ভাল লাগা ভাবনারা - ২
যা সত্য, যা অবিচল, যা ভয়ংকর, যা অটল; তাই অকপটে বলতেন হুমায়ুন আজাদ স্যার। লিখে রাখতেন কালো অক্ষরে। আমি বিশ্বাস করি- যা সত্য নয়, তার জন্য বিশ্বাস শব্দটি আনতে হয়; আর যা সত্য তা বলে ফেললে, মানুষের বিশ্বাস হোঁচট খায়। সক্রেটিসকে হেমলক পান করিয়ে মেরে ফেলা হয়েছিলো তিনি বিশ্বাসের বাইরে সত্যকে এনে ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে। হঠাৎ একদিন ঘুম থেকে উঠে সত্যের মুখোমুখি দাঁড়াতে হওয়ায়, ভয় পেয়ে গিয়েছিলো মানুষ। যুগে যুগে এমন ভয় পেয়ে মানুষ অনেক মহাপুরুষের জন্মই দিয়েছে। অনেককে করেছে কালজয়ী। হুমায়ুন আজাদ স্যারও প্রতিক্রিয়াশীলদের দ্বারা আক্রান্ত হয়েছিলেন। জীবদ্দশাতেই তিনি মহাপুরুষসম উচ্চতায় আরোহণ করতে পেরেছিলেন। তিনি বেঁচে থাকবেন নতুন দিনের পথিকৃৎ হয়ে। সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবার আগ পর্যন্ত। আমি স্যারের আত্মীয় নই, তাই তাঁর প্রয়াণে স্বজন হারানোর বেদনায় আক্রান্ত হই নি। তাঁর ও নিজের ওপর অটুট বিশ্বাস জন্মেছিলো কেবল।
আজকের কবিতার নাম- আমাকে ছেড়ে যাবার পর। কবিতার আমেজের সঙ্গে উপরের প্যারাটা খুব বেশি যায় না। তাও লিখলাম, কারণ কবির প্রতি আমার রয়েছে এক বুক অপ্রতিরোধ্য ভালোবাসা। যাক্ আমাকে ছেড়ে যাবার পর কবিতাটা ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত 'যতোই গভীরে যাই মধু যতোই ওপরে যাই নীল' কাব্যগ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে। আজকে এই একটা কবিতাই থাকলো। আমার কেন যেন মনে হয়, কবিতাটির সৌন্দর্য্য লুকিয়ে আছে এর একাকীত্বের মধ্যেই।
আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর
আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর শুনেছি তুমি খুব কষ্টে আছো।
তোমার খবরের জন্য যে আমি খুব ব্যাকুল,
তা নয়। তবে ঢাকা খুবই ছোট্ট শহর। কারো কষ্টের
কথা এখানে চাপা থাকে না। শুনেছি আমাকে
ছেড়ে যাওয়ার পর তুমি খুবই কষ্টে আছো।
প্রত্যেক রাতে সেই ঘটনার পর নাকি আমাকে মনে পড়ে
তোমার। পড়বেই তো, পৃথিবীতে সেই ঘটনা
তুমি-আমি মিলেই তো প্রথম সৃষ্টি করেছিলাম।
যে-গাধাটার হাত ধরে তুমি আমাকে ছেড়ে গেলে সে নাকি এখনো
তোমার একটি ভয়ংকর তিলেরই খবর পায় নি।
ওই ভিসুভিয়াস থেকে কতটা লাভা ওঠে তা তো আমিই প্রথম
আবিষ্কার করেছিলাম। তুমি কি জানো না গাধারা কখনো
অগ্নিগিরিতে চড়ে না?
তোমার কানের লতিতে কতটা বিদ্যূৎ আছে, তা কি তুমি জানতে?
আমিই তো প্রথম জানিয়েছিলাম ওই বিদ্যূতে
দপ ক'রে জ্বলে উঠতে পারে মধ্যরাত।
তুমি কি জানো না গাধারা বিদ্যূৎ সম্পর্কে কোনো
খবরই রাখে না?
আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর শুনেছি তুমি খুব কষ্টে আছো।
যে-গাধাটার সাথে তুমি আমাকে ছেড়ে চ'লে গেলে সে নাকি ভাবে
শীতাতপনিয়ন্ত্রিত শয্যাকক্ষে কোনো শারীরিক তাপের
দরকার পড়ে না। আমি জানি তোমার কতোটা দরকার
শারীরিক তাপ। গাধারা জানে না।
আমিই তো খুঁজে বের করেছিলাম তোমার দুই বাহুমূলে
লুকিয়ে আছে দু'টি ভয়ংকর ত্রিভুজ। সে-খবর
পায় নি গাধাটা। গাধারা চিরকালই শারীরিক ও সব রকম
জ্যামিতিতে খুবই মূর্খ হয়ে থাকে।
তোমার গাধাটা আবার একটু রাবীন্দ্রিক। তুমি যেখানে
নিজের জমিতে চাষার অক্লান্ত নিড়ানো, চাষ, মই পছন্দ করো,
সে নাকি আধ মিনিটের বেশি চষতে পারে না। গাধাটা জানে না
চাষ আর গীতবিতানের মধ্যে দুস্তর পার্থক্য!
