অন্তরমাঝে তুমি শুধু একা একাকী
সকাল ছয়টা। হোটেল রূপসী বাংলার সামনে গিয়ে রিকশা থেকে নামলাম। পল্টন মোড়ে একটা নিউ রূপসী বাংলা হোটেল আছে। সেটা না, আমি নেমেছি পুরোনো শেরাটন হোটেলটার সামনে। স্টারউড গ্রুপ যাকে ছেড়ে যাওয়ার পর, নতুন নাম হয়েছে রূপসী বাংলা। আশা করছি নামের পাশাপাশি সেবার মানেও সৌন্দর্যবৃদ্ধি ঘটবে।
তো সাতসকালে সেখানে গিয়ে রিকশা থেকে নামার একটা কারণ আছে। এখান থেকে আমাদের একটা যাত্রা শুরু হবে। রবীঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত শাহজাদপুর ও শিলাইদহের উদ্দেশ্যে। সকালের ঘুমটুকু বিসর্জন দেয়া আমার জন্য মারাত্মক ব্যপার। ডাক্তারও বলে আমি যেন সকালে ঘুম থেকে না উঠি। তাহলে নাকি আমার মেজাজ সারাদিন খিটখিটে থাকে। তাই খুব কম কারণেই আমি এই ঘুমের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ করি। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পরীক্ষাগুলো ব্যতিক্রম ছিলো। নয়টার পরীক্ষা দেয়ার জন্য সকাল আটটায় বাসা থেকে বের হতে হতো। সে সময় সাইকেল ছিলো না। পরে মাস্টার্সে উঠে যখন একটা সাইকেল জোগাড় করতে পারলাম, তখন পাগলা দাশুর সেই গল্পের মতো পুরস্কারটা অন্য বিষয়ের জন্য বরাদ্দ হয়ে গেল। মাস্টার্স পরীক্ষাগুলো শুরু হতো বেলা দেড়টায়।
যাক্ ঠাকুরবাড়িতে বেড়াতে যাবো, এ বিষয়টাকে গুরুত্ব সহকারেই নিলাম। সময়ের আগে হাজির হয়ে গেলাম। ততক্ষণে আমাদের সমন্বয়কারী মিনুল ভাই গাড়ি নিয়ে জায়গামতো দাঁড়িয়ে গেছেন। তিনটা গাড়ি। তিনটাই মাইক্রোবাস। দুইটা টয়োটা একটা হায়াস্। দুইটা সিলভার একটা কালো। আমি কালো'টা প্রিফার করলাম। কেন করলাম জানি না। কিন্তু মানুষের সিদ্ধান্ত যে কাজের ওপর কি প্রচণ্ড প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে, সে বিষয়ে হাতেকলমে জ্ঞানার্জন হয়ে গেল সেদিন। এই গাড়িটায় না চড়লে অনেক কিছু থেকেই বঞ্চিত হতাম।
যাওয়ার সময় ঢুলু ঢুলু চোখে তোমারেই করিয়াছি জীবনেরও ধ্রুবতারা' শুনতে বেশ লাগছিলো। আমাদের গাড়িতে সেসময় কেবলমাত্র টোনা এসে বসেছেন। টুনি তখনো আসেন নি। এই ভ্রমণকাহিনীতে একজোড়া টোনা-টুনির গল্প আছে। টোনা উদ্যোগী হয়ে সবার সঙ্গে হাত মেলালেন এবং নিজের ভারী পরিচয়টুকু প্রচার করলেন। আমরা চার-ছয়জন ইঁচড়ে পাকা একসঙ্গে বসেছিলাম। ফলে ভদ্রলোক তার ভারে ঠিক কাটলেন না।
টুনির সঙ্গে তার দেখা হলো জাতীয় স্মৃতিসৌধের উল্টোদিকের পর্যটন কর্পোরেশনের মোটেলটায়। সেখানে আমরা নাস্তা করতে নেমেছি। খেতে খেতে খেয়াল করলাম টোনার দু'চারজন প্রতিযোগীও আছে। তবে আমাদের টোনাবাবু পারদর্শী খেলোয়াড়। ভালোই খেললেন। গোটা চারেক লেফট ব্যক-রাইট ব্যককে কাটিয়ে, গোলকীপার পরাস্ত করা দারুণ একখান শটে বল জালে জড়িয়ে, টুনিকে জয় করে নিয়ে এলেন। দু'জনের বয়স ৪৭-৪৫ এর কম হবে না। অবশ্য তাতে সমস্যা কি? হলিউডে তো পঞ্চাশ পেরোনোর আগে লোকজনের ঠিকমতো খোলতাই'ই হয় না। আমি সাময়িকভাবে এসব চিন্তা বাদ দিয়ে খোলা হাওয়া লাগিয়ে পালে’র সুরে আস্তে আস্তে ঘুমিয়ে পড়লাম।
ঘুম থেকে উঠেছি টাঙ্গাইল বাইপাসের কাছাকাছি কোথাও। প্রথমেই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত একটা লাশ চোখে পড়লো। এক ঝলকের জন্য ওটা দেখেছিলাম। তারপরেই গাড়ি সাঁ করে বেরিয়ে গেল। বেশ কিছু মানুষ লাশটা ঘিরে দাঁড়িয়ে ছিলো। পাশে স্ট্যান্ড করে রাখা লাল রঙএর পালসার ১৫০ ডিটিএসআই'টা বলে দিচ্ছিলো দুর্ঘটনার ইতিবৃত্ত। এ প্রসঙ্গে অবশ্যই যে কথাটা না বললেই নয়, হেলমেটের দাম দুইশ আশি থেকে বড়জোর দুই হাজার পাচশ' টাকা। এরচে' বেশি দামের হেলমেট বাংলাদেশের রাস্তায় চলার জন্য পরা লাগে না। কিন্তু জীবনের কোনো মূল্য হয় না। সুতরাং মাথায় রাখতে হবে; কথা ও হেলমেট- দু’টোই। নিজের জন্য না হলেও প্রিয়জনদের জন্য।
গাড়ির ভেতর মনোযোগ দিলাম। শুনতে পেলাম টুনি একনাগাড়ে কিচির কিচির করে যাচ্ছেন। টোনা হু হা ছুঁড়ে আর মাথা ঝাকিয়ে সায় দিচ্ছেন। মিনুল ভাই এ গাড়িতেই উঠেছেন। তিনিও রাতের বকেয়া ঘুমটুকু পুষিয়ে নিচ্ছেন। সময় কেটে যাচ্ছিলো দ্রুতই। আমরা চলতিপথে প্রথম বাধাটির সম্মুখীন হলাম সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া মডেল থানার মোড়ে। বাজারমতো সেই জায়গাটার নাম শ্রীখোলা। আমরা তখন গাড়িতে বসে ইস্পাহানি কোম্পানীর একটা চিপস্ খাচ্ছি আর হৈ চৈ করছি। সবাই মোটামুটি এক দফা ঘুম দিয়ে উঠেছে। কেবল টোনা-টুনি বাদে। কিছু একটা নিয়ে হাসি-ঠাট্টা চলছিলো। ফুরফুরে মেজাজে ছিলাম সবাই। হঠাৎ দুইটা ঝাঁকি দিয়ে গাড়ি বন্ধ হয়ে গেল। গুণধর ড্রাইভারটা আগ থেকে কোনো সিগন্যাল দেয় নি।

