হৃৎপিন্ড আক্রান্ত: আশায়, অপেক্ষায়, উত্তেজনায়, শিহরণে অস্থির (সাময়িক পোস্ট)
সকালবেলা গিয়েছিলাম মিরপুর। ইনডোর স্টেডিয়ামে। রাস্তায় গাড়ি-ঘোড়া অনেক কম। মজার বিষয় হচ্ছে দোকান-পাটও দেখলাম অনেক জায়গায় খোলে নাই। মালিবাগ, মৌচাক, ওয়্যারলেস গেট, মগবাজার এলাকায়। বিজয় নগরের দিকেও। এক বন্ধু ফোন করে বললো, সুপারভাইজারকে বলে নাকি তাড়াতাড়ি বাসায় চলে যাবে আজ। সে সপ্তাহে পাঁচদিন নয়টা-পাঁচটা অফিস করা, তিনদিন ইভনিং এমবিএ আর দুইদিন স্পোকেন ইংলিশের ক্লাস করা সিরিয়াস ধরনের মানুষ। কিন্তু আজ তার তাড়াতাড়ি ছুটি চাই।
রৌদ্রকরোজ্জ্বল একটি দিন। প্রতিটি মানুষের মুখে একটাই কথা। আজ বাংলাদেশ জিতবে। শিক্ষামন্ত্রীকেও দেখলাম 'সরকার এই করছে, সরকার সেই করছে' টাইপের তেলের ট্যাপ খুলে না দিয়ে, বললেন বাংলাদেশের জয়ের কথা। ধান্দাবাজ ধরনের এক সরকারী আমলাকে দেখলাম, মঞ্চে উঠে শামসুর রাহমানের 'স্বাধীনতা তুমি' আওড়ানো শুরু করে দিতে। সরকারী আমলারা যে কবিতাো আওড়াতে পারে তা আমি জানতাম না। স্পিরিটে ফুটছে সারা বাংলাদেশ।
ক্যম্পাসের দিকে যাই নাই। রাত্রে যাবো নিশ্চই। শ্রীলংকাকে হারানোর রাতে গিয়েছিলাম। মানুষের সেকি উদ্দাম উল্লাস। সবচেয়ে ভালো লেগেছিলো, যেই বাঙালি পায়ের সঙ্গে পা লাগলে গলা বাড়ি দিয়ে দিয়ে ঝগড়া করতে উদ্যত হয় আজকাল; তাদেরকেই দেখলাম গায়ের ওপর সাইকেল তুলে দিলেও কিছু বলছে না। আমার অবশ্য সাইকেল তুলে না দিয়ে উপায়ও ছিলো না। পেছনে যে বিরাট একটা মিছিল আমার ঘাড়ে উঠে পড়েছিলো।
এই মার্চে আরেকবার পাকিস্তান বধ করবে বাংলাদেশ। আমি আবারো টিএসসি যাবো। রাজু ভাস্কর্যের সিঁড়িতে দাঁড়িয়ে দেখবো প্রাণের উল্লাস। মুখে কেরোসিন নিয়ে আগুনের হলকা ছোটানো দেখবো। ফ্লেয়ার জ্বালিয়ে সেটাকে ঘিরে পাগলনাচ নাচতে থাকা উদোম গায়ের তরুণদের দেখবো। সাইলেন্সার পাইপের বদলে হাউলা লাগানো সাইকেলগুলো হেলিকপ্টারের মতো ভট ভট করে ছুটবে দিক-বিদিক। আমি শরীরময় আলোড়িত উল্লাসের ঝনঝনানি নিয়ে, কানে তালা লাগা ভুভুজিলার প্যাঁ পু নিয়ে, গলা ফাটানো চিৎকারের চিনচিনে ব্যথা নিয়ে বিলীন হয়ে যাবো জনমানুষের নির্জনতম প্রান্তরে।
আশায় আছি। আশায় আছি বাংলাদেশ। ভীষণ রকম আশা।
---





প্রথম মন্তব্য, এইবার পড়তে যাই
পড়াপড়ি বাদ দিয়ে টিভির সামনে যান।
খেলা শেষে টিএসসি এলাকায় গেলে ফোনাইয়েন বস...
আজ জিতব
১৯ রানে ২ উইকেট/ ৫.২ ওভার...
মিসবাহকে খুব তাড়াতাড়ি তুলে নিতে হবে।
ইয়ান নামের আম্পায়ার্টারে থাপড়াইতে মঞ্চাইতেসে।
দোয়া পড়েন। টেনশনে টিভির দিকে তাকিয়ে থাকতে পারছি না।
মন্তব্য করুন