ভবের বেড়ি পায়ে জড়ানো
১.
বছরের প্রথম দিনটাকে ফ্রেশ আর ঝামেলামুক্ত রাখার তাড়না থেকে মনে হয় সবার মধ্যেই এক ধরনের হালকা উত্তেজনা কাজ করে। এর পেছনে কি কোনো বিশেষ কারণ আছে? পহেলা জানুয়ারি কি ক্যালেন্ডারের অন্য সব দিনগুলোর মতোই আরেকটা দিন নয়? যদি না সেদিনের সাথে কোনো বিশেষ স্মৃতি জড়িয়ে থাকে?
২.
হান সোলো মরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে সে মরে যাবে। তারপর থেকে নিজেকে হ্যারিসন ফোর্ডের বিরাট ভক্ত বলে মনে হচ্ছে। সেই ইচ্ছা থেকে ইন্ডিয়ানা জোনস্ দেখার চেষ্টা শুরু করেছি। ইদানীং পুটলকার, ভডলকার, মেগাশেয়ার, এইচডিমুভিস্, সোলারমুভিস্'সহ প্রায় সব স্ট্রীমিং সাইটই অল্প-বিস্তর ঝামেলা করছে। তাই আমার চেষ্টায় খুব বেশি সাফল্য আসছে না। আর দু'তিনবার চেষ্টার পরও যদি একটা মুভি দেখে না ফেলা যায়, তাহলে 'ওইত্তেরি' বলে নেটফ্লিক্সে ফিরে যাওয়াটাই যেন সহজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আজকাল অলস হয়ে গেছি অনেক বেশি। সমস্যাটা কাটাতে হবে।
৩.
আমি যে আমার নিজেকে ছাড়া আর কিছু নিয়ে লিখতে পারি না, সেটা জানি বহু আগে থেকেই। যেদিন সেটা জেনেছি সেদিনই লেখালেখির আগ্রহ কমে গেছে ৮০ শতাংশ। বাকী ২০ শতাংশ মাঝে মাঝে তাড়িয়ে বেড়ায় বলে বিরক্ত হয়ে ব্লগ লিখি। নোটস্ লিখি। এটা ইন্টারস্টেলারের মতো একটা ঘটনা। মনে হচ্ছে পঞ্চম মাত্রায় আটকে গেছি। তৃতীয় মাত্রার কাউকে যদি একটা সূত্র ধরিয়ে দিতে পারতাম এখান থেকে আর সে যদি সেই সূত্র কাজে লাগিয়ে একটা সমাধান বের করতে পারতো, তাহলে হয়তো নভাচারীরা সেই সমাধান কাজে লাগিয়ে আমাকে এই বন্দি অবস্থা থেকে মুক্ত করতে পারতো।
৪.
সেদিন দেখলাম যীশুখ্রীস্টের মতো লম্বা চুলের ছেলেটা ওই বয়কাট চুলের মেয়েটার নাকের ডগায় নখ ঘষছে। আর থেকে থেকে হালকাভাবে ছুঁয়ে দিচ্ছে তার গাল। তারপর সে মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে ধরলো এবং দীর্ঘক্ষণ জড়িয়ে ধরে থাকলো। আমি বারান্দায় দাঁড়িয়ে অগ্নিসংযুক্ত ধূম্রশলাকা সদ্ব্যহার করছিলাম। আর থেকে থেকে ভাল্লুকের বোতলে চুমুক দিচ্ছিলাম।
৫.
শেষমেষ ফ্রীজের মুরগিটা বের করে প্রচুর পেঁয়াজ-মরিচ-ধনেপাতা-আদাবাটা-রসুনবাটা-গরম মশলা-ধনেগুড়া-জিরাগুড়া ইত্যাদি সহযোগে চুলায় চড়িয়ে দিলাম। পেটে খাবার থাকলে মানুষ সবসময় নিরাপদ বোধ করে। এটা হচ্ছে মানুষের এক নম্বর আদিম প্রবৃত্তি। দুই নম্বরটার আর্জ খুব বেশি মাত্রায় দেখা দিলে, রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে ভাল কাজ করে।
৬.
শুধু যদি খেতে বসার আগে ওই লম্বা চুলওয়ালার মাথায় একটা বাড়ি দিয়ে আসতে পারতাম! ব্যাটা বাসায় গিয়ে করতে পারিস না? রাস্তাঘাটে এইসব কি? দিন-দুনিয়ায় সিঙ্গেল লোকজনও তো থাকে, নাকি?
---





হ ঠিক কথা: দিন-দুনিয়ায় সিঙ্গেল লোকজনও তো থাকে, নাকি?
ওহ! রাত আর দিন। টাইমিংটা দেখে বুঝতেছিলাম না। সেটা বোঝার জন্য ইমো কমেন্ট দিলাম। এখন বুঝলাম বিষয়টা রাত আর দিনের।
হাহাহা, এই টাইমিংটা আমিও বুঝি না ঠিকমতো
অনুভূতির রং বদলের সাথে সাথে এগোচ্ছিলাম, মনটা একটু বিষণ্নই হয়ে উঠছিল কি? শেষটায় এসে হো হো করে হেসে ফেললাম। মীর কেমনে যে পারে!
৪। উফফফফ....
৬।
মন্তব্য করুন