এক অচেনা অজানা ক্ষণজন্মা প্রাণের প্রতি ভালোবাসা ।
“এত বড় পোস্ট কেন করলাম? কেউত পরবে না? এই পোস্ট অন্য কারো জন্য নয়, নিজের জন্য। আমার খুব কাছের একজন এই মরণব্যাধিতে আক্রান্ত, আমি জানি খুব বেশি দিন নেই তার, তারপরেও তাকে এই মিথ্যাটুকুই সারাদিন বলি 'কিচ্ছু হবে না'”
কথাগুলি একজন ব্লগারের একটা মাঝারি আকৃতির লেখার শেষের অংশ । লেখার বিষয়ও বেশ গুরুত্বপূর্ণ । মরনব্যাধি ক্যান্সার নিয়ে লেখা । অথচ জুনের ১ তারিখে প্রকাশ করা ব্লগটিতে গতকাল পর্যন্ত নাকি কোন কমেন্টই ছিল না ।
আর এই দুইদিনে তার এই ব্লগ কমেন্টে সয়লাব । কেন? কারন, এই লেখার লেখক আর এই পৃথিবীতে নেই । সে নেই, তাই তার জন্য সবার এত মায়া । সে যখন ছিল, কেউ তার দিকে ফিরেও তাকায়নি ।
এই ছেলেটির বয়স মাত্র ২২ বছর । প্রচন্ড প্রাণশক্তি আর সাহসী এই ছেলেটি কান্সারে আক্রান্ত হয়েও কাউকে কখনো বুঝতে দেয়নি । দেখুন, যে রোগে সে আক্রান্ত, সেই রোগের কথা, সেই রোগে আক্রান্ত মানুষকে সাহায্য করার কথা সে বলে গেছে অনায়াসে । কিন্তু একটিবারের জন্যও নিজের কথা বলেনি । এরকম মানুষ কি আছে এখনো? আমরা অনেকেই সামান্য অসুখ বিসুখে কাতর হয়ে পড়ি । নিজের মনোকষ্ট মানুষকে ঢাকঢোল পিটিয়ে জানাই । আমি জানি এখন এই ছেলেটির কথা জানার পর, আমরা লজ্জাবোধে আক্রান্ত হব । কিন্তু এও জানি এর মত সাহসী আর ধৈর্যশীল আমরা নই । তাই আমরা কষ্টের কথা গোপন রাখতে পারিনা ।
এই অচেনা অজানা ছেলেটি আজ আমাকে এই গভীর রাতে কাঁদালো । somewhere in ...ব্লগে আমি লিখিনা । মাঝে মাঝে কেউ ভালো কোন লেখার লিঙ্ক দিলেই কেবল যেয়ে পড়ে আসি । এখানে কি ধরনের লেখা আসে তাও জানিনা । তবে এটা যে বিখ্যাত এবং সেইসাথে কুখ্যাত এই ব্যাপারটা কানে আসে । প্রচুর ব্লগার আছে এখানে । এই জন্য আশ্চর্য হলাম জুন থেকে আজ নভেম্বরের শেষ অব্দি ব্লাডক্যান্সার বিষয়ক কিছু কথন ব্লগে একটি কমেন্টও কেউ দেয়নি ।
আমরা কখন কে চলে যাব জানিনা । কে কিভাবে মারা যাব তাও জানি না । এই একটি ঘটনা আমাকে ভীত করে তুলেছে । কেউ কি কখনো জানবে………… এই পৃথিবীতে আমিও ছিলাম ।





অনেকদিন পর আপনের পোস্ট দেখে তাড়াতাড়ি লগিন করলাম। কিন্তু পোস্ট পড়ে এবং সামুতে একটা চক্কর দিয়ে যখন ঘটনা বুঝতে পারলাম, তখন মনটা কেমন জানি ফাঁকা হয়ে গেল। চোখ সংবরণের জন্য দ্রুত কয়েকটা সিগারেট খেয়ে ফেললাম।

কাল রাতেই ভাবছিলাম এই কথা।
পোস্টটা পড়ে মন খারাপ হলো।
মনটা খারাপ হয়ে গেল।
একবার লিখেছিলাম,
হয় এমনি, সবসময়।
লেখার লিংকটা দেয়া থাকলে ভালো হত।”আমরা বন্ধু” আবেগহীন হয়ে যাচ্ছে এটা মনে হয় নতুন কিছু নয়।
মিতুল, আপনার 'আমরা বন্ধু আবেগহীন হয়ে যাচ্ছে' বক্তব্যটা একটু বুঝায়ে বলেন।
আর মন্তব্যটা দেখেও না দেখার ভান করবেন না।
ভান করছি না। টপাটপ কয়েকটা সিগারেট খেয়ে ফেলছি !!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!!
মিতুল, "আমরা বন্ধু" এরকম নজির এখনো দেখায়নি । আমার লেখার নিচেই বলা আছে, ব্লগটা ছিল "somewhere in" এ ।
আসলে একটা লিঙ্ক দিয়ে দেয়া উচিত ছিল । ওই সময় এত কিছু মাথা আসেনি ।
টিপু যদি আমাদের ব্লগের ব্লগার হত, আর ওই লেখাটা এখানে দিত, তাইলে আমার বিশ্বাস অনেক বন্ধুকে পেতো সে । এত শূন্যতায় ভুগতো না তার লেখা ।
..........................................
মন খারাপের কিছু নাই। এটাই জীবন।
অসময়ে কারো চলে যাওয়া...... এর মতো কস্টের আর কিছুই নাই।, যার গেছে সেই এর মর্ম বোঝে। ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।
সেটাই
কষ্টকর
এই পোস্টেও মানুষ পায়ে পাড়া দিয়ে ঝগড়া করতে আসলো?
খারাপ লাগলো। ছেলেটাকে স্রষ্টা বেহেশত নসিব করুন।
কেউ মনে জানবে নারে, কার এতো ফালতু সময় আছে আর কারই বা দায় পড়েছে।
এগুলো বেশি ভেবো না লিজা, বিষন্নতায় আক্রান্ত হবা তাহলে
বেশি ভাবি না আপু
। বিষন্নতার টোটকা জানি । অন্যের বিষন্নতা কাটিয়ে দেয়াই এখন আমার একটা কাজ হয়ে গিয়েছে 
মন্তব্য করুন