একদিনের বার্নআউট, আর তারপর পড়ে থাকা হাউশগুলা
কি অবস্থা সকলের? চারটা জলজ্যন্ত দিন পার হয়ে গেল শেষ লেখাটার পর। অলিম্পিকে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেল এর মধ্যে। উসেইন বোল্ট নিজেকে পেলে, মোহাম্মদ আলীদের কাতারে বিচারের দাবি জানিয়ে গেল।দেখা যাক, কিংবদন্তীত্বের পথে হাঁটা সহজ নয় বন্ধু। অল দি বেস্ট।
সিরিয়ার আলেপ্পো শহরটা নিয়ে আলাপ হচ্ছিল ওসামার সাথে সেদিন। দুপুরের লাঞ্চের পর এক মগ কালো কফি হাতে নিয়ে। প্রায় দশ হাজার বছরেরও বেশি বয়স শহরটার। বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে একটু একটু করে প্রতিদিন। এই শহরগুলো এমন না যে, সেখানকার ঘর-বাড়ি আর রাস্তা-ঘাট দশ-বিশ বছর আগে কোনো রাজনৈতিক দলের ইলেকশন পরবর্তী ইশতেহারনামা বাস্তবায়ন কর্মসূচীর অংশ হিসেবে বানানো। কিংবা দুই-চারশ' বছর আগে মানুষ জঙ্গল সাফ করেও এমন আলেপ্পো, দামাস্কাসের মতো শহর গড়ে তোলে নি।
ইরাকে অমন একটা শহর ছিল। নাম ব্যাবিলন। নব্বুই ও পরের যুদ্ধগুলো সফলভাবে শহরটাকে একটা পূর্ণাঙ্গ ধ্বংসস্তুপের চেহারা দিতে সক্ষম হয়েছে। মাটিতে মিশিয়ে দিয়েছে প্রাচীন সপ্তাশ্চার্যের দারুণ রহস্যাবৃত এক অধ্যায়কে। সব রহস্যের সমাধানও বের করা সম্ভব হয় নি। এ ঘটনার ফলাফল যে কতো মারাত্মক হতে যাচ্ছে, সেটা এখন বোঝার কোনো উপায়ই নেই মানবজাতির। কয়েকশ' বছর সময় ঠিকই লাগবে কিন্তু মানুষ এক সময় ডেফিনিটলি বুঝতে পারবে। তখন মাথার চুল ছেড়া এবং হাত কামড়ানো ছাড়া উপায় থাকবে না।
এখনও সিরিয়া, ফিলিস্তিন, ইয়েমেনের অনেকগুলো শহর ঠিক একই রকম ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অথচ এই শহরগুলোর প্রত্যেকটিই নির্জলা প্রাচীন। হাজার বছর হচ্ছে এ ধরনের শহরের গুরুত্ব পরিমাপের একক। মানবজাতির ইতিহাসে এই সবগুলো শহরের মূল্যবান ভূমিকা রয়েছে। সেই সব শহরে কি অবলীলায় ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে বর্তমানকালের মানুষেরা। এমন একটা সময়ের মানুষেরা, যারা নিজেরা তো তেমন কিছু গড়ছেই না, বরং যা কিছু পূর্বপুরুষরা গড়ে রেখে গেছে, কিংবা অন্য যেকোন উপায়েই হোক, পৃথিবীতে এসেছে- সেগুলোর ওপর ভরসা করে জীবন যাপন করছে; এবং সেগুলোই ধ্বংস করছে। নির্বিচারে।