তখন সোয়া এগারটা বাজে। গাড়ি সেই যে বসলো, আর উঠলো না। গ্যাস নাকি শেষ হয়ে গেছে। পাশ্ববর্তী বাজারে তেলও নাই। বুঝতে পারছিলাম না, এরকম একটা লং রুটে বের হওয়ার আগে একজন ড্রাইভার কিভাবে মাত্র দেড়শ' কিলো যাওয়ার গ্যাস মজুদ করে রওনা দেয়। রিকশায় করে দূরের এক বাজার থেকে অকটেন কিনে আনা হলো। সেটা আনার পর বোঝা গেল, গ্যাসই একমাত্র সমস্যা নয়। আরো অচিহ্নিত সমস্যা রয়ে গেছে। ড্রাইভারের মুণ্ডচর্বণের একটা ইচ্ছে হচ্ছিলো। অনেক কষ্টে নিজেকে বিরত রাখলাম।
উল্লাপাড়া থেকে শাহজাদপুর বেশি দূরের রাস্তা না। আমাদের বহরের একটা গাড়ি শাহজাদপুরে লাটসাহেবদের নামিয়ে আবার কিছুটা পথ ফিরে এলো। এসে আমাদেরকে তুলে আবার অগ্রসর হলো। যখন শাহজাদপুরে নামলাম তখন রোদ মাথার ওপর চড়ে বসেছে। দেখলাম প্রচুর মানুষ হাজির হয়েছে রবীঠাকুরের জন্মদিনের পার্টিতে যোগ দেয়ার জন্য। সবই ভালো লেগেছে, কিন্তু পুরো বিষয়টির অঙ্গে অঙ্গে বিদেশি কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের ছিল-ছাপ্পড় দেখতে ভালো লাগে নি।
রবীঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত যে দু’টো স্থান পরিদর্শন করবো, তা নিয়ে একটা প্রতিবেদন রচনা করতে হবে। কিন্তু সেটা আমার কাছে গৌণই মনে হচ্ছিলো। স্থানীয় প্রতিনিধিরা নিশ্চই কিছু একটা করবে-টরবে। আমি গাএ বাতাস লাগিয়ে ঘুরছিলাম। আমার পাশের জন ছিলেন ডিপার্টমেন্টের এক বড় ভাই। তার স্নেহপ্রবণতা মাত্রাতিরিক্ত। তিনি সব বিষয়ে ভয়ংকরভাবে আমার খোঁজখবর রাখছিলেন। যে কারণে বাতাস খাওয়াটা আরো আনন্দদায়ক হয়ে উঠেছিলো।

শাহজাদপুরে একটা কাছারিবাড়ী আছে। এটা প্রথমে রাণী ভবানীর জমিদারীর একটা অংশ ছিলো। পরে ঠাকুর পরিবার সেটা কিনে নেয়। রবীঠাকুর ১৮৯০ থেকে ১৮৯৭ পর্যন্ত সেখানে যেতেন। জমিদারী দেখভাল ও সাহিত্যচর্চা করতেন। দেখলাম তার ব্যবহার্য জিনিসপত্র, খাট-পালংক, বেসিন, চেয়ার-টেবিল ও হাড্ডি-পাতিল সাজিয়ে রাখা হয়েছে। সবচে’ যেটা মন কেড়েছিলো সেটা হচ্ছে বিশাল টানা বারান্দা। আজকালকার দিনে অমন টানা বারান্দা বোধহয় পাওয়াই সম্ভব না। পেলে আমি একটা বারান্দা ভাড়া নিতাম। একপাশে খাটিয়া পেতে শুয়ে থাকার ব্যবস্থা করতাম। দিন-রাত শুয়ে শুয়ে নোটবুকের মনিটরে চোখ ডুবিয়ে সময় পার করে দিতাম। আর কিছু করতাম না।

