ইউজার লগইন

সময়গুলো দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে

ইদানীং সময়গুলো খুব দ্রুত পার হয়ে যাচ্ছে। এটা বোধহয় আমাদের সবারই হচ্ছে। সেদিন সাকিব আল হাসানকে দেখলাম, এ নিয়ে আক্ষেপ করতে। বিপিএল টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট সম্পর্কিত নিজের একটা লেখায়। সাকিবকে আমি পছন্দ করি ওর রেগুলার পার্ফর্মেন্স আর পজিটিভ অ্যটিটিউডের জন্য। আর প্রথম আলোতে ছাপা হওয়া ওর লেখাগুলো পড়ে পড়ে যেটা মনে হয়েছে, এ কাজটাও বেশ পারে ছেলেটা। সব মিলিয়ে একজন অলরাউন্ডার যাকে বলে আরকি। আমার আরেকজন পছন্দের খেলোয়াড় হচ্ছে আশরাফুল। যদিও বেচারা এখন পর্যন্ত নিজের সেরা সময়টা খুঁজে পায় নি এবং নিজের সেরা খেলাটাও খেলতে পারে নি। তবু আমি আশায় আছি, একদিন সে ফর্মে ফিরবে এবং অনেকদিন পর্যন্ত একটানা স্বীয় ঝলকানিতে প্রকম্পিত করে রাখবে চারদিক। প্রসঙ্গত বলে রাখা ভালো, আমার অপছন্দের একজন খেলোয়াড় হচ্ছে তামিম ইকবাল। ছোকড়াকে ডেঁপো আর বেয়াদপ ধরনের মনে হয়েছে আমার। এ ধরনের ধারণা অবশ্য এমনি এমনি তৈরি হয় নি আমার ভেতরে। তার কীর্তি-কলাপ দেখে তৈরি হয়েছে।

লেখার আসলে কিছু নেই। সিনেমা দেখছি প্রতিদিন একটা করে। সেদিন রাতে দেখলাম জে. এডগার। ২০১১ সালের মুভি। নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বস্। বসের গুণমুগ্ধ ভক্ত হলেও আমি যে তার সমালোচনা একদমই করতে পারি না, তা না। এই সিনেমাটা ধীরগতি। তবে শক্ত কাহিনী আছে। একজন মানুষ তার জীবনের সবগুলো বড় অর্জনকে অর্জন করেছেন ফাঁকি দিয়ে দিয়ে। আর সে ফাঁকির বিষয়গুলো সন্তপর্ণে গোপন করে রেখেছে তার খুব কাছের কয়েকজন মানুষ। যেন সবাই মিলে একটা মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলার চেষ্টা।

সিনেমায় প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনাপ্রবাহকে যুক্ত করা হয়েছে এফবিআই-এর প্রতিষ্ঠাজনিত হিসাব-নিকাশের সঙ্গে। শেষ হয়েছে সেখানকার প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের সময়ে এসে। প্রায় ৫০ বছরের বেশি সময়ের টাইমফ্রেম। পুরো সিনেমার একমাত্র সমালোচনা হচ্ছে, বৃদ্ধ জে এডগারের ভূমিকায় লিওনার্দোর অভিনয় কিছুটা আরোপিত লেগেছে। বিশেষ করে সিনেমার শুরুর দিকে। বয়স্কদের চলাফেরা একটা ধীরস্থির ভাব থাকেই। কিন্তু লিওনার্দো প্রথম থেকেই যেভাবে খুড়িয়ে হাঁটছিলো তাতে তাকে অসুস্থ বলে মনে হচ্ছিলো। শেষদিকে অবশ্য সে অসুস্থই হয়ে পড়ে। এডগার আর ক্লাইডের বন্ধুত্বের সীমানা পেরোনো সম্পর্কটা সিনেমার একটা বিশেষ পর্যবেক্ষণীয় বিষয়!

j-edgar.jpg

সবমিলিয়ে আমার কাছে অনবদ্য লেগেছে মুভিটা। ক্লিন্ট ইস্টউড যে কত অসাধারণ পরিচালক, সেটা এর আগে যারা গ্রান টরিনো (২০০৮) দেখেছেন; তাদেরকে নিশ্চই মনে করিয়ে দেয়ার দরকার নেই। একটা কথা, জে এডগার গত বছরের অন্যতম ফ্লপ মুভির মধ্যে একটা। ক্রিটিকাল কোনো এ্যচিভমেন্টও নেই এটার। তবে এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। হলিউডের বক্স অফিস স্বাভাবিকভাবেই এসব ছবিকে নিয়ে বেশি মাতামাতি করে না। দেখলেই বুঝতে পারবেন।

