ইউজার লগইন

গল্প: এক মধ্যদুপুরে মনে পড়া টানা বারান্দা

ন্যান্সি যে স্লাগোকে ভালবাসে, সেই কথাটা সেদিন সমুদ্রের বালুর ওপরে লেখার চেষ্টা করছিলো। কিন্তু ঢেউ এসে বার বার লেখাটা মুছে দিয়ে যাচ্ছিলো। দেখে আমার খুব মজা লাগলো। এই দুইটা কমিক চরিত্রকে আমার দারুণ লাগে। আমার বন্ধু আছে ন্যান্সি নামে। সে অবশ্য কমিকের ন্যান্সি হলে আমি স্লাগো হতে রাজি নই। বন্ধুদের সঙ্গে ভালবাসাবাসি করলে নাকি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়। আসলেই সত্য কি না কে জানে। ছোটবেলায় তো ক্লাসমেটদের প্রেমে ধুমধাম পড়ে যেতাম। ওদের অনেকে ভালোবন্ধুও ছিলো। সে সময় কখনো মনে হয় নি বন্ধুত্ব ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বড় হওয়ার কত যে জ্বালা!

আমার আরেকটা প্রিয় কমিক চরিত্র হচ্ছে ক্যপ্টেন হ্যাডক। থাউজ্যান্ডস্ অভ ব্লিস্টারিং বার্ণিকলস্ বলে মাঝে মাঝে যখন চেঁচিয়ে ওঠে এবং পিপীলিকাভূক, কুমিরের ছানা, বিড়ালের মুখের কাঁটা ইত্যাদি বলে গালিগালাজের মেল-ট্রেন ছোটায় তখন মজা পাই। কমিক বই পড়া আর জমানো আসলে নেশা লাগানো একটা বিষয়। এই হিসাবে নিজেকে খুব অল্প বয়স থেকেই নেশাগ্রস্থ হিসেবে দাবি করতে পারি। আমার যে বিশাল চাচা চৌধুরীর কালেকশন ছিলো, তা একটার ওপর আরেকটা রাখলে প্রায় চার ফুট হয়ে যেতো। পরে শহর বদলের সময় সেটা যে কিভাবে আমার হাতছাড়া হয়ে গেল, আর বুঝতে পারি নি। ততদিনে কমিক প্রীতি কমে বই প্রীতি জন্মেছে মনের ভেতর।

যাক্ নেশা যে শুধু এসব ভালো জিনিসের প্রতিই ছিলো তা না। অপকারী জিনিসের প্রতিও ছিলো। যেমন আমার মাছ ধরার নেশা ছিলো। অস্বাভাবিক রকমের। হুইল-টুইল নিয়ে প্রফেশনাল মাছ ধরা নয়; ছোট ছোট টাকি, পুঁটি, সুঁচমুখো ডলফিন ইত্যাদি খালি হাতেই ধরে ধরে কাঁচের বয়ামে ভরে রাখতাম। মাছটা যখন স্বচ্ছ বয়ামের ভেতরে নড়েচড়ে বেড়াতো, পাখনা নাড়তো এবং মাঝে মাঝে ওপরে এসে পুট করে একফোঁটা একটা নিঃশ্বাস ছাড়ার চেষ্টা করতো- সেসব দেখে আমি খুব আনন্দ পেতাম। নিঃশ্বাসের ফোঁটাটির বিনিময়ে ছোট্ট একটা বুদবুদ উঠে আসতো পানির ভেতর থেকে। সেসব দৃশ্য গভীর আনন্দ নিয়ে দেখার জিনিস।

এ্যকোরিয়ামের শখও ছিলো ছোটবেলায়, কিন্তু সেটা কখনোই ততটা জাঁকিয়ে বসে নি। বরং বয়ামে মাছ রাখা পর্যন্ত পরিশ্রম করতেই ভালো লাগতো। হয়তো তারচে’ বেশি সামর্থ্যও ছিলো না। স্কুল পালিয়ে মাছ ধরতে চলে যেতাম। সে সময় স্কুল পালানোকে গর্হিত অপরাধ হিসেবে ধরা হতো। যারা স্কুল পালানোর মতো কাজে জড়িত থাকতো সহপাঠীরা তাদের পছন্দ করতো না। তাদের নামে কমপ্লেইন করা হতো ক্লাস টিচারের কাছে। কমপ্লেইন ছিলো কিছুটা এমন- ম্যাডাম ও কালকে টিফিনের পর আর ক্লাস করে নি।

এটা কেমন যেন সম্মুখসমরের চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো মনে হতো আমার কাছে। ‘আরে ব্যাটা আমার মন চাইসে, আমি ক্লাস করি নাই। তুই সেটা নিয়ে ঢেঁড়া পিটানোর কে?’ এই যুক্তিতে বিচারের ক্লাস শেষে বা টিফিন পিরিয়ডে কিংবা স্কুল শেষে ঐ ক্যপ্টেনকেই ধরে পেটাতাম। মাঝে মাঝে রাগের মাত্রা চড়ে গেলে তা বেদম প্রহারে পর্যবসিত হতো। তবে মারামারিকে আমি ছোট বাচ্চাদের জন্য আসলেই ভয়াবহ একটা ব্যপার বলে মনে করি। এটা বাচ্চাদের হিংস্র করে তোলে। আবার নিজে এটা করতাম ঠিকই। অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

যাক্ মারের ব্যপারে ক্যপ্টেন হয়তো পরে আবার ম্যাডামের কাছে গিয়ে পুনপুন করে নালিশ জানাতো। এরপরে বিষয়টা ক্লাসের পরিসর থেকে আরেকটু বড় পরিসরে চলে যেতো। ক্যপ্টেনের বাবা-মা’কে স্কুলে ডেকে নিয়ে আসা হতো। হেডু’র (হেডস্যারদেরকে হেডু বলাটা গ্রাম-বাংলায় আবহমান কাল থেকে চলে আসা একটা রীতি) রুমে বিচার বসতো। বেতের বাড়ি, পরিচিত-অপরিচিত অনেকের সামনে খেতে হতো, পশ্চাদ্দেশসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায়। মাঝে মাঝে বাড়িতে খবর দিয়ে গার্জিয়ান আনতে বলা হতো। কিন্তু আমার গার্জিয়ানেরা কখনো স্কুলে যেতেন না। আমিও সেসময় দু’চারদিন একটু ঠান্ডা মেরে থাকতাম। আর এতেই ঘটনা ধামাচাপা পড়ে যেতো। সে সময়কার ‌'বাবা-মা’র স্কুলে এসে নিজের ছেলে’র পাশে দাঁড়ানো, ছেলেকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেয়া- এসব দেখে দেখে আমার খুব হাসি পেতো। কারণ আমি নিজে কখনো এই সুযোগ পাই নি, অজস্র অন্যায়ের শিকার হয়েও।

