নীলপদ্মের অপেক্ষা
আমি নীলপদ্ম। একটি বালি হাঁস। শরের আঘাতে ওড়ার ক্ষমতা হারিয়েছি। হারিয়ে আপনাদের হাওড়ের বিলে আমার হাঁসজীবনের শেষ বাসাটি বানিয়েছি। সেখানে বসে বসে অনেক মজার ঘটনার সাক্ষী আম হই। মাঝে মাঝে মনে হয় কথাগুলো কাউকে জানাই। এই সেদিনই যেমন এক মুহূর্তের ব্যাবধানে সময় পরিভ্রমণ করে আসলাম।
সেদিন পড়ন্ত বিকেলের আলোয় বাড়ির ছাদে আরামকেদারায় অলস বসে দেখছিলাম আমার পোষা কাঁচপোকাটার চোখের ভেতর সোনালী রঙয়ের ঝিলিক। সারাদিন সঙ্গিনীর দেখা না পেয়ে একটা অস্থির খয়েরী রঙয়ের শালিক দূরের ঝাউগাছের ডালের বসে খুব মনের সাধ মিটিয়ে ছটফট করছিলো সে সময়টায়। জনমানবহীন নিরব প্রান্তরটা এইসব উপঢৌকনের সাহায্যে আমাকে আপনজনদের সান্নিধ্য-সুখ দিচ্ছিলো। আর কাছের নদীর পাড়টি শোনাচ্ছিলো সুদূর অতীত থেকে ভেসে আসা কোনো সমধুর জলসঙ্গীত। হয়তো বেহুলার কান্নার সুর মিশে ছিলো সেই সঙ্গীতে। হয়তো ওদের জীয়নদ্বীপে পৌঁছুনোর পরের সুখের কান্নাই ছিলো সেটা। কিংবা হয়তো ছিলো আসমানীদের বাড়ির বাতাসে ঘুরপাক খেতে থাকা সেই খিলখিলে হাসির সুর।
আমার অতো সাত-পাঁচ ভেবে কাজ নেই বলে, আমি শুধু চেয়ে চেয়ে দেখছিলাম। ঘন হয়ে বৃষ্টি নেমে এলো সেই অবসরে। হাওড়ের মতো চারপাশের সবকটি চর ভেসে উঠলো সেই বৃষ্টি-জানালার ফাঁক গলে। আর আমি হাওড়ের পানিতে ভাসানো ডিঙি নৌকায় শুয়ে আকাশপানে তাকিয়ে দেখেছি দূর কৈশোরে ফেলে আসা এক পরিচিতাকে। কেন যে এক মুহূর্তের জন্য অমন করে পুরোনো একটি স্মৃতি মনে পড়ে যায় তা কোনো মস্তিষ্ক বিজ্ঞানী এখনও বের করতে পারেননি।
সহস্র সবুজ রঙধনু ঘুঙুর হয়ে লুটিয়েছিলো সেই কিশোরীর পা'য়। ধূসর মেঘেদের সমান্তরালে উড়ে যাওয়া বালিহাঁসের কলতান থেমে গিয়েছিলো যার নিঃশব্দ আগমনী বার্তায়। ব্রহ্মপুত্র নদ জমাটবদ্ধ হয়ে নির্মাণ করেছিলো তার চলার পথ আর পৃথিবীর সবগুলো কাশফুল গাছ হাজির হয়েছিলো মৃদু থেকে মৃদুতর বাতাসের সংস্থান ঘটাতে, কিশোরীর জন্য।
কিশোরী যথারীতি একমুহূর্তই সেই নীলিমায় দাঁড়িয়েছিলো।
হয়তো আপনমনের কোনো অজানা খেয়ালে ভেবেছিলো কোনো এক অচিন রাজকুমারের কথা। তারপর ছুটে ফিরে গিয়েছিলো নিজের সজীব কলাপাতারঙা নীড়ের পানে। জানতাম এর পুরোটাই ছিলো কিশোরী মনের খেলা।
তারপরও লক্ষ শরে বিদ্ধ হয়ে উড়তে উড়তে এসে পড়েছিলাম এই তেপান্তরের মাঠে।
---





হুমমম...
হমমমমম....
কোথাও কেউ নেই
মন টা কি আজ খুব বেশি খারাপ?
একজন নীলপরী আরেকজন নীল পদ্ম।দুনিয়া দেখি নীলে নীলাকার হয়ে গেলো।
পাশে আসলেই কেউ নেই!
সব জায়গায় এত শূণ্যতা কেন বুঝি না।
আপ্নেরতো টিন এজ চলতেসেনা। তাইলে এত দুঃখবিলাসীতা ক্যান?
ভাই মীর লেখাটা মন ছুয়ে গেল তবে পরের লেখাটা যেন অনেক মজার হয়, আনন্দময় হয়।
মন খারাপ কেন রে ভাই
চমৎকার সাহিত্য।
এরকম লেখা আরও চাই।
আছেন কেমন গুরু?
আমাকে ভুলে গেছেন?
লেখা ভালো লেগেছে!!
মন্তব্য করুন