সম্প্রতি দেখা আরেকটা দারুণ মুভি হচ্ছে জনি ইংলিশ রিবর্ণ। ২০১১ সালের মুভি। রোয়ান অ্যাটকিনসনকে যারা শুধুই মি. বিন হিসেবে চেনেন, তারা মোটামুটি একটা ধাক্কা খাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে যান। কারণ সিনেমার নাম ভূমিকায় ভদ্রলোক একজন এমআই ফাইভ অপারেটর। তবে ঢেকি আসলে স্বর্গে গেলেও ধান ভাঙ্গে। মি. বিন তার সেই বিশেষ অঙ্গভঙ্গি এবং এক্সপ্রেশনের যথার্থ ব্যবহার জারি রেখেছেন এখানেও। ভদ্রলোকের বয়স হয়ে গেছে। তারপরেও নির্মল বিনোদনের জন্য তিনি এখনো অপ্রতিদ্বন্দি। যারা দীর্ঘদিন হাসির সিনেমা দেখেন না, তাদের জন্যই এই মুভিটা।

Johnny English Reborn.jpg

ভালো মুভি দেখার আসলে মজাই আলাদা। স্পিলবার্গের মুভি দেখলাম, দ্য অ্যাডভেঞ্চার্স অব টিনটিন। হার্জের সেই বিখ্যাত কমিক চরিত্র নিয়ে বানানো মুভি। তবে অ্যানিমেশনের ব্যবহারটা একটু বাড়াবাড়ি লেগেছে আমার কাছে।

টিনটিন সিরিজের 'সিক্রেটস্ অব দ্য ইউনিকর্ণ' কমিকটি নিয়ে বানানো মুভি এটা। প্রসঙ্গত টিনটিন সম্পর্কে আমার লেখার ইচ্ছা অনেকদিনের। পৃথিবীর সবচেয়ে বিখ্যাত কমিক চরিত্র বললে যার কোনো অত্যূক্তি হয় না। বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক, বৈপ্লবিক, আন্তর্জাতিক, এশিয়, ইউরোপীয়, যুক্তরাষ্ট্রীয়, আফ্রিকান অনেক-অনেক মজার বিষয় উঠে এসেছে এক সিরিজের মধ্যে। আনন্দ পাবলিশার্সের কল্যাণে বাংলাভাষী শিশুরা আজ টিনটিনের সঙ্গে সম্যক পরিচিত। তবে অনুবাদের চেয়ে মূল ভাষায় রচিত কমিকগুলোও আরো বেশি হাস্যরসাত্মক। কোথায় লাগে এ্যসটেরিক্স, কোথায় লাগে ভারতের প্রাণের কমিক। অল টাইম বেস্ট হচ্ছে টিনটিন কেবল।

tintin.jpg

স্পিলবার্গের কাজের সঙ্গে যারা পরিচিত, তার কাজকে যারা পছন্দ করেন, অ্যাডভেঞ্চার্স অব টিনটিন তাদের জন্য নতুন এক রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষা করছে নিঃসন্দেহে।

তিনটা সিনেমার কথা বললাম। একটা সিরিয়াস, একটা ফানি, আরেকটা বাচ্চাদের। বাহ্ আমার ক্যটেগরী পূর্ণ। এবার তিনটা বইয়ের কথা বলি।

হিমু এবং হাভার্ড পিএইচডি বল্টু ভাই

হুমায়ুন আহমেদের প্রথম দিককার হিমু উপন্যাসগুলোর কথা মনে আছে? ময়ুরাক্ষী, আরো কি কি যেন ছিলো, এখন যেগুলো নাম চট করে মনে আসে না।

সেসব উপন্যাসে মেস জীবনের দীর্ঘ বৃত্তান্ত থাকতো। মেসের ম্যানেজারের কথা থাকতো। হিমু মেসের দরজা খুলে রেখে ঘুমিয়ে যাবার কথা থাকতো। ভিক্ষুকদের কথা থাকতো। তাদের পরিবারের বর্ণনা থাকতো এবং সেসব বর্ণনা অনেকবেশি জীবনঘেঁষা হতো। সে সময় হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাসগুলোতে মানুষের দুঃখ-কষ্টকে আরো একটু গভীরভাবে মাপার চেষ্টা থাকতো। এখনকার মতো ভাসাভাসা ভাবে নয়। তাই তখন আমরা পুলিশ অফিসারের পদোন্নতির সঙ্গে স্ত্রী'র জটিল রোগের চিকিৎসা কিংবা বিনা চিকিৎসায় মারা যাওয়ার স্ত্রী'র সন্তানটিকে নিয়ে জটিল জীবনের আবর্তে ঘুরপাক খেতে থাকা অনেক রকমের চরিত্রের দেখা পেতাম।