বিশ্বকবি এ বাড়ীতে বসে সোনার তরী কাব্যগ্রন্থের বৈষ্ণব কবিতা, দুই পাখি, আকাশের চাঁদ, পুরস্কার, হৃদয়, যমুনা, ব্যর্থ যৌবন, ভরা ভাদরে, প্রত্যাখ্যান ও লজ্জা কবিতাগুলো লিখেছিলেন। লিখেছিলেন চিত্রা কাব্যগ্রন্থের চিত্রা, শীতে ও বসন্তে, নগর সঙ্গীত; চৈতালী’র নদীযাত্রা, মৃত্যূ মাধুরী, স্মৃতি, বিলয়, প্রথম চুম্বন, শেষ চুম্বন, যাত্রী, তৃণ, ঐশ্বর্য, স্বার্থ, প্রেয়সী, শান্তি মন্ত্র, কালিদাসের প্রতি, কুমার সম্ভব গান, মানসলোক, কাব্য, প্রার্থনা, ইছামতি নদী, শুশ্রুষা, আশিষ গ্রহণ ও বিদায় এবং কল্পনা কাব্যগ্রন্থের নব বিরহ, লজ্জিতা, বিদায়, হতভাগ্যের গান, কাল্পনিক, যাচনা, সংকোচ ও মানস প্রতিভা কবিতাগুলো। এছাড়া গল্পগুচ্ছের আটটি গল্প, ছিন্নপত্রাবলী’র ৩৮ টি পত্র, পঞ্চভূত প্রবন্ধের অংশ বিশেষ, মেয়েলী ছড়া (ক্ষুদ্রনাটক) ও বিসর্জনও (নাটক) এখানেই বসে লেখা হয়।
রবীঠাকুরের সাহিত্যকর্মে শাহজাদপুরের ভালোই প্রভাব আছে। এখানকার প্রকৃতি ও জীবনের বিচিত্র সৌন্দর্য দেখে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। এর প্রমাণ আছে তার লেখায়। ছিন্নপত্রাবলী ঘেঁটে কবির একটা চিঠি পেলাম। এটা ৫ জুলাই ১৮৯২-এ লেখা। রবীসাহিত্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হচ্ছে চিঠিপত্র। জীবদ্দশায় অনেককে তিনি চিঠি লিখেছেন। এই চিঠিটা আমার কাছে মারাত্মক লেগেছে।
"আজ সকালে একটা সানাইয়েতে ভৈরবী বাজাচ্ছিল, এমনি অতিরিক্ত মিষ্টি লাগছিল যে সে আর কী বলব—আমার চোখের সামনেকার শূন্য আকাশ এবং বাতাস পর্যন্ত একটা অন্তর্নিরুদ্ধ ক্রন্দনের আবেগে যেন স্ফীত হয়ে উঠেছিল–বড়ো কাতর কিন্তু বড়ো সুন্দর–সেই সুরটাই গলায় কেন যে তেমন করে আসে না বুঝতে পারি নে। মানুষের গলার চেয়ে কাঁসার নলের ভিতরে কেন এত বেশি ভাব প্রকাশ করে! এখন আবার তারা মূলতান বাজাচ্ছে–মনটা বড়োই উদাস করে দিয়েছে–পৃথিবীর এই সমস্ত সবুজ দৃশ্যের উপরে একটি অশ্রুবাষ্পের আবরণ টেনে দিয়েছে–এক-পর্দা মূলতান রাগিণীর ভিতর দিয়ে সমস্ত জগৎ দেখা যাচ্ছে। যদি সব সময়েই এই রকম এক-একটা রাগিণীর ভিতর দিয়ে জগৎ দেখা যেত, তা হলে বেশ হত। আমার আজকাল ভারি গান শিখতে ইচ্ছে করে–বেশ অনেকগুলো ভূপালী... এবং করুণ বর্ষার সুর–অনেক বেশ ভালো ভালো হিন্দুস্থানী গান–গান প্রায় কিচ্ছুই জানি নে বললেই হয়।"
জমিদারী ভাগাভাগির ফলে কাছারিবাড়ী ঠাকুর পরিবারের অন্য শরীকদের হাতে চলে যাওয়ায় কবি কষ্ট পেয়েছিলেন। বলা হয়ে থাকে, এজন্যই ১৮৯৭-এর পর তিনি আর সেখানে যান নি। তবে জায়গাটিকে তিনি ভালবেসেছিলেন এটা সত্য। মৃত্যূর এক বছর আগেও শাহজাদপুরের ডাক্তার নারায়ণ নন্দীকে চিঠি লিখে নিজের শরীরের অবস্থা জানান কবি।
কাছারিবাড়ীর সীমানার ভেতর একটা ভৌতিক অডিটোরিয়ামের দেখা পেলাম। এটা নব্বুই দশকে তৈরী। সাউন্ড সিস্টেমে গড়বড় থাকার কারণে এর ভেতরে ভুতুড়ে বাড়ির মতো প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হয়। একজন শিল্পী গান গাইলে মনে হয় কোরাস্ গান হচ্ছে। কোরাস্ গাইলে মনে হয় হুল্লোড় হচ্ছে। একটা গান শেষ হলে পরে কিছুক্ষণ চুপ করে থাকতে হয়। প্রতিধ্বনি থামার সময় দেয়া লাগে। অডিটোরিয়ামের কাস্টডিয়ানকে এ ব্যপারে জিজ্ঞেস করতেই বের হয়ে এলো একরাশ অভিযোগ।
অডিটোরিয়ামখানা উদ্বোধন করেছিলেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। ২০০১ সালে। তখন থেকেই এ সমস্যা চলমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দেয়ার সময় মোহাম্মদ নাসিম নিজেও নাকি এ সমস্যায় পড়েছিলেন। তখন তিনি এটা ঠিক করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে ধমকে বলেছিলেন, এরপরে যখন এই অডিটোরিয়ামে আসবো তখন যেন এ সমস্যা আর না দেখি। কালে কালে যমুনা নদীর ওপর দিয়ে অনেক পানিই গড়িয়ে গেছে। মোহাম্মদ নাসিমও নখদন্তহীন বুড়ো বাঘে পরিণত হয়েছেন। তার সেই ঠাঁট-বাট গত হয়েছে। অথচ উত্তরবঙ্গের পাবনা-সিরাজগঞ্জ-কুষ্টিয়া বেল্টে একসময় মোহাম্মদ নাসিম অপ্রতিদ্বন্দি ছিলেন। যাক্ অডিটোরিয়ামের একপাশে দেখলাম রবী বাবুকে পোর্ট্রিফাই করে রাখা হয়েছে। আর সে পোর্ট্রেটের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার জন্য লাইন দিয়েছেন অনেকেই। আমি অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে একবার কবিকে একা পেলাম। একটা ছবি তুলে নিলাম।