ছোট-খাটো এসব ঝামেলা নিজে নিজে সামলে এসেছি বলেই জীবনে কখনো বড় কোনো ঝামেলার সামনে গিয়ে হোঁচট খেতে হয় নি। ছোট্টবেলার সকালগুলো ছিলো অন্যরকম। খুব সকালে ঘুম থেকে ওঠা, তারপরে ঘুম ঘুম চোখে দাঁত মাজা, ইউনিফর্মড্ হওয়া, নাস্তা করা, নাস্তা বলতে অবশ্য বেশিরভাগ সকালে পেতাম রুটি আর সুজি। শাদা রঙএর সেই সুজি এখনো মাঝে মাঝে চোখে পড়ে। তবে আগের চেয়ে অনেক কম। জিনিসটা তখন খেতে ভালো লাগতো না। এখন বেশ লাগে।

স্কুলের আরেকটা মজা ছিলো খেলাধুলা। সকালে এ্যসেম্বলীর আগে একপ্রস্থ চোর-পুলিশ খেলা হতো। দুই দলে ভাগ হয়ে দৌড়াদৌড়ি। এর মধ্যে একদল আরেকদলকে ধাওয়া করতো। ধাওয়া করে ধরতে পারলে বা খুঁজে বের করতে পারলে, তাকে মুঠোবন্ধী করে ১ থেকে ১০ পর্যন্ত গোণা হতো। এই সময়ের মধ্যে চোর ছুটে যেতে না পারলে, সে ধরা। এক সেন্সে সে তখন মরা। দলের আরেকজন জীবিত সদস্য তাকে গিয়ে ছুঁয়ে না দেয়া পর্যন্ত তাকে মরে থাকতে হবে। এই খেলাটা খুবই জনপ্রিয় ছিলো ছেলেমহলে। কোনো কোনো দিন অর্ধেক খেলা শেষ না হতেই এ্যসেম্বলীর ঘন্টা পড়ে যেতো। এ্যসেম্বলী শেষে সবাই নিজ নিজ ক্লাসে চলে যেতো। যে কারণে সে সময় মাঠে বা করিডরে খেলাটা খেলা একটু বিপদজনক ছিলো। গোফরান স্যার দেখলে নিশ্চই সর্বনাশ করে ফেলবে- এমন একটা টেনশন কাজ করতো, তার মধ্যেও বাকী অংশ চুপেচাপে সেরে নেয়ার চেষ্টা করতাম। নাহলে সেই টিফিন পর্যন্ত বিষয়টা অমীমাংসিত রয়ে যাবে, যা কাম্য ছিলো না কোনো খেলুড়ের কাছেই।

চোর-পুলিশের মতো আরো যে খেলাগুলো ছিলো স্কুল এলাকার ভেতরে খেলার জন্য, সেগুলো ছিলো মূলত গা গরম করার খেলা। ফুটবল, ক্রিকেট টাইপ সিরিয়াস খেলাগুলো হতো স্কুল ভবন থেকে সামান্য তফাতে অন্য একটা জায়গায়। এবং মূল মজাটাও ছিলো সেই খেলাগুলোকে ঘিরেই। খেলা ছাড়া জীবনে আর কিছু ভালো লাগতো না- এমন একটা সময় ছিলো তখন। যাক্ খেলার ব্যপারে আরো কথা বলার আগে ‘সুন্দর কিল’ সম্পর্কে একটু বলে নিই। কথাটা সম্ভবত সন্ধ্যার কিল থেকে এসেছে। আমরা জানতাম, সন্ধ্যায় কিল দেয়া হলে সারারাতে আর সে কিলের শোধ তোলা যাবে না। যে কারণে সন্ধ্যায় কাউকে কিল দেয়ার নিয়ম হচ্ছে, দুম করে আচমকা পিঠে বসিয়ে দিয়ে বলতে হবে- সুন্দর কিল। এরপরে অবধারিতভাবে কিল-খোর উল্টো ধাওয়া শুরু করবে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য। সেটা ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত তার যে বাসায় ঢুকেও শান্তি নেই! সকালবেলা বাসি কিল ফিরিয়ে দিয়ে তো আর প্রকৃত প্রতিশোধের আমেজটা পাওয়া যায় না। এই কিল নিয়ে অনেকদিন সন্ধ্যাবেলা বসে বসে টেনশনও করেছি। হয়তো রাব্বি কিল দিয়ে পালিয়েছে। আমি বসে আছি, কখন বজ্জাতটা বাসা থেকে কোনোভাবে একটু বের হবে বা অন্য কোনো উপায়ে আমার নাগালের মধ্যে একটু আসবে। কিলের প্রতিশোধ আমি নেবোই। যা হয় হয়ে যাক। ওদিকে আমার বাসায় খোঁজ পড়ে গেছে। শেষতক কিলের শোধ তুলে ফিরেছি ঠিকই, কিন্তু বাসায় গিয়ে হজম করেছি তার দ্বিগুণ প্রহার। দেরি হওয়ার জন্য।

সুন্দর কিলের আদানপ্রদান সকালেও চলতো। হয়তো ব্যাগ কাঁধে কেবল স্কুলে ঢুকেছি। তখনো ক্লাসরুম পর্যন্ত যাই-ই নি। এরই মধ্যে নিরীহমতো পরিচিত কেউ ধরা পড়ে গেল চোখের কোণায়। ব্যস্ আর যায় কোথায়। সন্তপর্ণে গিয়ে পেছন থেকে তার পিঠে দুম করে বসিয়ে দিলাম ইয়া এক সুন্দর কিল। বসিয়েই দে ছুট। ছেলেটা হয়তো কখনো ভ্যবলাকান্তের মতো চেয়ে থাকতো আবার কখনো ভগৎ সিংএর মতো বিপ্লবী হয়ে উঠতো। প্রতিক্রিয়াগুলো দেখার একটা আনন্দ আছে। তবে মেজাজ খারাপ হতো যখন অনেক মেলে-টাইপ (মেয়ে+ছেলে) ছেলে সুন্দর কিল খেয়ে ক্লাসে গিয়ে টিচারের কাছে নালিশ করতো। ‘স্যার আমাকে সুন্দর কিল মেরেছে।’

