সহ্যসীমার কাঁটাতারে বিদ্ধ শরীর
সময়টা কাটছে প্রতিকূল। আগুন, ভাঙচুর, অস্থিরতা সবকিছু একসঙ্গে ঝাপিয়ে পড়েছে। প্রতিটি দিন এমনভাবে কাটছে যে, দিনশেষে নিজেকে আনন্দিত মনে হয়; আরেকটা দিন পার করে দিতে পারার জন্যে। দি ডে আই গ্ল্যাড টু সার্ভাইভ।
শীত শুরু হচ্ছে। এখন চলছে আগুন পোহানোর কাল। ব্যাডমিন্টন খেলার কাল। পার্কে দেখলাম জটলায় জটলায় আগুন পোহানো চলছে। দু'টো ব্যাডমিন্টন কোর্ট কাটা হয়েছে। এখনকার শীতে আগুন জ্বালানোর এবং সেই আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসে থাকার আলাদা মজা আছে। কিন্তু ক'দিন পরেই এ মজাটা থাকবে না। তখন আগুন জ্বালানোর মতো জ্বালানি থাকবে না। মানসিক ইচ্ছা থাকবে না। শুধু বদ্ধ কুঠুরিতে লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে। মানুষও কি এককালে শীতনিদ্রায় যেতো নাকি?
বছর শেষ হতে চললো। এই বছরের শুরুটা ছিলো অন্যরকম। তখন অনেক সম্ভাবনার কথা চারদিকে ছড়িয়ে ছিলো। বছরশেষে সবই দুরাশায় পরিণত। জাতীয় বা ব্যক্তি পর্যায়ে খুব বেশি উন্নতির খবর এক বছরে পাই নি। বন্ধু-বান্ধবদের দু'একজনের সুখবর পেয়েছি। কিন্তু বেশিরভাগই কোনোমতে বছর পার করে ধুঁকছে আমার মতোই। জাতীয় সুখের খবর হিসাবে কোনটাকে গুণবো বুঝতে পারছি না। যেহেতু গোল্ডফিশ মেমোরী তাই খুব জোরে আঘাত না লাগলে কোনোকিছু বেশিক্ষণ মনে থাকে না।
সংখ্যা হিসাবে ১৩-কে পছন্দ করেন না অনেকেই। তাদের দলে আমিও অন্তর্ভূক্ত। আমি অবশ্য ২ আর ৮ ছাড়া অন্য সব সংখ্যাকেই একই রকম মনে করি। শুধু ওই দু'টো সংখ্যাকে আমার কাছে ভিন্নরকম লাগে। নিজের কোনোকিছুর সঙ্গে ওই সংখ্যা দু'টো জড়িয়ে থাকলে আনন্দ লাগে। কেন লাগে জানি না। ১৩-তে এ দু'টো সংখ্যার কিছুই জড়িয়ে নেই। তারপরও ২০১২ পার করে দিতে পারলে, ১৩-কে নিয়ে আমি আশাবাদী হতে চাই। এভরিডে ইজ আ নিউ ডে।
হৃদয় থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত একটা সুক্ষ্ণ সংযোগনালী আছে। এটা দিয়ে মাঝে মাঝে আবেগকণা প্রবাহিত হয়। সেগুলো যখন প্রবাহিত হয়, তখন বোঝা যায় না। যখন প্রবাহ শেষ হয়ে যায়, তখন আর কিছু করার থাকে না। এ কারণেই মানুষ প্রিয়জনদের কষ্ট দেয়। কষ্ট দেয়ার সময় বুঝতে পারে না। কষ্ট দেয়া শেষে কেবল নিজে কষ্ট পেতেই থাকে, কিছু করার থাকে না। আশার কথা হচ্ছে, প্রিয়জনেরা এ জন্যই প্রিয়জন যে; তাদেরকে শত কষ্ট দিয়েও দূরে ঠেলে দেয়া যায় না। তারা আশপাশেই থাকে। আমাদেরকে জড়িয়ে রাখে।
তাহলে কি এভাবে ক্রমাগত ধ্বংসের দিকে এগিয়ে যেতে থাকবো আমরা? যেতে যেতে কি একসময় আমাদের অস্তিত্ব বিলীন হবে বিশ্বব্রহ্মান্ডের ভেতর? আত্মদান ছাড়া অর্জন করা যাবে না কোনোকিছুই? যদি এমন শর্তই জুড়ে দিয়েছিলে, তবে প্রাণ কেন দিয়েছিলে ঈশ্বর?
