সারভাইভিং হলোকাস্ট বাডি
শিরোনামের কথাটা লিখেছিলাম এক পুরোনো বন্ধুকে, যে সম্প্রতি মেসেঞ্জারে জানতে চেয়েছিল, হেই ইউ, হোয়াট আর য়ু ডুয়িং নাউ?
অথচ এই আমি একসময় নিজের শার্টের ভেতর হাত লুকিয়ে রেখে মানুষকে বোঝাতে চাইতাম যে, আমার একটি হাত কাটা পড়েছে। সেটা খুব বেশিদিন আগের কথা না।
সে সময় একটা চাররঙা টিপ-কলম ছিল আমার। প্রায়ই যেটার চারটা বাটন একসঙ্গে টিপতাম। কোন শীষই বের হতো না। ওই সব দিনে বাড়ির মানুষদের ভয় দেখানোর জন্য দরজার পেছনে লুকিয়ে থাকতাম। দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কেউ আসতো না, একসময় নিজেই আড়াল থেকে বেরিয়ে পড়তাম। ভগ্ন মনে।
ঈদের সময় বা বার্ষিক পরীক্ষা শেষে বাড়ি যাওয়াটা জীবনের একটা অন্যতম প্রিয় অনুষঙ্গ ছিল। রাতের ট্রেনে বাড়ি ফেরার সময় মনে করতাম, চাঁদটাও আমাদের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি যাচ্ছে।
আর প্রায়ই ঘরের সুইচবোর্ডে অবস্থিত ফ্যান, লাইট ইত্যাদির সুইচকে মাঝামাঝি জায়গায় ব্যালেন্স করার চেষ্টা চালাতাম। এই কাজ করতে গিয়ে প্রচুর বাল্বের ফিলামেন্ট কেটেছে আমার হাতে। এছাড়া ফ্রীজের লাইট কখন বন্ধ হয় তা দেখার জন্য খুব আস্তে আস্তে সেটার দরজা বন্ধ করতাম।
তখন প্রতিদিন মনে মনে ভাবতাম, কবে বড় হবো? আর এখন প্রায়শই যে কথাটা মনে হয়, কেন বয়স বেড়ে গেল? ওই জীবনে কখনো ভুল করে বরই বা তেতুঁলের বিচি গিলে ফেললে জীবনটা অর্থহীন লাগা শুরু হতো। আমি জানতাম, এরপর আমার পেটে ওই বিচি থেকে গাছ হবে এবং তা আমার পেটে ফেটে বের হবে এবং আমি মারা যাবো। আমি হাল ছেড়ে দিতাম।
আজকাল আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হলেও হাল ছাড়ি না, ভিক্টর ফ্রাঙ্কেলের আশার বাণী মনে করার চেষ্টা করি।
"কোন অবস্থায়ই মানুষের জীবন অর্থহীন হয়ে যায় না, এমনকি জার্মান নাৎসি ক্যাম্পে প্রতিমুহূর্তে চামড়ায় চর্মরোগ, দুর্বল শরীরে জ্বর নিয়ে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মাঝে খালি পায়ে বরফের মাঝে হেঁটে গিয়ে দিনে একবেলা এক টুকরো রুটি খেয়ে দশ ঘণ্টা কাজ করে আর প্রতিমুহূর্তে জীবন-মৃত্যুর অনিশ্চয়তায় ভোগে যে যুদ্ধবন্দি, তার জীবনও কখনো অর্থহীন হয়ে যায় না।"
আজব লাগে জীবনটাকে মাঝে মাঝে!
---





মন্তব্য করুন