আমার ধারণা ছিলো ওদেরকে বোধহয় একটা চিমটি দিলে, তা নিয়েও নালিশ করবে টিচারের কাছে। পরে একটা সময় মনে করতাম, এ ধরনের ছেলেগুলোই বোধহয় একটু বড় হলে পরে ‘এই ধেনু সরে যা, নাহলে কিন্তু ফুল ছুঁড়ে মারবো’ টাইপের হয়। কিন্তু আরো পরে আমার এ ভুল ধারণা ভেঙ্গেছে। মর্নিঙ শো’জ দ্য ডে; এই কথাটা আমি বিশ্বাস করি না।

নাহলে আমি বড় হয়ে নিশ্চিত ডাকু হতাম। ডাকু গব্বর সিং-এর কোনো বাংলাদেশি ভার্সন বের হতো। বা কাছাকাছি টাইপের কিছু একটা হতো। তার কিচ্ছু না হয়ে দিন দিন একটা নির্বিবাদী ধেনু হয়ে যাচ্ছি বলে সুক্ষ্ণ সন্দেহ হচ্ছে ইদানীং। বিষয়টা আসলেই আশঙ্কাজনক। যাক্ মূল যে খেলাগুলো হতো স্কুলজীবনের বিভিন্ন সময়ে, সেগুলোর একটি সম্পর্কে দু’চার পয়সার বয়ান দিয়ে আজকের বকর বকর শেষ করি।

আমাদের ক্লাসে ছিলো সুন্দরী সুবর্ণলতা। নামের বিপুল বাহারের অন্যতম কারণ তাদের নদীয়াভিত্তিক পৈতৃক ভিটে। আর মেয়েটি কথা বলতো খুবই সুন্দর করে। ‘তুমি কি সবসময় দুষ্টুমি করেই কাটাও?’ সেই ছোট্ট স্কুলবেলায়, নাকি নাকি সুরে এমন করে কেউ যখন ঠিক ঐ কথাটাই জিজ্ঞেস করে; তখন তার কি উত্তর দেয়া যায়, তা আমি জানতাম না। এবং আজো জানি না। সে সময় ক্যাজলানি মার্কা একটা হাসি দেয়ার চেষ্টা করতাম। তাতে মুখটা আরো বেশি ভচকে উঠতো। ফলে আমাকে খুব রাগী রাগী দেখাতো। এরকম অবস্থায় সে আবার জানতে চাইতো, ওমা রাগ করলে নাকি? রাগ করার মতো কি বলেচি আমি?

এ সময় হয়তো মেয়েটির ঠোঁট একটু ফুলেও উঠতো। আমি বুঝতাম না, তখন চাইলেও আমি আর সহজ হতে পারতাম না কেন? সুবর্ণলতাকে ক্লাসের সবাই মন-প্রাণ দিয়ে ভালবাসতো। কয়েকটা বন্ধু তো ‘হা সুবর্ণ, জো সুবর্ণ’ করে করে দিনমান পার করে দিতো। ওর সঙ্গে আমার মাঝে-সাঝে উল্লিখিত ধরনের বিদঘুটে আলাপ হতো বলেই সম্ভবত, আমি তার অন্য পাণিপ্রার্থীদের মতো আস্ফালক ছিলাম না।

আমাদের স্কুলটা যে কলোনীর ভেতরে অবস্থিত, সেটার খাওয়ার পানির বিশাল টাংকিটা ছিলো ওদের বিল্ডিংএর সামনে। বিশাল মানে, টাংকির ওপর দুইদলে ভাগ হয়ে ফুটবল খেলা যাবে অনায়াসে- এতো বিশাল। তো অবধারিতভাবেই সেখানে প্রতিদিন পড়তি দুপুরে ফুটবল খেলার একটা ব্যপক মচ্ছব বসে যেতো। মাঠ আছে, গ্যালারী আছে, গ্যালারীতে একজন দর্শকও আছেন। আর কি চাই? আমাদের মধ্যে যাদের স্কুল ছুটির পরেই বাসার উদ্দেশ্যে হন্য হয়ে ছুটতে হতো না, তাদের জন্য সেটা ছিলো দিনের শ্রেষ্ঠ সময়।

সুবর্ণলতা তখন বাসায় গিয়ে খাওয়া-গোসল সেরে বারান্দায় হয়তো একটু চুল শুকাতে আসতো আর আমরা পান্ডবের দল ভীষণ মনোযোগ সহকারে টিভিতে দেখা রোমারিও-বাতিস্তুতার শরীরি মারপ্যাঁচ-গুলোর চর্চা চালাতাম। আমার ধারণা সেসব মারপ্যাঁচ দেখলে উক্ত মনীষীরাও মুগ্ধ হতেন। কারণ আমাদের প্রেরণার ব্যপারটাই তো ছিলো ভিন্ন। রোমারিও-বাতিস্তুতাদের খোলাখুলি পরিবেশওয়ালা দেশে অমন প্রেরণা পাওয়ার সুযোগ কোথায়?

আর যদি কোনোদিন ভুলক্রমে দু’একটা গোল হয়েছে, তো সেরেছে! সেই উল্লাস দেখলে সম্প্রতি কোপা আমেরিকার ফাইনালে দু’গোল করা ফোরলান বা বিশ্বকাপে লাল কার্ড খেয়ে নিজের দেশে জাতীয় বীর বনে যাওয়া সুয়োরোজও নিশ্চিত লজ্জা পেয়ে মুখ ঢাকতো। আমাদের মধ্যে রনিটা একটু বেশি বেশিই ‘ইয়ে’ ছিলো। ওই যাকে বলে সেন্স-টেন্স কম আর কি! সে একবার গোল দিয়ে বারান্দায় দাঁড়ানো সুবর্ণলতার দিকে দু’হাত প্রসারিত করে নীল ডাউন হয়ে বসে ‘ইএএএ’ বলে এমন চিৎকার জুড়ে দিলো যে আরেকটু হলেই অন্যরা সবাই তাকে ধরে লাগাতো পিটুনী। সবার মনোভাব ছিলো কিছুটা এমন- ‘আরে বাবা, গোল করেছিস বলে কি অর্ধেক রাজত্ব আর রাজকন্যা তুই একাই নিয়ে যাবি? প্রতিদিন এই মাঠে দুইটা-চারটা গোল হয়। ম্যালা বাজে না বকে এখন খেলায় মনোযোগ দে।’

