চলমান থ্রেডের একটি বিচ্ছিন্ন অংশ- ১৪
প্রথম দু'টির পর টোয়াইলাইটের পরের পর্বগুলো আর দেখা হয় নি। তাই বুঝি সেদিন একজন এসেছিলো স্বপ্নে। স্বপ্নের মহানাগরিক প্রেক্ষাপটটা অচেনা ছিলো না। পরিচিত শহর, রাস্তা, ধুলা-বালি-কিংকর। দেখে দেখে মুগ্ধ দু'জন শুধু বুঝতে পারছিলাম না, সেটা কোন দেশ। অথচ আজন্ম পরিচিত মনে হচ্ছিলো সবকিছু।
আমরা যে হোটেলটায় গিয়ে উঠেছিলাম, সেটা ছিলো ঠিক পরিচিত একজনের বাসার মতো করে সাজানো। এমনকি টেবিলের লম্বা বাঁশি দু'টোও ছিলো সেগুলোর নির্ধারিত জায়গাতেই। আমি লম্বাটে মনিটরের নোটবুকটায় চালিয়ে দিয়েছিলাম শতাব্দীপ্রাচীন কোনো এক গ্রন্থের সিনেমারূপ। আর সেটা আমাদেরকে ক্রমাগত ঠেলে ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিলো বর্তমান থেকে দূরে, দূর থেকে দূরান্তে।
যেতে যেতে আমরা পৌঁছে যাই এক জনপ্রিয় নো ম্যানস্ ল্যান্ড-এ। দু'জন মানব-মানবী হয়তো সবসময়ই সেখানটাতে পৌঁছুতে চায়, আমি জানি না। আর তারপরে চন্দ্রগ্রহণের মতো সে গ্রাস করে নিলো আমায়। আমি ক্রমাগত বিলীন হয়ে যেতে থাকলাম তুলির আঁচড়ে আঁকা এক সুনিপুণ ঠোঁটের সীমান্তে। যেন আমরা দু'জনেই পারফিউম সিনেমা থেকে উঠে আসা কোনো ঐশ্বরিক জ্যঁ ব্যাপিস্ট গ্রানুইলি। একে অপরের ভালবাসাটুকু শুধু ছেঁকে তুলে নিয়ে যেতে চাই বন্দী বোতলে করে। রেখে দেবো নিজের কাছে আজীবন। যেন সেটাই হবে আমাদের এ পৃথিবীর সবচে' সুখময় স্মৃতি।
তারপর একসময় সে আমার ঘাড়ের চামড়ার নিচে বয়ে চলা ধমনীতে ফুটিয়ে দিলো দুইটি শিরশিরে দাঁত। চিনির মতো মিষ্টি একটা অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছিলো সারা শরীরে। খুব অল্প, খুবই অল্প সময়ে আমার ছোট্ট শরীরের সবটুকু রক্ত শুষে নিয়ে সেই মহামানবী তার লুকিয়ে রাখা ডানা দু'টি ঝটপটিয়ে উড়ে গেলো। আমি স্পন্দনহীন বসে থাকলাম। আমার চোখের মণিতে তখন অপার সুখের দেখা পাওয়ার ঝিলিক।
সেই হিরন্ময় মেয়েটিকে আমি আর খুঁজে পাই নি। হয়তো এরপরে সেভ হয়ে যাওয়া একটা স্বপ্নের ভিডিও ফাইল মস্তিষ্কে নিয়েই কাটাতে হবে বাকী জীবন। এরচে' বেশি কিছু পাওয়ার অধিকারই আমার ছিলো না কোনোদিন।
---





বুজলাম্না কিছুই
মন্তব্য করুন