চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ৭
বিকালের দিকে যখন একটা আবিররঙা আলো কংক্রীটের বীমগুলোর ফাঁক-ফোকর দিয়ে আমার শরীরের কাছাকাছি এসে গড়াগড়ি খেতে চাইতো, তখন আমি একটু পাশে সরে বসতাম। নরম আদুরে আলোটাকে স্পর্শ করতে দিতাম না আমার শরীর, কারণ ওর স্পর্শ পাওয়ার মতো নরম নয় আমার চামড়া। আমার খসখসে সরীসৃপ শরীরটা চাইলে এ আলোর পুরোটাই চুষে নিতে সক্ষম। নিয়ে চারদিকে চাইলে নামিয়ে দিতে পারে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার। এমনিতেও প্রতিদিন একটা নির্ধারিত সময়ে এখানে অন্ধকার নেমে আসে। তবে আমি চাইলে সেটা নামিয়ে দিতে পারি বেশ কিছুটা আগেই কিংবা যেকোন অনাকাঙ্খিত সময়ে। চাই না কখনো। কারণ তাহলে হয়তো মার খেয়ে যাবে, প্রতিদিন এখানকার আবির-আলোয় বসে কয়েকটা মানুষের যে কাজগুলো করার পরিকল্পনা থাকে, সেগুলো।
আমি গ্যারাজের পার্শ্ববর্তী নোনাধরা দেয়ালটির যে ফোকরের ভেতর বাস করি, তার ভেতরে অবশ্য আলোর কোনো দরকার পরে না। চাইলে দিনের পর দিন আমি এই জায়গাটায় ঝিম ধরে বসে থাকতে পারি। আমার শরীরে সে ক্ষমতাও আছে। সর্বোচ্চ বোধহয় মাসখানেক কোনোকিছু না খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবো। অসাধারণ না?
আমার কোনো লৈঙ্গিক সংকটও নেই। আমি দেখেছি বিভিন্ন জাতের মধ্যে কিছু কিছু প্রাণী নিজের এ সংকট মোচনের জন্যই জীবন উৎসর্গ করেছে। আমি সুযোগ পেলে তাদেরকে নিয়ে ভাবি। যদি কোনোদিন সত্যি সত্যি তাদের এ সংকট দূরীভুত হয় তাহলে নিশ্চই মজার কোনো ব্যপার ঘটবে। সে তখন তার উৎসর্গিত জীবন নিয়ে কি করে, সেটা দেখার আমার খুব ইচ্ছা।
আমার ফোকর থেকে একটু কায়দা করে তাকালেই ঐ মানুষগুলোকে দেখা যায়। মাঝে মাঝে ঘুম থেকে ওঠার পর আমি যখন খুব নিষ্কাম ও ক্লান্ত বোধ করি, নড়তে ইচ্ছে করে না একবিন্দুও, তখন আমি দেখি ওদেরকে। ওরা গোল হয়ে বসে কি জানি যজ্ঞ চালায়। আমার ফোকরের সামনে অবশ্য কয়েকটা সুনির্দিষ্ট মানুষই এসে বার বার গোল হয়ে বসে। ওরা মুখ নাড়িয়ে নাড়িয়ে এক ধরনের শব্দ করে।
এভাবে বোধহয় ওরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কিন্তু শব্দটা কেন করে? আমি তো যেকোন রকম মুখ নাড়ানো দেখলেই বুঝতে পারি সব কথা। তাহলে শব্দের কি দরকার? আমি এমনকি কেবল মুখ নাড়িয়ে বলতে ও বুঝাতেও পারি অপরকে আমার মনোভাব। মানুষের প্রধান ডিমেরিটগুলোর মধ্যে মনে হয় শব্দ করাটা অন্যতম।
অবশ্য দেয়ালের অন্য দিকটায় খুঁজলে আরো অনেক মানুষই দেখা যায়। আমার কখনোই মানুষ ভালো লাগে না। তাই বেশি খোঁজাখুজি করি না। সেদিন এক মানুষকে নিজেদের সম্পর্কে বলতে দেখছিলাম, ‘‘মানুষ বড় অদ্ভুত প্রাণী। আমি এই প্রাণীদেরই একজন হওয়া সত্ত্বেও খুব বেশি কিছু জানি না এদের সম্পর্কে। শুধু দেখি সম্পর্কগুলো ক্রমাগত রঙ পাল্টাতে পাল্টাতে এগোয়। যেকোন একটি রঙ-এর সম্পর্কে স্থায়ী থাকার প্রবণতা এ প্রাণীগুলোর মধ্যে নেই।’’
মানুষকে কথা বলতে দেখাটা আমার একটা নিত্যদিনের কাজ। কান থাকলে হয়তো ওদের কথা শুনতেও পেতাম। তখন নিত্যদিনের কাজের সংখ্যা একটা বেড়ে যেতো। ভাগ্যটা ভালো যে, ঐ জিনিস দু’টা আমার নেই।
তবে সেদিনের মানুষের এই কথাটা দেখে আমার হঠাৎ গিরগিটিদের কথা মনে পড়ে গেল!
---





এই বিচ্ছিন্ন অংশগুলো কিন্তু জোশিলা লাগতেছে...
... বলেন তো, এতো অল্প বয়সে এমন বিচক্ষণতা কোন দক্ষতায় অর্জন করলেন? কৌশলটা শিখিয়ে দেন, ফর্মুলাটা দরকার।
শতভাগ সহমত।
চলমান থ্রেড নিয়ে আশাবাদী হলাম, বন্ধ করেন না প্লিজ।
মন্তব্য করুন