এমনকি ওর দলের প্লেয়াররাও ওর এহেন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওকে টেনেটুনে তুলে নিয়ে গেল। আসলে সেই টাংকিটার ওপরে যারা খেলতো তাদের প্রায় সবাই-ই ছিলো সুবর্ণলতার ব্যপারে ফ্যাসিনেটেড্। তাই কেউ একজন একটু বেশি বেশি করে ফেললে অন্যরা মিলে এমন রিএ্যকশন দেখাতো যে কহতব্য নয়। ব্যপারটা এখন হয়তো একটা সামগ্রিক লজ্জার বলে মনে হতে পারে। তখন আমাদের কাছে উচিত বলেই মনে হচ্ছিলো আর রনিও খুব ক্ষেপে গিয়েছিলো। এটা নিয়ে পরে স্কুলে একটা গন্ডগোল বেঁধে যেতে পারতো। হতে পারতো একদফা মারামারি। কেননা সে সময় ছেলেপিলের ওইটাই ছিলো একটা অন্যতম প্রিয় কাজ। যেকোন উপলক্ষ ধরে একটা প্রাণান্তকর মারামারি বাঁধিয়ে দেয়া।

কিন্তু সেটা হলো না। আমরা তখন সবে টুকটাক সিগারেটে ফুঁ দিতে শিখেছি। তাও বিভিন্ন অকেশানে, একটু লুকায়ে লুকায়ে। তো সেদিন খেলাশেষে রনিকে নিয়ে একটা জরুরি সভা ডাকা হলো স্টাফ কলোনীর পেছনের দেয়ালের ওপর। একটা বাংলা ফাইভ কেনা হলো। সেটা খেতে খেতে সভা হবে। সেখানে রনির বিষয়টা নিয়ে কি করা যায়, সে ব্যপারে আলোচনা হবে।

গেলাম। যথারীতি সিগারেট ধরিয়ে দেয়ালের পা ঝুলিয়ে আলোচনা শুরু হলো। রনি সরাসরি জানালো সে সুবর্ণলতাকে ভালবাসে এবং তাকে ছাড়া বাঁচবে না। আরো কয়েকজন একই কথা জানালো। তারাও সুবর্ণলতাকে ছাড়া বাঁচবে না। আমি একটা আপত্তি তুললাম, সুবর্ণলতাতো এতজনের সঙ্গে প্রেম করলে নিজেই বাঁচবে না। তো বুদ্ধি হচ্ছে, ওকে গিয়ে একটা লিস্ট দেয়া হবে- ক্লাসের এই ক’জন ছেলে তোমাকে ছাড়া বাঁচবে না। এদের মধ্যে যাকে তুমি নিতে চাও, নিয়ে নাও। সে জীবন-মরণ সবকিছু তোমার নামে লিখে দিতে সেনাসদস্যদের মতো সদা প্রস্তুত থাকবে।

এই সিদ্ধান্ত দেখি সবার পছন্দও হলো। এবং এটা মেনে চলার ব্যপারে সবাই একমতও হলো। পরদিন বেশ কয়েকজন ছেলের নাম এবং তারা কি চায় সেটা সুবর্ণলতাকে লিখিতভাবে জানানোর ব্যবস্থা হলো। চিঠিটা নিয়ে গিয়ে আমিই দিয়েছিলাম ওর হাতে। ভাঁজ করা কাগজটা দেখেই বোধহয় ও কিছু একটা সন্দেহ করে থাকবে। তাই সেটা এগিয়ে দেয়ার সময় ও ভ্রু-টুরু কুঁচকে আমাকে জিজ্ঞেস করলো, এটা কি?
বললাম, লাভলেটার।
-আমি লাভলেটার নেবো না। মা বকবে।
এটা আসলে লাভলেটার না। তুমি পড়ে দেখো।
-তাহলে এটা কি?
এটা লিস্ট। তোমাকে যারা ভালবাসে, তাদের নাম লেখা আছে।

এবার সে ভীষণরকম একটা অবাক হওয়ার মতো শব্দ করলো মুখ দিয়ে। এবং চোখ বড় বড় করে বললো, না বাবা। এটা তো নেবোই না। আম্মু দেখলে মেরেই বসবে।
-ওহ্ তুমি খুবই পেইন। এটা কে কে তোমাকে ভালবাসে তার একটা লিস্ট। সেখান থেকে তোমার যাকে ভালো লাগে, তাকে তুমি চয়েজ করো। চাইলে চয়েজ করে এখনই আমাকে জানিয়ে দিতে পারো। এই কাগজ সঙ্গে নিয়ে না ঘুরলেও চলবে। নাও লিস্টটা দেখো।

এইবার মেয়েটি লিস্ট হাতে নিলো। খোলার সময় আবার জানতেও চাইলো, তোমার নাম আছে? আমি একটু উদাস উদাস ভাব নিয়ে অন্যদিকে তাকিয়ে থাকলাম। যেন কথাটা ঠিক শুনতে পাই নি। আসলে মনটা একটু যেন কেমন কেমন করছিলো, কেন নামটা দিলাম না! ওই লেখাটা তো আমিই লিখেছি। চাইলেই নিজের নামটাও ঢুকিয়ে দিতে পারতাম।

এইসব ভাবতে ভাবতেই দেখি মেয়েটি লিস্ট টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে দৌড়ে চলে যাচ্ছে। কাণ্ড দেখে খুবই অবাক হলাম। পেছন থেকে চেঁচিয়ে জানতে চাইলাম; কি হলো, কিছু না বলে চলে যাও কেন? আমি ওদেরকে কি বলবো?

