আমারই গাছের শেকড় আমায় সালোকসংশ্লেষণের জন্য গিলে নেয়

নদীর জলে ক্রমাগত বৃষ্টি ঝরে পড়ছে। আমার ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাকের ভেতর ডুবে থাকা জানালাটার একটা কপাট নষ্ট। কেয়ার ঝোপের পাশের কপাটটাই নষ্ট। তাই কেয়াফুলের দিকে বার বার চোখ চলে যায়। আমি চাই না প্রিয় ফুলটিকে দেখতে। কিন্তু ঘুরে ফিরে আমার চোখ ওদিকেই চলে যায়। তন্ময় হয়ে তাকিয়ে থাকি।
ডায়াফ্রামের ওপর একটা নরম জেলির মতো দলা টের পাই। ওরা নরম? সত্যি কি তাই? আমি নিশ্চিত হতে পারি না। মাঝে মাঝে মনে হয় ওরা সর্বনাশী। বুলডোজারের মতো গুঁড়িয়ে রেখে যায় পাঁজর। আমি একেকবার কেয়াফুল দেখি আর একেকবার খুন্তি-কোদালের চাঁড়ে মাটি উঠিয়ে আনি শ্বাসনালী থেকে। একটা কবরের মতো গর্ত তৈরী হচ্ছে। সেই গর্তের সঙ্গে নেমে চলছি। কিন্তু আমার খোঁড়া থামছে না। এই খোঁড়াখুড়ি শুরুর দিকের দিনগুলোয় গর্ত বুজিয়ে দেয়ার ইচ্ছে কাজ করতো। আজকাল এত নিচে চলে এসেছি যে, সেই ইচ্ছেতে আর জোর পাই না। যেন এভাবে খুঁড়তে খুঁড়তেই একসময় পৃথিবী ফুটো করে বেরিয়ে যাবো মহাশূন্যে।
শহরের টুনটুনি বাড়িটার জন্যও আমার ভীষণ মায়া হয়। হয়তো সে কোনো একদিন আমায় না দেখলে মন খারাপ করে। ওর শ্যূ-স্ট্যান্ডে আমার জুতা না রাখলে কষ্ট পায়। বা ওয়ার্ডরোব থেকে গেঞ্জি বের করে গাএ না দিলে মনে করে, একটা অপূর্ণতার মধ্য দিয়ে শেষ হলো দিনটা। মানুষের জীবনে অবসেশনের প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
মৌসুমী ভৌমিক বলেছিলেন, একেকটা দিন বড় একা লাগে। আমার একেকটা দিন একা লাগে, নাকি বেশ কয়েকটা দিন একাধারে একা লাগে; জানি না। তবে মাঝে মাঝে একাকীত্বকে মিস্ করি। আবার অনেক সময় একাকী বসে বসে পেরিয়ে যায় অনেকগুলো ঘন্টা। ঘন্টায় সওয়ার হয়ে পেরোতে থাকে রাত, দিন, সপ্তাহ, মাস।
বৃষ্টির রাতে আমার ভুড়িভোজের শখ ছিলো, তাই মা বৃষ্টি হলেই চিকন চালের খিচুড়ি রাঁধতেন। চুলায় পেটমোটা বেগুন পুড়িয়ে ঝাল ঝাল ভর্তা করতেন। কোনোদিন হয়তো গরম খিচুড়ির ওপর অল্প একটু ঘি ছিটিয়ে দিতেন নিজের হাতে। আমার সেই ভুড়িভোজের শখ নিঃশেষ হয়েছে আজ বহুদিন। তাই সর্বশেষ কবে এভাবে খিচুড়ি খেয়েছি মনে করতে পারি না।
কালো কাপড় পছন্দ করতাম। বিশেষত কালো শার্ট। সেবার কে যেন কালো শার্ট এনে দিয়েছিলো ভিনদেশ থেকে। এছাড়াও আমাকে কেউ কিছু কিনে দিতে চাইলে আমি তার কাছ থেকে কালোই নিতাম। অনেক কালো কাপড় জমেছিলো। আজকাল কেবল একটা কালো চাদর খুঁজে পাই মাঝে মাঝে। সেটা জড়িয়ে নিজের নিবিড় আলিঙ্গনে নিজেই লুকিয়ে থাকি।
বৃষ্টির ছাঁট তীব্র হলে আমি শাদা ঝুড়ি ঝুড়ি কেয়ার দলের কোনো একটির সঙ্গে লম্বা হয়ে মিশে যাই। একসময় একটা মোক্ষম জলের ফোঁটা এসে পড়ে আমার ওপর। পড়ে সেটা সুড়ুৎ করে পিছলে চলে যায় একদম কিনারায়। শেষ মূহূর্তে একটু থমকায়। যেন পুরো একটি ফোঁটা পূর্ণ হওয়ার জন্য এক মূহূর্ত সময় দেয় নিজেকে। তারপর টুপ করে ঝরে পড়ে মাটিতে। কেউ জানতে পারে না, সেই ঝরে পড়া একফোঁটা জলের সঙ্গে আমিও ছিলাম।
---





ভালো লাগলো মীর
আর শুভেচ্ছা রইল।
আমি জেনে গেলাম আজ
পোষ্টের ছবিটা কার? তোমার? সুন্দরতো তুমি
কালো আমারো খুব পছন্দের রঙ
আনন্দময়ী ধরা দিক।
লেখায় দুইটা প্লাস
এক কথায় অপূর্ব।ধন্যবাদ।
বড় হইলে আমি মীর হবো... এইটা ফাইনাল
আমিও আরেক জনমে মীর হৈতে চাই

পছন্দ হইছে।
শহরের টুনটুনি বাড়িটার বর্ণণা বেশী ভালো লাগসে
সেটাই তো!
কাউকে কালো শার্ট / কালো টি শার্ট দেওয়াই আমার পছন্দ । কিন্তু....
খুবই ভালো লাগলো লেখাটা।
ভালো লাগায় আচ্ছন্ন হলাম................
মন্তব্য করুন