ছবিটি তোলার পরই চোখে পড়লো একটা গোলাকৃতি বাঁধানো ফুলবাগান। অবশ্য কাছারিবাড়ীতে প্রচুর ফুলের গাছ আছে। মূল বাড়ির সামনে তো বিশাল এক বাগান। এতবড় বাগান কোনো বাড়িতে এর আগে আমি দেখি নি। ফুলের সমারোহ দেখতে ভালো লাগছিলো। কিন্তু সেদিন চারিদিকে এত মানুষ গিজগিজ করছিলো যে কহতব্য নয়। ঠিক করে ফেললাম, জায়গাটায় নিরিবিলি সময়ে একবার যাবো। কাছারিবাড়ীর অতিথিদের জন্য একটা ভিআইপি বিশ্রামাগার আছে। সেখানে এমনকি বিছানাও পাতা আছে। কাস্টডিয়ান ব্যটার সঙ্গে তো পরিচয় হলোই। সে আমাকে যেকোন সময় বেড়াতে যাওয়ার দাওয়াত দিয়ে রেখেছে। কয়েকটা উন্মুক্ত দিন পেলেই বাক্স-প্যাটরা গুছিয়ে চলে যেতে পারি। আর সিরাজগঞ্জের পাশেই আছে কুষ্টিয়া। ফকির লালন শা'র দেশ। লালনের মাজার থেকে বাজার-সদাই করে একবার গিয়ে কাছারিবাড়ীর বিশ্রামাগারে উঠে পড়তে পারলেই ব্যস্। দু'দশদিন দরজার খিলই খুলবো না। আর সে ক'টা দিন যদি ঝুম বৃষ্টি হয়, তাহলে তো কথাই নেই। সবসময় জানালা খুলে রাখতে হবে। যাতে বৃষ্টির পরিবেশটা আমার ঘরের ভেতরেও বিরাজ করে, পুরোমাত্রায়।

শাহজাদপুর বাজারের ভেতর ঘরোয়া নামের একটা হোটেলে দুপুরের খাদ্য গ্রহণ করলাম। ইদানীং দাঁতের সমস্যা কারণে খাওয়া-দাওয়াটা শান্তিমতো হচ্ছে না। বিশেষত কোনোকিছুর মাংসই খাচ্ছি না। হোটেলটার রান্না-বান্নার মান খুব একটা সুবিধার ছিলো না। আমাদের ত্রিশ-বত্রিশ'জনকে একসঙ্গে ঢুকে পড়তে দেখে মালিক হয়তো ভয় পেয়ে গিয়েছিলেন। খাবার-টাবার যা কিছু ছিলো সব লুকিয়ে ফেলতে বললেন কর্মচারীদের। তাই আমরা যে যাই চাই, সেটাই তখন নাই নাই। রয়েছে শুধু রুইমাছ আর মুরগী। কেউ কেউ তাই খেলো। তাদের মধ্যে আমিও একজন। রুইমাছ আর মোটা চালের ভাত দিয়ে দুপুরের খানাপিনা সারলাম।
এরপর জানতে পেলাম, আমাদের সেই গাড়ি মেরামত করতে পাঠানো হয়েছে। এখন তারই অপেক্ষা। অব্যবস্থাপনার পাকেচক্রে আরো ঘন্টা দু'য়েক নষ্ট হলো। আমি অবশ্য সেই সুযোগে বেশ একটু আলসেমী করে নিলাম। চা, সিগারেট, আরএফএল প্লাস্টিকের চেয়ারে হেলান এবং পাএর ওপর পা সহযোগে। একসময় শুনলাম আমাদের বসে যাওয়া গাড়ি নাকি উঠে দাঁড়িয়েছে। বিকেল পাঁচটার পর রওনা হলাম কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে।
পথে পরলো পাবনা। বিরাট এক জেলা। শেষই হতে চায় না। পাক্কা দুইটি ঘন্টা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে চলে তবে সেই জেলা নিষ্ক্রান্ত হলো। আমরা একটুখানি ঈশ্বরদী ছুঁয়ে উঠে গেলাম লালন শা' সেতুতে। এই সেতুর পরই কুষ্টিয়া। সেতুতে কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম। সেতু পার হবার সময় আমি সবসময়ই নামার জন্য হইচই শুরু করি। সেতুর ওপর ঘুরঘুর করতে আমার অস্বাভাবিক আনন্দ হয়। আমাদের লোক-জন অবশ্য নেমেই ফটোসেশনে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। সেই ফাঁকে আমিও একটা ছবি তুলে নিলাম।

টোনা-টুনি মূলত গাড়িতেই একটু লোকচক্ষুর সামনে থাকছিলো। কোনো ভাবে গাড়ি থেকে নামতে পারলেই ওদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিলো না। তবে একবার গাড়ির ভেতরেই টুনি টোনার গাএর এত বেশি উপরে উঠে গিয়েছিলো যে, পাশে মিনুল ভাই এবং পেছনে আমরা সবাই বেশ অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছিলাম। এছাড়া আর তেমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে নি।
এরই মধ্যে গাড়ি আবারো টেনশন দেয়া শুরু করেছে। গ্যাস ফুরিয়ে আসছে দ্রুত। এসি বন্ধ করে দেয়া হলো। আসলে গাড়িটায় সিলিন্ডার লাগনো আছে মোটে একটা। একবার ভরলেও খুব বেশিদূর যাওয়া যায় না। তেলের টাংকিতেও কিছু একটা গরমিল আছে। তেল দিয়ে চলা যাচ্ছে না। গরমের মধ্যে উত্তরের পথে চলছি। এসি ছাড়া থাকাও মুশকিল। সন্ধ্যা ততক্ষণে সাড়ে আটটার কাঁটা ধরে ফেলেছে। চিন্তা করে দেখলাম, এরপরে শিলাইদহে ঢুকলে আর বাড়ি ফিরতে হবে না। মিনুল ভাইএর কাছে জানতে চাইলাম, শিলাইদহে না ঢুকলে কেমন হয়?
মিনুল ভাইও মনে হয় তাই চাচ্ছিলেন। জার্নিটায় ফেনা ধরে যাওয়ার পেছনে অন্যতম কারণ ছিলো গাড়ির দুরাবস্থা। যাত্রার বারোটা বাজিয়েছে যন্ত্রটাই। আমরা পেছনের চার-ছ'জন সময় কাটানোর জন্য শেষ অক্ষর দিয়ে গান গাওয়ার খেলা শুরু করলাম। রাত্রি দশটায় আমাদের ধুকধুকে গাড়ি একটা গ্যারেজে ঢোকানো সম্ভব হলো। গ্যারেজ মালিক বললেন, টাংকি ঠিক করতে দুই ঘন্টা সময় লাগবে। এরপরে আর শিলাইদহে না ঢোকার সিদ্ধান্তটা নিতে আমাদের কারোই বেগ পেতে হলো না। খালি টোনা-টুনি কোনো কথা বললো না।