সেও দূর থেকে চেঁচিয়ে উত্তর দিলো, আমি কাউকে ভালবাসি না। তুমি আমার কাছে আর কোনো চিঠি নিয়ে কোনোদিন আসবে না বুজলে? বলতে বলতেই স্কুলের আঙিনা ছেড়ে বেরিয়ে গেল সে। আমি কি পেছন থেকে দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরবো কি না, বুঝে উঠতে পারলাম না।

ওই মেয়েটির সঙ্গে আমার কখনোই প্রেম হয় নি। কেন হয় নি জানি না। দুইজনেরই দুইজনকে দেখতে ভালো লাগতো। অনেকবার চোখাচোখি হয়েছে। ওর চোখের দিকে তাকালেই খুশির ঝিলিক দেখতে পেতাম। কোনো কারণে কাছাকাছি হয়ে গেলে না দেখেই টের পেতাম- সুবর্ণ পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এবং সে অনুমান কখনো ভুল হয় নি। টুকটাক কথা-বার্তা হতো প্রায়ই। হতো বই আদানপ্রদান। মেয়েটি আমাকে অনেকগুলো বই কিনে দিয়েছিলো।

বছর শেষ হতেই বাবার বদলির সুবাদে সেই স্কুল আর শহর ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছি। মেয়েটির সঙ্গে আর দেখা হয় নি কোনোদিন। যোগাযোগও হয় নি কখনো।

কিন্তু আমি জানি না; কেন সেদিন যখন ও লিস্টটা কুটি কুটি করে ছিঁড়ে ফেলে দিয়ে দৌড়ে চলে যাচ্ছিলো, তখন আমার মনে খুবই শান্তি শান্তি লাগছিলো। হয়তো মেয়েটি সেদিন আর কারো হয়ে গেলে আমিই সবচে’ বেশি কষ্ট পেতাম।

অথচ এক সময় ওর মিষ্টি স্মৃতিটাও মন থেকে মুছে গেল। তারপর আপন গতিতে অনায়াসে কেটে গেল অনেকগুলো দিন, মাস, বছর ও সময়। সাধারণত যেমনটি হয় আর কি; জীবন কখনো কোথাও কারো জন্য থামে না কোনোভাবেই।

---

(লেখাটা মেসবাহ ভাইকে উৎসর্গিত। তিনি কি দেশে নাকি বিদেশে আমি জানতে চাই। আরো জানতে চাই ভদ্রলোক কেমন আছেন। তার কি আমাদের কথা মনে আছে কি না ইত্যাদি।)

পোস্টটি ১৮ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

টুটুল's picture


সুযোগ পাইলাম পয়লা কমেন্টস করার Smile
ফাস্টো Smile ... পড়ার পর আবার কমেন্টস কর্মু Smile

আগের মন্তব্যের উত্তর : আম্রা ভালু Smile ... ব্যপক... এক্টা Nikon D5100 গিফট পাইছি Smile ... এখনো কিছুই বুইঝা উঠতে পারি নাই Sad ... দোয়া রাইখেন Smile

আপ্নার খপর কন ... বিস্তারিত

মীর's picture


গুড মর্নিং টুটুল ভাই। ধন্যবাদ কুইক রিপ্লাইএর জন্য। গল্পটা কেমন লেগেছে বলেন।
আপনারা ভালো আছেন শুনে খুশি হ্লাম। আমিও ভালো আছি। ঈদের ছুটিতে মৌজে আছি। এই ছুটি কবে যে শেষ হবে, বুঝতে পারছি না। একেকদিন বেলা দুইটা-তিনটার আগে তো বিছানা থেকে নামতেই পারি না। Big smile

মানুষ's picture


মাছ ধরার নেশা ছিল। তবে ওটা বয়ামে রাখার চেয়ে ভেজে খেতেই বেশি পছন্দ করতাম। Big smile

মীর's picture


ভেজে খাওয়ার মতো বড় মাছ পাইতাম না। সব ছোট ছোট মাছ আছিল।
যাক্ মানুদা কিরাম আছেন? আপনারে আরো ঘন ঘন দেখতে চাই। আপনারে আর বাফড়া বস্রে। Smile

মানুষ's picture


আমি ভাল আছি। তবে জীবনে সূখ নাই Stare

মীর's picture


ডিটো। আমিও ভালো আছি, কিন্তু সূখ নাই। সূক্ষ্ণ সন্দেহ হচ্ছে, জিনিসটা কখনো থাকবেও না। Steve

তৌহিদ উল্লাহ শাকিল's picture


সাবলীল । ভাল এবং গতিময়।

মীর's picture


উপস্। আপনে তো দেখি প্রশংসায় অকৃপণ। ধইন্যা পাতা নতুন বন্ধু।

জ্যোতি's picture


সুন্দর কিলের খেলাটা জানতামই না। ছোটবেলাটা কত মধুর ছিলো! বড় হওয়ার কত যে যন্ত্রণা!
ছেলেরা সত্যিই এত নিষ্ঠুর কেন হয়?

১০

মীর's picture


তার আগে আমারে এইটা বলেন- আপনে এত নিষ্ঠুর কেন?

১১

জ্যোতি's picture


আমি নিষ্ঠুর!!!!!! যদি সত্যি হতে পারতাম!! পারিনি, পারিনা।
নিষ্ঠুর হলে কি আর আপনাকে ব্লগে খুঁজতাম? মন পুড়তো?

১২

মীর's picture


আপনে নিষ্ঠুর না? তাইলে আমার বন্ধু লীনা আপুকে লুকায়ে রাখছেন কেন? Stare
আর মন পুড়বে এটাই তো স্বাভাবিক। আমার যেহেতু পুড়ে, সেহেতু আপনের না পুড়লে কেমনে হয়?

১৩

জ্যোতি's picture


আপনার কমেন্ট পড়ে আপনার বন্ধুকে এস এম এস করে সাড়াশব্দ পাইনি। মনে হয় ঘুমায়। আপনি উনাকে এক্টা ফুন দিয়ে বলেন চলে আসতে। এভাবে ঝিমায়া থাকা চলবে না।

১৪

একজন মায়াবতী's picture


সবাই জানি কই Sad দুই লীনা আপার কোনো লীনাকেই দেখি না। একজন তো মনে হয় খোমাখাতায় ও নাই। নাকি আমারে ডিলিট দিসে Puzzled দবির ভাইও আসে না

১৫

জ্যোতি's picture


তুমারে ডিলিট দেয় নাই। লুকাইছে।:(
দবির ভাই কই গেলো? কেন গেলো?

১৬

একজন মায়াবতী's picture


আমিও জানতে চাইসিলাম দবির ভাইয়ের কথা। কেউ আওয়াজ দেয় না। দবির ভাইও না। সব আপনার দোষ। আপনিই শিখাইসেন মানুষজনকে ডুব দেয়া Stare

১৭

মীর's picture


আচ্ছা মানলাম। কিন্তু লেখা কেমন হৈসে সেইটা তো বল্লেন্না...

