কারণ
ফার্স্টে একটা কুইজ। কেন মহিলাদেরকে অসহ্য বলে ঘোষণা দেয়া হবে না?
এক আড্ডায় যাথারীতি মেসবাহ ভাই মেজবান। বিমা হাপাইতে হাপাইতে যোগ দিছে। মেসবাহ ভাই জিগান, কিরে বিমা কী হইছে তোর হাপাস ক্যান?
'আর বইলেননা আমিতো ফরেন মাল। দেশের নিয়ম বদলাইছে জানি না। বাসে একটা সুন্দরী মেয়ের পাশে সিট খালি দেইখা নরম কইরা বলি, বসি। সেও বলে বসেন। যেইনা মাত্র বসছি পিছন থিকা এক মহিলা চিল্লায় উঠল, খবরদার বসবেন না। মহিলা সিট লেখা দেখেন না? আমি থতমত খাইয়া উইঠা গেলাম'। বিমা বয়ান করল তার দুঃখের কথা। সবাই স্বান্তনা দিতেছি যে নতুন নিয়ম হইছে এই সেই। বিমা বলে তারপরে কি হইছে শুনেন, ' বাস কিছু দূর যাওয়ার পর আরেকটা সিট খালি হইল। চেক কইরা দেখলাম এইটার উপরে মহিলা লেখা নাই। তারপর আমি চিন্লান দেয়া মহিলার দিকে ফিরা বললাম এই সিটে বসতে পারি? বেটি আরো খেইপা গেল - এই সিটে ইচ্ছা হলে বসেন না হলে বসবেন না, আমারে জিজ্ঞাস করেন ক্যান? মহিলা সিটে বসবেন না।
শ্রীমতি ভার্জিনিয়া উলফ যদি এ সময় বাসে থাকতেন তাহলে তাঁর নারীবাদী আন্দোলনের এইরূপ পরিণতি দেখে নির্ঘাৎ হার্ট এ্যটাক করতেন। কিন্তু এখনকার উইমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ ডিপার্টমেন্টের কোন ছাত্রী যদি থাকতেন, আমি নিশ্চিত তিনি উক্ত মহিলার পক্ষ নিয়ে বিষাক্ত মানুষকে আরো দুই কথা না শুনিয়ে ছাড়তেন না।
কথা হচ্ছে, আসলে মানুষকে কি তথ্য দেয়া হচ্ছে? নারীবাদ কি? বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বলা ভালো মহিলারা মনে করেন, নারীবাদ হচ্ছে তাদের মুক্তির চাবি। এটা দিয়ে তালা খুলে দরজার ওপাশের জগৎটায় প্রবেশ করতে হবে। সেখানে কি আছে? মেন'স ওয়ার্ল্ড।
এ পর্যন্ত তথ্য ঠিক আছে। চাবি ঢুকিয়ে তারা যখন জগতে প্রবেশ করে তখন দেখতে পায় এটা আসলে চাবি না। এটা আলীবাবার চিচিং ফাঁকের মতো একটা মন্ত্র। যেটা গল্পের ঐ মন্ত্রে চেয়েও বেশি ক্ষমতাবান। আধুনিক যুগে এ মন্ত্র আওড়ালে শত শত সাত রাজার ধনের আগল খুলে যায়। দারুণ সুবিধা।
কিন্তু তাতে করে কি শেষরক্ষা হচ্ছে? কোভাও একটা প্রজেক্টের নাম। এটা ভায়োলেন্স এগেইনস্ট উইমেন নিয়ে কাজ করে। বিখ্যাত এক আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রজেক্ট এটা। স্বভাবতই নারীবাদীদের কাছে এটা একটা আরাধ্য গন্তব্য।
কিন্তু এই প্রজেক্টে যারা কাজ করে তারা কি সাত রাজার ধন আগলে নিয়ে সোনার পালংকে শুয়ে আছে? একদম না। বেলাশেষে দরজার এপাশে যেখানে সত্যিকারের জগতটা ছিলো, সেখানে ফিরে এসে নারী কিন্তু ঠিকই বুঝতে পারে, এটাই প্রকৃত মনুষ্য জগত। যেখানে নর-নারী তার যুগল জীবন যাপন করছে।
তারমানে নারীবাদ নামে যে আপেলটা মানুষকে খাওয়ানো হচ্ছে, সেটা নিতান্তই একটা কামফল ছাড়া আর কিছু না। যা ভক্ষণে সাময়িক উত্তেজনাবশতঃ মানুষ বিভ্রমের স্বীকার হয়। আসলে ধারণাটা ফেইক এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। যারা এ আইডিয়া বুকের মধ্যে লালন করে তাদের একটা শ্রেণী না বুঝেই লালন করে আর একটা ভয়ংকর শ্রেণী সুবিধাভোগের জন্য লালন করে। কারণ প্রচুর সোনা-দানা না হোক, অন্তত একটা বিজাতীয় হাতছানি সম্বলিত স্বচ্ছল জীবনের নিশ্চয়তা যে এই ধারণার ভেতর লুকিয়ে আছে; এটা অস্বীকার করারও উপায় নেই।
যে কথাগুলো লিখলাম সেগুলো বুঝতে বিশেষ সমস্যা হওয়ার কথা না। তবুও আমি কেন যে বুঝতে পারতেসি না বুঝলাম না। যাই হোক, সেইদিন ব্লগে বসে খুটুর-খাটুর করছি। এমন সময় যেন আকাশ থেকে একটা পোস্ট নাজিল হলো।
বিকেলটা ছিলো বিষন্ন। অফুরন্ত সময়, কারো জন্য অপেক্ষা নেই, চোখে ক্লান্তি নেই, কারো জন্য কোথাও যাওয়া নেই। শুধুই ঘরে ফেরা, নিজের জন্য...