এই সময়ে খাদ্যগ্রহণের অভিলাষে আমরা শহরের একটা বড় আকারের হোটেলে প্রবেশ করলাম। খেতে বসে এবারও বিশেষ আরাম হলো না। খাসির মাংস ঠিকমতো কষাতেই পারে নি। খাওয়া শেষে আমরা ক'জন বাইরে এসে অগ্নিকাণ্ড ঘটালাম।
আমরা উঠে যাওয়ার পর নাকি টোনা-টুনি মিনুল ভাইকে চেপে ধরেছিলো, যত রাতই হোক কুঠিবাড়ীতে একবার ঢু দেয়ার জন্য। মিনুল ভাই জানতে চেয়েছিলেন, যখন সবাই ছিলো তখন বলেন নি কেন?
ওরা উত্তর করেছিলো, ডেঁপোগুলির সামনে কোনো কথা কি পাড়া যায় নাকি? কিছু একটা বললেই ফট করে উত্তর দিয়ে বসে বাবারে বাবা। সবাই যেহেতু কুঠিবাড়ী দেখবো বলে সেই সকাল থেকে এতটা পথ ডিঙিয়ে এসেছি, সেটা না দেখে কি যাওয়া যায়? রাত বাড়ছে বাড়ুক না, যত রাত ততই তো মজা।
মিনুল ভাই গাড়ির সমস্যার দিকে আলোকপাত করতে চাইলে তারা পাত্তাই দিলেন না। আরে দুর দুর। গাড়িতে ওসব সমস্যা একটু-আধটু হয়ই। ও নিয়ে এত ঘাবড়ালে চলে নাকি? আর যেতে যদি না'ই পারি, তাহলে সার্কিট হাউস বা অন্য কোনো উপায় তো আছেই।
আমরা সেই আলোচনায় ছিলাম না। কিছু জানতামও না। পরে মিনুল ভাইএর কাছ থেকে শুনেছিলাম। গাড়ি গ্যারেজ থেকে বের হওয়ার পর যখন সবাই বসে-টসে নিয়েছি, গাড়িও স্টার্ট নিয়েছে; তখন ড্রাইভারকে বলা হলো, এদিক-ওদিক-কোনদিকে না, সোজা ঢাকায় চলো। সে সময় টুনি বেগম হয়তো কানে তুলো দিয়েছিলেন। মিনুল ভাই বেশ ক'বার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে তার মতামত জানার চেষ্টা করলেন। বলা ভালো তাকে মতপ্রকাশের সুযোগ করে দিলেন। তখন বেগম কোনো আওয়াজ দিলেন না। কিন্তু শিলাইদহ পেরিয়ে গাড়ী রাজবাড়ির পথ ধরতেই তিনি কঁকিয়ে উঠলেন- আমি কুঠিবাড়ী যাবো।
এরপর ঘন্টাখানেক বেশ নাটক চললো। মহিলাদেরকে মহিলা হিসেবে সম্মান দেয়াটা আমি কতর্ব্যজ্ঞান করি। কিন্তু যে নিজের সম্মান নিজে রাখতে পারে না, তার বোঁচকা টানার দায়িত্ব কার? নানা রকমের ঢং দেখলাম। এক-একবার সেই মাঝরাত্তিরে বান্ধবীকে ফোন করে বলেন, এ্যাই একটু গালি দে তো। অনেকদিন গালি দিই না। তুই একটু বলবি কয়েকটা গালি? আবার হয়তো আরেকজনকে ফোন করে বলেন, আমরা শিলাইদহ দেখতে এসেছিলাম। সরকারী লোকগুলো না এত খারাপ, এক জায়গায় নেয়ার কথা বলে আরেক জায়গা ঘুরিয়ে নিয়ে ফিরে যাচ্ছে! শুনলাম আরেকজনকে বললেন, সারাদিন এক রামছাগল আঁঠার মতো আঁটকে থাকলো রে, মেজাজ খুব খারাপ। তবে মহিলা নিজের জাত চিনিয়ে দিলেন মিনুল ভাইকে একটি কথা বলে, সকালে মোহাম্মদপুর থেকে রূপসী বাংলা যেতে ১০০ টাকা রিকশা ভাড়া লেগেছে। যেহেতু ট্যূরটা পুরোই লস্এর খাতায় গেলো, তাই আমার ১০০ টাকা দিয়ে দেবেন।
ইতোমধ্যে নতুন একটা আতংক সবাইকে পেয়ে বসলো। ড্রাইভার একটু পর পর চোখ বন্ধ করে ঢুলে পড়ছে স্টিয়ারিংএর ওপর। এটা সর্বপ্রথম টের পেলেন তার পাশে বসে থাকা লোকটি। তিনি একটা ক্যামেরা নিয়ে সারাদিন আমাদের সঙ্গে সঙ্গে ঘুরেছেন। নেহায়েত নিরীহ মানুষ। এই ঘটনা দেখে দোয়া-কলেমা পড়তে শুরু করেছেন। পাশ দিয়ে কোনো ট্রাক গেলেই সে কলেমা পাঠের আওয়াজ বেড়ে যায়। আমি কয়েকবার এরকম দেখে তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ঘটনা কি? তিনি তখন ঘটনা খুলে বললেন। আসলে পুরো বিষয়টাকে পূর্ণতা দেয়ার জন্য এই একটি জিনিসই বাকী ছিলো। এ্যক্সিডেন্ট। আমার মনে হলো, সেটাও বুঝি পূর্ণ হবে আজ।
বড় ঠাকুরের (ইনি রবীঠাকুর নন) কৃপাতেই বোধহয় দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত নির্ঝঞ্ঝাটে পৌঁছুলাম। সেখানে গিয়ে ভালো লাগলো। রো রো ফেরিঘাট থেকে একটা ফেরিতে চড়ে বসলাম গাড়িসমেত। নদীর বাতাসে একটা কিছু আছে। শরীরের প্রতিটি কণাকে চনমনে করে দিয়ে যায়। আমি ফুসফুস ভরে মুক্ত বাতাস টেনে নিলাম। সকালের নাস্তার পর এইক্ষণে আবারো তিন গাড়ির লাটসাহেবেরা সবাই এক হলাম। কুশলাদি ও শলাকা বিনিময় হলো। সবাই খানিকক্ষণ উদাস চোখে অন্ধকার নদীর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে ধোঁয়া উড়ালাম। সারাদিনের ধকলের ছাপ চেহারা থেকে দূর হয়ে গেল মাত্র ২০ মিনিটের নদীভ্রমণে। তবে হ্যাঁ, সেদিন পদ্মা ছিলো ঠান্ডা আর অন্ধকারে ঠাসা। আকাশে ছিলো জমকালো মেঘ আর বিদ্যূতের ঝলকানি।