১৮

একজন মায়াবতী's picture


লেখা পড়ে আমারও ছোটবেলার কথা মনে পড়সে। Sad
আপনাদের মতো এত মজা হয়ত করি নাই ওভারঅল ভালোই ছিল। ছাদে উঠে ঘুড়ি উড়াতাম। ঘুড়ি উড়াতে গিয়ে কতো শয়তানি যে করছি। Puzzled

লেখা পেয়েও দবির ভাই আসলেন না!!

১৯

মীর's picture


টেনশনের ব্যপার হলো! দবির ভাইএর কোনো আপডেট থাকলে জানায়েন তো।

২০

প্রিয়'s picture


আমি আমার হেডস্যারকে কোনদিনও হেডু বলিনাই। কারন উনি অনেক ভাল একজন মানুষ ছিলেন। আমাকে খুব আদর করতেন। আর আমিও উনাকে অনেক পছন্দ করতাম। উনি এখন আর বেঁচে নাই, তবে আমার উনাকে সারাজীবন মনে থাকবে।
আর দারোয়ান ছিল একটা। সে খালি বেত নিয়া আমাদের পিছনে দৌড়াঁইতো। আমরা মাঠে চিতকার করতাম বইলা। ওর নাম দিসিলাম "খান্ডেরাও"। Tongue
সবচে মজা লাগতো খেলতে বৌচি, কানামাছি, বরফ-পানি,ছোঁয়াছুয়ি। Wink

২১

মীর's picture


আপনের কি বাসায় চিল চিৎকার, মাঠে চিৎকার এইসব দিয়াই সময় কাটে?

২২

হাসান রায়হান's picture


প্রিয়র মত আমিও কোনোদিন হেডু বলিনাই। স্কুলে কাউকে বলতেও দেখি নাই। আপনে ছোটোবেলায় এমন পোংটা ছিলেন ! এখনকার আপনাকে দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন। আপনাকে প্রকাশ্য দিবালোকে জড়ায় ধরা মেয়েটাকে নিয়ে আর কিছু বলেন না কেন?

২৩

মীর's picture


আপনাদের দুইজনের মুনয় স্কুল-কলেজ একই শহরে। তাই উভয়ের অভিজ্ঞতা একইরকম। গল্পে তো চিটাগাঙএর একটা স্কুলের কথা চিন্তা করা হৈসে। সেখানে একাধিক স্কুলে এরুম নিয়ম আছিল। বগুড়ায় আছিল; ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৈমনসিং, নরসিংদী- এ জেলাগুলায় আছিল। এগুলা আমার দেখা, এর বাইরেও থাকতে পারে। তাই সবমিলায়ে একটা ইঞ্জেনারেল অনুমান দাঁড় করাইলাম আর কি।
হ, ছুডুকালে পুংটাশ্রেষ্ঠ আছিলাম। তয় এখনো তো আপনে আমারে দেখেন্নাই, তাই এখন কি আছি সেই অনুমান আগে থিকা কৈরেন্না Wink
জড়ায় ধরা মাইয়া জড়ায় ধরে মিশে গেছে চামড়া, মাংস, রক্ত, মনের সঙ্গে।
আপনে আমারে একবার congratu জানাইছিলেন ক্যান? আজকে কি একটু বলবেন?

২৪

হাসান রায়হান's picture


আপনে আমারে একবার congratu জানাইছিলেন ক্যান? আজকে কি একটু বলবেন?

বলতে চাইছিলাম .. না থাক ঐটা বললামনা।
একদিন বললেননা প্রকাশ্যে আপনারে একটা মেয়ে হাগ দিল। তাই বললাম খুশিতে Smile

হেডূ: আমি বলিনাই আশে শুনি নাই তাই অন্য বলে নাই টা কিন্তু বলি নাই। আমার স্কুলের এক ক্লাশ সিনিওর অমি পিয়াল ভাই এক লেখায় বলছিল হেডু । তার মানে অন্যরা বলত।

আমি কি আপনারে দেখি নাই? Cool

২৫

মীর's picture


দেখছেন নাকি? মোটেও না। কবে, কুথায়? হুদাই ফাপড়!
আচ্ছা কুন জায়গায় দেখছেন বলেন। মিললে বিশ্বাস করুম।

২৬

রাসেল আশরাফ's picture


কেন তুমি জিবরাইলের ছোট শালা নাকি? তোমারে দেখা যাবে না। Crazy Crazy

২৭

মীর's picture


হাহা, জিব্রাইলের ছোট শালার বিশেষত্ব কি? আমি তো জানি না।
আপনের বিয়া কবে?

২৮

হাসান রায়হান's picture


(এট্টু বাইরে গেলাম)

২৯

মীর's picture


রায়হান ভাই, গুড মর্নিং।
সেই যে একটু বাইরে যাওয়ার কথা বলে বের হলেন, আর তো ফিরলেন না।
যাক্ আপনার দিনটা ভালো কাটুক। একাধিক সুখবরে ভরে উঠুক। শুভকামনা।

৩০

রশীদা আফরোজ's picture


মীর একজন দুষ্টু বালক (ছিল)।

৩১

মীর's picture


বর্তমানে মীর একটি দুষ্টু শিশু।
রশীদা'পু কেমন আছেন?

৩২

রাসেল আশরাফ's picture


সবার ছোটবেলা কি একই রকম?
সুন্দর কিল রে কইতাম গাব্বু(কাল রাতে মনে ছিল না কেবল মনে হলো।)। ছোটবেলাতে আংটা(মার্বেল) খেলো নাই? ক্যাট-আপ???
হেডু তো আমরাও কইতাম।
আহারে সেই সব দিন।

৩৩

মীর's picture


মার্বেলরে চিটাগাঙএর পোলাপাইনে বলে 'লেলু' Smile
সবার ছোটবেলা আসলে কাছাকাছি রকমের। এটাই জীবনের সুন্দরতম সময় যে।

৩৪

জ্যোতি's picture


আমি ব্যাপক মার্বেল খেলছি ছুটুবেলায়। প্যান্টের ২ পকেট ভরে রাখতাম মার্বেল। আম্মা খুব রাগ করতো তাই চান্স পাইলেই চুরি করে খেলতে চলে যাইতাম। কি মধুর দিন ছিলো!

