অসমাপ্ত বাস্তবতা... ১১
১.
'যদি আকাশের গায়ে কান না পাতি তোমার কথা শুনতে পাবো না'। এটা একটা গানের লাইন। ইদানীং খুব শুনছি গানটা। যদিও লুপে আটকা পড়াটা ঠেকিয়ে রেখেছি ইচ্ছে করে। আমি জানি, আমি খুব সহজে লুপে আটকা পড়ে যেতে পারি। ভালবেসে ফেলতে পারি চোখের পলকে। মন দিয়ে নিজেকে খুন করে ফেলতে মুহূর্ত কাল সময় লাগে না। সুযোগটা নেয় নি এমন মানুষের সংখ্যা খুবই নগণ্য। তাই আজকাল নিজেকে বন্ধ করে রাখি সন্তপর্নে।
ছেলেবেলার বাংলা ব্যাকরণ বইগুলোতে একটা মারাত্মক চ্যাপ্টার থাকতো সারাংশ-সারমর্ম নামে। সেখানে বিভিন্ন রকম কবিতার লাইন, যেগুলো গভীর চিন্তার খোরাক জোগাতে সমর্থ, কিন্তু একই সাথে দ্ব্যর্থবোধক, সেগুলোর ব্যাখ্যা থাকতো। আমি ওই চ্যাপ্টারটা ভয়ও পেতাম, আবার পড়তে আগ্রহও বোধ করতাম। বিশাল এক শাঁখের করাত যাকে বলে আরকি। কোনদিকেই গিয়ে ভাল লাগে না। ওইখানে একটা কথা একবার পড়েছিলাম, "দরজা-জানালা বন্ধ করে ভ্রমরটারে রুখি, সত্য বলে আমি তবে কোথা দিয়ে ঢুকি?"
নিজেকে খুলে রাখলে যেমন এক বিশাল বিপদ, বারোয়ারি লোকে এসে মাথায় কাঁঠাল ভেঙ্গে খেয়ে যায়; বন্ধ করে রাখলেও বিপদ। খালি খালি লাগে প্রায়ই। মনে হয় কি যেন নেই, কি যেন নেই। গভীরভাবে খুঁজে দেখলাম, নিজেকে যখন আমি বন্ধ করে রাখি, মানে কোনকিছুতেই মুগ্ধ হই না বা কাউকে সহজে পাস্ দিই না; সে সময় আমি আসলে প্রকৃত আমিটা থাকি না। চেঞ্জ হয়ে যাই। যদিও এটা জাগতিক বিষয়াদি রক্ষণাবেক্ষণে (অর্থ, স্বাস্থ্য, সময় ইত্যাদি) বেশ সহায়ক কিন্তু একই সাথে মনের উপর খুব চাপ ফেলে।
২.
ইদানীং ইউটিউবের ওপর নির্ভরতা আবার বেড়েছে। 'এক জীবনের বৃষ্টি দিয়ে তুমি, সারাজীবন ভিজিয়ে দিয়ে গেলে'। এটাও একটা গানের লাইন, গানের নাম হচ্ছে- খবর দিও হঠাৎ কান্না পেলে। আমার গানের পছন্দ গত তিন বছরে নদীর গতিপথের মতো বদলেছে। দু-এক সপ্তাহ ধরে এইসব গান বেশি শুনছি। কলঙ্কিনী রাধা, কিছু দিন মনে মনে, আমি যদি ডুইবা মরি, বেহায়া মন- এইসব। বাউল গানের মতো কথা, কিন্তু উপমহাদেশীয় বিশেষ ঘরানা "সফট্ মেলোডি"-র সুর আর গায়কী। খারাপ না।
৩.
থিসিসের কাজ আর ভবিষ্যতের চিন্তা করে সময় কাটছে ইদানীং। মানুষের জীবন খুবই আনপ্রেডিক্টেবল। আজ হয়তো কাউকে কিছু একটা দেখিয়ে বা শুনিয়ে দিয়ে আপনি কাজটা উচিত হয়েছে বলে ভেবে ভেবে তৃপ্তির ঢেকুর তুলছেন, কিন্তু সত্যি বলতে কি- কর্মফল ছাড় দেবে না আপনাকেও। কারণ প্রকৃতি আপনাকে অন্যের কর্মের বিচারের ভার দেয় নি। নিজের কর্মকে শুদ্ধ রাখার দায়িত্ব দিয়েছে শুধু। আজকের তৃপ্তির ঢেকুরগুলোর দুই-চারটা সেই অনাগত কর্মফল ভোগের দিনটার জন্য তুলে রাখুন। আর চারপাশের লোডশেডিং দেখে যদি জীবনের সব কর্মফল ভোগ করা হয়ে গেছে বলে মনে মনে স্বান্তনা পেতে চান, তাহলে পেতে পারেন। আমরাতো শুধু বাস্তবটাই অনুভব করতে পারি। উটপাখি হয়েও যদি এই বাস্তব আপনার সহনীয় হয়, তাহলে উটপাখি কেন হবেন না?
উটপাখি টার্মটা জনপ্রিয় করে দেয়ার জন্য প্রথম আলো পত্রিকাকে একটা ধন্যবাদ দেয়াই যায়। যদিও খুশি হতাম আরও বেশি, কে এই আইডিয়াটা প্রথম বের করেছিল জানতে পারলে। যাহোক, ভাল থাকুন সবাই। আমার কারও জন্য ভালবাসা কম অনুভূত হয় না। যারা জাজমেন্টের নীল সাগরে হাবুডুবু খেতে খেতে হৃদয়টাকে কড়া পড়া চামড়া বানিয়ে ফেলেছেন, তাদের জন্যও না। যদি কখনও মনে হয় আমাকে দিয়ে কোনো প্রয়োজন মিটতে পারে, যতো অন্যায়ই আপনি আমার সাথে করে থাকেন না কেন, ভুলে গিয়ে জানায়েন। অবশ্যই হেল্প করবো। শুভকামনা।
---





শুভকামনা ব্রাদার।
মন্তব্য করুন