প্রথম প্রথম সেখানে ছোট-খাটো বিষয়ে আলোচনা হচ্ছিলো। হঠাৎ মাসুম ভাই যেন কি মনে করে একটা কবিতা লিখলো-
চোখ ভরে যে দেখতে চাও
রঞ্জন রশ্মিটা চেনো তো?
পোস্টে রায়হান ভাই আগে থেকেই ঘুরাঘুরি করতেসিলো। তো আমি মাসুম ভাইকে জিগাইলাম, ভাই এইটা কার কবিতা? রায়হান ভাই বলে, হুজুরের না। আমি বললাম, সন্দেহ লাগতেসে; ভাই বলে, এরকম রস ছাড়া জিনিস নাকি তার পক্ষে লেখা সম্ভবই না। এরপরে মাসুম ভাই আরেকটা কবিতা দিলো,
রান্নাঘর থেকে টেনে এনে স্তনগুচ্ছে চুমু খাও তাকে
এরপরে সবার যে কি হইলো এক উপরওয়ালাই বলতে পারবে। শহীদ আফ্রিদী স্টাইলে একটা হার্ড-হিটিং-ডাবল-সেঞ্চুরী করে, তারপর সেই পোস্ট থামল। অবশ্য এখনো পুরোপুরি থেমেছে বলা যাবে না। মাঝে মাঝে সেটার মধ্যে টুপ-টাপ কবিতা পড়ছে।
অদ্ভুত ব্যপার। ব্লগীয় মিথস্ক্রিয়ার এক চমৎকার এক্সাম্পল। আমার এখন মুগ্ধ হওয়া দরকার হলে আমি ঐ পোস্টটায় যাই।
এইবার বলেন এইটা কার মন্তব্য?
এমুন মন দিয়া প্রতিডা পর্ব পড়ি, আফায় আমারে কুনোদিন কোন লেখা উৎসর্গ করলো না
আসলেই ইনসাফ নাই দুনিয়ায়
এই পর্বও জমজমাট হয়েছে আপামণি। সিরিজ লিখে আমি নিজে কোনোদিন পাঠক ধরে রাখতে পারিনি, আপনি পারতেছেন দেখে এক বস্তা নির্জলা ঈর্ষা দিলাম
বলেন এই ভদ্রলোক কই? আমার ভাইটার আপনাদের সঙ্গে ১৯ নভেম্বর পাবলিক লাইব্রেরীর সামনে দেখা করার কথা। সঙ্গে আমার আম্মু দুইটা আর বিদেশী ভাবীর থাকার কথা। কিন্তু এরপর থেকে তাদের কোন খবর নাই। এর কারণ কি? জবাব দিতেই হবে।
ঢাকা শহরে প্রাইভেট কার বেড়েছে ব্যপক হারে। মানুষ-জন এখন একদম না পারলেও একটা এক্স করোলা কিনে রাখে। এত হিড়িক কেন বুঝি না। গাড়ি নাহলে কি আসলে স্ট্যাটাস থাকছে না, নাকি কি?
যাক আমার প্রশ্ন সেটা না। সিঙ্গাপুরে সিস্টেম আছে ইআরপি নামে। ইলেকট্রনিক রোড প্রাইসিং। আপনার গাড়ির মধ্যে স্লট লাগিয়ে প্রি-পে্ইড কার্ড বসানো থাকবে। ইআরপি গেট দিয়ে গাড়ি পাস্ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্ড থেকে ব্যালান্স ডেবিট হবে। এতে করে সুবিধা হচ্ছে শহরের প্রতিটি রাস্তায় ট্রাফিক সমবন্টন করে দেয়া যায়।
ঢাকা শহরেও প্রাইভেট কার চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আরোপের চিন্তা করা হচ্ছে। তাতে কোন লাভ হবে না যদি না শহরের সব রাস্তায় ট্রাফিক সমবন্টনের ব্যবস্থা করা যায়। পাশাপাশি এখানে আরো যে কাজটা করতে হবে সেটা হচ্ছে, সব ধরনের অযান্ত্রিক বাহনের জন্য আলাদা রাস্তা করে দিতে হবে। এ কাজ সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল বটে। কিন্তু আমরা কি আসলে সত্যি সত্যি কোন বিশাল ভূমিকম্পে এ শহরের অর্ধেক মানুষ মারা যাবে, তারপরে বাকীরা যারা বেঁচে থাকবো তারা আবার সবকিছু নতুন করে সাজাবো, প্ল্যান-পরিকল্পনা করে বানিয়ে নেবো যাতে কয়েকশ' কেন কয়েক হাজার বছরেও শহরের আর কিছু না হয়, সেজন্য অপেক্ষা করছি?