৩৫

মীর's picture


জমানো মার্বেল ব্যবহার হতো গুলতি'র গুলি হিসেবেও। পাখি মারার কাজে। @ বুকটুশি
আংটা, ক্যাট-আপ খেলি নাই। মনে হয় এই খেলাগুলা অন্য নামে প্রচলিত ছিলো আমাদের ঐদিকে। @ বুকটুশ

৩৬

রাসেল আশরাফ's picture


আংটার আরেক খেলা ছিলো ভন্ডা!!!!!যে হারতো তাকে খাটাতে খাটাতে আরেক পাড়াতে নিয়ে যাওয়া হতো।ডাংগুলির লোকাল নামটাও ভুলে গেছি বুড়া হয়ে গেছি দেখছি।

৩৭

সুপর্ণ's picture


আমি একটু গাধা টাইপ এর ছিলাম(এখনও তাই আছি)।আমার ছেলেবেলাটা কেটেছে প্রতিবেশী আপাদের মাঝে। এরা আমায় ডাকতো সংশপ্তকের মালু।আজ কোথায়, কেমন আছে আমার রাবু, আরিফা আপারা......

৩৮

মীর's picture


রাবু, আরিফা আপা'দের কাহিনী কি ইতোমধ্যে লিখে ফেলেছেন? লিখলে লিংক দিন। আর না লিখে থাকলে লিখে ফেলুন। মন্তব্যের জন্য ফ্রেশ ধইন্যা পাতা

কিন্তু আপনার নাম সুপর্ণ, আর ছোটবেলা কেটেছে প্রতিবেশি আপাদের মাঝে- এই ছোট-খাটো তথ্যগুলো ছাড়া আর কিছুই যে জানা হলো না! এ বিষয়ে কি হেল্পানো যায় কিছুটা?

৩৯

রাসেল আশরাফ's picture


কি হেল্প লাগবে আমারে কও।
আমি কইরা দেই। Big smile Big smile

৪০

রায়েহাত শুভ's picture


জ্বী জনাব...
ভালো আছেন?

৪১

মীর's picture


জ্বী জনাব...
ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন? Big smile

৪২

রায়েহাত শুভ's picture


জ্বী জনাব...
আমি জীবিতই আছি, ফাঁকা ঢাকায় চাপা পড়ে আল্লাকি পেয়ারে হয়ে যাবার চান্স পাইনাই Wink

৪৩

মীর's picture


থাক্ আল্লাকি পেয়ারে হওনের কাম নাই। আপনের যে আমাদের পেয়ারে হয়ে আছেন, এমুনই থাকেন। তাইলেই চলপে জনাব। Smile

৪৪

সন্ধ্যা প্রদীপ's picture


বরাবর এর মতই অসাধারন..... Smile

৪৫

মীর's picture


বরাবরের মতোই ফাঁকিবাজি... Stare

৪৬

আসিফ's picture


ক্লাস ফাইভ থেকে একই সঙ্গে পড়া আমার পিঠেপিঠি ভাইটা নিজেরগুলিসহ আমার ভাগের সব মারামারিগুলি একাই করতো। কয়দিন পর পর বাসায় তার জন্য রামডলার আয়োজন করা হত। আমার ভাল ছেলে হয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করার ছিল না।

লেখাটা পড়ে (গল্প বলবো না, আমার কাছে গল্প মনে হয়নি একদম। মনে হল সামনে বসে কেউ যেন গল্প করছে!)এত ভাল লাগল...... অনেকদিন পর আপনার কোন লেখায় মন্তব্য করলাম। সুযোগ থাকলে আপনার হাতটা ‌'সোনা দিয়া বান্ধাইয়া' রাখতাম। অনেক অনেক ভাল থাকবেন।

৪৭

মীর's picture


আসিফ ভাই, আমি দেখেছি আপনি মাঝে মাঝেই এসে বিষম লজ্জা দিয়ে আবার দীর্ঘ দিনের জন্য ডুব দেন। এটা খুবই খারাপ।
আপনের লেখার হাত ভালো- এ কথাটা এর আগে নুশেরা'পু একবার বলেছিলো। আমিও সেটা বলি। আপনি একটু লেখালেখির সময়-সুযোগ বের করেন। ব্লগের জন্যও আরেকটু সময় বের করেন।
কমেন্টের মাধ্যমে দেয়া লজ্জাগুলো তখন আপনাকে ফিরিয়ে দেয়া হপে Crazy

৪৮

তানবীরা's picture


গল্পে, দুই একটা শব্দ আছে আপত্তিজনক। নিজেই দেখে সেগুলো শুধরে দিও।

গল্প ভালো হইছে। তুমি দেখি বাইম মাছের মতো গড়াইতে গড়াইতে মানে পেমে পড়তে পড়তে বড় হইছো Wink নদীয়া দিয়া শুরু আর স্প্যানিশ হলো বর্তমান

আমরাও হেডস্যারকে হেডু বলতাম Smile

৪৯

মীর's picture


একেবারে 'আপত্তিজনক' শব্দ লিখে ফেলেছি???
তাহলে তো আন্তরিকভাবে দুঃখিত। একটু জানায়েন কি কি শব্দ আপত্তি'র জন্ম দিয়েছে।

আর 'পেমে' পড়া সম্পর্কে বলবো, গল্প লিখলে যদি আপনের মনে হয় বাইম মাছের মতো গড়াইতে গড়াইতে বড় হৈসি, তাইলে আসলেই কিছু বলার নাই।

শুভেচ্ছা। তবে আপত্তি'র জন্মদাতাদের ধরায় দিয়ে যাইয়েন। এমন হৈতে পারে সেইটা আমার কাছে আপত্তি'র জন্ম দেয় নাই। তাই আমি লিখছি। জানা দরকার।

৫০

IMTIAZ AHMED KHAN's picture


After a long time, I read such a nice story . it's nothing but my boyhood story... I was so scatter brain .......... my name is also ronny. i was from khulna. ..
Miss all the friends and my groups. Most of them are not outside of BD. now alone ........

