ভালোবাসা তোমার হৃদয়ে বৃষ্টি হয়ে নেমে আসুক
মেয়েটি বলে চললো, আগেই বলেছি আমার সঙ্গে কেউ ব্যক্তিগত যোগাযোগ করতে চাইলে তাকে সেটা গোপনে করতে হতো। আমি সেসব গোপন যোগাযোগ আসলে কতটুকু গোপন, তা গোপনে ক্রসচেক করতাম। মেয়ে হওয়ার অনেক সুবিধা আছে জানেন। একটা মেয়ে যদি কোনো আননোন নাম্বারে ফোন করে ছেলেদের মতো করে কিছুক্ষণ ছোঁক ছোঁক করে, তাহলে অপরপাশ থেকে রাজ্য জয় করে আনা সম্ভব। আমি শুধু খোঁজ করতাম, আমার শিকারগুলাকে সেইসব নম্বরের মালিকেরা কতটুকু চেনে বা আদৌ চেনে কিনা। তবে প্রচুর ইনিয়ে-বিনিয়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নাম্বারগুলো হতো ফ্লেক্সিলোডের দোকানের নাম্বার। তাই আমার কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতো। আমি কোনো ছেলের কাছ থেকে টাকা চাই না, বিয়ে করার চাপ দিই না, কখনো ফোন করি না, টেক্সট্ করি না; কিন্তু আমার কাছে আসলেই ইচ্ছামতো সেক্স করতে দিই- এ যেন এক কাল্পনিক রাজ্য! একটা লুচ্চা পুরুষ এরচেয়ে বেশি কিছু চায় না। আমি সেই কল্পনার রাজ্যে অনেক যত্ন নিয়ে ওই ক্লায়েন্টটাকে ঢোকালাম। সে হয়ে পড়লো একটা পোষা কুকুরের মতো। যখন একটু আদর দরকার হয়, মনিবের আশপাশে এসে ঘুরঘুর করে। আর মনিব খুব কষে আদর করে দেয়। ক্লায়েন্ট লুচিয়াটা একসময় এতই আজ্ঞাবহ হয়ে পড়লো যে, ও যেদিন ডানহাত দিয়ে আমার ডোরবেলটা বাজাতো, সেদিন ওর বামহাতও জানতো না সেই খবর।
মেয়েটি এই পর্যায়ে উঠে ভেতরে চলে গেলো। আমার কাছেও পুরো পরিবেশটা তখন কাল্পনিক মনে হচ্ছিলো।
আমিও তার পেছন পেছন গেলাম। তিনরুমের বিশাল ঘর। ড্রইং স্পেসটা অনেকখানি বাইরে। ওখানে বসে টের পাওয়াই কঠিন ভেতরে এত বড় বাড়ি পড়ে আছে। ডাইনিং করিডরটাও অনেক বড়। একটা রুম দেখলাম ভর্তি হয়ে আছে নানান কাগজ আর বইপত্রে। একটা বড় বুকশেলফও দেখলাম টাইট হয়ে ফুলে আছে। এত পড়াশোনা কে করে বুঝতে পারলাম না। মেয়েটি যদি এত পড়ুয়া হয়, তাহলে তো সমূহ বিপদ।
অপর দু'টো রুম এত সুন্দর করে সাজানো যে, মনে হলো কোনো পরিবার বুঝি বাস করে। আমার প্রশ্নভরা দৃষ্টি দেখে সে বললো, মামুন মাঝে মাঝে থাকে আমার এখানে। এখন তো ও ছাড়া আর কেউ আসে না। আমি একসঙ্গে দুইজনকে আসতে দিই না কখনোই। তবে ঘর সাজিয়েছি আমি নিজে। আমার একটা সুন্দর বাড়ির স্বপ্ন অনেক দিনের। স্বামী ভদ্রলোকটির সঙ্গে সংসার করা হয়ে ওঠে নি। তাই বলে স্বপ্নটা অধরা রয়ে যাবে, এ আমি বিশ্বাস করি না। নিজের মতো সাজিয়েছি সবকিছু। ঝাড়বাতি কিনে এনেছি লন্ডন থেকে। সেখানকার পুরোনো বাড়িতে ঝোলানোর জন্য এ ঝাড়বাতিগুলো বিশেষভাবে তৈরি হয়।