একচুয়ালি অবস্থা কোথায় ভাল? রামপাল? একদম একই রকম ঘটনা। একই রকম প্যাটার্ন। হাজারও বছরের বিবর্তনের ফসল হিসেবে গড়ে ওঠা একটা সমগ্র এনভায়রনমেন্টকে ধ্বংস করে, গড়ে তোলার চেষ্টা হচ্ছে একটা দুই পয়সা মূল্যের পাওয়ার প্ল্যান্ট! একটা সুস্থ সমাজের শান্তি ধ্বংস করে ডেকে আনা হচ্ছে অশুভ অসুস্থতা। পৃথিবীর সব জায়গায় ধ্বংসের এই চক্রান্তটি করছে সমাজের বুর্জোয়া গোষ্ঠীগুলা, তাদের নিজস্ব লোভ চরিতার্থ করতে। নিজের পরিবারের শত শত বছরের দখলদারিত্ব নিশ্চিত করতে। সেই সাথে পৃথিবীকে এমন একটা সিস্টেমে প্রজেক্ট করতে, যাতে নিজের ব্লাড লাইনের বিলুপ্তির সাথে সাথে বিলুপ্ত হয়ে যায় আর সব ব্লাড লাইনও।
ভারতের যে মেয়েটি কুস্তিতে ব্রোঞ্জ মেডেল জিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে, সে মেয়েটিকে সমাজ রীতিমতো নীল নকশা কেঁটে আটকানোর চেষ্টা করেছিল। শুধুমাত্র পেশীশক্তির জোরে মেয়েটি সেসব যন্ত্রণা কাটিয়ে আজ নিজের সামনে খুলে নিয়েছে একটি স্বপ্নের সিড়িঁপথ। অথচ আমাদের সমাজে কয়টা মেয়েই বা পেশী কিংবা এমনকি মনের শক্তিতে এমন বলীয়ান হতে পারে? যারা হয় তাদের কি পরিণতি হয়? ছেলেরা বস্তুত কবে চেঞ্জ হবে আমাদের দেশে? কবে পাল্টাবে মেয়েদের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গী?
কোথায় শান্তি মিলতে পারে একটু? ফ্যান্টাসীর জগতে? কুবো মুক্তি পেয়েছে ১৯ আগস্ট। বিশ্বের অনেক জায়গায়। আমার এখানে দেখার উপায় নেই। অন্তত ভাল প্রিন্টে। সিনেমাটি আশপাশের কোনো থিয়েটারে ইংরেজিতে তো দেখাবেই না, এমনকি জার্মান ভাষায়ও দেখানো হবে সেই অক্টোবরে গিয়ে। ইন্টারনেটে এর আগে ভাল প্রিন্ট চলে আসলে বেশ মজা হতো। তবে এই সিনেমাগুলি ইন্টারনেটে আসতে ইদানীং আগের চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে। ফাইন্ডিং ডোরি তো এখনও আসলো না। মুক্তি পেয়েছে কিন্তু সেই জুন মাসে। সামনের বছর তিনটা অ্যানিমেশনের মধ্যে জমাট লড়াই হবে অস্কার জেতাকে কেন্দ্র করে। কুবো, ফাইন্ডিং ডোরি আর দি লিটল প্রিন্স।
আমার সামনের রুমের ছেলেটা সকাল থেকে পাগলের মতো একটা গান বাজাচ্ছে। ঠিক এই কাজটাই আমি করি মাঝে মাঝে। বিশেষ করে যেসব গান একদিনের জন্য ঢুকে যায় মাথায়। সেগুলোর পোড়া দেহগুলো দেখতে অদ্ভুত লাগে পরে। আহা! একদিনের বার্নআউট, আর তারপর পড়ে থাকা হাউশগুলা।
ফাঁকিবাজি অনেক হলো। পুনরায় পড়াশোনার জগতে ঢুকে যাই। ওইটা একটা ছোটাখাটো মহাজগতের সমান। প্রচুর অ্যাটেনশন আর লেবার ডিমান্ড করে। কার্ল সেগানের একটা কালজয়ী উক্তি আছে, "আমাদের মতো ক্ষুদ্র অস্তিত্বের জন্য বিশ্বব্রহ্মান্ডের বিশালতা ধারণ করার একটি মাত্র উপায়ই রয়েছে, সেটা হচ্ছে ভালবাসা।"
রইলো সকলের জন্য সেটাই। টা টা।
---





অসাধারন
উফ! কি সুন্দর একটা নাম!
এই নামটা দেওয়ার জন্যই কে লেখাটা লেখছিলা?
মন্তব্য করুন