৫১

মীর's picture


ডানপিটেপনা'র মজাই আলাদা। Smile

৫২

তানবীরা's picture


আপাতত: এইটা

অনেক মেলে-টাইপ (মেয়ে+ছেলে)

তুমি মাইনড খাইবা ভাবলে আরো সতরক হতাম Puzzled

৫৩

মীর's picture


মেলে শব্দটি বুঝে-শুনেই ব্যবহার করা হয়েছে।

মেয়ে+ছেলে=মেলে; এইটা যে ব্যকরণের কোনো রীতির মধ্যে পড়ে না, তা আমি জানি। তবে এ নিয়ে কোনো আপত্তি থাকলে আমার মনে হয় কিছু করার নাই। কারণ আমি নিজের ইচ্ছামতো এমন অনেক কিছুই লিখবো কিংবা প্রচলিত শব্দ/বাক্য থেকে নিয়ে ব্যবহার করবো। সেটা কি চিন্তা থেকে লিখছি বা ব্যবহার করছি, তা প্রথম বা দ্বিতীয় বন্ধনীর মধ্যে উল্লেখ থাকবে।

যদি এখানে অন্য কোনো আপত্তি থাকে, (আমি নিশ্চিত নই, হতে পারে ‌'মেয়েদেরকে কটাক্ষ করা হয়েছে' ভেবে থাকতে পারেন) তাহলে সে আপত্তি মানতে পারছি না বলে দুঃখিত। কেননা এখানে সেই চিন্তা'টি প্রয়োগ করা হয় নি। (যে চিন্তাটি করা হয় নি সেটার কথা আমিই কেন আগে বললাম? কারণ, আপনি এর আগেও আমার একটা লেখাকে 'মেইল শভিনিস্ট' লিখে ট্যাগ করেছিলেন।) শব্দটি দিয়ে নিরীহ-কোমলমতি ছেলেদের ‌ইমেজ দাঁড় করানোর একটা চেষ্টা করেছি মাত্র। এবং এই শব্দটি একটি প্রচলিত শব্দ, যা উক্ত উদ্দেশ্যেই কথা বলার সময় মানুষ ব্যবহার করে বলে আমার ধারণা।

বিশেষ ডিসক্লেইমার: এমনকি 'হাফলেডিস্' নামক প্রচলিত টার্মটির বঙ্গানুবাদ হিসেবেও শব্দটি ব্যবহৃত হয় নি। এটা কেবলই একটা যুৎসই শব্দ প্রয়োগের চেষ্টা।

শব্দটিতে মেয়েদের কথা ছেলেদের আগে উল্লেখ করা হয়েছে। শব্দটি চয়নের পেছনে এটাও একটা কারণ। ধন্যবাদ।

৫৪

তানবীরা's picture


আপনাকে বা আপনার লেখাকে সজ্ঞানে বা অজ্ঞানে কখনো কোন ধরনের ট্যাগ করেছি বলে মনে করতে পারছি না। মজা করে আমরা এবিতে অনেক মন্তব্য করি, সেই দৃষ্টি থেকে আপনাকে মেল শোভেনিষ্ট হয়তো লিখেছি কখনো যেমন আপনিও আমার লেখাকে ওম্যান ডমিনেটেড বলে মন্তব্য করেছেন।

তারপরও, আপনার লেখায় নাসিকা গলানোর জন্যে দুঃখিত, ভাল থাকবেন।

৫৫

লীনা দিলরুবা's picture


গল্প পড়ে স্মৃতিকাতরতায় ভুগেছি। অনেক কিছুই মিলে মিলে যায়। আর হ্যাঁ, গল্পের সুবর্ণলতার ক্রাইসিস বুঝতে পারছি Wink

এবার মীরের কাছ থেকে লম্বা একটি উপন্যাস চাই। কবে পাবো?

৫৬

মীর's picture


সুবর্ণলতার কি আসলেই কোনো ক্রাইসিস ছিলো? আমি কিন্তু নিশ্চিত নই Wink

৫৭

লীনা দিলরুবা's picture


সুবর্ণলতার ক্রাইসিসটা নিয়ে বিশদ কিছু বলতে পারছিনা, ভুক্তভুগীরা কিভাবে এসব সামলায় তা নিয়া নতুন কিছু বলারও নেই। অবশ্য সেই ক্রাইসিসটা তাকে কেমন পুড়িয়েছিল তা একটু অনুভব করতেই ব্যাথা অনুভূত হলো Sad

৫৮

মীর's picture


তাহলে এই বিষয়ে একটা গল্প তো চাইতেই পারি, নাকি?

টুকটাক গল্প লিখার চেষ্টাগুলোই যেখানে ভীষণ রকম মার থেয়ে যাচ্ছে সেখানে উপন্যাস!!! আন্নে ইয়া কিয়া কন?

৫৯

শওকত মাসুম's picture


মীরের গল্প পড়া মানেই তো দারুণ এক অভিজ্ঞতা

৬০

মীর's picture


মাসুম ভাই, আপনে বিভিন্ন সময়-বিভিন্ন ভাবে এত অনুপ্রেরণা দিয়েছেন যে, আমার 'লেখালেখির অপচেষ্টা'গুলোর ইন্ধনদাতাদের একজন হিসেবে আপনাকে অবশ্যই দায়ী করা যায়। এ দায় মাথায় নেবেন কিনা ভেবে দেখেন। Big smile

৬১

শওকত মাসুম's picture


অনুপ্রেরণা দিলেই যদি ভাল লেখক হওয়া যাইতো তাইলে তো আমিই হইতাম দুইন্যার সেরা লেখক। লেখার ক্ষমতা আসলে অন্য ব্যাপার। যেটা আপনার আছে মীর।

৬২

মীর's picture


আপনের সঙ্গে কথায় যে আমি পারবো না, এটা তো সবাই জানেই। তাই আর অগ্রসর হলাম না।
আমার বক্তব্য হচ্ছে- আপনে একজন ভালো লেখক, এ কথা অনস্বীকার্য। তাই প্রচুর লিখুন, আমাদের প্রচুর আনন্দ হোক Big smile

৬৩

শওকত মাসুম's picture


আমি হইলাম কমেডিয়ান টাইপ লেখক। সিনেমায় যেমন কমেডিয়ান থাকে, সেরম। মূল অভিনেতা না, ফিলার হিসাবে লাগে। Smile

৬৪

হাসান রায়হান's picture


সেলিব্রেটি কমেডিয়ান Big smile

৬৫

রন্টি চৌধুরী's picture


সবগুলো গল্পের লিংক দিয়ে একটা পোষ্ট দিলে ভাল হয়।

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!