আমি মীমের পেছন পেছন গেলাম, ও যে ঘরটায় শোয় সেখানে। একপাশে মস্ত একটা বাতিদান রাখা। দেখলেই কেমন জানি ভাবগাম্ভীর্য ভর করে। মীম জানালো, ওটা ফ্রান্স থেকে আনা। ওখানকার গীর্জায় নাকি অমন বাতিদান ব্যবহার হয়। আমি অবশ্য ওটার ব্যবহারটা ঠিক ধরতে পারলাম না। সে বলেই গেলো, আমার পড়া বইয়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভালোলাগা জড়িয়ে আছে ভিক্টর হুগো'র লা মিজারেবলের সঙ্গে। যতবার জ্যঁ ভালজার কথা মনে পড়ে ততবার আমার কান্না পায় জানেন? আমি জানতে চাইলাম, ভিক্টর হুগো'র হাঞ্চব্যাক অভ নটরডেম পড়েছেন কিনা? মীম জানালো, না পড়ি নি। আমি আসলে বই পড়ার ক্ষেত্রে লেখক ধরে ধরে নিয়ম করে পড়ে যাওয়াটা করতে পারি নি। জীবনে এমন না পারা অনেক কিছুই আছে আমার।
আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, ডিভোর্স নিয়েছিলেন কেন? মেয়েটি উজ্জ্বল হাসি দিলো। দারুণ একটা প্রশ্ন করেছেন। খাটে উঠে পা গুটিয়ে হাঁটুর ওপর থুতনি ঠেকিয়ে বসলো মেয়েটি, এবং বললো, ওকে আমি একদিন হাতেনাতে ধরে ফেলেছিলাম ওর এক ছাত্রীকে লাগানোর সময়। আমি যখন দরজা খুলে দাঁড়িয়েছিলাম তখন ও নিচে ছিলো। ছাত্রীটি ওপরে ঘোড়া দৌড়ে নিয়ে বেড়াচ্ছিলো। আমি যে পেছনে এসে দাঁড়িয়েছি ছাত্রীটি দেখে নি। কিন্তু ও আমার দেখতে পেয়েছিলো। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম পৃথিবীর সবচেয়ে দ্বন্দ্বাকুল সময়ের ভেতর দিয়ে পার হতে থাকা একটি লুচ্চা পুরুষকে। কারণ দু'জনেই তখন এমন একটা পর্যায়ে উঠে গিয়েছিলো যে ঘোড়ার লাগাম টেনে ধরা সম্ভব ছিলো না। বিশেষ করে ছাত্রীটির পক্ষে। মূহুর্তের মধ্যে যে তার ঘোড়া মাঝপথে জমে গিয়েছে সেটা সে টের পায় নি। একদিকে চলছিলো তার টগবগ টগবগ আর আরেকদিকে দাঁড়িয়ে ছিলাম আমি। মাঝখানে পড়ে পড়ে ঘোড়া বেচারার জল ঝরে গেলো বড় নিরুপায় অবস্থায়। আমি কিন্তু সঙ্গে চিৎকার দিয়ে উঠি নি বা দৌড়ে ঘর থেকে বেরও হয়ে যাই নি। দেখছিলাম মেয়েটিকে কতটা সুখ সে দিতে পারে। আমার ওই লোকটার প্রতিটি অঙ্গের মুভমেন্ট মুখস্ত ছিলো। আমি ঠিকই বুঝতে পারছিলাম ওর হয়ে গেছে। কিন্তু মেয়েটির তো হয় নি। সে আরো কিছুক্ষণ টগবগ টগবগ করে গেলো। তারপর এক সময় যখন বৃথা চেষ্টা বাদ দিয়ে সে আমার স্বামীর দিকে মনোযোগী হলো তখন বোধহয় বুঝতে পেরেছিলো কিছু একটা সমস্যা চলছে তার পিঠের পেছনে। চমকে যখনই সে ঘুরতে যাবে, তার ঠিক আগের মূহুর্তে আমি ঘর থেকে বের হয়ে আসলাম। মেয়েটি আমাকে দেখে নি কিন্তু আমার স্বামীর চোখে সলিল সমাধির পূর্বমূহুর্ত দেখেছে। আমার বড় ভালো লাগছিলো ঘটনাটি আবিস্কার করে। কেন তা আমি জানি না। মানুষ হিসাবে আমি যে খুব উঁচুদরের তা আমি দাবি করবো না।





মন্তব্য করুন