সেই অস্থির সময়ের কাব্য
১.
এই তোমারি জন্য অনায়াসে আমি হিমালয় ডিঙাবো। আমি কি হিমালয় ডিঙাতে পারবো? আমার তো হিল ট্র্যাকিংয়ের অভিজ্ঞতা নেই। থাকলে কোনো চিন্তা না করেই বলতাম, পারবো। কারণ আমার সাহসের কোনো অভাব নেই। শুনেছি হিমালয় ডিঙাতে নাকি অনেক সাহস লাগে।
আমার অবশ্য ভয় লাগবে না একটুও। হিমালয় ডিঙাতে গিয়ে যদি মৃত্যূ হয়, তাহলে সেটা হবে আমার জন্য সবচে' আরাধ্য মৃত্যূ। আমি মারা যেতে চাই এই দেশ, এই চেনাজানা পরিমণ্ডল থেকে অনেক দূরে কোথাও গিয়ে। যেখানে আমার মৃতদেহটাকে কেউ চিনতে পারবে না। সেটা নিয়ে কেউ ঝামেলায় পড়বে না। আর সেজন্য হিমালয় পর্বতমালাই সম্ভবত পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম জায়গা। কোনো একটা তুষারঝড়ের কবলে পড়ে মারা গেলে কেউ হয়তো কখনো খুঁজেই পাবে না আমার শরীর। ঠান্ডা বরফের মাঝে পড়ে থাকবো বছরের পর বছর। প্রিয়জনেরা অপেক্ষা করতে করতে একসময় ক্লান্ত হয়ে পড়বে। আমাকে ছাড়া জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়বে। আমি এমন নিশ্চুপ বিদায় চাই।
২.
শোনো তোমাকে বলি, তোমার জন্য সাজিয়ে রেখেছি একটা অনেক বড় কথার ডালি। তোমার কি কথা বলতে ভালো লাগে? কিংবা কথা শুনতে? আমি আজকাল দু'টোই ভালো পারি। আমি বোধহয় তোমার কাছাকাছি চলে এসেছি। সেদিন অচেনা বন্ধু জানতে চেয়েছিলো, পাখি কেন চলে গেছে? আমি তাকে বলতে পারি নি; পাখি শুধু আমার কাছ থেকে নয়, আমাদের সবার কাছ থেকে দূরে চলে গেছে। বহু দূরে। আমিও তার কাছে যাচ্ছি। চলে যাবো খুব দ্রুতই। ভালো লাগছে ভেবে।
তোমার সঙ্গে আবার যখন দেখা হবে, আমি অনেকানেক কথা বলবো। কথা বলবো প্রিয় শহর নিয়ে, প্রিয় সিনেমাগুলো নিয়ে, প্রিয় গানগুলো নিয়ে, প্রিয় কবিতাদের নিয়ে, প্রিয় ক্যম্পাসকে নিয়ে, প্রিয় বন্ধুদের নিয়ে, প্রিয় চাওয়ালাদের নিয়ে, প্রিয় ক্যন্টিনবয়দের নিয়ে, প্রিয় শত্রুদের নিয়ে; সবাই-সবকিছুকে নিয়ে। আমার জমে গেছে, অসংখ্য কথা মনের ভেতর। আর জমে গেছে, অনেক রক্ত হৃদয়ের ভেতর। আমি জানি তুমি টের পাও।
৩.
আমার আনন্দ হচ্ছে। ভীষণ আনন্দ হচ্ছে। আমি আবার তোমাকে নিয়ে ভাবতে পারছি। কল্পনায় তোমাকে দেখতে পাচ্ছি। তোমার সঙ্গে ঘুরতে পারছি। মনে হচ্ছে, এই তো তুমি পাশেই আছো। আমার সঙ্গে কথা বলছো। আমরা খুনসুটি, খাওয়া-দাওয়া, ঘোরা-ফেরা (বিশেষত রিকশায়), অলস বিকেলে পাখির ডাক শোনা, ভিন্ন ভিন্ন পাখিদের ডাক আলাদা করা, সামনে দিয়ে পার হওয়া দাঁড়িওয়ালা লোকের সংখ্যা গোণা, 'আমি যা দেখি, তুমি কি তা দেখো' খেলা- সবই করছি। তুমি এভাবে আমার পাশে থাকতে চেয়েছিলে, সারাজীবন। প্রতিজ্ঞা রেখেছো, দেখে ভালো লাগছে খুব ভীষণ।
এখন শুধু তোমার স্পর্শের প্রতীক্ষায়। তুমি একবার ছুঁয়ে দিলেই আমি এই জীবন্মৃত জীবন থেকে মুক্তি পেয়ে যাই। নীল শূন্যতায় উড়াল দিতে পারি। তোমার, তোমার, তোমার প্রতীক্ষা আমার প্রতিটি ক্ষণকে আলো ঝলমলে করে তুলেছে। সারা শরীরে ঝনঝন করে দামামা বাজছে। অণুচক্রিকাদের মধ্যে শুরু হয়ে গেছে এক দারুণ মিশ্রমাতাল কম্পন!
অপেক্ষা শুধু তোমার জন্য। আকণ্ঠ ডুবে আছি সেই অস্থিরতায়।
---





