সম্ভবত
সম্ভবত আমার মধ্যে একটা বিবর্তন ঘটছে। কোনো একটা পরিবর্তনের দিকে ধাবিত হচ্ছি। টের পাই। খুব ভালোভাবে টের পাই। নিশুতি রাতে একলা জেগে থাকতে ভালো লাগে। কোনো কাজ নেই। চুপচাপ শুধু শুয়ে থাকা। তাও ভালো লাগে।
দ্য অ্যাভেঞ্জার্স দেখলাম। ভালো মুভি। সুপারহিরো মুভি এমনিতেও আমার ভালো লাগে। এ ধরনের মুভিগুলোর একটাই সমস্যা। একটা পর্যায়ে গিয়ে অবশ্যম্ভাবীভাবে সিটি লাইফের নেমে আসে চরম ডিজাস্টার। সবকিছু ভেঙ্গে-চুরে যাচ্ছেতাই একটা কান্ড ঘটে। প্রচুর জানমালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। যেটা বাস্তবে একেবারেই অবিশ্বাস্য। এইটুকু ছাড়া সুপারহিরো মুভিগুলো সময় কাটানোর জন্য খুবই ভালো একটা মাধ্যম। অ্যাভেঞ্জার্সে হালক্ চরিত্রটা যে করছে, তাকেও ভালো লাগসে। যদিও প্রথমে অনেকক্ষণ বুঝতে পারি নি সে হালক্। এডওয়ার্ড নরটনের আগের হালক্ মুভিটাও ভালো লাগছিলো। আর ফাইট ক্লাব দেখার পর থেকে আমি এডওয়ার্ড নরটনের অনেক পাঙ্খা তো, তাই অন্য আরেকজনকে এই চরিত্রে আশা করি নাই। অন্যদের অভিনয়ও দারুণ ছিলো। ক্যাপ্টেন আমেরিকা যতদূর জানতাম এন্টার্কটিকায় গিয়ে মারা গিয়েছিলো কিংবা দীর্ঘদিনের শীতনিদ্রায় চলে গিয়েছিলো। তাকে এখানে অনেক সপ্রতিভ এবং উন্নত কারিগরি ব্যবস্থাপনার সঙ্গে অনেক সাবলীল দেখলাম। আসলে উন্নত বিশ্বের উন্নত মানব তো, কোনোকিছুতে অভিযোজিত হতে খুব বেশি সময় লাগে না। ভালো লাগসে স্কারলেট জোহানসনকেও। ওর স্বাস্থ্যটা ইদানীং যা হইসে না, অদ্ভুত একদম! চেহারায় একটা গতানুগতিক-গতানুগতিক ভাব আছে। এইটুকু বাদে মেয়ের আর সবকিছুই দর্শনীয়।
অ্যাভেঞ্জার্স নিয়ে দীর্ঘ অপ্রয়োজনীয় আলোচনা দিলাম। বোদ্ধামহলে এই সিনেমার খুব বেশি পাত্তা পাওয়ার কারণ নাই। আমার কাছে ভালো লাগার একমাত্র কারণ, আমি খুব অল্পতে মুগ্ধ হই। এই সমস্যায় ভুগি সবক্ষেত্রেই। তসলিমা নাসরিনের ওপর কত অল্পতেই না মুগ্ধ হয়ে পড়েছিলাম। মহিলার দুই-চারটা প্রেমময় কবিতা বা কয়েকটা বাস্তবধর্মী লেখা পড়েই। যদিও এখন তাকে একজন প্রকৃত ভন্ড ও স্টান্টবাজ মনে হয়। আমার ধারনা মহিলাকে এখন বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনতে চাইলে, সে আসবে না। তাহলে তার স্টান্টবাজির ক্ষেত্রটা একটু হলেও ক্ষতিগ্রস্থ হবে। আর যদি আসেও তাহলে, এসে খুব দ্রুতই উল্টাপাল্টা এমন একটা কিছু করে বসবে; যাতে লোকজন আবার ক্ষেপে ওঠে। আমি বলছি না, যারা তার উপরে আগের বার ক্ষেপে উঠেছিলো তারা রাইট ছিলো। কিন্তু এবার হয়তো সেই গোষ্ঠীর বাইরেও অনেকে ক্ষিপ্ত হবে এবং তাদের সেটা হবার যথেষ্ট কারণ থাকবে।