এখন আর সেরকম পাই না তার লেখার মধ্যে। তার উপন্যাসের আজকালকার উপজীব্য সমসাময়িক কাহিনী, দু'একটা চটকদার বয়ান, কিছু গতানুগতিক নর-নারী সম্পর্কের রসায়ন এবং অবধারিতভাবে প্রচুর বৈজ্ঞানিক তত্ত্বের কচকচানি। আগে হুমায়ুন আহমেদ লেখার একটা চূড়ান্ত ক্লাইমেক্স পয়েন্টে এসে হুট করে অন্যকিছু নিয়ে আলাপ শুরু করে দিতেন। পাঠক উৎকণ্ঠা নিয়ে বসে থাকতো, ওই জায়গাটাতে কি হচ্ছে। এখন সেই অন্যকিছু নিয়ে আলাপ শুরু করার বদলে তিনি বিজ্ঞানের একটা তত্ত্ব ঢুকিয়ে দেন। কিছুক্ষণ কপচান। তারপরে আগের পয়েন্টে ফিরে যান।

যে কারণে এখন আর তার লেখার ভেতর আগের মতো খাবি খেতে হয় না পাঠককে। সেই রকম উত্তেজনা আর আবেগপূর্ণ অপেক্ষামদির সময় কাটে না তার বই হাতে। এক কথায় যেটা বলা যায়, তার এখনকার উপন্যাসগুলোর গভীরতা অনেক কম।

তবুও বলবো; সমসাময়িক বাংলাদেশি লেখকদের মধ্যে হুমায়ুন আজাদ স্যারের পরে যদি আর কেউ থেকে থাকেন, তো সেটা হুমায়ুন আহমেদ। নমস্য ব্যক্তিত্ব। তার সমালোচনার করার এক কুটো পরিমাণ যোগ্যতাও আমার নেই। আমি শুধুই পাঠক হিসাবে ব্যক্তি অনুভূতি ব্যক্ত করেছি মাত্র। সবশেষে আমার শুভকামনাই থাকলো তার জন্য। আপনি দীর্ঘজীবী হোন প্রিয় লেখক। বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করুন আরো অনেক সুলিখিত গল্প-উপন্যাসে।


মেঘের ওপর বাড়ি

আগের উপন্যাসটির ব্যপারে যেমনটি বলেছি, পাঠককে ক্লাইমেক্সে হাবুডুবু খাওয়ানোর জন্য এখন হুমায়ুন আহমেদ ব্যবহার করেন বৈজ্ঞানিক তত্ত্ব কপচানো প্যারা। এসব বাদ দিয়েও চাইলে তার উপন্যাসগুলো পড়ে ফেলা যায়। তাতে রসাস্বাদনে কোনো ক্ষতি-বৃদ্ধি হয় না। যাক্ মেঘের ওপর বাড়ি একটি সুলিখিত উপন্যাস। শেষ পরিণতি পাঠকের চিত্তকে আরাম দেয়। এমন না যে, খুবই ভালো ও অসামান্য একটা উপন্যাস। হুমায়ুন আহমেদের এরচে' ভালো অনেক লেখাই আছে। তারপরেও অনেক দিন পর একটা লেখায় তার পুরোনো দিনের ফ্লেভার পেলাম অল্প খানিকটা।

এটা ঠিক; আগের সেই বোহেমিয়ান লেখাগুলোর মতো হুমায়ুন আহমেদের পাঠককে অনিশ্চয়তায় ভাসতে হয় না এখন আর। তবে আমি এটাকে তার পরিণত বয়সের আরেকটা পরিবর্তন হিসেবে দেখতে চাই। বাংলা সাহিত্যের প্রতি তার দীর্ঘদিনের ডেডিকেশন, তাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। অন্তর্জালে তার প্রচুর সমালোচনা থাকতে পারে। কিন্তু যে পাঠক সমাজের কথা চিন্তা করে তিনি লিখেন, তারা এখনও তার বই আগের মতোই চেটে-পুটে খায়। আমি সেই বিস্তৃত পাঠক সমাজের একজন। এখনও তার লেখা পড়তে ভালবাসি।