এরপরে ঘটনা খুব দ্রুত ঘটলো। মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকা আসার পথে ড্রাইভার দু'তিনবার ঘুম তাড়ানোর জন্য পান খেতে নেমেছিলো। এছাড়া আর তেমন কিছু ঘটে নি। আমি অবশ্য নিজেকে ভবিতব্যের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলাম। কোনো ট্রাকের সঙ্গে আজ যদি ধাক্কা একটা লেগেই যায়, লাগুক। কিচ্ছু যায়-আসে না। যদি দরকার থাকে তাহলে প্রকৃতি নিজেই আমাকে আগলে রাখবে।
লোকজনের সঙ্গে হ্যন্ডশেক করে কল্যাণপুরে নেমে গেলাম। সেখানে ডিপার্টমেন্টের ভাইএর অফিসের গাড়ি এসে বসে ছিলো। তিনি নামিয়ে দিয়ে গেলেন বাসার সামনে। যখন নামলাম, তখন আকাশ একটু একটু ফর্সা হতে শুরু করেছে কেবল। এক সকাল ছয়টার কাছাকাছি সময়ে ঘর থেকে বের হয়েছিলাম। ফিরলাম আরেক সকাল ছয়টার কাছাকাছি সময়ে। ঘরে ঢোকার সময় ভাবছিলাম, মানুষের জীবন থেকে সবকিছু কত দ্রুতই না ফুরিয়ে যায়।
---
ভ্রমণকাহিনী লেখা সহজ নয়। গত কিছুদিনে নানান জায়গা ভ্রমণ করেও লিখতে পারি নি প্রায় কিছুই। এবার একটু অপচেষ্টা চালালাম। লেখাটা প্রিয় মেসবাহ ভাইকে উৎসর্গিত। আমার সবসময়ই মনে হয়, ঘুরাঘুরি ব্যপারটার সঙ্গে তার একটা আলাদা যোগাযোগ আছে। 





টুনিরে দেকতে মন ছায়
ভ্রমণগল্প তো সেরম। টুনি আপার ফোনালাপ
আছেন কিরাম?
আছি ভালোই
রবীবাবুর ছবিটা অনুমতি ছাড়াই নিয়া গেলাম।
সমুদ্র দর্শনের কাহিনী পোস্ট করেন।
টোনাটুনি বাদ । ওরা টুন টুন করতে থাকুক। আপনি যে পিউ কাঁহা পিউ কাঁহা করতে করতে গলা শুকালেন ভাই।
কয়েকদিন আমিও খুব ঘুরলাম। ভ্রমন কাহিনী লিখব লিখব করি কিন্তু কিছু লিখা হয় না।।
পিউ কাঁহা কি জিনিস বুঝলাম না। একটু বুঝায়ে যদি অজ্ঞানের উপকার করতেন...
Bloge dhukte parina. tar upor emon post! amader nen nai, tai minus.
Hi! looking great. How are ya?
valo na. mon khrap. bloge dhukte parina. tar upor mainse lov dekhay mir post dise.
বাংলা ব্লগে ইংলিশে কথা বার্তা চলতোইন্ন।

keno dhukte paren na? na dhukte parle likhchen kivabe? eta ki kono punishment?
দুদিন যাবৎ অফিসে থাকলে ব্লগে ঢুকতে পারি না। চোরাই পথে ঢুকলে বাংলায় কমেন্টের অপশন আসে না। তাই বাংলিশ।
punishment হতেও পারি। কিন্তু কেন তা তো জানি না! খুশী হইছেন? দুইন্যাইত ভালোবাসার দাম নাই।
দুদিন যাবৎ অফিসে থাকলে ব্লগে ঢুকতে পারি না। চোরাই পথে ঢুকলে বাংলায় কমেন্টের অপশন আসে না। তাই বাংলিশ।
punishment হতেও পারে। কিন্তু কেন তা তো জানি না! খুশী হইছেন? দুইন্যাইত ভালোবাসার দাম নাই।
খুশি হই নাই। দুইন্যাত ভালবাসার দাম নাই নাকি? ঝানতাম না তো।
মীর ভাইয়া এতো বড় একটা ভ্রমণ, আমাদের একবার জানাতে পারতেন। আপনার সাথে না হোক, একাই না হয় যেতাম। দেখে আসতাম আমাদের আর এক ঠাকুরজীকে
হ তাইতো, জানাইতে পারতাম। অসুবিধা নাই। নেক্সট টাইম জানায় দিবাম। শুভেচ্ছা।
পুরা পড়তেই পারলাম না
পরে পড়ে নেবো বাকিটা
আপনার লেখার হাত বেশ
রবিবাবুকে নিয়া বিদেশি হায়েনারাও এখন ব্যবসা করে
একটা ছবি দেখলাম মুঠোফোন কোম্পানির বিজ্ঞাপন দিয়া স্টেজ বাঁধানো
একটা রাষ্ট্র কতোটা নীচে নামলে এইসব কাজ কম্মে মদদ দেয়!রাষ্ট্র যদি নাই পারে তবে ক্যান ঐসব লোকদেখানো কাজকম্ম করতে যায় 
মনির আপনিই মনে হয় প্রথমজন যে আমার একটা লেখা পুরা পড়ার চেষ্টা করলেন। অনেক ধন্যবাদ।

তবে না পড়ে কমেন্টানোর বিদ্যাখানি যত তাড়াতাড়ি পারেন আয়ত্ব করে নিন। কারণ আমার লেখা পুরাটা পড়ার যোগ্য হয় না কখনোই।
এই কথার মানে কি?