যাক্ এটা আমার একান্ত ব্যক্তিগত ধারণা। যেটা জন্মেছে হুমায়ূন আহমেদকে নিয়ে তার লেখা সাম্প্রতিক প্রবন্ধটা পড়ার পরে। হুমায়ূন আহমেদ একাধিকবার তসলিমাকে দেশে ফিরিয়ে আনার কথা লিখেছিলেন। একজন লেখকের সম্ভবত এটাই কাজ। লেখা। নিজের জায়গা থেকে তসলিমাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টাটুকু তিনি করেছিলেন। তসলিমা তার মায়ের একই ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হবার কথা উল্লেখ করেছেন নিজের প্রবন্ধে। অথচ তসলিমার মা যে মেয়ের পরামর্শেই অনেকখানি ভুল চিকিৎসা গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং নিজের সবগুলো দাঁত হারিয়েছিলেন, সে কথা লিখেন নি। সেই তসলিমা নাসরিনের মায়ের কথাও পাওয়া যায় হুমায়ূন আহমেদের লেখার মধ্যে। অথচ হুমায়ূনে মৃত্যূর পর যখন মিডিয়া-গণমানুষ সবার নজর সেদিকে, তখন আলোচনায় আসার জন্য তসলিমা মৃত হুমায়ূনকে নিয়ে কিছু অসার যুক্তিসম্পন্ন একটা নেতিবাচক লেখা লিখে বসলেন। ফ্রিক আর কাকে বলে!
গত কিছুদিনে হুমায়ূন আহমেদের 'আমি' বইটা পড়লাম। তিনটা বই মিলে একটা বই। পড়তে পড়তে লেখক হুমায়ূনের পাশাপাশি ব্যক্তি হুমায়ূনের চরিত্রটাও অনেক পরিস্কার হয়ে উঠছিলো চোখের সামনে। লেখক হুমায়ূন এই লেখাগুলোতে এসে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে পাঠকের সঙ্গে কমিউনিকেট করতে চেয়েছিলেন। হয়তো তিনি সমাজকে ভয় পেতেন। তাই চেষ্টা করেছিলেন নিজের ব্যক্তিগত জীবনকে লেখনী ক্ষমতার মাধ্যমে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে। কতটা সফল হতে পেরেছিলেন তা আসলে সময়ই ভালো বলতে পারবে। কিন্তু এসবের প্রয়োজন ছিলো না। ব্যক্তিগত জীবনকে যদি আজীবন তিনি আড়ালেই রাখতেন, যে যা বলে বলুক- এমন মনে করে লেখালেখি চালিয়ে যেতেন; তাহলেও খুব বেশি ক্ষতিবৃদ্ধি হতো না। বরং তার যেটা আসল কাজ, লেখালেখি ও শিল্পচর্চা করা; সেটা বোধহয় আরো ভালোভাবে হতো। প্রয়োজন ছিলো না কৈফিয়তের। একজন মানুষ তার ব্যক্তিগত জীবনে কি করবে, না করবে সেটা তার একান্ত নিজের ব্যপার। হুমায়ূন আহমেদ শেষজীবন প্রাচুর্য্যময় সময় কাটিয়েছেন। এমন সুযোগ সবার থাকে না। ভদ্রলোকের আরো অনেক দিন বাঁচা দরকার ছিলো। তাহলে তার কাছ থেকে এমন কিছু আমরা পেতে পারতাম যেটা দীর্ঘদিন ব্যবহার করা যেতো।
রাত-দুপুরে এসব বকবক কেন করছি জানি না। মন-মাথা সবকিছু বিক্ষিপ্তও হয়ে আছে অনেক। কোনোকিছুতে গভীরভাবে মনোনিবেশ করতে পারছি না। কেন কে জানে? তাকে যত তাড়াই দূরে দূরে, তবু সে আসে মেঘলা চোখে ঘুরে-ফিরে।
---





মন্তব্য করুন