কেপলার টুটুবি

মুহম্মদ জাফর ইকবালের অনেক অসামান্য লেখাই আমার জীবনকে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে উদ্বেলিত করেছে। উদ্দীপ্ত হয়েছি তার লেখা পড়ে। তার লেখা হাসিয়েছে, কাঁদিয়েছে, ভাবিয়েছে। তবে একটা অভিযোগ হচ্ছে- হাত কাটা রবিন, টি-রেক্সের সন্ধানে কিংবা আমার বন্ধু রাশেদ ইত্যাদির মতো লেখা অনেকদিন তিনি লেখেন না। আমার একটা আক্ষেপের বিষয় হচ্ছে, 'টুকি এবং ঝা-এর (প্রায়) দুঃসাহসিক অভিযান' এর মতো আরেকটা উপন্যাস তিনি লেখেন না অনেক বছর হচ্ছে। সেই অপেক্ষার প্রহর আরো প্রলম্বিত হলো আরো একটা বছর। কারণ কেপলার টুটুবি বইটা মূলত পর্বতের মূষিক প্রসবের মতো একটা উপন্যাস হয়েছে। বিশালায়তন এই উপন্যাসটার ভেতর এক লাইন নতুন কিছু নেই। রাজ্যের পুরোনো রদ্দি একত্রে মলাটবন্দি করা। পড়ে যারপরনাই আশাহত হয়েছি। সেই সঙ্গে নতুন আশায় বুক বেঁধেছি, বেটার লাক নেক্সট টাইম ফর জাফর ইকবাল রিডার্স লাইক মী।

তিনটা উপন্যাসের কথা বললাম। একটা সিরিয়াস, একটা ফানি, আর একটা বাচ্চাদের। বাচ্চাদেরটা বিএসটিআই-এর স্ট্যান্ডার্ড টেস্টে উত্তীর্ণ হবে কিনা তা নিয়ে আমার দস্তুরমতো সংশয় রয়েছে। তারপরেও বইটা যেহেতু বিকিয়েছে প্রচুর, সেহেতু শিশু-কিশোরদের জন্য রইলো প্রচুর শুভকামনা।

যাক্ বকবকানি এইবেলা বন্ধ করি। হাসিনা-খালেদা দেখি কয়দিন ধরে একটু চুপচাপ আছে। বিষয়টা খারাপ না। আমার মতো আমজনতা নানাবিষয় নিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছে। এখন এর মধ্যে কেউ ক্লাউন হয়ে লোক হাসাতে না চলে আসলেই হয়। শুনেছি রুনি-সাগরের বিষয়টা নিয়ে দেশের আইন-শৃংখলারক্ষী বাহিনী নাকি বিশেষ কমেডি পরিবেশনা হাজির করবে আর ক'দিন পরেই। ওরে সাবধান রে মমিন সাবধান, মাইর একটাও কিন্তু মাটিত পড়বো না কইয়া রাখলাম।
---

পোস্টটি ৪ জন ব্লগার পছন্দ করেছেন

মন্তব্য করুন

(আপনার প্রদান কৃত তথ্য কখনোই প্রকাশ করা হবেনা অথবা অন্য কোন মাধ্যমে শেয়ার করা হবেনা।)
ইমোটিকন
:):D:bigsmile:;):p:O:|:(:~:((8):steve:J):glasses::party::love:
  • Web page addresses and e-mail addresses turn into links automatically.
  • Allowed HTML tags: <a> <em> <strong> <cite> <code> <ul> <ol> <li> <dl> <dt> <dd> <img> <b> <u> <i> <br /> <p> <blockquote>
  • Lines and paragraphs break automatically.
  • Textual smileys will be replaced with graphical ones.

পোস্ট সাজাতে বাড়তি সুবিধাদি - ফর্মেটিং অপশন।

CAPTCHA
This question is for testing whether you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

বন্ধুর কথা

মীর's picture

নিজের সম্পর্কে

স্বাগতম। আমার নাম মীর রাকীব-উন-নবী। জীবিকার তাগিদে পরবাসী। মাঝে মাঝে টুকটাক গল্প-কবিতা-আত্মজীবনী ইত্যাদি লিখি। সেসব প্রধানত এই ব্লগেই প্রকাশ করে থাকি। এই ব্লগে আমার সব লেখার কপিরাইট আমার নিজেরই। অনুগ্রহ করে সূ্ত্র উল্লেখ না করে লেখাগুলো কেউ ব্যবহার করবেন না। যেকোন যোগাযোগের জন্য ই-মেইল করুন: bd.mir13@gmail.com.
ধন্যবাদ। হ্যাপি রিডিং!