আমরা লেখা পুরা না পড়েই কমেন্ট করি?
মীর এর এই কথার তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানাই।
পুরাটা পড়ে হতাশ হলাম।

তবু বলবো কুষ্টিয়ার খাবার ভালো লাগে নাই।
ব্যাটা মাইর খাবি।
রাত ১১টার সময় হোটেলে গেলে সেই হোটেলের খাবারতো অকষানোই হবে। আর সারাদিন টুনাটুনির লীলাখেলা দেখলে মুখের রুচিও থাকার কথা না।

ভ্রমণকাহিনী তো পাইলাম, ছোট গল্প ছাড়েন তো আরো কিছু
পোস্ট করেছেন: (০)
কমেন্ট করেছেন: (৮৯)
সময়কাল
3 সপ্তাহ 5 দিন
=====================================
একটা কুইজ। এটা কার পরিসংখ্যান??

আরে ভাই আগে কমেন্ট করে হাত পাকাই, পরে লেখালেখি করা যাবে
আচ্ছা ছাড়বো। শুভেচ্ছা।
রবির সার্ধশত জন্মবার্ষিকী। এটা কোন রবি? রবিঠাকুর না সাবেক একটেল? বিভ্রান্তিতে পড়ি বিজ্ঞাপন দেখে।
ভ্রমন কাহিনি দারুণ লাগল।
একটেল এবারে যা করলো, অসহনীয়।
হাসেন ক্যান? লাইনটায় কি বানান ভুল হইসে?
আপনার ভুল বের করবো আমি??? কি কন? কই পালাই?
লাইনটা পড়ে হাসি পাইল তাই হাসলাম।
টুনির মা গানটা শুনছেন? আমরা এইটা গলা ফাটাইয়া গাইতাম চান্স পাইলেই
এই কাজটা করা হয় নাই অবশ্য
যাক্ আপনের ভ্রু কুচঁকে আছে কেন? পেটে ব্যথা?
স্ট্রেইট ফেইস ইমোটা এইখানে এইরকম রাগ রাগ ইমো ভুলে যাই শুধু। স্ট্রেইট ফেইস মানে : | টার মধ্যে একটা 'কি আর কমু' ভাব আছে যেইটা এইখানকার চেহারাটাতে নাই।
bigsmile ইমোটারেও আমার একটু অন্যরকম লাগে।
লস্ট ইন ট্রান্সলেশন দেখতেসি বার বার।
হ, বিগ স্মাইল টা দেখতে হাস্যমুখী ডার্থ ভেইডারের মত লাগে।
লস্ট ইন ট্রান্সলেশন লুপে পড়ার মতই ছবি। বিগ ফিশ দেখছেন আপনি?
দেখি নাই। টিম বার্টনরে কিন্তু ভালো পাই না। ওর ব্যাটম্যান রিটানর্স দেইখা অরুচি জন্মাইসে। কিন্তু আপনে এত তাড়াতাড়ি একটার পর একটা মুভির নাম বলেন ক্যান?
আর নেটের যন্ত্রণার কারণে মিয়াজাকির শর্ট এনিমগুলো নামাতে পারছি না জানেন।
টিম বার্টনরে আমার খারাপ লাগেনা। তবে শুধু ব্যাটম্যান রিটার্নস দেইকা অরুচি তৈরি কইরেননা। এডওয়ার্ড সিজরহ্যান্ডস ভাল লাগছিল, বিটলজুস-ও অনেক মজার। তবে বিগ ফিশ টা আপনি দেখেন, এই মুভিটা আপনার খারাপ লাগার কোন কারন দেখতে পাইতেছিনা।
আচ্ছা, গ্যারেজের ছবিটার নাম স্পিরিটেড এ্যাওয়ে ক্যান?
মুভি দেখা হইতেসে না গো আফা। ছবি তুলার সময় আমার স্পিরিট শেষ হয়ে গেছিল, তাই ধার করতে হৈসে।
আছেন কিরাম?
আহা, বহুদিন পর বিটলজুসের কথা মনে পড়লো।
তুই আমারে না নিয়া এইখানে একা একা বেড়াইতে গেসিশ আর মজা করসিশ। তোর খবর আছে।
আর
তুই চাইলেই কি তোরে করতে দিতাম?
জানলাম। কিন্তু আপনে এত ভয়ংকর ইমো দিসেন ক্যান? হাত-পা তো জমে গেল...
অসাধারন।আমি একদম নতুন এখানে। আপনার ভ্রমন কাহীিনর পাশাপাশি সবার মন্তব্য পড়ে বেশ মজা পেলাম। বছরে ২/৩ বার এর বেশী পাবনা তে যাওয়া হলেও আজ অবধি শিলাইদাহ্ যাওয়া হলোনা। তবে কুষ্টিয়া লালন শাহ্ এর মাজার এ গিয়েছিলাম। ভ্রমন এর কথা উঠলে সবার আগে আমার দু'পা তৈরী হয়ে যায় যাএা করার জন্য। নতুন নতুন জায়গার প্রতি বিশেষ দুর্বলতা আছে। আজকেই দুপুরে পাবনা থেকে ফিরলাম।
অসাধারন। এই জায়গাটাতে আমি একদম ই নতুন। আপনার ভ্রমন কাহীনির পাশাপাশি সবর মন্তব্য পড়ে বেশ মজা পেয়েছি। বছরে ২/৩ বার এর বেশী পাবনা তে যাওয়া হলেও শিলাইদাহ্ তে আজ অবধি যাওয়া হয়নি। লালন শাহ এর মাজার এ যাওয়া হয়েছে। ভ্রমন এর ব্যাপারে বিশেষ দুর্বলতা আছে আমার। ভালো লাগে নতুন জায়গায় যেতে ।আপনার লেখা টা পড়ার সময় দৄশ্য গুলো আমার সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠছিল।
আপনার প্রতিদিন দুইটা করে পোস্ট দেয়ার কথা। একটাও দিচ্ছেন না।
খেয়ে একটা লেখা দ্যান। 
কোক খান
হায় হায় ! মীরের এই পোস্ট যা কীনা আমারে উৎসর্গ করছে- সেই পোস্ট আমি পড়লাম মধ্যরাত পেরিয়ে... তাও ভাল বৌ বাসায় নাই। আমার শ্বশুর বাড়ি বেড়াতে গেল আজই...
নইলে পরশু পড়তাম। কালকে অফিস বন্ধ।
মাস পনের আগে আমরাও ১০/১২ জন গেছিলাম শাহজাদপুরে রবীর ওই বাড়িতে।রবীর অনেকগুলো লেখার পাশাপাশি জানলাম, পোস্টমাস্টার গল্পটিও এই বাড়িকে বসে লেখা। শুনে পুলকিত বোধ করেছিলাম। আমগো যাওয়া-আসার পথে কী কী হইছিল, তা আর না বলি। আমগো লগে ২ জোড়া টোনা-টুনি ছিল। তবে আসার পথে শাহজাদপুর বাজার থেকে আপন টাকা দিয়া ৩টা লাল সবুজ গামছা কিনছিলাম। একেকটার দাম ৬০ টাকা। ইয়া বিশাল আকারের। ঢাকায় আইসা আমি আর আমার ছেলে ২ টা দিয়া ফতুয়া বানাইছিলাম। পোলার মায়ে ফতুয়াতো বানায় নাইই, উপরন্ত আমার আর পোলার ফতুয়াতে চান্স পাইলেই হাত-মুখ মোছে। বলাবাহুল্য, ফতুয়াটা আমি এখনও পরি।
কত কিছু মনে পড়লো। অনেকদিন পরে কিংবা বলা যায় এই প্রথম মীরের কোনো ভ্রমন বিষয়ক লেখা পড়লাম। সবকিছুর জন্য থ্যাংকু মীর। ভাল থাইকেন। পারলে দেখা দিয়েন...
কুমারখালী থেকে একটা গামছা কিনেছিলাম। আবার হারায়েও ফেলসি। মেসবাহ ভাইকে
এবং 
আমি অন্যসব পোষ্টের মতো এটাও আগাগোঁড়া পড়লাম।
টুনিকে খুবই ভালু পাইলাম। দেখো মীর, চুল পাকিলেই লুকে হয় না বুড়ো
বাকি না হয় নাই কইলাম
দুর্দান্ত ভ্রমন হইছে
তবে আমি যদি কুঠিবাড়ি দেখতে যাইতাম, আমারে কেউ না দেখাইয়া ফিরাইয়া আনতে পারতো না, গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিতাম। আমি লুক কঠিন 
ইন টাইমে ব্রেক করার জন্য থ্যংকস্
আর আরেকজনের... উপস্ বলাই যাবে না।
আমি মাঝে মাঝে অপরিচিতদের কাজকারবার-কথাবার্তা পরিচিতদের সঙ্গে তুলনা করে দেখি। সেদিনও দেখছিলাম। আপ্নের সঙ্গেও একবার কম্পেয়ার দিলাম। ক্যপ্টেন ববি'ও একজন মানুষ, আবার ইনিও একজন মানুষ। একজনের কি এ্যট্রাক্টিভ পার্সনালিটি
এহেম এহেম তেল না জেল এইটা