সেজন্য অপেক্ষায় থাকলে আসলেই খারাপ লাগার কারণ আছে। আর যদি কিছু করার ইচ্ছা থাকে তাহলে বড় আঙ্গিকেই করতে হবে। ছোট-খাটো উদ্যোগ নিয়ে লাভ নেই। এর আগে বহু উদ্যোগ নেয়া হয়েছে, কখনো কোন লাভ হয় নি।
আমার মাঝে মাঝেই ইচ্ছে করে মডু এন্ড ডেভু কোম্পানীর সঙ্গে ব্লগিং করতে। আমি গিয়ে তাদের ব্লগে খোঁচাই। লাভ হয় না, কোন উত্তর পাই না। ব্লগিং প্ল্যাটফর্মগুলো কেন? এই প্রশ্নটা আমার মাথায় ঘুর ঘুর করতে থাকে।
এটাকে কেউ কেউ বলতে চেষ্টা করে নিউ মিডিয়া। মিডিয়া অন-লাইন। যার সুবিধা অনেক। কথা ঠিক। কিন্তু আমাদের দেশে যখন কারো ব্লগিংএর অভ্যাস ছিলো না, তখন কি মিডিয়া ছিলো না? এই প্রশ্নটাকে ধরে ধরে যদি আরেকটু পেছনে যাই তাহলে কি পাই? আমরা যে বলি, মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব, এটা কে আবিস্কার করেছে? সে আবিস্কার করার আগে কি মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব ছিলো না?
আবার পৃথিবীজুড়ে সভ্যতা বলেও একটা শব্দ চালু আছে। সেটার মানদন্ডে মানুষ পৃথিবীর সভ্যতম প্রাণী। এটা কি মানুষ তার জন্ম থেকেই জানে? আমার কেন যেন মনে হয় জানে। আগের প্রশ্নটার উত্তর যদি হ্যাঁবাচক ধরে নিই, তাহলে আবিস্কারের আগ থেকেই মানুষ পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ জীব। সভ্যতা কি, সেটা জানে বলেই।
আর কেন সর্বশ্রেষ্ঠ? যে জাতের প্রাণী সবার আগে নিজেদেরকে শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা দেয়ার বুদ্ধি বের করে, সেটা স্টাবলিশ করে এবং প্রকৃতির কাছ থেকে সুযোগও পায়, তারা তো শ্রেষ্ঠই।
আমি বুঝি না এহেন সর্বশ্রেষ্ঠ জীবপ্রজাতির মধ্যে নারীবাদের মতো ফালতু একটা বিষয় নিয়ে লিঙ্গের দ্বন্দ্ব তৈরী হয় কিভাবে? এমনকি নীচতর জীবগুলোর মধ্যেও তো এ দ্বন্দ্ব নেই। তারা তো দুই প্রজাতি মিলে-মিশে সুখেই আছে। আমরা কেন পারি না? আমাদের কেন ইভটিজিং বিরোধী আইন লাগে?
বলছিলাম যে কথাটা, নিউ মিডিয়া তৈরী হয়েছে। আমরা যার যতটুকু সাধ্য সে অনুযায়ী সেটার সুফল ভোগ করছি, ঠিক আছে। তবে আরেকটা কথাও কিন্তু সত্য, দিন দিন আরো নিউ আইডিয়া'জ আসবে। সেগুলোও আমাদের সেবায় নিয়োজিত হবে। আমরা পুরোনো সেবার কথা ভুলে যাবো। যেভাবে ভুলে যাচ্ছি ডিপার্টমেন্টের কিংবা সংগঠনের দেয়াল পত্রিকার কথা। এখন আমাদের একচুয়ালি ওয়াল পোস্টিংএ এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে দেয়াল পত্রিকা নিয়ে বসার সময় কোথায়?
তাই বলতে চাই, বাবা ফেসুবক এন্ড আদার সোশ্যাল নেটওয়ার্কিংএর আইডিয়ারা, বাবারা তোমরা কিন্তু নিজেদের অক্ষয়-অমর মনে করো না।
কারণ সবকিছু ছাপিয়ে উপরে তাকালে দেখতে পাবে, আমরাই শ্রেষ্ঠ।
---
(লেখাটা প্রিয় তানবীরা'প্পু আর নাম নাই'কে উৎসর্গিত।)





একবার রামনামে যত পাপ হরে নরের সাধ্য নাই তত পাপ করে
মন্তব্য করুন