১।
এইভাবে নিশ্চুপ বিদায় হলে তো গ্যাঞ্জাম হয়ে যাবে। নায়ক না হয় নিশ্চুপে মরবে, কিন্তু আমরা তো মনে করবো তারে নায়িকার বাপ গুম করসে। আবার হরতাল ডাকা লাগবে
২।
৩।
'আমি যা দেখি, তুমি কি তা দেখো' ছোটবেলায় অনেক খেলতাম। এখনো মাঝে মাঝেই খেলি সিসিম্পুরের সাথে।
আর আপনি কেমন আছেন?
বিষন্নতা, দুঃখ সব ঝেড়ে ফেলুন এভাবেই.....একসময় আশা করি নতুনভাবে নিজেকে আবিষ্কার করবেন.....ভালো খাকবেন।
প্রতিটি সন্ধ্যা আমার কাটে তোমারই প্রতিক্ষায় দিনের ক্লান্তিতে নয় শুধু সন্ধ্যায়----
প্রিয়জনের জন্য অপেক্ষা নিয়ে খুব সুন্দর সুন্দর । আমার প্রিয় কয়েকটি চরন রবীন্দ্রনাথের লেখা----
তাই চমকিত মন চকিত চরণ তৃষিত আকুল আখিঁ /দিবস ও রজনি আমি যেন কার আসায় আসায় থাকি
সমস্যা কি?
অনেককাল আগে টেলিভিশনে একটা বিজ্ঞাপন দেখাতো।

সিবা গেইগি'র 'লুডিওমিল' ট্যাবলেটের...
বিষন্নতা হলে খেতে বলতো। জানিনা, সেই ট্যাবলেটটা বাজারে পাওয়া কিনা ?
আমাদের মীরের সেটা আজ বড় বেশি দরকার
প্রিয় মীরের জন্য একটা গানের একটা চরণ... "এক্কেবারে মানাচ্ছেনারে...."
সমস্যা কেটে যাক । আপনার প্রথম প্যারাটার সাথে আমার একটা সময়ের চিন্তার আশ্চর্য মিল পাচ্ছি । শুধু আপনি হিমালয়ে যেতে চাইছেন আর আমি চাইতাম বনে চলে যেতে
।
মীরের কী হইছে?
কি! মন কেন ভালো হয় নাই? এত বিষন্ন কেন? কি হৈছে? কোথাও ঘুরে আসেন, বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেন, প্রিয় কারো সাথে বসে কথা বলেন অনেকক্ষণ---ভালো লাগবে।
১। এভাবে যেতে পারবো না!
২।
৩।

কি হইলো আপনার! বিষন্নতা আগেও ছিলো কিন্তু এত্তো তীব্রতা আসার কারন কি? কিছু হইছে নাকি?
খুব অবাক লাগলো লিজার কবিতারটার সাথে কি আশচর্য মিল আপনার লেখা অংশটার!! মানুষের চিন্তা মাঝে মাঝে এক হয় বটে কি কাকতালীয় মিল!
উফ! আপনার কষ্টগুলোকে প্লীজ যেকোনোভাবে প্যাকেটে ভরে উড়িয়ে দিন।
মন্তব্য করুন