পুরোটাই পড়েছি মীর, বিশ্বাস করেন!
ছবিগুলোও পড়েছি! 
ঝরঝরে সাবলীল ভ্রমণ কাহিনী। একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে কি পারা যায়?
সবই বুঝলাম, কিন্তু টুনির দিকে আপ্নে এইরকম বদনজর কেন দিলেন সেইটা বুঝলাম না!

এত বড় লেখা পড়েছেন জেনে খুশি হলাম। ঝরঝরে হয় নাই, তাও আপনি বললেন। এতে কিছুটা লজ্জা পেলাম। শুভেচ্ছা এবং

দুইদিন ধরে দেখছি, পাতা উল্টাচ্ছেন। ঘটনা কি?
নতুন কবিতা নাই কেন?
এত যে প্রশংসা করি; গায়ে লাগে না, না? আবার বদনাম, লেখা নাকি পুরোটা পড়ি না (আমাকে না সবাইকেমানে সব পাঠককূলকে)....। এটা ঠিক নয়, ঠিক নয়।
যাইনি কখনও কুঠিবাড়ি। বাচ্চু তোমার চোখে ঘুরে এলাম। দারুণ ঝরঝরে বর্ণনা।
আপনে এবার একটা লেখা দেন। অনেক-অনেকদিন আপনের নতুন লেখা পড়ি না।
চেনা আর প্রিয় জায়গাগুলো নিয়ে লেখা পড়তে ভালো লাগল।শাহজাদপুরের কাছারি বাড়ি, অডিটোরিয়াম এর পর যেদিকে ধ্বংসপ্রায় দালানটির কিছু অংশ ছিল সেগুলোর কি অবস্থা এখন? তারপরই বিশাল অংশে অনেক গাছ-গাছালি দেখেছিলাম। আছে একটা ছাতিম গাছ, আর খুব ভালো লেগেছিল বড় বড় জানলাগুলো।
শিলাইদহ সুন্দর কিন্তু শাহজাদপুর বেশী ভালো লেগেছে।
লালন শাহ সেতুও দারুণ।
মেঘদি' হঠাৎ আপনার কমেন্ট দেখে খুব চমকে গেছি। থ্যাংক ইউ ভেরী মাচ। কেমন আছেন? আপনাকে এত ভালো পাই কিন্তু আপনি এখানে লিখতেই চান না! খুবই দুঃখের কথা। চতুর্মাত্রিকে আমার এ্যকাউন্ট না থাকায় অতিথি মন্তব্য ফলো করতে পারি না বলে আপনার লেখাগুলো পড়ি শুধু। যাক্ সেসব দুর্ভিক্ষের প্যাচাল বাদ। আপনি বলেন খবরাখবর কি?
আছি মীর, টিকে আছি এই আর কি!
সদ্য প্রসব করার পরপর সন্তানটিকে এখানে বেশ দীর্ঘ সময় রাখতে হয়। অন্য কারো কোলে দেওয়া যায় না। এটাই একমাত্র কারণ।
পুরোনো লেখা এখানে দেওয়া বারণ। যখন এক আধটু লিখি চতুরেই দিই প্রথমে। অত নিয়ম মানা মানুষ না কি আমি!!
তবে আসতেছি আবার।
ভ্রমনকাহিনী ভালো লাগলো । তবে একটা কিছু দেখতে যেয়ে না দেখে ফিরে আসাটা সত্যিই বিরক্তিকর । ছবিগুলা সুন্দর হইছে ।
মন্তব্য করুন