চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১৩
আমার প্রিয় জিনিসগুলোর তালিকা তৈরি করলে উপরের দিকে থাকবে বোধহয় আমার লাইটার। যেটা দিয়ে আমি ধূম্রশলাকাগুলোয় অগ্নিসংযোগ করি। আমি ধূমপান করতে পছন্দ করি, পছন্দ করি মানুষকে ধূমপানে উদ্বুদ্ধ করতেও। আমার ধারণা; কাজটা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কিন্তু মনের জন্য নয়। আমি অবশ্য আজ পর্যন্ত স্বাস্থ্যজনিত ক্ষতির শিকার হই নি। হয়তো কোনোদিন হবো। ধূমপানে কি কি ক্ষতি হয়, সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়াটা কঠিন না। আমি ধারণাগুলো থেকে বেছে বেছে যেটাকে পছন্দ করেছি, সেটা হচ্ছে ক্যানসার। আমার যদি ধূমপানজনিত কোনো সংকটে পড়তেই হয়, তাহলে আমি শ্বাসনালীর ক্যানসারে আক্রান্ত হতে চাই।
ক্যানসার হলে কি করবো, সে ব্যপারে এর আগেও বোধহয় আলোচনা করেছি। আমার যাবতীয় সহায়-সম্পত্তির একটা বিলিব্যবস্থা করে দিয়ে কাউকে কিছু না জানিয়ে একদিন বেরিয়ে পড়বো। এমনিতে সংসারের মায়া ত্যাগ করার মতো সাহস আমার নেই। আশা করছি, এ ধরনের কোনো মেডিক্যাল রিপোর্ট হাতে পেলে সে সাহস হয়ে যাবে। বাংলাদেশ থেকে অনেকদূরে গিয়ে মারা যাওয়াটাকে আমি বিশেষ অগ্রাধিকার দেবো। নাহলে পরিচিত কেউ না কেউ আমার লাশ দেখে চিনে ফেলবে। এরচেয়ে এমন যদি হয়, আমি মরে গেলাম কিন্তু কেউ সেটা জানতে পারলো না; তাহলে সেটা হবে আমার জন্য অত্যন্ত স্বস্তিকর।
তবে মৃত্যূর পর পরিচয় গোপন রাখাটা মনে হয় অনেক কঠিন হয়ে যাবে। হওয়াই স্বাভাবিক। বেঁচে থাকলে মানুষের অনেক ক্ষমতা থাকে। কিন্তু সকল ক্ষমতা কাজে লাগিয়েও সে কি আজীবন তার পরিচয় গোপন রাখতে পারে? আর মারা গেলে তো তার নিজের কোনো ক্ষমতাই থাকছে না। সেক্ষেত্রে কিভাবে সম্ভব নিজেকে গোপন করে রাখা? তাই অন্যকোনো দেশে গিয়ে মরার একটা ইচ্ছা ব্যক্ত করে রাখছি।
আর নাহলে আমি মারা যেতে চাই পাহাড়ে। পাহাড়ের কোনো গহীন জায়গায়। যেখানে মানুষ সাধারণত যায় না। শুনেছি হাতিরা যেসব রাস্তা দিয়ে চলাচল করে, মানুষ সেগুলো সচেতনভাবে এড়িয়ে চলে। খুবই সুসংবাদ। এলিফ্যান্ট ট্রেইল ধরে ধরে যদি একেবারে প্রাণীগুলোর আস্তানায় গিয়ে উঠতে পারি, তাহলে সবচেয়ে ভালো হয়। হয়তো সেখানে থাকবে অজস্র বাংলা কলার গাছ। হাতিরা নাকি কলা একেবারে গাছসমেত খেয়ে ফেলায় অভ্যস্ত। ভেবে ভালো লাগছে; মৃত্যূর আগে যে ক'দিন বাঁচবো, সে ক'দিন খাদ্যের অভাব হবে না অন্তত।
সুখ নাকি ভাগ করে না নেয়া গেলে সেটা আর সুখ থাকে না। লুকিয়ে থাকাটা সুখের না। সুতরাং এটির সঙ্গে সুখের তত্ত্বটি খাটে না। দুঃখ হয়তো ভাগ করে না নেয়া গেলেও সেটা দুঃখই থাকে। লুকিয়ে থাকার প্রয়োজন পড়াটা দুঃখজনক ব্যপার। তাই যে লুকিয়ে থাকতে চায়, তাকে কখনো খোঁজার চেষ্টা করা উচিত না। কারণ তাতে কখনোই দুঃখের ভাগটা কমে না। বরং লজ্জা এসে পুরো বিষয়টাকে আরো জটিল করে তোলে। আসলে সুখকে যত সহজে তত্ত্বের ভেতর ঢুকিয়ে দেয়া যায়, দুঃখকে যায় না। এটাই সম্ভবত দুঃখের সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব।
প্রহরী হয়ে সময়কে প্রহরা দিয়ে দিন কাটাচ্ছি। কখন আরাধ্য মেডিক্যাল রিপোর্টটা হাতে এসে পৌঁছায় দেখতে চাই। এছাড়া এখন আমার আর করার মতো তেমন কোনো কাজ নেই।
---





মন্তব্য করুন