাশে থেকো" আর তুমুল করতালি। তারপর আর ঐ ব্যাটা যেন না উঠতে পারে সেজন্য গায়িকা প্রতিটা গান শেষ করার পরই আমরা সবাই ওয়ান্স মোর বলে চেঁচাতে থাকলাম। উনিও ধুমায়া বাংলা গানই গাইতে লাগলেন।
আমি যে গায়ে হলুদের কথা বললাম , সেখানেও বউ প্রবেশ করার সাথে সাথে 'মওলা মেরে মওলা' বাজছিল । কি মিল!!
হিন্দি গানের ধানাই পানাই ছেড়ে শুধু সানাই দিয়েই বিয়ে বাড়ি সাজিয়ে দেওয়া যায়।
গায়ে হলুদে ধুম ধাড়াক্কা গান লাগবে তো বটেই। যতটাকা ডিজে বাবদ খরচ হয় তা দিয়ে চটুল সুরে নতুন গান লিখিয়ে নিন কয়েকটা। কথা হিসেবে বেছে নিন বর বউ এর নাম, তাদের নিয়ে ছোট রসিকতা ইত্যাদি।
এই মুহূর্তে দুই/তিনটা গান মাথায় আসলো - লীলাবালি লীলাবালি, ধিতাং ধিতাং বোলে, এই সুন্দর স্বর্ণালী সন্ধ্যা ।
লীলাবালি ভাল্লাগে
আচ্ছা বিয়েবাড়ীতে গান চলেই বা কেন? আশেপাশের লোকজন ঘুমাইতে পারেনা। আমার এসএসসি পরীক্ষার কয়দিন আগে পাশের বাড়ীতে বিয়ে হচ্ছিল। দুইদিন আমার বারটা বেজে গেছিল।
গান চললেই রুচিহীন গানগুলো কেন যে লোক পছন্দ করে সেটাও বুঝিনা। আজীব দুনিয়া!
সেটাই ।
ছেলে পুরা হুজুর হইয়া গেছে
বাত্তি নিভানোর গানরে অশ্লীল বলা যাবেনা এইটা এবির অলিখিত নীতিমালা
বিমার কন্ঠে সেরম গানতো শোনেন নাই, সেই গান শ্রবনের পর ইদানীং কোন গানই মনে ধরে না।
বাত্তি নিভানোর গান যুদি অশ্চিল না হয় তাইলে অশ্লীলের অর্থই যে বদলে যাবে আপুনি ।
পড়ে আরাম পাওয়া গেলো । বিষয়ভিত্তিক গানের তালিকা থাকলে সুবিধা হত ।
সব গান গান না, শুনে গান কখনো বা এসে যায় কান্না, শ্রোতার মৃত্যু হয় বয়সের কারণে, "ভালো গান বলে কিছু নাই" এ শুধু তার মনে । ফিরে যায় অতীতের লতা আর হেমন্তে, গ্রীষ্ম-বর্ষা-শীত একাকার বসন্তে ।
হুদা ভাই কি সুন্দর ছন্দ মিলালেন !! আমি ইক্টু সাজাই দিলাম ।
বিয়ে বাড়ীতে, বিশেষ করে গায়ে হলুদের সবচেয়ে বড় উৎপাত হলো বাক্সপেটরা সমেত বোম্ভা মিউজিক। বোম্ভা মিউজিক হলো শ্রবনশক্তির ১০০০% উচ্চস্বরে বাদ্যবাজনা সহকারে তান্ডব সংগীত! সাধারণত সে সাউন্ড সিষ্টেম ৫০০০ লোকের হলঘরের জন্য বাজানো হয়, বিয়েবাড়ীর দেড় দুশো মানুষের কানের উপর দিয়ে সেই গানবোমা চালিয়ে দেয়া হয়। গান ঘুরে ফিরে সেই দশ বারোটা। কিন্তু গায়কের গলা কোনদিকে ড্রাম কোনদিকে দাপাদাপি করছে নর্তনকুর্দন রত দর্শকের সেদিকে খেয়াল থাকে না। এই অত্যাচারটা ইদানীং শহুরে সংস্কৃতি ছাড়িয়ে গ্রামের দিকেও ছুটে গেছে। মাসখানেক আগে শান্তিতে একটা রাত গ্রামে গিয়ে ঘুমোতে গিয়েও দেখি রাতভোর পর্যন্ত এই অত্যাচার। গান বাজনার বিপক্ষে নই আমি, কিন্তু কানের তো একটা লিমিট আছে সেইটা বুঝবি না তোরা!
গায়ে হলুদের দাওয়াতে গিয়ে বর/কনের আশে পাশে বড় বড় কালো বাক্সপেটরা নামতে দেখলে বেচারীদের জন্য মায়া হয়, আমি তো পালিয়ে বাঁচতে পারি, কিন্তু এই বেচারীর কানের উপর দিয়ে তো টর্নেডো বয়ে যাবে আজ রাতে।
আজ-কাল আর কোন গানই শোনা হয়না রে
ঋহু সব তোর সময় দখল করে ফেলছে
। একটু বড় হোক বেচারা , দেখবি আস্তে আস্তে সময় গুলো ফিরে আসবে...... দোস্ত ।
------------------------------------
হাহাহাহা। ভগ্নি, ঐ দেশলাই কাঠির গান কিন্তু কলকাত্তাই। সত্তর দশকের গান, রাহুল দেব বর্মণের সুরে আশা ভোঁসলের গাওয়া। কোন সিনেমায় আইটেম গান ছিলো। আমার ধারণা লিরিকটাকে খুব খারাপ বলা যাবে না, বেশ কিছু কজ-এন-ইফেক্ট রিলেশানের বয়ান আছে

একটা দেশলাই কাঠি জ্বালাও তাতে আগুন পাবে
শীতের কাছ থেকে দূরে পালাও তাতে ফাগুন পাবে
------------------------------------------
লাস্ট কয়েক বছরে রিলিজ হওয়া হিন্দি মুভির শব্দদৃশ্যের অভিজ্ঞতা নাই। পোস্ট থেকে যথেষ্ট জ্ঞানার্জন ঘটলো। ধন্যবাদ
তবু আমাকে আর পাবে না ------ আহাহ --- আহাহ --- আহাহ । হ , ক্ষেতে হাল চাষ করো তাতে ফসল পাবে,, টাইপ কিছু কথা আছে (কথাগুলো ঠিকঠাক বললাম কি?) । গানের মইধ্যে এত যদি বাস্তব উদারহণ থাকে!! তাইলে তো এইটাও হয় ,
সাবিনা ইয়াসমীনের একটা গান আছে
মনটা যদি খোলা যেতো সিন্দুকেরই মতো
দেখাইতে পারিতাম তোমায় ভালোবাসি কতো
গানটার একটা মিউজিক ভিডিও আছে, প্রতিবার এই দু্ই লাইনের সময় টিনের সুটকেস টাইপ সিন্দুকের ডালা খোলার দৃশ্য দেখায়
যে মহান পরিচালক ওই ভিডিওটা বানাইছে সে নির্ঘাত 'বনলতার সেন' এর 'পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে'র ভিডিও বানাইতে পাখির বাসা দেখাবে । কিছু না পাইয়া কাকের বাসাই দেখায় কিনা!!
কথা খাঁটি।
মন্তব্য করুন