ওয়ার্ক আন্ডার প্রসেস
প্রিন্সেস কাগুয়া সম্পর্কে কিছুই জানার কোনো সুযোগ হয় নি কখনও। নামটাও শুনি নি মিয়াজাকির সিনেমার খোঁজ পাওয়ার আগে। যদিও দি টেল অফ দি প্রিন্সেস কাগুয়া মিয়াজাকির সিনেমা না, ইসাও তাকাহাতার। তবে ঘিবলি স্টুডিওর পণ্য। ইসাও তাকাহাতা প্রবাবলি স্টুডিওর আরেক প্রতিভা। এই ভদ্রলোক গ্রেভ অফ দি ফায়ারফ্লাইস মুভির রাইটার-ডিরেক্টর। আরও কিছু হাই প্রোফাইল মুভি আছে দেখলাম ঝুলিতে। প্রিন্সেস কাগুয়া মুভিটা অনন্য। ওয়াটারমার্কে এত সুন্দর অ্যানিমেশন এর আগে কখনও দেখেছি বলে মনে পড়ছে না। ঘিবলি স্টুডিওর সেরা পছন্দের মুভির তালিকা তৈরি করার ট্রাই করি নি কখনো। তবে ট্রাই করলে সেটা ডিজনির মতোই কঠিন হবে নিশ্চিত। অ্যানিমেশন ছিল বলে বেঁচে গিয়েছিলাম আমি।
মাঝে বেশ কিছুদিন কেটে গেল আলসেমী করে। দ্বিতীয় গবেষণাপত্রটি জমা দেয়ার পর যে ব্রেকটা চোখের ক্ষুধা মেটানোর জন্য প্রয়োজন ছিল, যদিও আমি জানতাম ব্রেকটা না নিলেও চলতো; সেটা নেয়া শেষ। কাল সকাল থেকেই মুখোশের আড়ালে চলে যেতে হবে আবারও। এইসব কপোট্রনিক দিন যাপনের জন্য উচ্চগতির ইন্টারনেট হচ্ছে অত্যন্ত জরুরি একটি টুল। রোবট ফেজ মেথড প্রয়োগ করতে চাইলে যার বিকল্প নেই। কোয়ালিটেটিভ জীবনে রোবট ফেজ মেথড যথাযথভাবে প্রয়োগ করতে না জানলে অনেক সময় ঘটে যেতে পারে বিপদ। যেটা আমরা কেউই চাই না, তাই না?
উচ্চগতির ইন্টারনেটের কল্যাণে একাধিক ডিভাইসে অনায়াসে ব্রাউজিং এবং যা ইচ্ছা তাই স্ট্রিমিং করার যে অবারিত সুযোগটি আমি পাই, সেটার বেশিরভাগ নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তির ব্যবহার বুঝতে ও শিখতে কাজে লাগে। ধীর গতিতে কিন্তু অবিচল একটা গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। সেখানে পৌঁছে মস্তিষ্ক রূপান্তরিত হবে প্রসেসরে। তার আগেই যদি একবার আইবিএ লনের কামরাঙা গাছটার নিচে কেন্টিনের কিচেনের জানালার গ্রীলের ফাঁক দিয়ে শামসু মামার বাড়িয়ে দেয়া এক কাপ চা হাতে নিয়ে গিয়ে বসতে পারতাম। আর একটা বেনসন। দুইজনের জন্য এক কাপ চা আর একটা সিগারেট। আর এক বুক ভালবাসা। এক আকাশ সমান স্বপ্ন চোখে দু'জনের। পাহাড়সম ভরসা একে অপরের প্রতি। অথচ পকেটে দুইটা চা আর দুইটা বিড়ি কেনার টাকা নাই। তাতে কি? এক কাপ চা আর একটা বিড়িই সই। জানায় আছি, অজানায়ও। বাস্তবে আছি, কল্পনায়ও। মাঝে মাঝে আমি তোমাকে খুব মিস করি, জানো?
একবার কাজটা করে ফিরে আসার পর বিনা দ্বিধায় ফ্যাক্টরীতে ঢুকে পড়তাম। অপ্রতুল জৈব অস্তিত্বটা পরিত্যাগ করে বরং একটা সৈনিক ড্রয়েডে রূপান্তর হওয়ার জন্য। তাহলেও লাইট সাইডের কোনো একটা কাজে লাগা সম্ভব হতো। এখন তো যেটা হচ্ছে, সেটা একটা বমি, একটা অসহ্য, একটা এমন কিছু যেটা আসলে মেনে নেয়া যায় না। যেটাকে আসলে মাথায় একটা কুঠারাঘাত করে চিড়ে ফেলা দরকার। গাছের গুঁড়ির মতো। চুলায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে ফেলা দরকার তারপরে। কাজে যদিও লাগছেই, কোনো না কোনোভাবে।
মধ্যরাতে এইসব আবোল-তাবোল চিন্তা আসে মাথায়। বেশি অ্যানিমেশন দেখলে।
সূর্যোদয় দেখলাম সেদিন ট্রেনে বসে বসে। ভোর সাড়ে চারটায় ছিল ট্রেন। উঠতে হয়েছিল পৌনে চারটায়। উঠে দুপুরের খাবারের জন্য স্যান্ডউইচ টোস্টারে চেপে গিয়েছিলাম দাঁত ব্রাশ করতে। তারপর রেডি হয়ে কাঁধে রুকস্যাক চাপিয়ে যখন রাস্তায় নামলাম তখন সোয়া চারটা। পনেরো মিনিটের হাঁটা পথের দুরত্বে ট্রেন স্টেশন। আসলে পনেরো নয়, আমার নর্মাল পেসে চললে লাগে তের মিনিট। চারদিকে তখনও গাঢ় অন্ধকার। হাঁটতে ভালই লাগছিল। কোন ফাঁকে যে ট্রেনে পৌঁছে গেলাম বুঝতে পারলাম না। যদিও পৌনে চারটায় ঘুম থেকে উঠতে হয়েছিল বলে নিজের কপালকে নিয়ে খানিক হাসাহাসি করেছিলাম একসময়, তবে ট্রেনে ওঠার পর সেটা ভেবে নিজেকে লজ্জা পেতে অবাক হলাম।
ধীরে ধীরে টোয়াইলাইটের আলো ফুটে উঠল আশপাশে। কুয়াশারা পাহাড়ের মালভূমিতে আটকে পরে এমন একটা ভুতুড়ে শাদা চাদর হয়ে বিছিয়ে থাকে অনেকটা এলাকা জুড়ে যে, দেখে মনে হয় সপ্তাদশ শতকের কোনো অনুন্নত হানাহানিপ্রবণ মানববসতির মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলেছি। দূর পাহাড়ের সঙ্গমস্থল থেকে খুব নাটকীয়ভাবে কোমল লাল একটা রঙয়ের একটা সূর্যকে উঠতে দেখে মনে হয়, এখনি ঘোড়ার আস্তাবলে গিয়ে সবকিছু ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে নিয়ে দিন শুরু করতে হবে। আর দেরি করার সুযোগ নেই।
আসলেই আর দেরি করার সুযোগ নেই।
---





মন্তব্য করুন