১১.১০.১৩- মন খারাপের একদিন
১.
ও কি আমার মতো লিখতে পারে কবিতা
ছুঁতে পারে তোমার মন!
জানে কি তোমার ভালো লাগা মন্দ লাগা
কিংবা ছন্দপতন!
তবু ও জিতে যায় সামাজিক নিয়মে,
এলে না তুমি, রাখতাম বুকের ভেতর
পদ্যের ওমে।।
২.
ঐ রোদ ঐ বরফ সব তোমাকে ছোঁয়
ঐ জল ঐ হাওয়া সব তোমাকে ছোঁয়
কার্নিশে বসা পাখিটাও তোমার কথা
ঠোটেঁ তুলে কয়;
তুমি শুধু আমাকেই করলে অচ্ছুৎ
বুঝেও বুঝলে না আমার মানুষী ভালোবাসার
অমানবিক ক্ষয়
৩.
তুমি সাগর জলে
তুমি মধুচন্দ্রিমায়
তুমি করছো স্নান
বিস্ময় ঝর্ণায়
আমি ডুবে যাই
অগাধ বেদনায়
৪.
মিথ্যা মদিরা মিথ্যা ধোঁয়ার চুম্বন
যতক্ষণ চোখে দেখা ততোক্ষণই
আনন্দের আলোড়ন
৫.
অনবদ্য ভ্রান্তি সাথে সান্দ্র দুচোখের পাতা
পুজিঁবাদ করে যায় নিনাদ
কাজ এবং কাজ, অলখে রয়ে যায়
ব্যক্তিজীবন রং ছাড়া সাদা।
ছয়দিন নেই সাতদিন নেই
ঘুরছে পুজিঁর চাকা
প্রথম বিশ্ব বাঁধা চল্লিশ ঘণ্টার শ্রমে
তৃতীয় বিশ্ব সেসব মানে না
চলে সপ্তাহে বাহাত্তর ঘণ্টা
আহা দেহ তো পঁয়ত্রিশেই জেরবার
অজান্তে অক্বা পায় মন টা।
কড়ির কাছে বিক্রি হয়ে গেছি সেই কবে
কবি মন বয়ে চলে দহন
সামনে নিয়ে অমানুষিক ভীড়ভাট্টা
ভাবে একটাই জীবন
মুক্তি কি কখনো পাবে?
৬.
তোমার ভালোবাসা নেই
বলে ফেলো অনায়াসে
আমি ছটফট তোমাকে
ছোঁবার আশে।
নয়ন সমুখে তুমি
না পাবার বেদনায় কাঁপছে
আমার মনোভূমি
জানি জানি তুমি অপরের
নেই বহিরাগতের অধিকার
তুমি তো আমার গোপনেই বাজো
করিনি কোন কৈশোরিক দেন-দরবার।
এ হাতে লিখিত তোমার ভবিষ্যতসূচী
তুমি পরিবারের, তুমি সমাজের
আমি সেখানে খোলামকুচি।
আমি বয়সে শ্রদ্ধাভাজন
সম্পর্কের মই এ উচ্চে আবাসন
তাই অন্তরের জ্বর, করে নেই শাসন।
আমি শুধু শুনি তোমার উচ্চারণ, হাসি,
দীর্ঘ, দীর্ঘশ্বাসে বাতাসকে বলি
আহা, কি যে ভালোবাসি, যদি জানতে
আমাকেই সহজীবন মানতে!
৭.
আমার প্রেম-অপ্রেমের উপাখ্যান
মধ্য তিরিশেও ফুরোলো না
যেন বা নতুন সাজানো উদ্যান
৮.
স্বপ্ন শান্তি সুখের কপালে হুলিয়া
শখের বুকে ছুরি
পিঠে চাবুক মারছে বেনিয়া
উড়ছে পুজিঁর ঘুড়ি
একমাত্র শরণ অপরাজিত অক্ষর
কলম কাগজ ভরা
শেষ সুন্দরের হাতে পড়েনি এখনো হাতকড়া।
(কবিকে বাঁচাবে কে?)
৯.
অজগর সময় ড্রোন হামলায়
তাপাচ্ছে পিঠ, উদোম গা
প্রাণী রক্ষা কমিটি হোক
মরলে মরুক মানুষের ছা।
১০.
তুমি ধর্ষণ করেছো
আমি করি আন্দোলন
সমাজপতি আঙ্গুল তোলে
আমার ই দিকে কারণ
তোমার জন্যে জায়েয
যে কোন বয়সী
নারী ভক্ষণ
১১.
আহা নষ্ট হবার সাধ জাগে
ফেলে দিয়ে হিজাব বোরখা
আরও আরও আবরণ
পোশাকও নারীকে নষ্ট করে
কি ঠুনকো এই নারী জনম!
নরক দোজখ ডাইনী দেবী
সব যখন আমার পদতলে
কি লাভ ব্যাখ্যায় অবতার সেজে
বিবিধ ধর্মগ্রন্থখুলে!
১২.
আমি দূর্গতিনাশিনী
আমি না কি ধর্মাবতারের মা
আমার দিকেই সব ভ্রষ্ট পাল্লা
আমি আদতে নিজেরও
জন্মদাত্রী না।
১৩.
অপরিচয় ঘুচে যায়
মন্ত্রের জোরে হায়
পরিচিত হাত
থাকুক তফাত
সমাজ করবে না আঘাত
যদি চলে জীবন
এক বরের নায়।
১৪.
আমার মন খারাপ
আকাশের গালে শেষ চুম্বন
ইসাবেলা, এ শরতেও তুমি দূরে
কত আর কত প্রহর চলবে ঘুরে
এমন অবদমন!
১৫.
তুমি ওপাশে আমি এপাশে
মাঝখানে দাপ্তরিক টেবিল
তোমার মুখে হাসি
আমি বিষে বিষে নীল।
১৬.
ডাকে মসজিদ মন্দির
ডাকে গীর্জা প্যাগোডা
তোমার সাথে জমাতে আড্ডা
আমার ওসব কিচ্ছু চাইনে
ঘাসের মাদুরে পাতি শয্যা।
১৭.
ঈদ পূজা কি আরও উৎসব
অথবা কত পশুর বলিদান
আমার জন্যে হরিণ সুখ একটাই
তুমি এলেই শ্রাবণে আগুন হই
তোমাকে জড়াই দিয়ে
ভালোবাসার শিখা লেলিহান
১৮.
চলতে চলতে ও আমাকে পিষ্ট করো
সে তো জানি হাইহীলে
একবার, একবার দাও সুযোগ
দেই সাঁতার তোমার
অতল বিলে!





এই আশায় বেঁচে থাকি...
''মিথ্যা মদিরা মিথ্যা ধোঁয়ার চুম্বন
যতক্ষণ চোখে দেখা ততোক্ষণই
আনন্দের আলোড়ন''
চমতকার লেগেছে!
তুলনাহীন
সবগুলো কি একই দিনে লেখা?
তুলনাহীন
সবগুলো ১১ তারিখ শুক্রবার ব্যাংক খুলে দেবার শোকে লিখা, শেষটা আর টাইপ করে উঠতে পারিনি-
১৯.
সুন্দর মাত্রই আমার আরাধ্য
মননে ও মেধায়
হোক সে নারী অথবা পুরুষ,
অন্তরে থাকুক মোহাম্মদ কৃষ্ণ
বুদ্ধ বা যীশুর ক্রুশ।
মন্তব্য করুন