ঠিক আছে, তবে তাই হোক। কিন্তু বেলাশেষে তীরে অবশ্যই প্লাবন জাগ্রত হতে হবে। আমাদের বিলীন হয়ে যাওয়া অস্তিত্বের বিনিময়ে অন্যরা যাতে একটি বাসযোগ্য স্বদেশ পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে তোমাকে। নাহলে নক্ষত্রের ছায়াপথ হয়ে ধাওয়া করে বেড়াবো তোমায়, যেকোন অসীম সীমানায়।
বুঝি না; আজকাল কোনো থর, অ্যাপোলো, একিলিস বা হেক্টর জন্মায় না কেন? জোয়ান অব আর্ক কি তবে আগুনের লেলিহান শিখায় মিশে মিলিয়ে গেলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে? একসময় দিকে দিকে জন্মাতো আলেক্সান্ডার, নেপোলিয়ন, সুলতান মাহমুদ, বাবর, হুমায়ূন। আজকাল বড়জোর হিলারি, হাসিনা, খালেদারা জন্মায়। কি বিচিত্র আমার এ জন্মভূমি! আমার এ সময়!!
---





অমিত সম্ভাবনার দেশ
ফিউচার খুব ভালো এই দেশের
তরুন সমাজ রুখে দাঁড়াবে আগামী দিনে
এই সব কথা শুনলেই মেজাজ খারাপ লাগে। অন্ধকার থেকে অন্ধকার এর ভেতরেই বেচে থাকা তার ভিতরেই জীবন সেখানে মরন!
লেখা ফাস্টক্লাস। তবে এমন পোষ্ট যেনো কম লিখতে হয় আপনার!
পুরো লেখাটা চমৎকার.......... ১ম প্যারা এবং শেষের ৩ টি প্যারা অসাধারন লাগলো.......হ্যাটস্ অফ ব্রো........
ঠিক আছে, তবে তাই হোক...
বছরের শুরুটা মোটামুটি আনন্দেরই ছিলো । তারপর হটাৎ সবকিছুতে শুধুই হতাশা আর বিষন্নতা। ভালো লাগে না কিছু। নতুন একটা বছর কেমন যাবে কে জানে!
শুধু এই অংশটুকুই আলাদা একটা লেখা হওয়ার যোগ্য।
আপনার এই লেখাটার শেষে একটু আশার গান শুনতে চাই। আবদার জানাইয়া গেলাম।
লেখা আগের মতোই।
সব নতুন বছরই পুরনো বছরের মতো হতাশায় শেষ হয়
তবে তাই হোক মীর ! দারুণ লিখেছেন ! শুভেচছা !
হৃদয় থেকে মস্তিষ্ক পর্যন্ত একটা সুক্ষ্ণ সংযোগনালী আছে। এটা দিয়ে মাঝে মাঝে আবেগকণা প্রবাহিত হয়। সেগুলো যখন
প্রবাহিত হয়, তখন বোঝা যায় না। যখন প্রবাহ শেষ হয়ে যায়, তখন আর কিছু করার থাকে না। এ কারণেই মানুষ প্রিয়জনদের কষ্ট
দেয়। কষ্ট দেয়ার সময় বুঝতে পারে না। কষ্ট দেয়া শেষে কেবল নিজে কষ্ট পেতেই থাকে, কিছু করার থাকে না। আশার কথা হচ্ছে,
প্রিয়জনেরা এ জন্যই প্রিয়জন যে; তাদেরকে শত কষ্ট দিয়েও দূরে ঠেলে দেয়া যায় না। তারা আশপাশেই থাকে।
আমাদেরকে জড়িয়ে রাখে।
ওই মিয়া, কমেন্টের রিপ্লাই দেন না ক্যান?
এ কথা আমি তীব্রভাবে বিশ্বাস করি।
হতাশাকে জাগিয়ে দেয়ার মতো চমৎকার লেখা।কিন্তু বেলাশেষে তীরে অবশ্যই প্লাবন জাগ্রত হতে হবে,এ কথা সব হতাশাকে দূর করে নতুন করে স্বপ্ন দেখার প্রেরণা যোগায়।
বুঝি না; আজকাল কোনো থর, অ্যাপোলো, একিলিস বা হেক্টর জন্মায় না কেন? জোয়ান অব আর্ক কি তবে আগুনের লেলিহান শিখায় মিশে মিলিয়ে গেলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল থেকে? একসময় দিকে দিকে জন্মাতো আলেক্সান্ডার, নেপোলিয়ন, সুলতান মাহমুদ, বাবর, হুমায়ূন। আজকাল বড়জোর হিলারি, হাসিনা, খালেদারা জন্মায়। কি বিচিত্র আমার এ জন্মভূমি! আমার এ সময়!!
মন্তব্য করুন