জ্বলন্ত গোল্ড লীফই ভরসা
বৃষ্টি আজো মনের ভেতর সেই অনুভূতিই তৈরি করে যার জন্য আজ থেকে অনেক বছর আগে বৃষ্টির প্রেমে পড়েছিলাম। মেয়েটিকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতাম। সে বাসতো তারচেয়েও বেশি কিছু দিয়ে। অথচ আমাদের দু'জনের দেখা হয় নি কোনোদিন। জানা হয় নি; কেন আমরা কখনো একে অপরের কাছাকাছি যেতে পারি নি।
আমার ভেতর শুকিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলোতে আজো প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতে পারে বৃষ্টি। সেসব স্মৃতি আসলে তারই। আমি শুধু উপস্থিত ছিলাম, তাই সেগুলো নিজের অন্তরে ধারণ করেছি। প্রতি ফোঁটা বৃষ্টির জলে মিশে থাকা সেই দিনগুলো, যেগুলো আমি কখনো ভুলি নি এবং কখনো ভুলবো না; সেগুলোর মনে পড়ে যাওয়া জোর করেও ঠেকিয়ে রাখতে পারি না ইদানীং যখন ঝুম বৃষ্টিতে আটকা পড়ি। মাঝে মাঝে এমনকি, পারি না চোখের কোণায় সামুদ্রিক পানির জমাট বাঁধা ঠেকিয়ে দিতেও।
গাউসুল আজমের ছাদে গিয়ে পেঁয়াজ-মরিচ ভর্তা আর ধোঁয়া ওঠা পাবদা মাছের তরকারি দিয়ে ভাত খাওয়ার কথা মনে পড়ে। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে রিকশার হুডের নিচে হুটোপুটি করতে করতে কলাভবন থেকে নীলক্ষেত পৌঁছে যাবার সেসব দিনগুলো কত দ্রুত হারিয়ে গেলো জীবন থেকে! কত দ্রুত মানুষের ছোট্ট জীবনের একেকটা দিন হারিয়ে যেতে পারে?
বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ায় বসে বসে পার করা অলস দুপুরগুলোর কথা মনে পড়ে। মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের কথা মনে পড়ে, মাঝে মাঝে মনে পড়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কথাও। অবকাঠামোগুলো তাদের অবয়বের সমান বড় বড় স্মৃতি জমা দিয়ে রেখেছে আমার কাছে। এত এত স্মৃতির ভার বহনের শক্তি আমার নেই।
মনে পড়ে সেই ভোরবেলাগুলোর কথা। আমাদের একসঙ্গে বাড়ি থেকে বের হওয়া। মোল্লায় গিয়ে কড়া করে ভাজা পরোটা দিয়ে নাস্তা করা। প্রতিটা ক্লাসের ফাঁকে একবার করে কমন রুমের সামনে এসে দেখা করা। সময় থাকলে শালিকে গিয়ে চা খেয়ে আসা।
জীবনের সেই দিনগুলোতে আমরা কেউ পৃথিবীর আর কারো কথা চিন্তা না করে শুধু দু'জন দু'জনের হয়ে সময় কাটিয়েছি। কাটিয়েছি অনেকগুলো দিন, অনেকগুলো রাত; অনেকগুলো নিঃশব্দ দুপুর, রঙিন প্রভাত। তখন প্রতিটি মুহূর্ত বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টিতে ভিজে চুপচুপে হয়ে থেকেছি একটানা সাত বছর বা আরো বেশি সময়।
আজকাল মাঝে মাঝে ঝুম বৃষ্টিতে আটকা পড়ে গেলে আমার সেই স্মৃতিগুলো সব একে একে মনে পড়তে শুরু করে। তখন হয়তো শান্তিনগরের কোনো দোকানের ছাদ ও কার্ণিশ বেয়ে মুষলধারে পড়তে থাকে বৃষ্টির পানি, খোলা রাস্তার ওপর ঝরতে থাকে বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা। আর আমি বারবার পাতা ঝাপটিয়ে চোখ দু'টো শুকনো রাখবার ব্যর্থ চেষ্টা চালাই। জ্বলন্ত গোল্ড লীফই আমার একমাত্র ভরসা, সেই স্মৃতিসুনামির সামনে দাঁড়িয়ে থাকবার সময়।
---





সিক্রেট খ্রাপ.. খাইয়েন্না...
সৃত্মিকাতরতা.....
আহা! শেষের প্যারাটা...
আপনি সিগারেট খান কিন্তু সিগারেট যাতে আপনারে না খায় সেইটা খেয়াল কইরা..
~
স্মৃতি; পুরোনো সব স্মৃতি
অথবা বৃষ্টির ভালবাসা
সবারই থাকে স্মৃতিপ্রীতি
অথবা বৃষ্টির কাছে আসা....
আপনার লেখা ভাল লাগলো।
স্মৃতিরা কড়া নাড়ছে দোর গোরায় ! .........
নষ্টালজিক লেখাগুলো বরাবরই প্রিয় আমার।
এই লেখাটিও সেরকম প্রিয় হয়ে ধরা দিয়েছে।
তবে জ্বলন্ত গোল্ডলিফ কিন্তু কখনোই ভরসা হতে পারবে না।
কত স্মৃতি, না! এমনই সব, কেমন জানি! দিনগুলো হারিয়ে যায়। আহারে!
কেমন আছেন আর কত জিজ্ঞেস করব? উত্তর তো দেন না।তবে ভালো থাইকেন।
মনে হয়, বেদনাময় সময়ের ভীড়ে আছেন। আর কিছু খাইয়েন না ।আগামীতে আমার লেখা গল্প বেদনাময় সময়ের ভীড়ে, উপন্যাস হৃদয়ের এপিঠ-ওপিঠ পড়বেন।আশা করছি সিগারেটের কাজ করবে।
মোহাম্মদপুরে দাওয়াত রইলো সিগারেটের। নিজে খাই না কিন্তু খাওয়াতে দোষ কি?
ওইদিন স্ট্যাটাস দিছিলাম এফবিতে,
ইটস নেভার 'জাস্ট রেইন'..
বিষ্টি বড়ই মারাত্মক জিনিস,
যে কোন সময় পুরাই আওলাইয়া দিতে পারে..
মন্তব্য করুন