তুমি কেনো আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে? ভেবেছিলে গাড়ি, আর
পাঁচতলা ভবন থাকলেই ওষ্ঠ থাকে, আলিঙ্গনের জন্য বাহু থাকে,
আর রাত্রিকে মুখর করার জন্য থাকে সেই
অনবদ্য অর্গান?
শুনেছি আমাকে ছেড়ে যাওয়ার পর তুমি খুবই কষ্টে আছো।
আমি কিন্ত কষ্টে নেই; শুধু তোমার মুখের ছায়া
কেঁপে উঠলে বুক জুড়ে রাতটা জেগেই কাটাই, বেশ লাগে,
সম্ভবত বিশটির মতো সিগারেট বেশি খাই।
---





চমৎকার কবিতা
হুমায়ূন আজাদ স্যারের লেখা এমনিতেই আমার বেশ পছন্দের।
এ কবিতাচা এর আগে পড়া হয়নি।
আমি মুগ্ধ।
আপনেরে থ্যাংকু... কবিতার লাইগা
ওয়েলকাম ওয়েলকাম। কবিতাটা আমার ব্যপক প্রিয়। হুমায়ুন আজাদের বেশির কবিতাই আমার ব্যপক প্রিয় অবশ্য। এইটা তার মধ্যে উপরের দিকে আছে একদম।
আর ভালো কথা, আপনার প্রো-পিকটা দারুণ!
২০০৮ সালে পড়ছিলাম উনার কবিতা সমগ্র কিন্তু সময়ের ব্যাবধানে। কবিতা কোনোকালেই মনে রাখতে পারলাম না ইহাই জেবনের বড় পরাজয়।
বাই দা ওয়ে, এই কবিতাটা আসলেই খুব চমৎকার!
বাই দ্য ওয়ে, ধন্যবাদ ধন্যবাদ
হুমাইলাম
হুম পাইলাম
চমৎকার একটি কবিতা!
সব হুমায়ুনই কি অসাধারণ ছিল !
হুমায়ুন আজাদ
হুমায়ন আহমেদ
হুমায়ন ফরিদি
সব হুমায়ুনের কথা জানি না। কিন্তু এ তিন অকালপ্রয়াত হুমায়ুনই যে অসাধারণ ছিলেন, তা জানি।
জোশিলা....
টুটুল ভাই কি বলতে চাইলেন? জোশিলা>জো+শিলা>জোয়ান শিলা>শিলা কি জওয়ানি?
হুমায়ুন আজাদের কবিতাই বেশি ভাল লাগে। উপন্যাস আমার পছন্দ না
আমার অবশ্য উনার সব লেখাই ভালো লাগে। কোনোকিছু বাদ দিই না। উপন্যাসের মধ্যে পাক সার জমিন সাদ বাদ-টা বেস্ট।
পড়লাম......।
জানলাম।
শেয়ারের জন্যে থ্যাঙ্কু!
আসলেই জোসিলা কবিতা!
আপনের জোসিলাটা ঠিকাছে। নোসিলা নোসিলা ভাব আছে।
কবিতা টা আমার খুব পছন্দের একটা কবিতা;
তবে আজকে লগিন করলাম -- "আমি বিশ্বাস করি- যা সত্য নয়, তার জন্য বিশ্বাস শব্দটি আনতে হয়; আর যা সত্য তা বলে ফেললে, মানুষের বিশ্বাস হোঁচট খায়।" -- এই কথাটা যে আমার অনবদ্য লাগসে সেটা জানানোর জন্য।
আরে এইটা কে? আসেন না ক্যান
ধন্যবাদ কাঁকন।
আরে কাঁকন যে !
সোনার হরিন...
তুমি এলে, অনেক দিনের পরে যেনো বৃষ্টি এল...
চমতকার একটা কবিতা। ধইন্যা আপনাকে। কবিতার জন্য পোষ্টটা প্রিয়তে রাখলাম।
কবিতাটা পড়িনাই আগে, ধন্যবাদ শেয়ার করার জন্য ।
শেয়ার?? নো শেয়ার। আমি কিন্তু শেয়ার ব্যবসা পছন্দ-টছন্দ করি না একদম। কখনও যাই নাই, দুই লাখ টাকা লস্ও করি নাই। তাই আমাকে শেয়ার ব্যবসায়ী বলা যাবে না মোটেও।
ভাল্লাগছে।
হুমায়ুন আজাদের অনুবাদগুলোও কিন্তু দারুন হয়।
শুধু দারুণ? একেবারে যা তা। এটা পড়সেন-
মন্তব্য করুন